Connect with us

ক্যাম্পাস

ইবি সায়েন্স ক্লাবের ওয়েবসাইট ও নিবন্ধিত অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রথম সংগঠন হিসেবে নিজস্ব ওয়েবসাইট ও নিবন্ধিত অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু করল ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ক্লাব’।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের উপাচার্যের কক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমানের উপস্থিতিতে ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সায়েন্স ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, উপদেষ্টা ড. মো. মিনহাজ উল হক, ক্লাবের সভাপতি জুনাইদুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হোসেন সাকিব, মিডিয়া সেক্রেটারি শুভ্রত কুমার, জয়েন্ট সেক্রেটারি মিশনু আল আসনাওয়ি, জয়েন্ট কমিউনিকেশন সেক্রেটারি নওরিন ফাতেমা তোয়া সহ ক্লাবের অন্যান্য কার্যনির্বাহী সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা।

এ সময় সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি জুনাইদুল মোস্তফা উপাচার্যের সামনে ক্লাবের নিজস্ব ওয়েবসাইটটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন। ওয়েবসাইটের বিভিন্ন বিভাগ, ফিচার, তথ্য, কার্যক্রম এবং এর ব্যবহার ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে উপাচার্যকে অবহিত করেন। পাশাপাশি নিবন্ধিত নিজস্ব অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের কার্যপ্রণালী এবং এর মাধ্যমে কীভাবে মাসিক চাঁদা, সদস্যপদ, বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও সায়েন্স ফেস্টিভ্যালসহ অন্যান্য কার্যক্রমের ফি অনলাইনে পরিশোধ করা যাবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা ধরেন।

সায়েন্স ক্লাবের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান বলেন, “এ ক্লাবের প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানাই এবং শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী।”

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। বিশেষ করে জাপানের সঙ্গে 2+2 শিক্ষা কার্যক্রম, চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও একাডেমিক সহযোগিতা এবং BRAC-এর সঙ্গে Career Hub প্রতিষ্ঠার উদ্যোগসহ শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি আলোকপাত করেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

ইবির অর্থনীতি বিভাগের ‘কন্সেপ্ট কম্পিটিশন ২০২৬’ এর পুরস্কার বিতরণ

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘Concept Competition-2026’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৮ জন বিজয়ীর মধ্যে অসামান্য বিশ্লেষণমূলক কাজের জন্য সেরা তিনজনকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ সময় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে অর্থনীতি ক্লাবের উদ্যোগে এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল—‘বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণ চিহ্নিতকরণ ও উত্তরণের সম্ভাব্য উপায়’।

অর্থনীতি ক্লাবের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল জলিল পাঠানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. পার্থ সারথি লস্কর, সহকারী অধ্যাপক মোছা. শামীমা নাসরীন, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন মো. সাব্বির হোসাইন (মাস্টার্স, ২০২৪-২৫)। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তানজিন আরা দিনা (অনার্স, ২০২৪-২৫) এবং তৃতীয় হন প্রতিত্ত চাকমা (অনার্স, ২০২৫-২৬)।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল জলিল পাঠান বলেন, “পরিবর্তিত বিশ্বে বাংলাদেশের চলমান ইতিবাচক অর্থনৈতিক সূচকগুলোর চিত্রায়ণ এবং এর সম্ভাব্য প্রতিকার—এটাই ‘Concept Competition-2026’-এর মূল প্রতিপাদ্য। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রচলিত জ্ঞানের গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে চিন্তা করতে ও সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করতে উদ্বুদ্ধ হবে।”

অর্থনীতি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “একটি প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় অর্জন পুরস্কার পাওয়া নয়; বরং এতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের জ্ঞান, চিন্তাশক্তি ও দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করা। আমরা অর্থনীতির শিক্ষার্থী। অর্থনীতি শুধু বইয়ের তত্ত্ব বা সমীকরণের বিষয় নয়; এটি আমাদের চারপাশের সমাজ, মানুষের জীবন, সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎকে বোঝার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।”

তিনি আরও বলেন, “তাই আমাদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তিসম্পন্ন, সমস্যা সমাধানে দক্ষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। ভবিষ্যতেও অর্থনীতি ক্লাব শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিতর্ক, কুইজ, কর্মশালাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করি।”

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. পার্থ সারথি লস্কর বলেন, “কনসেপ্ট প্রতিযোগিতার আয়োজনের জন্য সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। একটি প্রতিযোগিতা শুধু বিজয়ী নির্ধারণের মাধ্যম নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, যুক্তিবোধ ও নতুন কিছু করার সাহস বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একটি ভালো ধারণা বা কনসেপ্টই অনেক সময় বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতিটি চিন্তা, উদ্ভাবনী ভাবনা ও উপস্থাপনার মধ্যে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু পুরস্কার পাওয়ার জন্য নয়, নিজের চিন্তাকে অন্যদের সামনে তুলে ধরার জন্যও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া উচিত। জয়-পরাজয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিযোগিতা থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং তা থেকে শেখার সুযোগ। আমি আশা করি, এ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন চিন্তার বিকাশ ঘটাবে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে আরও সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করবে।”

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ইবির আইটি সোসাইটির কম্পিউটার ওয়ার্কশপের পুরষ্কার বিতরণী

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রযুক্তিনির্ভর সংগঠন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি (আইইউআইটিএস)-এর উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী কম্পিউটার ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীদের সনদ প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনের ৩৩৫ নং কক্ষে সনদ প্রদানের এ আয়োজন করা হয়। এসময় ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারীদের জন্য বেসিক কম্পিউটারের উপরে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। কুইজে তিনজনকে বিজয়ী ঘোষণা করে পুরষ্কার প্রদান করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আইইউআইটিএস-এর সভাপতি তাকি খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়াও ওয়ার্কশপের ট্রেইনার হিসেবে ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ তাছিফ।

ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমরা তিন দিনের ওয়ার্কশপে এত বেশি শিখতে পারব, ভাবতে পারিনি। আইইউটিএস-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একজন বলেন, পরবর্তীতে এমন ওয়ার্কশপে সবার অংশগ্রহণ করা উচিৎ।

ওয়ার্কশপের ট্রেইনার ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ তাছিফ বলেন, “একজন ট্রেইনার ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটারের মৌলিক বিষয়গুলো শেখাতে পারাটা আমার জন্য একটি দারুণ অভিজ্ঞতা। অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহ ও উৎসাহ আমাদের আয়োজনকে সফল করেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করি।”

সভাপতি তাকি খান বলেন, “আমরা এমন পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা একে অন্যের কাছ থেকে শিখবে, নিজেদের দক্ষতা আরও উন্নত করবে এবং সম্মিলিতভাবে নতুন কিছু করার সুযোগ পাবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আইইউআইটিএসের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালা। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে শেখার পাশাপাশি নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পান। এত সংখ্যক আগ্রহী শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে নিয়ে শেখার ও জ্ঞান ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

অনুষ্ঠানের অতিথি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করা আর কোনো বিকল্প নয়, বরং সবার জন্য অপরিহার্য। শিক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তাই নিজ নিজ বিষয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের প্রতি শিক্ষার্থীদের আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের এই সময়ে এআইকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। এআইয়ের সহায়তায় নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও কাজের পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত শেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।”

Continue Reading

ক্যাম্পাস

সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে কুবিতে মানববন্ধন

Published

on

By


কুবি প্রতিনিধি :

সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে তারা বাংলাদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। যদি ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে তারা কঠিন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্ত্বরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘কোটা গেছে যেই পথে– ভাইভা যাবে সেই পথে’, ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ– বন্ধ কর, করতে হবে’, ভাইভা না মেধা– মেধা মেধা’, ‘দোয়েল, কোয়েল, ময়না, টিয়া– ভাইভায় এসো ঘুষ নিয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে উদ্দেশ্য করে ‘ছি ছি ধিক্কার– জাহেদ তুই চাটুকার’ বলেও স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

মানববন্ধনে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনের কথা না ভুললেও আমাদের সরকার হয়তো ভুলে গেছে। মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় কিন্তু আমরা দেখতে পারছি বর্তমান সরকার ইতিহাস ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে। যে জুলাই অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল কোটা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, আবার তা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সরকারি চাকরিতে বৈষম্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ এবং ভাইবার নামে আবার কোটাকে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির ১৯৯০–৯৬ এর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সরাসরি প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও সরকারি চাকরিতে হস্তক্ষেপ করার প্রথম প্রচেষ্টা চালায় তারা। আমি সরকারের উদ্দেশ্যে বলছি এসব বন্ধ করুন তা না হলে পালানোর জায়গা পাবেন না।’

জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সদস্য সচিব সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, ‘আমরা সব সময় বলে থাকি যে কোটা না মেধা–মেধা মেধা। কিন্তু এখন আমরা দেখছি যে কোটা আবার নতুনভাবে ফিরে আসছে। আজকে আমরা কারো নিজের সুবিধার জন্য এখানে আসি নাই। সরকারের এই সিদ্ধান্ত এভাবে বাড়তে দিলে এক পর্যায়ে এই সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যারা চব্বিশের আন্দোলন দেখেছি এরপরও যদি আমরা না শুধরাই আমাদের জন্য যা অপেক্ষা করতেছে, তা হবে আরও ভয়ংকর। তাই এই ব্যবস্থা প্রতিহত করা আমাদের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব থেকেই আজকে আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একটা ইচ্ছা থাকে যে পড়াশোনা করে দেশের জন্য কাজ করব কিন্তু এখন দেশের জন্য কাজ করার সেই পথটাই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই এখন আমাদের এই ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা দরকার, প্রতিবাদ করা দরকার এবং যার যার জায়গা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলা প্রয়োজন।’

ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের বারবার যে কোন বিষয় নিয়ে রাজপথে নামা লাগে, অথচ এই সরকার হওয়ার কথা ছিল জনগণের। কিন্তু সরকার হয়ে যায় তার নিজের দলের। এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা সরকার কিভাবে সবকিছুতে দলীয়করণ করে তা আশপাশে তাকালেই দেখতে পাবেন। এমন কোন প্রতিষ্ঠান নাই যেখানে দলীয়করণ করা হয়নি। আমরা তারেক সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, ১৪০০ শহীদের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশের যদি আবার ফ্যাসিবাদী কায়দা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেটা আর কখনো হবে না। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তা কখনোই মেনে নিবে না।’

কুবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে মেধার অবমূল্যায়ন এবং দলীয় লোকদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিবাদেই আজকের এই মানববন্ধন। আপনারা লক্ষ্য করেছেন ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আমাদের প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভাই শহীদ হয়েছেন। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যাদের অনেকে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অথচ তাদের সুস্থ হওয়ার আগেই তাদের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে সরকার আবারও বৈষম্যের পথ বেছে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে চায় এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আমাদের এই প্রতিবাদ সারা বাংলাদেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে। আমরা আরও লক্ষ্য করছি, সরকার দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করার মতো নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হতে হবে। আমরা মনে করছি, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয় ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের যে অপচেষ্টা চলছে, সরকারকে সেখান থেকেও ফিরে আসতে হবে। ভাইভা নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা)নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে ১১ থেকে ১২তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০। নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫০ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে। ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০। প্রস্তাবিত বিধিমালায় তা বাড়িয়ে ৪০ নম্বর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ভাইভার নম্বর ১০। নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ২৫ নম্বর করার কথা বলা হয়েছে।

Continue Reading

Trending