Connect with us

top3

তরুণরাই বাংলাদেশ চালাবে : জামায়াত আমির

Published

on

কিশোরগঞ্জে ১১ দলের নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ দিয়ে যুবসমাজকে বাংলা গড়ার কারিগরে পরিণত করা হবে। বেকার ভাতা দিয়ে নয়; মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

তরুণরাই বাংলাদেশ চালাবে মন্তব্য করে তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সেইদিন তোমরা গর্ব করে বলতে পারবে, আমিই বাংলাদেশ, আমরাই বাংলাদেশ। এমন একটি দেশই তোমাদের হাতে তুলে দিতে চাই। আমরা বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজের ককপিটে তোমাদেরকে বসাতে চাই।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের তিন ভাগের একভাগ হাওর। এ হাওর শুধু ডালভাত নয়; প্রোটিনেরও যোগান দেয়। কিন্তু উন্নয়নের নামে নদীগুলোকে খুন করা হয়েছে। হাওর-বিলগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা এগুলোতেও হাত দেব। নদীর জীবন ফিরে এলে বাংলাদেশের জীবনও ফিরে ফিরে আসবে। নদী দিয়ে আমাদের উন্নয়নের সংস্কার শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই মানুষ শান্তিতে-নিরাপদে থাকবে। কৃষক তার জমিতে ফসল ফলাবে। শ্রমিক শ্রমের ন্যায্য পাওনা পাবে। সকলে মানবিক মর্যাদায় বাস করবে। এদেশে হাত পাতার মানুষ থাকবে না। কেবল কাজ করার মানুষ থাকবে। অক্ষমদের দায়িত্ব নেবে সরকার। মা-বোনেরা ঘরে-বাইরে নিরাপদে চলাফেরা করবে। সকল শিশুর চিকিৎসা ও শিক্ষার দায়িত্ব নেবে সরকার।

জামায়াত আমির বলেন, কিশোরগঞ্জ শিল্পভিত্তিক জেলা নয়, এটি একটি কৃষিনির্ভর জেলা। তাই কৃষিকে কেন্দ্র করেই উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আমরা কৃষিকে শিল্পে পরিণত করব, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, এত টাকা কোথায় পাওয়া যাবে। আমরা যদি ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে দেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে, সেই অর্থ পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করব, ইনশাআল্লাহ এবং তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করে রাষ্ট্রের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

জামায়াতের এ শীর্ষ নেতা বলেন, এদেশের মানুষ স্বভাবগতভাবে ধর্মপ্রাণ। তারা অন্যান্য ধর্মের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। এটিই ধর্মের সৌন্দর্য। আমরা দেশটাকে সব ধর্ম দিয়ে ফুলের মতো করে সাজাব। ধর্ম দিয়ে পুরো জাতিকে টুকরো টুকরো করতে কাউকে সুযোগ দেব না। অতীতের কাসুন্দি শেষ। এ বিভেদ আর শুনতে চায় না কেউ। এগুলো শুনিয়ে শুনিয়ে জনগণকে ভাগ করে রেখে জাতির ভাগ্য যারা ছিনতাই করেছে- তাদের জায়গা আর বাংলাদেশে হবে না।

শফিকুর রহমান বলেন, এখন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। পিছনে ফিরে তাকানোর সময় নেই। পেছনে (অতীত) নিয়ে যারা কামড়াকামড়ি করতে চায় তারা তা করুক। আমরা এগিয়ে যাব। নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, মা-বোনেরা অপমানিত হলে আমি প্রতিবাদ করি। এ কারণে কিছু লোক আমার পেছনে লেগেছে। আমার এক্স আউডি হ্যাক করে নোংরা কথা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের আমির বলেন, আমরা দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ও চাই না। আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সেই বিজয় হবে আমাদের সবার। দল-গোষ্ঠী-পরিবারতন্ত্রের বিজয় আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা পুরোনো রাস্তায় অন্ধকার গলিতে নয়; আলোকিত পথেই হাঁটব।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেবো- সেই দিন আর ফিরে আসবে না। চব্বিশের যোদ্ধারা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা নিজেদের ভোটের পাশাপাশি অন্যদের ভোটও পাহারা দেবে। কোনো দুর্বৃত্তকে আর ভোটে হাত দিতে দেওয়া হবে না’।

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারোর অন্যায় আবদার শুনবেন না। আমরা আনুকল্য চাই না। কিন্তু আমাদের ক্ষতি করতে এলে আমরা ছেড়ে দেব না। সুষ্ঠু নির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হয়ে আসবেন, আমরা তাকে অভিনন্দন জানাতে প্রস্তুত।

কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির ও কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মো. রমজান আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে জামায়াতের প্রার্থী, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদের শ্যালক প্রফেসর ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খান, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. রোকন রেজা শেখ, কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আতাউল্লাহ আমিন।

এছাড়া সদ্য জামায়াতে যোগদানকৃত কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপির সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন, এনসিপির কেন্দ্রীয় (উত্তরাঞ্চল) সংগঠক আহনাফ সাইদ খান, জেলা জামায়াতের সাবেক দুই আমির মাওলানা আব্দুস সালাম ও অধ্যক্ষ মাওলানা তৈয়বুজ্জামান, সাবেক নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক ভূঁইয়া, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের সনাতনী শাখার সভাপতি কৃষ্ণ চন্দ্র বসাক, খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আহাদ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. রমজান আলী স্থানীয় বিভিন্ন উন্নয়ন-বঞ্চনার তথ্য তুলে ধরে বলেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে হাওর উন্নয়ন বোর্ড পুনর্গঠন, হাওরের কৃষিপণ্য সংরক্ষণে পর্যাপ্ত হিমাগার নির্মাণ, ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কটিকে মহাসড়কে রূপান্তর ও ছয় লেনে উন্নীতকরণ, কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনাকে সবল করা ও বাজিতপুর-কটিয়াদীতে আধুনিক কৃষি ইনস্টিটিউট করা হবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ব্র্যাক ব্যাংকের সহায়তায় কুবিতে ৩৫০০ দুর্লভ প্রজাতির চারা রোপণ শুরু

Published

on

By

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে ব্র্যাক ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতা ও উদ্ভিদ ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘তরুপল্লব’-এর সার্বিক সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রজাতির ৩ হাজার ৫০০টি দুর্লভ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন চত্বরে চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, ব্র্যাক ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার আঞ্চলিক প্রধান মোহাম্মদ মাসুদ আলম, ‘তরুপল্লব’-এর সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন ও সংগঠক হেনা সোলতানা।

জানা যায়, চারাগুলোর মধ্যে রয়েছে কনকচাঁপা, স্বর্ণচাঁপা, ম্যাগনোলিয়া, পলাশ, বিভিন্ন ঔষধি ও ফলজ গাছের চারা।

ব্র্যাক ব্যাংকের কুমিল্লা শাখার আঞ্চলিক প্রধান মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, ‘প্রকৃতির উন্নয়ন ও সবুজায়নে ব্র্যাক ব্যাংক সবসময় বিশ্বাসী। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েও আর্থিক সহায়তায় ৩ হাজার ৫০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে। সারাদেশের ১৪টি প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষায় ব্র্যাক ব্যাংকের অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে।’

‘তরুপল্লব’-এর সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগিতায় ‘তরুপল্লব’ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও প্রতিষ্ঠানে মোট ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ করছে। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা এসব চারার মধ্যে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির গাছই বেশি।’

তিনি আরও বলেন, “উপাচার্য কনকচাঁপার চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতিনিধিরা স্বর্ণচাঁপার চারা রোপণ করেন। বর্তমানে এ প্রজাতির চারা পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার প্রধান মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “ব্র্যাক ব্যাংক ও ‘তরুপল্লব’-এর সহযোগিতায় রোপণ করা ৩ হাজার ৫০০টি গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও দেখাশোনা করা হবে। গাছগুলো বেড়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও সবুজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে।”

Continue Reading

top3

ববিতে নারী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের রাতভর সংঘর্ষ, অ্যাম্বুলেন্স চালককে মারধর

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অর্থনীতি বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় বিভাগের কমপক্ষে ১০জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানাগেছে। 

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের সামনে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়ে রাতভর  দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এ-সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স চালক তারেককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে আজ অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রেখেছে চালকরা এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অসুস্থ শিক্ষার্থীরা।

রাত নয়টায় সংঘর্ষ শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপস্থিত হয়ে প্রাথমিকভাবে তাদের দুই বিভাগকে নিভৃত করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বুলেন্সে করে অর্থনীতি বিভাগের কিছু আহত শিক্ষার্থীদের হসপিটালে নেয়ার সময় ভিসি গেটের সামনে এম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ইংরেজি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমানসহ  ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদেরকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর করেছে। 

অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. তারেককেও মারধর করেছে কতিপয় শিক্ষার্থী। এতে সকল ড্রাইভাররা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের ম্যানেজারের কাছে এই ঘটনার বিচার চাইবেন বলে জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাইভার মো. শহিদ বলেন, আমাদের তারেককে মারধর করা হয়েছে আমরা রেজিস্ট্রার ও পরিবহন পুল ম্যানেজারের কাছে যাচ্ছি বিচারের জন্য।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে, ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের মুসা নামের এক শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে নবীন বরনের দিন প্রেমের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ঐ নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠে মুসার বিরুদ্ধে। বিষয়টি ১৫তম ব্যাচের অর্থনীতি  বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের জানালে তারা মুসাকে ভিসি গেটের অপজিটে অবরুদ্ধ করে। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে ইংরেজি বিভাগের মুসা নামের ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরে তার মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়, এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হাতাহাতি রাত ১০ টার দিকে একবার থামলেও পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফের শুরু হয় আরে ধাপে। এসময় একটি বিভাগ অবস্থান নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিগেটের ভিতরে আরেকটি বিভাগ গেটের বাইরে রাস্তায়। দু’পক্ষই একে অপরের দিকে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি করে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত হয়েও শিক্ষার্থীদের থামাতে পারছিলেন না। আধাঘন্টা সময় ধরে চলে ১১টার দিকে থামে সংঘর্ষ। 

এবিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, আমাদের বিভাগের জুনিয়র  এক মেয়েকে র‍্যাগিংয়ের কায়দায় উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ইংরেজি বিভাগের মুসা। মেয়ে রাজি ন হওয়ায় আটকে রাখে মুসা   বিষয়টি জানতে পেরে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীরা আজকে ভিসি গেটের অপজিটে জড়ো হন। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ১৩ তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী আকস্মিকভাবে হাত চালালে হাতাহাতির সূত্রপাত হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংঘর্ষ থামিয়ে দেয়ার পর এম্বুলেন্সে করে আহত শিক্ষার্থীদের হসপিটালে নেয়ার পথে ইংরেজি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী হামলা করে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীসহ ইংরেজি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী।

অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধরের ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে আসলে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন প্রক্টর। এসময় প্রক্টরকে বলতে শোনা যায়, সবার বিচারের আওতায় আনা হবে। তখন এক শিক্ষার্থী বলেন, কি বিচার হবে স্যার প্রক্টর বলেন, বিধিমোতাবেক বিচার করা হবে।”

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেছি। দুই বিভাগের শিক্ষার্থী উত্তেজিত ছিলো। মারধরে অংশ নেয়ার ঘটনাটি মিথ্যা দাবি করেন তিনি। 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছাত্রদল সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আশিক বলেন, আমরা মারামারি ঠেকাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছি। কেউ কাউকে মানতে চায় না সবাই উত্তেজিত, দুই বিভাগই ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি করেছে আমার শরীরে দুই টুকরো ইট আঘাত হেনেছে৷ তিনি বলেন দোষীদের তদন্তপূর্বক শাস্তির আওতায় আনা উচিত। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “আমরা সারারাত ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলাম দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে নিভৃত করার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি নিয়ে আজকে আমরা প্রক্টরিয়াল টিম বসবো কেন বারবার শিক্ষার্থীরা এমন সংঘাতে জড়াচ্ছে এবং তার সমাধান খুঁজে বের করার জন্য।”

Continue Reading

top3

ববিতে নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের মধ্যে হাতাহাতি 

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অর্থনীতি বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের মুসা নামের এক শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে নবীন বরনের দিন প্রেমের প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ঐ নারী শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা হয় অভিযোগ ওঠেছে। বিষয়টি ১৫তম ব্যাচের অর্থনীতি  বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের সিনিয়রদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে ইংরেজি বিভাগের মুসা নামের ওই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরে তার মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়, এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

 এবিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, আমাদের বিভাগের জুনিয়র  এক মেয়েকে র‍্যাগিংয়ের কায়দায় উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেয় ইংরেজি বিভাগের মুসা। মেয়ে রাজি ন হওয়ায় আটকে রাখে মুসা   বিষয়টি জানতে পেরে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীরা আজকে ভিসি গেটের অপজিটে জড়ো হন। একপর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের ১৩ তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী আকস্মিকভাবে হাত চালালে হাতাহাতির সূত্রপাত হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, সহকারী প্রক্টররা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন। আমিও যাচ্ছি ওখানে।

Continue Reading

Trending