Connect with us

top1

অভিশপ্ত ২৮ অক্টোবর: স্বৈরাচারের শুরু থেকে ১৯ বছরের কালো অধ্যায়

Published

on

আজ ২৮ শে অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। মানুষ রুপি হায়েনাদের নৃত্য মৃত লাশের উপর যেন শকুনের থাবা কেউ হার মানায়।২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার একটি স্মরণীয় অধ্যায় রচিত হয়। ওইদিন ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাসুমসহ কয়েকজন নিহত হন। জামায়াত-বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও সমর্থিত বামপন্থী সংগঠনগুলোর কর্মীরা “”লগি-বৈঠা” নিয়ে রাজপথে নেমে আসে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মসূচির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দেয়।
সংঘর্ষের সময়: ঢাকার পল্টন ও আশপাশের এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।

নিহতদের মধ্যে: জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মাসুমসহ কয়েকজন নিহত হন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, নিহতদের দেহের উপর কিছু ব্যক্তি নাচানাচি করছে, যা ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

জামায়াত ও বিএনপি এই ঘটনাকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস” হিসেবে অভিহিত করে এবং বিচার দাবি করে।

গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া: বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার নৃশংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকটি তুলে ধরে।
এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিভাজনমূলক ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।
সোমবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের আয়োজনে শহীদদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠান করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের হাতে পৈশাচিক হত্যাকা-ের শিকার পরিবারের সদস্যরা।

লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকা অবরোধের নির্দেশ ॥

২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানের মহাসমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা তার কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকা অবরোধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তারা এই আহ্বানে সাড়া দিয়েই আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের কর্মীরা লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ২৭ অক্টোবর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সেদিনও মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের সভাস্থল থেকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল ‘জামায়াত-শিবিরের ওপর হামলা কর, ওদের খতম কর’। ১৪ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল, তোফায়েল আহমদ, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন বারবার উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়ে হামলার জন্য তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে উৎসাহিত করছিলেন।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর যা ঘটেছিল ॥

২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রেডিও-টিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। মূলত এ ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় লগি-বৈঠার তা-ব। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াত অফিসসহ নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি যেমন চালানো হয় পৈশাচিক হামলা, তেমনি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অনেক অফিস, বাড়িঘর । তার প্রথম শিকার হয় গাজীপুরে জামায়াতে ইসলামীর অফিস। এ সময় লগি-বৈঠা বাহিনীর তা-বে শহীদ হন রুহুল আমিন।

সুপরিকল্পিত হামলা চারদলীয় জোট সরকারের ৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিকেল ৩টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ ছিল। সকাল থেকেই সভার মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। হঠাৎ করেই বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের লগি, বৈঠা ও অস্ত্রধারীরা জামায়াতের সমাবেশস্থলে হামলা চালায়। তাদের পৈশাচিক হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয় জামায়াত ও শিবিরের অসংখ্য নেতাকর্মী। তাদের এই আক্রমণ ছিল সুপরিকল্পিত ও ভয়াবহ। তারা একযোগে বিজয়নগর, তোপখানা রোড ও মুক্তাঙ্গন থেকে পল্টন মোড় দিয়ে আক্রমণ চালায়। এক পর্যায়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পল্টনের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে পড়ে এবং নিরীহ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটাতে থাকে।

পল্টন মোড়ের পৈশাচিকতা সেদিন পুরো পল্টনজুড়ে ছিল লগি-বৈঠা বাহিনীর তা-ব। লগি-বৈঠা আর অস্ত্রধারীদের হাতে একের পর এক আহত হতে থাকে নিরস্ত্র জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। লগি-বৈঠা দিয়ে একের পর এক আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিনকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা তার লাশের ওপর উঠে নৃত্য-উল্লাস করতে থাকে।

সেদিন আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা বাহিনী শুধু জামায়াতের সভা প- করার জন্যই পৈশাচিক হামলা চালায়নি, তারা জামায়াতকেই নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল জামায়াতের সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দিতে। প্রথম দফা হামলার পর তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকে। আশপাশের ভবনের ছাদে উঠে বোমা ও বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রসহ অবস্থান নেয়। সভার শেষদিকে মাওলানা নিজামীর বক্তব্য শুরু হলে তারা তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনরায় হামলা চালায়।

একদিকে ভবনের ছাদ থেকে বৃষ্টির মতো বোমাবর্ষণ করতে থাকে, অপরদিকে পল্টন মোড় থেকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে লগি-বৈঠাধারীরা সমাবেশের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এ সময় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তৈরি করে মানবঢাল। আওয়ামী অস্ত্রধারীদের ছোড়া গুলি মাথায় বিদ্ধ হয়ে রাজপথে লুটিয়ে পড়েন জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমান ও জুরাইনের জামায়াত কর্মী জসিম উদ্দিন। এ ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের ১৫ জন নেতাকর্মী শহীদ এবং আহত হন সহস্রাধিক।

হামলা ছিল একতরফা ॥ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে বিকেলে সমাবেশের জন্য সকাল থেকেই মঞ্চ তৈরির কাজ চলছিল। এজন্য মঞ্চ তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাসহ জামায়াত ও শিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী মঞ্চের পাশে ছিল। এ সময় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছিল। তাই জামায়াত ও ১৪ দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অবস্থানের কোনো সুযোগ ছিল না। বিকেলে সমাবেশ হওয়ার কারণে সকালে মঞ্চ তৈরির সংশ্লিষ্ট লোক ছাড়া মিছিল করার মতো জামায়াত ও শিবিরের কোনো নেতাকর্মী ছিল না। হঠাৎ করেই বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিমের নেতৃত্বে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা হাতে বিশাল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়ে আসে।

একই সময় জিপিও এলাকায় অবস্থানরত ১৪ দলের শত শত কর্মী লগি-বৈঠা নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ১৪ দলের কর্মীরা প্রকাশ্যে গুলি করা ছাড়াও লগি-বৈঠা নিয়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একের পর এক আঘাত হানতে থাকে নিরীহ জামায়াত ও শিবিরের কর্মীদের ওপর। মঞ্চ গুঁড়িয়ে দিতে এগিয়ে যেতে থাকে বায়তুল মোকাররম উত্তর সড়কের দিকে।

এ হামলায় পিস্তলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ডা. এইচবিএম ইকবালও তার বাহিনী নিয়ে যোগ দেয়। সেদিন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ থেকে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইকবাল সেদিন পল্টন মোড় থেকে একটু এগিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) অফিসের সামনে তার অনুগত একদল যুবককে হাত নেড়ে সামনে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। ডা. ইকবাল হাত নেড়ে নির্দেশ দেওয়ার পরই এক যুবককে ঘেরাও করে লগি-বৈঠা বাহিনী নির্মমভাবে পিটাতে থাকে। চতুর্দিক থেকে আঘাতে আঘাতে সে পড়ে যায় রাস্তার কিনারে। সাপের মতো লগি-বৈঠা দিয়ে তাকে পিটানো হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার লাশের ওপর উঠে নারকীয় উল্লাস করে লগি-বৈঠা বাহিনী। বিকল্প পথে মঞ্চ দখলের জন্য বিজয়নগর, পল্টন মসজিদের গলি দিয়ে ঢুকে পড়ে লগি-বৈঠা বাহিনী।

যেখানেই দাড়ি-টুপিধারী মানুষ দেখেছে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তারা। শিবির নেতা মুজাহিদুল ইসলামকে তারা এ সময় পেয়ে যায় পল্টন মোড়ের কাছে। ঘিরে ধরে তাকে। লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে নরপিশাচরা। আঘাতে আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মুজাহিদ। তারপর ঐ পিশাচরা লগি দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নিজেদের জিঘাংসা চরিতার্থ করে। লালবাগের জসিমকে প্রীতম হোটেলের সামনে একাকী পেয়ে লগি-বৈঠা দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। তিনি বারবার উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন। এ দৃশ্যই টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখা যায়। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ, বোমা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পর আহতদের সারি বেড়েই চলছিল। আহতদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় জামায়াতের ঢাকা মহানগরী অফিসে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গুরুতর আহতদের নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দফায় দফায় হামলা চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। এ সময় বারবার পুলিশকে অনুরোধ করা হলেও তারা রাস্তার পাশে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। অনেক পুলিশকে সেদিন বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর চত্বরের ভিতরে অবস্থান নিতে দেখা যায়। দুপুর পৌনে ২টার দিকে ১৪ দলের লগি-বৈঠাধারী সন্ত্রাসীরা হামলা জোরদার করে পল্টন মোড় থেকে সিপিবির অফিসের সামনে চলে আসে। এ সময় তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কয়েকজন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীকে ধরে নিয়ে যায়। পুলিশ কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা কোনো ভূমিকা পালন করেনি। একই সময় বিজয়নগর, পুরানা পল্টন মসজিদ গলিসহ আশপাশের এলাকা দিয়ে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে। তারপরও সমাবেশ সফল হলো।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বায়তুল মোকাররমের উত্তর সড়কে জামায়াতের সমাবেশ শুরু হয়। এ সময় পল্টন মোড়ের দিকে না হলেও বিজয়নগরসহ অন্যান্য এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে থাকে লগি-বৈঠা বাহিনী। তবে সমাবেশ চলতে থাকে স্বাভাবিকভাবে। যথারীতি আছর নামাজের বিরতি হয়। বিরতির পর বক্তব্য রাখেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আবদুস সুবহান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এরপরই বক্তব্য দিতে দাঁড়ান জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।

মাওলানা নিজামীর বক্তব্য শুরু হওয়ার ৪/৫ মিনিট পর ৪টা ৪৩ মিনিটে পল্টন মোড়ে উত্তেজনা দেখা যায়। এ সময় নির্মাণাধীন র‌্যাংগস টাওয়ারের (বাসস ভবনের পূর্ব পাশের বিল্ডিং) ছাদ থেকে সমাবেশ লক্ষ্য করে ১০/১২টি বোমা ও প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে দফায় দফায় গুলি ছোড়ে ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা। এ সময় পুলিশ নিজেদের নিরাপদ স্থানে হটিয়ে নেয়। আবার শুরু হয় ১৪ দলের মরণ কামড়ের মতো আক্রমণ। সমাবেশ ভ-ুল করে দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। মাগরিবের আজানের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসে যখন বিডিআর পল্টন মোড়ে অবস্থান নেয়। এর আগে সমাবেশের কোনো বক্তাই উত্তেজনাকর বক্তব্য দেননি, আক্রমণাত্মক কথাও বলেননি কেউ।

সেদিন আওয়ামী হায়েনারা জামায়াত কর্মী হাবিবুর রহমানকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি লাশটি টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল গুম করার জন্য। কিন্তু পুলিশের সহায়তায় যখন লাশটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলো সেখানেও চলতে থাকে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিম বাহিনীর লাশ দখলের খেলা। তারা নকল বাবা-মা সাজিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল লাশটি। পরবর্তীতে এ কারসাজি ধরা পড়ায় নকল বাবা-মা সটকে পড়ে। এখানেই শেষ নয়। আওয়ামী লীগ হাবিবুর রহমানকে নিজেদের কর্মী দাবি করে তার লাশের ছবি ব্যবহার করে পোস্টারও ছেপেছিল। লাশ নিয়ে রাজনীতি এর চেয়ে জঘন্য নমুনা আর কী হতে পারে?

পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা ॥

ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা ছিল রহস্যময়। পুলিশের উপস্থিতিতেই আওয়ামী লীগের আগ্নেয়াস্ত্র ও লগি-বৈঠাধারী সন্ত্রাসীরা জামায়াতের সমাবেশস্থলে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। অসহায় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের শত অনুরোধেও পুলিশ কোনো ভূমিকা রাখেনি। জামায়াতের অভিযোগ তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ভূমিকাও ছিল রহস্যজনক। ২৮ অক্টোবরের আগ থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার ঘোষণা করা হচ্ছিল লগি-বৈঠা, কাস্তে বা অন্য কোনো অস্ত্রশস্ত্র বহন নিষিদ্ধ ও বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আওয়ামী লীগের অফিসে লগি-বৈঠা সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার করলেও পুলিশ এ ব্যাপারে ছিল একেবারেই নীরব।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ইরানে বিদ্রোহ উসকে দিতে কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সিআইএ

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ যখন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে, তখন ইরানে একটি বড় ধরনের বিদ্রোহ ঘটানোর লক্ষ্যে দেশটির বিরোধী কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। 

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বুধবার এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে।  

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ট্রাম্প ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তান’ বা কেডিপিআই’র প্রধান মোস্তফা হিজরির সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। এ ছাড়া গত রবিবার ট্রাম্প ইরাকের দুই প্রভাবশালী কুর্দি নেতা মাসুদ বারজানি ও বাফেল তালিবানির সঙ্গেও ফোনালাপ করেছেন। বাফেল তালিবানি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিকল্পনার লক্ষ্য ও ইসরায়েলের ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো কুর্দিদের ব্যবহার করে ইরানি বাহিনীকে ব্যস্ত রাখা। এর ফলে ইরানের ভেতরে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের সুযোগ তৈরি হবে এবং উত্তর ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরায়েলের জন্য একটি ‘বাফার জোন’ বা সুরক্ষা বলয় তৈরি করা সম্ভব হবে। জানা গেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত কয়েক মাস ধরেই কুর্দিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই জোট গড়ার জন্য তদ্বির করছিলেন। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার কুর্দিদের মধ্যে তাদের নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছে।

বিশ্লেষকদের উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক নীল কুইলিয়াম আল জাজিরাকে বলেছেন, এই পদক্ষেপটি হিতে বিপরীত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটি ইরানের ভেতরে গৃহযুদ্ধকে আরও উসকে দেবে এবং বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। কুইলিয়াম আরও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই পরিকল্পনাটি খুব একটা গোছানো নয়। ট্রাম্পের নীতি অনেকটা ‘নিজে করো’ পদ্ধতির মতো—যেখানে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র দিয়ে সটকে পড়তে পারে, কিন্তু এর ফলে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে তার দায় নেবে না।

সিআইএ-র অতীত ইতিহাস

বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে সিআইএর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

ইরান (১৯৫৩): ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে মিলে ইরানের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।

আফগানিস্তান (১৯৭০-এর দশক): সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে আফগান মুজাহিদীনদের প্রশিক্ষণ ও অর্থ দিয়েছিল।

নিকারাগুয়া (১৯৮০-এর দশক): সমাজতান্ত্রিক সরকারকে হটাতে ‘কন্ট্রা’ বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিল।

লিবিয়া (২০১১): গাদ্দাফিকে হটাতে বিদ্রোহীদের গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছিল।

অন্যান্য দেশ: সিআইএ ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, গুয়াতেমালা, কিউবা এবং এল সালভাদরেও বিভিন্ন সময় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিয়েছে।

আঞ্চলিক প্রভাব

কুর্দিরা মধ্যপ্রাচ্যের একটি জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী যারা তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান ও ইরাকে ছড়িয়ে আছে। তাদের কোনো নিজস্ব রাষ্ট্র নেই। যুক্তরাষ্ট্র যদি এখন ইরানি কুর্দিদের অস্ত্র দেয়, তবে সেটি তুরস্ক ও সিরিয়ার মতো আঞ্চলিক মিত্রদের ক্ষুব্ধ করতে পারে। ইতিমধ্যে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি পশ্চিম সীমান্তে কুর্দিদের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র চাইছে কুর্দিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের বর্তমান সরকারকে কোণঠাসা করতে। তবে এই পরিকল্পনা সফল হবে নাকি মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা করবে, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Continue Reading

top1

ইরানকে তুরস্কের হুঁশিয়ারি

Published

on

By

তুরস্কের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এরপর তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে আঙ্কারা।

বুধবার (৪ মার্চ) নিজেদের সূত্রের বরাতে তুরস্কের গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে ইরানকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হামলার বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে টেলিফোন করে উদ্বেগ জানিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

আব্বাস আরাঘচিকে হাকান ফিদান বলেছেন, ‘‌সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা উচিত।’

এ ঘটনায় ন্যাটো থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে।

Continue Reading

top1

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে খামেনিপুত্র মোজতবা

Published

on

By

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনে তোড়জোড় শুরু করেছে ইরান। দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তিন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮৮ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের আলেমদের পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মঙ্গলবার এ বিষয়ে দুটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার সকালেই ৫৬ বছর বয়সী মোজতবার নাম ঘোষণা করার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ এই মুহূর্তে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে কিছুটা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।

এর আগে শিয়া ইসলামের অন্যতম কেন্দ্র কোম শহরে এই পরিষদের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ইসরায়েল একটি ভবনে হামলা চালায়। তবে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ জানিয়েছে, হামলার সময় ভবনটি খালি ছিল।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির ইরান বিশেষজ্ঞ ভ্যালি নাসর বলেন, মোজতবা নির্বাচিত হলে বুঝতে হবে ইরানের শাসনব্যবস্থায় এখন কট্টরপন্থি রেভল্যুশনারি গার্ডের নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা দীর্ঘদিন পর্দার আড়াল থেকে তার বাবার সাম্রাজ্য পরিচালনায় প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছেন। শনিবার মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনির সঙ্গে মোজতাবার স্ত্রী জাহরা আদেল, মা মানসুরেহ খোজাসতেহ এবং তার এক ছেলেও নিহত হয়েছেন।

তেহরানের বিশ্লেষক মেহেদি রহমতি মনে করেন, দেশের সামরিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকায় বর্তমান সংকটে মোজতবাই সবচেয়ে যোগ্য পছন্দ। তবে তার নিয়োগে জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা জনরোষ তৈরি হতে পারে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, গত কয়েক মাসে ইরানে অন্তত ৭ হাজার মানুষ সরকারি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন।

মোজতবা ছাড়াও চূড়ান্ত তালিকায় আরও দুইজনের নাম রয়েছে। তারা হলেন- আলেম ও আইনবিদ আলিরেজা আরাফি এবং ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি সৈয়দ হাসান খোমেনি। এই দুজনই তুলনামূলক মধ্যপন্থি হিসেবে পরিচিত। তবে মোজতবার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ আবদোলরেজা দাভারি মনে করেন, ক্ষমতায় এলে মোজতবা সৌদি আরবের মোহাম্মদ বিন সালমানের মতো প্রগতিশীল হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন।

এদিকে ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সম্ভাব্য নেতাদের অনেকেই ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন। ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি আগের নেতার মতোই খারাপ কেউ ক্ষমতায় আসে। আমরা তেমনটা চাই না।

সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

Continue Reading

Trending