Connect with us

top1

আজ থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকেই মাঠে নেমেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা।

উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী এলাকায় ছুটে গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন তারা। পাশাপাশি দিচ্ছেন উন্নয়ন ও পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতি।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করার জন্য গতকাল রাতেই সেখানে পৌঁছে গেছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজ আসন ঢাকা-১৫-তে জনসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি আজ সকালে তিন নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও খাজা নাজিমুদ্দিনের মাজার এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, নিবন্ধিত মোট ৬০টি দলের মধ্যে এবার ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২৯৮টি আসনের মধ্যে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী রয়েছেন ২৮৮ আসনে, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ২২৪ আসনে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী ২৫৩ আসনে, এনসিপির শাপলাকলির প্রার্থী ৩২ আসনে, জাতীয় পার্টির লাঙলের প্রার্থী ১৯২ আসনে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- সিপিবির কাস্তের প্রার্থী ৬৫ আসনে এবং গণঅধিকার পরিষদের ট্রাকের প্রার্থী রয়েছেন ৯০ আসনে।

এ ছাড়া এলডিপি ১২, জাতীয় পার্টি-জেপি ১০, গণতন্ত্রী পার্টি ১, জাসদ ৬, জেএসডি ২৬, জাকের পার্টি ৭, বাসদ ৩৯, বিজেপি ৫, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ৮, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১৩, এনপিপি ২৩, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৪, গণফোরাম ১৯, গণফ্রন্ট ৫, বাংলাদেশ ন্যাপ ১, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ৩, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৯, কল্যাণ পার্টি ২, ইসলামী ঐক্যজোট ২, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৩৪, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২৬, জাগপা ১, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ৭, খেলাফত মজলিস ২১, বিএমএল ৬, মুক্তিজোট ২০, বিএনএফ ৮, এনডিএম ৮, বাংলাদেশ কংগ্রেস ১৮, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ৪২, বাংলাদেশ জাসদ ১১, বিএসপি ১৯, এবি পার্টি ৩০, নাগরিক ঐক্য ১১, গণসংহতি আন্দোলন ১৭, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২, বিএমজেপি ৮, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ১৫, বিআরপি ১২, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) ২৯, জনতার দল ১৯, আমজনতার দল ১৫, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি ১ এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী ৩ আসনে লড়াই করছেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন মোট ২৪৯ আসনে।

এ ছাড়া পাবনা-১ ও ২ আসনে মোট ৯ জন বৈধ প্রার্থী থাকলেও তাঁরা এখনো চূড়ান্ত হননি।

এদিকে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ৫৯ নেতাকে গতকাল একসঙ্গে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এর আগে একই কারণে ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়।

প্রতীক পাওয়ার পর আনন্দ, উত্তেজনা : দলীয় প্রতীক পেতে সকাল থেকেই জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমান বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা। রিটার্নিং অফিসার একে একে সবার হাতে বা প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেন প্রতীক বরাদ্দের কাগজ।

রিটার্নিং অফিসারের হাত থেকে তা হাতে নিয়ে এ দৃশ্যকে ক্যামেরাবন্দি করেন বেশির ভাগ প্রার্থী। রিটার্নিং অফিসারের কক্ষের বাইরে বের হলে কর্মী-সমর্থকরা হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান নিজ নিজ প্রার্থীদের। প্রার্থীরা অপেক্ষমাণ দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে হাত মেলান, আলিঙ্গন করেন।

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর অনেক এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা গেলেও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিএনপির দলীয় ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন।

গফরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনের বিএনপির প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এ বি সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে গতকাল বিকেল প্রায় ৫টায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। পৌর শহরের ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় একজনকে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করতেও দেখা যায়।

পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা গফরগাঁও রেলস্টেশনসংলগ্ন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেনের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গফরগাঁও বাজারের বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে খুশি চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের প্রার্থীরা। গতকাল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরুর প্রস্তুতি নেন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ সকাল সাড়ে ১০টায় নগরের কদমতলী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন কদমতলী মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করবেন।

ট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগর আংশিক) আসনে বিএনপি প্রার্থী দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী সকাল পৌনে ৮টায় পারিবারিক কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল ৮টায় নগরের কাট্টলীর মাঈনুদ্দিন শাহ (রহ.)-এর মাজারসহ আরো বিভিন্ন মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন।

সিলেট থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, প্রতীক পাওয়ার পর বিভিন্ন আসনে রীতিমতো উৎসবের আনন্দ বয়ে যায়। সিলেট জেলার ছয়টি আসনে এবার নির্বাচনে ৩৩ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। মনোনয়ন যুদ্ধে নানা নাটকীয়তার পর জয়ী সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান প্রতীক বরাদ্দ নিতে।

প্রতীক ধানের শীষ পাওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দলীয় প্রতীক আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পেলাম। এটি কী আনন্দের ও গৌরবের সেটি দলের নিবেদিত নেতাকর্মী ছাড়া কারো পক্ষে অনুভব করা কঠিন।’

সিলেট-১ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের প্রার্থী প্রণব জ্যোতি পাল দুপুর ১২টার দিকে প্রতীক বরাদ্দ নিতে যান। প্রতীক বরাদ্দ নেওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রতীক বরাদ্দ নেওয়ার জন্য প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তাঁকে দেওয়া হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ছয়টি আসনে ৪৮ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক পেয়েই জেলায় যে কজন হেভিওয়েট প্রার্থী আছেন তাঁরা অন্যদের মতো দৌড়ঝাঁপ বাড়িয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা পছন্দের হাঁস প্রতীক পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমার বাড়ির হাঁসগুলো যখন চুরি হয়, আমি কিন্তু চোরকে ছাড়িনি, আমি মামলা করেছি। জেলেও ভরেছি। আমার এই হাঁস যদি কেউ চুরি করার চিন্তাও করে আমি যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

ওই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবিব দলীয় প্রতীক খেজুরগাছ বরাদ্দ পেয়েছেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

জামায়াত জোটেও সমস্যা : ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে থাকা এনসিপি ৩০টি আসন ছাড়লেও এর মধ্যে দুটি আসনে (নরসিংদী-২ ও চট্টগ্রাম-৮) প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া আরো দুটি আসনে (সিরাজগঞ্জ-৬ ও নারায়ণগঞ্জ-৪) অন্য দুটি শরিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।

গত মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া আসনে শেষ দিনে জামায়াত ও অন্যান্য শরিক দলের প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এনসিপি শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করছে।

সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ঢাকা-১২-তে, কম পিরোজপুর-১ আসনে : নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী রয়েছেন ঢাকা-১২ আসনে। আর সর্বনিম্ন দুজন প্রার্থী পিরোজপুর-১ আসনে। ঢাকা-১২ আসনটিতে বিএনপি জোটের প্রার্থী রয়েছেন বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক ও জামায়াতে প্রার্থী রয়েছেন মো. সাইফুল আলম।

এ ছাড়া আসনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবও প্রার্থিতায় রয়েছেন।

আসনটিতে মনোনয়নপত্র জামা দিয়েছিলেন মোট ১৮ জন প্রার্থী। তিনজন প্রার্থী ঝরে পড়েছেন। আর পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রয়েছেন বিএনপির আলমগীর হোসেন এবং প্রয়াত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী। আসনটিতে আর কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেননি।

তিনজন করে প্রার্থী রয়েছেন- নওগাঁ-২, মেহেরপুর-২, নেত্রকোনা-৫, মানিকগঞ্জ-২, সুনামগঞ্জ-১ ও সুনামগঞ্জ-২ আসনে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়। তালিকা অনুযায়ী, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ জন প্রার্থী রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। এ ছাড়া খুলনা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা-১৪ ও গাজীপুর-২ আসনে রয়েছেন ১২ জন করে প্রার্থী। ১১ জন করে প্রার্থী রয়েছেন ঢাকা-৫, ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৬, ঢাকা-১৭, নারায়ণগঞ্জ-৩, গোপালগঞ্জ-২, ফেনী-২, নোয়াখালী-৫ ও খাগড়াছড়ি আসনে।

১০ জন করে প্রার্থী রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩, রংপুর-৫, গাইবান্ধা-৩, খুলনা-৩, ঢাকা-১৮, নরসিংদী-৫, নারায়ণগঞ্জ-৫, মাদারীপুর-১, মাদারীপুর-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, কুমিল্লা-৫, নোয়াখালী-৬, চট্টগ্রাম-৯ ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে।

আলোচিত ১৬ জন নারী প্রার্থী : রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে বেশি ৯ জন নারী প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি থেকে।

তাঁরা হচ্ছেন- নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমীন, ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা (ইলেন ভুট্টো), শেরপুর-১ আসনে সানসিলা জেবরিন, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খানম, ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, মাদারীপুর-১ আসনে নাদিরা চৌধুরী, সিলেট-২ আসনে মোছা. তাহসিনা রুশদীর।

এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এনসিপি নেতা তাসনিম জারা, ঢাকা-১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিম আখতার, নেত্রকোনা-৪ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির জলি তালুকদার, বরিশাল-৫ আসনে বাসদের মনীষা চক্রবর্তী, ঢাকা-১৯ আসনে এনসিপির দিলশানা পারুল, ঢাকা-২০ আসনে এনসিপির নাবিলা তাসনিদ।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ দামে জ্বালানি তেল

Published

on

By

ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এমন খবরের পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে দেখা গেছে, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর এই দাম সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দামও ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

জুন মাসের ডেলিভারির জন্য বর্তমান ব্রেন্ট ফিউচার্স চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হবে। ফিউচার চুক্তি হলো একটি নির্দিষ্ট তারিখে কোনো সম্পদ ক্রয় বা বিক্রয় করার চুক্তি। এশিয়ায় সকালের লেনদেনে অপেক্ষাকৃত সক্রিয় জুলাই মাসের চুক্তিটি প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১১৩ ডলারে পৌঁছেছিল।

সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর ধারাবাহিক ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলা চালানোর একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবিত এই হামলায় অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরেকটি পরিকল্পনা ছিল হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে সেটিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া এবং এই কাজে স্থলভাগে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, যতদিন তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে চাওয়া জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখবে, তত দিন তারা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

ইরানের ওপর ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের জন্য ওয়াশিংটন প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন খবরের পর বুধবার তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে।

Continue Reading

top1

দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন আইভী

Published

on

By

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুটি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ আদেশ দেন বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এদিকে আরও ৫ মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নিয়ে আগামী রোববার (৩ মে) আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

জানা গেছে, গত বছরের ৯ মে ভোর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আটক করে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন পেলেও আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর মধ্যেই গত ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।

পাঁচটি মামলার মধ্যে যে চারটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেগুলো হলো— ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। এছাড়াও হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপর মামলাটি করা হয়েছে।

হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ আইভীর জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

সে সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। তবে এর মধ্যেই আরও দুই মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

Continue Reading

top1

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রবেশ

Published

on

By

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই মাইলফলকের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক শক্তি প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই ধাপে পৌঁছানোকে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রূপপুরে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসিসহ শীর্ষস্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আজ আমরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নের এক নতুন যুগে পদার্পণ করল। এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, এটি আমাদের আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়নের প্রতীক।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অত্যাধুনিক। নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি ধাপে কঠোরভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পে বহুমাত্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা যে কোনো ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি বাস্তব উদাহরণ, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তার ভাষায়, এই প্রকল্প দেশের জন্য জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনের পথে দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ফলে প্রকল্পটি নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে শক্ত অবস্থান অর্জন করেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রক ভূমিকার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফটির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচভ বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে একটি স্বীকৃত অবস্থান অর্জন করছে। তিনি জানান, মহামারি, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নির্মাণকাজ একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি এবং এখন প্রকল্পটি সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটে বর্তমানে পাইপলাইন ও পাম্পিং সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ চলছে এবং আগামী বছর সেখানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে রাশিয়া ও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গে লিখাচভ জানান, গত কয়েক বছরে রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রোসাটমের কোটা অনুযায়ী ৯০০-এর বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চতর পারমাণবিক শিক্ষা লাভ করেছে। তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ১১০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞ তৈরি করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যারা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে। এক বছরের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে কাজ দ্রুত এগিয়েছে। তিনি জানান, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যোগ করবে, যা শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি দীর্ঘমেয়াদি উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল প্রায় এক শতাব্দী।

জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্প এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিকে এগিয়ে গেল, যা বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Continue Reading

Trending