Connect with us

মতামত

অপসাংবাদিকতা নিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস হাসনাতের

Published

on

কয়েকদিন ধরে বসুন্ধরা গ্রুপ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। একে অপরের নিন্দা জানিয়ে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি নিয়েও তোলপাড়। এবার নতুন করে বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া সন্ত্রাসী ও অপ-সাংবাদিকতা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য জানিয়েছেন এনসিপির মূখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।মঙ্গলবার (৮ জুলাই) তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক স্টাটাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

পাঠকদের সুবিধার্থে তার দেয়া পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো-তিনি উল্লেখ করেন, পতিত ফ্যাসিস্টদের সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক মেশিনারির চাকা সচল হতে শুরু করেছে। এবং দু:খজনকভাবে এই সচল হওয়ার প্রক্রিয়াটা শুরু করেছেন ২৪ জুলাই আগস্টে পতিত ফ্যাস্টিস্টের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া সাংবাদিকদের কেউ কেউ।’ভূমিখেকো’ এবং ‘মিডিয়া মাফিয়া’ বলে পরিচিত বসুন্ধরা গ্রুপ ৫ আগস্টের আগে কিভাবে পতিত ফ্যাসিস্টদেরকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে এবং ৫ আগস্টের পর তারা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেভাবে সিরিজ ডিসইনফরমেশন ও হেইট ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছে তার নিন্দা করে গত পরশু একটি বক্তব্য দিয়েছি। ওই বক্তব্যে এই মিডিয়া মাফিয়া গ্রুপটি যেভাবে পতিত ফ্যাসিস্টদের ফুটসোলজারদেরকে তাদের পত্রিকাগুলোতে প্লাটফর্ম দিচ্ছে তার নিন্দা করেছি এবং তাদের ভবিষ্যতের জন্য হুশিয়ার করেছি যেন এমন অপকর্ম থেকে সরে আসে।

একটি মাফিয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে আমার এই যৌক্তিক বক্তব্য এবং অবস্থানকে ‘মিডিয়ার প্রতি হুমকি’ হিসেবে দেখাতে উঠে পড়ে লেগেছেন ৫ আগস্টের পর ওই মিডিয়া গ্রুপে চাকরি পাওয়া এমন কিছু সাংবাদিক যাদেরকে ২৪ অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি হিসেবেই আমরা জানতাম। ৫ আগস্টের পর মিডিয়া মাফিয়া গ্রুপটির অবৈধ টাকার কাছে আত্মা বিক্রি করে দেয়া ওই সাংবাদিকরা জাতীয় প্রেসক্লাবে থাকা তাদের পদবী ব্যবহার করে বসুন্ধরার পক্ষে এমন বিবৃতি দিচ্ছেন যেখানে আমার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থান করেছেন।

আমি একটি প্রশ্ন তুলতে চাই যে, জাতীয় প্রেসক্লাবের যেই নেতারা আমার বক্তব্যকে বিকৃত করে বিবৃতি দিলেন তারা কি কখনো বসুন্ধরা গ্রুপের মাফিয়া মিডিয়া আউটলেটগুলোর ছড়ানো ভুয়া খবরের নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন? ২৪ এর গণহত্যায় উস্কানিদাতা এই মিডিয়া গ্রুপের অপকর্মের নিন্দা করেছিলেন কখনো? আমি আরও প্রশ্ন করতে চাই, জুলাই আগস্টে যখন দেড় হাজারের বেশি ছাত্র জনতাকে গুলি করে পুলিশ হত্যা করছিল তখন এই জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতারা কি সেই গণহত্যার নিন্দা করে কোন বিবৃতি দিয়েছিলেন? বর্তমান যে নেতারা বিবৃতি দিচ্ছেন তারা দায়িত্ব নেয়ার (অনির্বাচিতভাবে) বাংলাদেশের মিডিয়াকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কবল থেকে মুক্ত করতে কোন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন? নাকি শুধু নিজেরা কিছু পদ দখল করে আগের ফ্যাসিস্ট এনেবলার ও মাফিয়াদের সাথে যোগসাজশ করে নিজেদের পকেট ভারি করতে ব্যস্ত হয়েছেন?আমি আমার বক্তব্যে যা বলার স্পষ্টভাবেই বলেছি এবং এখনও আবার স্পষ্টভাবেই বলছি, আমি ভূমিখেকো, বহু বছর আগে থেকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত, মিডিয়া মাফিয়া বসুন্ধরা গ্রুপের কর্তৃপক্ষকে হুশিয়ার করেছি যাতে তারা অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে ডিসইনফরমেশন এবং হেইট ছড়ানো বন্ধ করে এবং পেশাদার সাংবাদিকতায় মনোযোগ দেয়।আমি বাংলাদেশের স্বাধীন মিডিয়াকে কোন হুমকি কখনো দেইনি, বরং আমি স্বাধীন মিডিয়ার পক্ষে একজন এডভোকেট। কিন্তু ‘স্বাধীনতা’র নামে ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্লাটফর্ম দেয়া এবং যে কারো বিরুদ্ধে ডিসইনফরমেশন ছড়ানো হলে তা মেনে নেয়া হবে না।

অত্যন্ত লজ্জার বিষয় হচ্ছে, ৫ আগস্টের আগে ফ্যাসিস্টদের দ্বারা নিপীড়িত কিছু সাংবাদিক যখন মিডিয়া মাফিয়া গ্রুপের পত্রিকায় চাকরি টিকিয়ে রাখতে আমার বিরুদ্ধে বিকৃত তথ্য দিয়ে বিবৃতি দেয়ার পর তাদের দেখানো পথে আওয়ামী পলাতক ফ্যাসিস্টদের সহযোগী ২৪ এর হত্যা মামলার আসামি সাংবাদিকদের একটি গ্রুপ অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর বিপক্ষে বিবৃতি দেয়ার সাহস পেয়েছে এবং সেই বিবৃতি ওই মাফিয়া গ্রুপের পত্রিকাসহ কয়েকটি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।”গণমাধ্যমকে হুমকির প্রতিবাদ অর্ধশতাধিক সাংবাদিকের বিবৃতি” শিরোনামের ওই খবরটি দেখা যাচ্ছে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছে সৈয়দ বোরহান কবির, আবু জাফর সূর্য, নজরুল কবীরদের মতো আওয়ামী তথ্য সন্ত্রাসীদের নাম যারা ২৪ ছাত্র জনতা হত্যার পক্ষে বৈধতা উৎপাদনে রাতদিন কাজ করে গেছে এবং এরপর তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে এখন পলাতক আছে।আমি বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী কয়েকজনের পরিচয় একলাইনে তুলে ধরছি-সৈয়দ বোরহান কবির: বাংলা ইনসাইডার নামক আওয়ামী প্রপাগান্ডা ওয়েবসাইটের মালিক ও সম্পাদক যে, ২৪ এর গণহত্যা চলাকালে প্রতিদিন ছাত্রজনতার বিরুদ্ধে ভুয়া খবর প্রচার করে তাদেরকে ভিলিফাই করতো। ২০১৮ সাল থেকে তার ওয়েবসাইটে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পক্ষে কয়েকশ ভুয়া প্রচার করা তথ্য ফ্যাক্ট চেকিং ওয়েবসাইটগুলোতে পাওয়া যায়।

নজরুল কবীর: একাত্তর টিভি এই বিকৃত মানসিকতার সাংবাদিক নামক ব্যক্তিটি অভ্যুত্থান চলাকালে লাইভ টকশোতে হত্যার পক্ষে উস্কানি দিয়ে গেছেন যার ভিডিও অনলাইনে এভেইলেবল আছে।

আবু জাফর সূর্য: ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের আওয়ামী ফ্যাসিস্ট অংশের এই নেতা ২৪ এর আন্দোলন চলাকালে সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে হত্যাযজ্ঞের বৈধতা দেয়া মিছিলে অংশ নিয়েছে।

শেখ জামাল: এই ব্যক্তি স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। ৫ আগস্টের পর নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের হয়ে মিছিল করে গ্রেফতার হয়েছিল। তার নামও ‘সাংবাদিক’ হিসেবে বিবৃতে রয়েছে।

এভাবে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা প্রতিটি সাংবাদিক নামধারী ফ্যাসিস্ট এনেইবলার বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে দাঁড়িয়ে ২৪ এর ছাত্র জনতার ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞের প্রতি সমর্থন দিয়ে গেছে।বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত লজ্জা ও দু:খের বিষয় হচ্ছে, বসুন্ধরার মাফিয়া মিডিয়ার অপকর্মের পক্ষে দাঁড়াতে অভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী খুনিদেরকেও বুদ্ধিবৃদ্ধিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে শক্তিশালী করছেন কিছু সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মী যারা এক সময় আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ভুক্তভোগী ছিলেন।আমি এই বিষয়টিতে আমার উদ্বেগ জানিয়ে রাখলাম। এবং একই সাথে ফ্যাসিস্টদের সাংস্কৃতিক ফ্রন্টকে শক্তিশালী করে তুলতে তথাকথিত সাংবাদিক নেতাদের ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে রাখলাম।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

দ্য হিন্দুর এক্সপ্লেইনার/২০১৩ সালের চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে কি ফেরত পাঠাবে ভারত

Published

on

By

কল্লোল ভট্টাচার্য

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলছে, তারেক রহমানের সফরের জন্য নয়াদিল্লিকে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করতে হবে। আর এই পরিবেশ তৈরির প্রধান শর্ত হলো শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তখন থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। গত ৫ আগস্ট (২০২৬) দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘বাংলাদেশে আবার ভয় ফিরে এসেছে।’

তার এই বক্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনাকে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিশুসহ নিরীহ মানুষ হত্যার জন্য সরাসরি তাকে দায়ী করেছে ঢাকা।

ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত চায় বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম গত রোববার আরেকটি দাবি সামনে এনেছেন। তিনি ওসমান হাদির সন্দেহভাজন খুনিদের ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

ওসমান হাদি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তখন বাংলাদেশে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার সংকট তৈরি হয়েছিল।

চীন কেন ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানবে না

অভিযুক্ত খুনিরা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলে ঢাকা দাবি করছে। বর্তমানে দেশের রাজপথে প্রভাবশালী ইসলামপন্থিরা এই মামলার ওপর কড়া নজর রাখছেন। সংসদে ৬৭টি আসন থাকা দল জামায়াতে ইসলামীও হাদির বিচারের দাবিতে সোচ্চার। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে এই মামলাটি বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ ও আইনি জটিলতা

দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, ভারত যে কোনো অপরাধীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে পারে। দুই দেশের পারস্পরিক এই চুক্তিতে এমন বিধানই রয়েছে। তবে চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক অপরাধীদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

‘পলিটিক্যাল অফেন্স এক্সেপশন’ বা রাজনৈতিক অপরাধের ব্যতিক্রম নামের এই ধারা অনুযায়ী, অপরাধটি রাজনৈতিক চরিত্রের হলে প্রত্যর্পণের অনুরোধ নাকচ করতে পারে যে কোনো পক্ষ।

অবশ্য খুন, অপহরণ ও নরহত্যার মতো গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না। তবে মূল সমস্যা হলো, চুক্তিতে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’-এর কোনো স্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত যে কোনো অপরাধকে নিজেদের মতো করে ‘রাজনৈতিক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেতে পারে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই অনেক মামলা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি আন্তর্জাতিক আদালতও (আইসিজে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইসিজে ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

আইসিটির রায় ও দিল্লির অবস্থান

২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে পুলিশি দমন-পীড়নের জন্য দায়ী করে। পরে একটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে।

আমি স্বাধীনতা উপভোগ করছি, তারা আফগানিস্তানে ‘বন্দি’

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৪০০।

রায়ের পর শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে কূটনৈতিক চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ। তবে নয়াদিল্লি এ নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেবল জানিয়েছে, তারা রায়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণ কামনা করে।

তারা সেখানে শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা সবসময় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করবে। অন্যদিকে জাতিসংঘ নীতিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করলেও বাংলাদেশে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।

৮ নম্বর অনুচ্ছেদের বাধা

প্রত্যর্পণ চুক্তির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদটি ভারতের জন্য আরেকটি আইনি পথ খুলে দিয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, কোনো অভিযোগ যদি ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ বা ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে’ করা না হয়, তবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা যাবে। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই আইসিটির রায়কে ‘পূর্বনির্ধারিত’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সহানুভূতিশীল থাকার অভিযোগ তোলেন।

স্পেন কি কোনো ‘শাস্তি’ পাচ্ছে?

তৎকালীন সরকার জামায়াতের পক্ষে বহু মামলা লড়া ব্যারিস্টার তাজুল ইসলামকে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। শেখ হাসিনা নিজেও এক বিবৃতিতে এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার দাবি করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হলে ১৯৭৩ সালের ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধন প্রয়োজন।

বাস্তবতা ও সম্পর্কের উষ্ণতা

দুই দেশের সীমান্তে অপরাধীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ঢাকা ও দিল্লি এই প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে। একই বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে এটি কার্যকর হয়। ইতোপূর্বে এই চুক্তির আওতায় ২০২২ সালে ১১টি হত্যা মামলার আসামি নূর নবী ম্যাকসনের মতো বেশ কয়েকজন অপরাধীকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। পলাতক আসামিদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই চুক্তিটিই দুই দেশের একমাত্র কার্যকর আইনি মাধ্যম।

তাত্ত্বিকভাবে প্রত্যর্পণ সম্ভব হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলার ক্ষেত্রে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই প্রধান ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে হঠাৎ ফেরত পাঠালে বাংলাদেশে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তা ছাড়া যখন দুই দেশের সম্পর্ক সর্বোচ্চ চূড়ায় ছিল, তখন এই চুক্তি সই হয়েছিল। বর্তমানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি দিল্লির জন্য বেশ জটিল।

Continue Reading

মতামত

কেন খাবেন না কোমল পানীয়?

Published

on

By

লাইফস্টাইল ডেস্ক

কোমল পানীয় যে বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়-তা উপেক্ষা করার উপায় নেই। ২০২১ সালে কোমল পানীয়ের বিশ্বব্যাপী বাজারমূল্য ৪১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছিল বলে ধারণা করা হয়েছিল। যদিও নিয়মিত কোমল পানীয় পানের নেতিবাচক পরিণতি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত তবুও সব বয়সের মানুষকেই এসব পানীয় অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করতে দেখা যায়। 

কোমল পানীয় মূলত পানির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি পানীয়। এর সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস মিশ্রিত হলে কার্বনেটেড হয়ে যায়। অগণিত কোমল পানীয়ের বিভিন্ন স্বাদের পেছনে এমন কিছু উপাদান আছে যা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

কোমল পানীয়ের ভেতরের লোভনীয় বুদবুদ, অথবা পান করার সময় মুখে সুড়সুড়ির অনুভূতি, কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের ফলে হয়।

এই যৌগটি পাকস্থলীকে অনেকের ধারণার চেয়েও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। 

কোমল পানীয় পান করার পর এবং এটি অন্ত্রে পৌঁছানোর পর, শরীর পনীয়টিকে ‘উষ্ণ’ করে যার ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড পেটে গ্যাস হিসাবে প্রসারিত হয়। কার্বনেশন এবং গ্যাস জমা হওয়ার কারণে এর ফলে তীব্র পেট ব্যথা হতে পারে।

এছাড়া পেট ফাঁপা, অস্বস্তি, পেট ভরা অনুভূতি এবং পেটের পেশীতে খিঁচুনি সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি ঢেকুর তোলার অনুভূতি সৃষ্টি করে। 

এছাড়া সোডা পান করার পর অতিরিক্ত ঢেকুর তোলার ফলে খাদ্যনালীতে অ্যাসিড বেরিয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে খাবারের সময় বা ঠিক পরে সোডা পান করলে।

আবার কেউ যদি ডায়েট কোমল পানীয়কে স্বাস্থ্যকর বিকল্প মনে করেন তাহলে তাও সঠিক নয়।  বেশিরভাগ অন্ত্রের সমস্যা  ডায়েট সোডায় পাওয়া কৃত্রিম মিষ্টির জন্য হয়।  এই মিষ্টিগুলো অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া (মাইক্রোবায়োম) উৎপাদন এবং নিয়ন্ত্রণকে ব্যাহত করে।

কোমল পানীয় পেটের উপর ‘অ্যাসিড লোড’ হিসেবে কাজ করতে পারে।  এটি পাকস্থলীর অ্যাসিডিটির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, পাকস্থলীর আস্তরণের ক্ষতি করে এবং প্রায়শই অম্বল এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্স (প্রচলিতভাবে ধোয়া ঢেকুর) করে। 

তথ্যসূত্র: সামাটিভি

Continue Reading

মতামত

কুরবানির তাৎপর্য

Published

on

By

মাওলানা আশরাফ উদ্দিন খান

ইসলামে ইবাদতের ধারণা খুব স্পষ্ট ও বিস্তৃত। এখানে ইবাদত বলতে কোন সীমাবদ্ধ ধর্মীয় ধারণা বুঝানো হয় না। সাধারণ ধারণায় ইবাদত হতে পারে ব্যক্তিগত কোন ধর্মীয় কাজ-কর্ম, কিন্তু ইসলামে ইবাদতের ধারণা, অভ্যাস ও প্রভাব ব্যক্তির পরিধি অতিক্রম করে সমাজ ও জাতির সভ্যতা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। কুরবানির শুরু একজন ব্যক্তির ইসতিসলাম বা আত্মসমার্পণ দিয়ে, আর পরবর্তীতে সেটা ধীরে ধীরে ব্যক্তি-পরিবারকে অতিক্রম করে সমাজ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়ে সমাজের মধ্য থেকে বৈষম্য দূর করার কৌশল প্রদান করে থাকে। কাজেই এটার শুরু ব্যক্তিগত ইবাদত হলেও এটা শেষ হয় সামাজিক সুফল অর্জনের মধ্য দিয়ে। কুরবানির মধ্যে এমন কিছু ভিত্তি বিদ্যমান রয়েছে যা একটি সভ্যতার সৃষ্টির জন্য অতি প্রয়োজনীয় ভিত্তি।

কুরবানির মধ্যে বিদ্যমান ভিত্তিসমূহ কি কি?

কুরবানির ভিত্তি ও স্তম্ভ কুরবানির আমলের মধ্যে চারটি ভিত্তি ও স্তম্ভ বিদ্যমান যেগুলো হচ্ছে-

1. তাকওয়া

2. ত্যাগ

3. বণ্টন

4. ঐক্য

—তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহর ভয়। কুরআনের পরিভাষায় মানুষকে সভ্য মানুষে পরিণত করে এই তাকওয়া। কুরআন বলে ‘তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সেই যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়ার অধিকারী’। এই তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়ের মাধ্যমে মানুষের ভিতরে দায়িত্ব বোধ ও জবাবদিহিতা তৈরি হয়। ফলে মানুষ দুর্নীতি মুক্ত হয়ে জীবনযাপন করতে শিখে। এভাবে সমাজের মধ্যে আল্লাহভীরু ও দুর্নীতিমুক্ত মানুষের সৃষ্টি হতে থাকে। এক এক করে কিছু আল্লাহভীরু মানুষের সমষ্টিতে একটি আল্লাহভীরু সমাজের বিকাশ করে।

কুরবানির দ্বিতীয় ভিত্তি ছিল ত্যাগ। মদিনাতে মুহাজির ও আনসার সাহাবিদের মাধ্যমে মুসলিম সভ্যতার যে গোড়াপত্তন হয়েছিল সেই সভ্যতার একটি উল্লেখযোগ্য ভিত্তি ও গুণ ছিল এই ত্যাগ। কুরআন বলছেঃ وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلۡإِيمَٰنَ مِن قَبۡلِهِمۡ يُحِبُّونَ مَنۡ هَاجَرَ إِلَيۡهِمۡ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمۡ حَاجَةٗ مِّمَّآ أُوتُواْ وَيُؤۡثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ وَلَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَةٞۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٩‘… এবং তারা তাদেরকে (অন্যদেরকে) নিজেদের উপর অগ্রাধিকার দেয় যদিও তাতে তাদের ভীষণ প্রয়োজন থাকে’। (সুরা হাশরঃ ০৯) ত্যাগ এমন একটি গুণ যা মানুষকে মহামানব এবং সভ্যতাকে মানবিক সভ্যতায় পরিণত করে। ত্যাগের বিপরীত ধারণা হচ্ছে দখলদারিত্বের মানসিকতা। যেই মানসিকতা থেকে মানুষের মুক্ত থাকা চেতনা ছাড়া সম্ভব নয়। কুরআনের দুটি আয়াতের দুটি অংশ উল্লেখ করা যাকঃ وَأُحۡضِرَتِ ٱلۡأَنفُسُ ٱلشُّحَّۚ وَإِن تُحۡسِنُواْ وَتَتَّقُواْ فَإِنَّ ٱللَّهَ كَانَ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٗا١٢٨‘… মানুষকে কার্পণ্যের উপর সৃষ্টি করা হয়েছে, যদি সৎকর্মশীল হও এবং মুত্তাকী হও তবে তোমরা যা করো নিশ্চয় আল্লাহ তার খবর রাখেন’। (সুরা নিসাঃ ১২৮) وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ‘… যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে তারাই সফলকাম’। (সুরা হাশরঃ ০৯) কুরবানির ইবাদত মানুষকে আধুনিক ভোগবাদের ধারণাকে বাদ দিয়ে মানুষের কল্যাণের জন্য সবকিছু উৎসর্গ করার শিক্ষা দান করে। কুরবানি মানুষকে শেখায় ‘আমি কম নিতে ও অপরকে বেশি দিতে অভ্যস্ত হব’। কুরবানির গোশত বণ্টনের মাধ্যমে নিজের সম্পদকে অন্যের সামনে পেশ করার সবক ও শিক্ষা রয়েছে। এই শিক্ষাকে ব্যাপকতার রুপ দান করতে পারলে সেটা সভ্যতার উপাদানে রুপান্তরিত হবে। এটাকে কুরবানির গোশত থেকে মসজিদে নামাজের জায়গা দখল করা, বাসের সিট দখল, পাবলিক লাইব্রেরীর চেয়ার দখল করা, নিজের গাড়ি দিয়ে কারো স্থান দখল করা থেকে আরো দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

আর চতুর্থ ভিত্তি ছিল ঐক্য। অর্থাৎ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ একদিন, এক আমল ও এক অনুভুতির মাধ্যমে সারা দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান নিজেদের মধ্যে ঐক্যের অনুভতি অর্জন করতে সক্ষম হয়। আজক যেহেতু কুরবানি তাঁর যথাযত অর্থ ও মর্ম হারিয়ে নিছক একটি আচার ও অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, তাই প্রতিবছর কুরবানি আদায় করার পরেও কুরবানির এই ভিত্তিগুলো আমাদের সমাজে কার্যকর হচ্ছে না। ফলে ইবাদত বা আমল আছে ঠিক কিন্তু তাঁর যথাযথ ফল আমরা অর্জন করতে পারছি না। আমরা আকৃতি গ্রহণ করেছি কিন্তু চেতনা হারিয়ে ফেলেছি, সুন্নত পালন করছি ঠিক কিন্তু সেই প্রেরণা আমাদের মাঝে ধরে রাখতে পারিনি। যে জাতি বা উম্মাহ কুরবানির মর্ম বুঝতে পারে, সেই উম্মাহ ইতিহাস রচনা করতে পারে। আর যে উম্মাহ কুরবানি ভুলে যায় সে তাঁর ইতিহাসকে হারিয়ে ফেলে। আজকে আমাদের কুরবানির মধ্যে হযরত ইবরাহীম আঃ এর আমলের বাহ্যিক রূপ আছে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু যেই ঈমান আর চেতনাকে সাথে নিয়ে তিনি কুরবানি করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন সেই ঈমান আর চেতনা থেকে আমাদের অবস্থান কত দূরে। কুরবানির চেতনা যদি আমরা আসলেই ধারণ করতে পারি, তাহলে সেই ধারণাকে আমরা অতি সহজে মুসলিম উম্মাহর সভ্যতার পুনঃনির্মাণে ব্যবহার করার সাহস ও সুযোগ পাবো ইনশা আল্লাহ। আর যদি আমরা প্রতি বছরে অভ্যাস অনুযায়ী কুরবানি করতে থাকি, এর চেতনা ধারণা করা ব্যতীত তাহলে সেটা হবে কুরবানির নিছক সাদৃশ্য গ্রহণ করা। ফলে কুরবানির সুদুর প্রসারি ফল আমরা অর্জন করতে পারব না। যেটা আমাদের প্রতিদিনের আমল প্রমাণ করে দিচ্ছে। আমাদের কুরবানির ভিত্তি হোক তাকওয়া, ত্যাগ, বণ্টন ও ঐক্যের সুতায় গাঁথা একটি সমন্বিত আমল, যা আমাদেরকে সুন্নতে ইবরাহীমের নিকটবর্তী করবে ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ উত্তম তাওফিকদাতা।

লেখক: মাওলানা আশরাফ উদ্দিন খান (খতিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ)

Continue Reading

Trending