Connect with us

সাহিত্য ও গল্প

‘তিনিই আমার বাবা’

Published

on

রবিউল আলম

‘কিসের ভয়? আমি তো সাথেই আছি’। অধম্য সাহস জুগিয়ে কল্পনাজুড়ে সন্তানকে দেয় যে আভা- তিনিই আমার বাবা।

স্বীয় ক্ষুদার্ত পেটে মৃদু হেসে, মেকি স্বীকারোক্তি দিয়ে পেছন থেকে এসে বলে ওঠে ‘আরেকটু খাবা’? তিনিই আমার বাবা।

সে তো একটা আস্ত বটগাছ, বটবৃক্ষের কাঁধে ক্লান্তিহীন সাংসারিক যাপন, তাঁর যতই আসুক থাবা- তিনিই আমার বাবা।

দিনকে রাত, রাতকে দিন বানিয়ে রিজিকের টানে দুর্বার ছুটে চলা ঘর্মাক্ত শরীর যেন অগ্নিগিরির লাভা- তিনিই আমার বাবা।

ঠিক রাত ১০ টা পেরোলেই ফোনের সাইরেন বেজে ওঠে। শাসন স্বরে- ‘কিরে বাড়ি কবে ফিরবা’? তিনিই আমার বাবা।

শত শত ফকির দরবেশের ভিড়ে, তিনিই জান্নাত, তিনিই জাহান্নাম। জানো? যার তুলনা হয় না মন্দির কাবা- তিনিই আমার বাবা।

আম্মু দেয় বিদায়, ভাই বলে টা- টা। পাশ থেকে অব্যক্ত সতর্ক বেল বেজে ওঠে- দ্রুত কিন্তু ফিরে আসবা! তিনিই আমার বাবা।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জাতীয়

ভিন্ন আবহে শুরু ভাষা আন্দোলনের মাস, নেই বইমেলার আমেজ

Published

on

By

শুরু হয়েছে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি। তবে এবার ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুটা ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা ভেঙে ভাষার মাসের প্রথম দিনে শুরু হচ্ছে না “অমর একুশে বইমেলা”। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ে শুরু হচ্ছে না বইমেলা।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নানা কর্মসূচির পাশাপাশি বইমেলার আয়োজন বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর বইমেলার মিলিত আবহেই সাধারণত শুরু হয় ভাষার মাস। এবার সেই পরিচিত চিত্র অনুপস্থিত।

ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে শুধুই একটি মাস নয়। এটি আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ ও ভাষাভিত্তিক পরিচয় অর্জনের মাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় মাতৃভাষার অধিকার। যারা সেদিন শহীদ হয়েছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পুরো মাসজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালে। ওই বছর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঘোষণা দেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনও ভাষা নয়।’ একই বক্তব্য তিনি কার্জন হলেও দেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্র ‘না’ ‘না’ বলে প্রতিবাদ জানান। পরে একদল ছাত্র জিন্নাহর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে।

এর আগে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ও অধ্যাপক গড়ে তোলেন তমদ্দুন মজলিস। রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে সভা-সমাবেশ ও আলোচনার মাধ্যমে সংগঠনটি আন্দোলনকে সংগঠিত করে তোলে। পাশাপাশি গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ, যা আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করে।

১৯৪৮ সালের ২ মার্চ তমদ্দুন মজলিস, গণআজাদী লীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ফজলুল হক হলে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিনই ১১ মার্চ সারা পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধর্মঘট চলাকালে শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদসহ ৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হলে ঢাকায় ১৩ থেকে ১৫ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের ধারায় নতুন উত্তেজনা তৈরি হয় ১৯৪৮ সালের শেষ দিকে। করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেন। পরের বছর ১২ ফেব্রুয়ারি পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ডের সভায় তিনি বাংলা হরফ বাতিল করে আরবি হরফ প্রবর্তনের ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ১৯৪৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ সভা করেন এবং বাংলা হরফ রক্ষার আন্দোলন জোরদার করেন।

ক্রমেই বাংলাভাষার সমমর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন দানা বাঁধে। আন্দোলন দমনে সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় পুলিশের গুলিতে সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত, শফিকসহ আরও অনেকে শহীদ হন।

রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষার অধিকার বাঙালিকে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে নতুন পথ দেখায়। সেই পথ ধরেই এগিয়ে যায় স্বাধিকার আন্দোলন, যার পরিণতিতে ১৯৭১ সালে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

i

Continue Reading

সাহিত্য ও গল্প

Published

on

By

prothom alo, bangladesh pratidin, jugantor, samakal, ittefaq, naya diganta, manab kantha, kaler kantho, janakantha, bonik barta, manab zamin, sangbad, inqilab, bhorer kagoj, daily star, dhaka tribune, bdnews24, bangla tribune, risingbd, bangla news 24, bangladesh journal, jamuna tv, somoy tv, channel 24, ntv, rtv, atn bangla, ekushey tv, independent tv, maasranga tv, boishakhi tv, banglavision, channel i, my tv, desh tv, dbc news, satv, deepto tv, mohona tv, btv, sangsad tv, atn news, ekattor tv

Jamuna TV – jamuna tv, যমুনা টিভি Somoy TV – somoy tv, সময় টিভি Channel 24 – channel 24, চ্যানেল ২৪ NTV – ntv bangladesh, এনটিভি RTV – rtv bangladesh, আরটিভি ATN Bangla – atn bangla, এটিএন বাংলা Ekushey TV – ekushey tv, একুশে টিভি Independent TV – independent tv bd Maasranga TV – maasranga tv, মাছরাঙা টিভি Boishakhi TV – boishakhi tv, বৈশাখী টিভি Banglavision – banglavision, বাংলাভিশন Channel i – channel i, চ্যানেল আই DBC News – dbc news, ডিবিসি নিউজ Ekattor TV – ekattor tv, একাত্তর টিভি

Continue Reading

top3

জুম্মা মোবারক:সূরা আল-কাহফ এর বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন

Published

on

By

সূরা আল-কাহফের পটভূমি
সূরা আল-কাহফ কুরআনের ১৮তম সূরা এবং এটি মক্কায় অবতীর্ণ মক্কী সূরা। এটি মোট ১১০ আয়াতের সমন্বয়ে গঠিত। সূরাটি মূলত বিশ্বাসীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় ইমানকে দৃঢ় করার জন্য নাজিল হয়। নবী মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কায় দুনিয়াবিদের মুশরিকদের সঙ্গে মোকাবিলা করছিলেন, তখন অনেক ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও সংশয় সৃষ্টি হয়। আল্লাহ তায়ালা ওই দশকে এই সূরা নাজিল করে মানুষের এ ধরণের দ্বিধা দূর করতে এবং সৎ পথ অনুসরণের জন্য পাঠ দেয়।

সূরার প্রধান গল্প ও শিক্ষা
সূরাটিতে প্রধান চারটি গল্প বর্ণিত হয়েছে:

  • কাহফের ছেলেদের গল্প: একদল নবীন যারা ঈমানের জন্য গুহায় আশ্রয় নেয় এবং বহু বছর ঘুমিয়ে থাকে, যা ধৈর্য, বিশ্বাস ও আল্লাহর সাহায্যের প্রতীক।
  • দুই বাগানের মালিকের গল্প: একজন ধনী ব্যক্তি তার সম্পদ নিয়ে অহংকারী ছিল, শেষমেষ তার সবকিছু ধূলিসাৎ হয়, যা পার্থিব জীবনের অনিশ্চয়তা ও পরকালের গুরুত্ব তুলে ধরে।
  • মোসা আলে ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলেহি ওয়াসাল্লামের যাত্রা: খেদরের সঙ্গে তার সাক্ষাতের মাধ্যমে জানানো হয় যে আল্লাহর শিক্ষা ও পরিকল্পনা মানুষের বোধগম্যতার বাইরে।
  • জুলকর্ণাইন এর গল্প: এক আদর্শ শাসকের গল্প, যিনি ন্যায়ের পথে সমাজের নিরাপত্তা ও কল্যাণ মূলক কাজ করেন।

শেখার বিষয়

  • ঈমানকে দৃঢ় রাখা উচিৎ, বিশেষ করে জীবনের কঠিন মুহূর্তে।
  • দুনিয়ার সম্পদ অস্থায়ী, তাই পরকালের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
  • আল্লাহর পরিকল্পনা সবসময় আমাদের বোধের বাইরে, তাই তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
  • ধৈর্য ও কষ্টসহিষ্ণুতা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষার অংশ।
  • জ্ঞান এবং অনুসন্ধান মাথাব্যথার কারণ নয়, বরং আল্লাহর রহস্য বোঝার চেষ্টা করা উচিত।

সূরা আল-কাহফের গুরুত্ব ও প্র্যাকটিস

  • মুসলিমরা প্রতি শুক্রবার রাতে সূরা আল-কাহফ পড়ার গুরুত্ব দেন, যা সাপ্তাহিক প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করে।
  • এটি মুমিনের জীবনে আলোর কাজ করে, অন্ধকার ও মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
  • সূরার ১৮তম আয়াত বিশেষভাবে কুরআনে ‘নূরের আয়াত’ নামে পরিচিত, যা আলোর প্রতীক হিসেবে সুপরিচিত।
  • দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর আদেশ ও সিদ্ধান্ত মেনে চলার অনুপ্রেরণা দেয়।


সূরা আল-কাহফ আমাদের জীবনের পরীক্ষার সময়ে আল্লাহর সাহায্য, ধৈর্য্য ও স্থিরতার শিক্ষা দেয়। এটি পার্থিব জীবনের অসারতা ও পরকালের গুরুত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয়। প্রতিনিয়ত এই সূরার শিক্ষা গ্রহণ করলে, একজন মুসলিম তার ইমানকে শক্তিশালী করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারে।

Continue Reading

Trending