Connect with us

top1

আজ প্রতীক নিয়ে কাল থেকে মাঠের লড়াইয়ে নামবেন প্রার্থীরা

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আজ বুধবার চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে প্রতীক তুলে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নির্বাচনের চূড়ান্ত আমেজ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা নামবেন মাঠের প্রচারে। এতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বল আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে, যা চলবে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত।

কয়েকদিন ধরে নানা জল্পনা-কল্পনার পর গতকাল শেষ হয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিকতা। যারা ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর তারা সরে গেছেন, এখন মাঠে রয়েছেন শুধু চূড়ান্ত প্রার্থীরা। আজ প্রতীক পাওয়ার পর আগামীকাল থেকেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। এরই মধ্যে মাইকিংসহ প্রচারের সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকেই প্রার্থীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। ‘ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়া’, ‘পথসভা’ আর ‘উঠান বৈঠকে’ মুখর হয়ে উঠবে পাড়া-মহল্লা। সারা দেশে শীতের আমেজের সঙ্গে যোগ হচ্ছে নির্বাচনী উষ্ণতা। প্রার্থীরা তাদের ইশতেহার নিয়ে ধরনা দেবেন সাধারণ মানুষের কাছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচনের বল এখন পুরোপুরি মাঠে গড়াল। কে হাসবেন শেষ হাসি, আর কার গলায় উঠবে জয়ের মালা, তা নির্ধারণে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ভোট ও প্রচার নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ। চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িং রুম—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘ভোট’ এবং শুধুই ভোট।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর, নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৩ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেখান থেকে যাচাই-বাছাইকালে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৬৩৯ জন আপিল করলে শুনানি শেষে ৪৩১ জনের প্রার্থীতা ফেরত দেয় কমিশন। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। ফলে সারা দেশে ২৯৮টি আসনে কমবেশি ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে মাঠে থাকলেন। রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়রি থেকে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে চলে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা রোববার পর্যন্ত চলে। অবশ্য পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী (আগের তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৩ জনের) এ তালিকা থেকে বাদ যাবে। ভোটের দিন একই রেখে এ দুই আসনে নতুন তপশিল ঘোষণা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে দশ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত গোলাম আকবর খোন্দকারও রয়েছেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি জামায়াতের প্রার্থী। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রত্যাহার শেষে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, গতকাল দিন শেষে মোট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারীর সংখ্যা ১২ জন। তারা হলেন চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএসপির মো. ওসমান আলী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচ এম আশরাফ বিন এয়াকুব, চট্টগ্রাম-৫ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুক্তার আহমেদ, চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম-৭ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. এনায়েত উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে নেজামে ইসলাম পার্টির মো. নেজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. লোকমান, চট্টগ্রাম-১২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. ইমরান, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে এলডিপির মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী ও নেজামে ইসলাম পার্টির মো. মুসা।

তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও গোলাম আকবর খোন্দকারকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দশদলীয় জোট থেকে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী এনসিপি মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল হাসান সেখানে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে আসছিলেন। কিন্তু দেখা গেছে, শেষ পর্যন্ত ওই আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে আসনটিতে জোটের দুজন প্রার্থী রয়ে গেলেন।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার শেষে চট্টগ্রাম-১ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-২ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-৩ আসনে ৪ জন, চট্টগ্রাম-৪ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে ১০ জন, চট্টগ্রাম-১২ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ৬ জন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ৩ জন ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ৭ জন প্রার্থী বহাল রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জে আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন—নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল কায়ুম শিকদার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ইলিয়াস আহমেদ। এ তিন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বর্তমানে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন ৪৭ জন প্রার্থী।

রাজশাহীতে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার: রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনে ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী প্রার্থীরা হলেন রাজশাহী-১ আসনের সুলতানুল ইসলাম তারেক (স্বতন্ত্র), রাজশাহী-৩ আসনের মো. ওয়াহেদুজ্জামান (এলডিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মাদ ফজলুল করিম। রাজশাহী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার ইসলাম নাসিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নোয়াখালীতে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার: নোয়াখালীর ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৪৭ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নোয়াখালীর ৬টি নির্বাচনী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২ প্রার্থীসহ ৫ প্রার্থী নিজেদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

নোয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হচ্ছেন নোয়াখালী-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাইয়েদ আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন, নোয়াখালী-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনা জসীম উদ্দিন মওদুদ, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আলী আহমদ ও নোয়াখালী-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শাহ মাহফুজুল হক।

কর্মীদের বাধার মুখে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারলেন না জামায়াত প্রার্থী: নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীর জন্য ছেড়ে দেওয়া হলেও মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী। গতকাল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আমজাদ হোসাইনকে তার নিজ বাসায় আটকে রাখেন দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা। ফলে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি।

এদিকে, মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. ফারুক ভূঁইয়া এবং নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী জগলুল হায়দার আফ্রিক।

নওগাঁর ছয়টি আসনে চার প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার: নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁর ছয়টি আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ছয়টি সংসদীয় আসনে এখন ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন নওগাঁ-২ আসনের ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন, খেলাফতে মজলিস প্রার্থী আব্দুর রহমান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং নওগাঁ-৫ আসনের এবি পার্টির কাজী আতিকুর রহমান।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দিনাজপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ফলে মোট ৪০ জন প্রার্থী আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোঁচাগঞ্জ) আসন থেকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সুধীর চন্দ্র শীল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রেজাউল করিম মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

দিনাজপুর-৫ (ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর) আসনে জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন, জামায়াত ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের মনোনীত ডা. আব্দুল আহাদকে সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। একই আসনের আরেক প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত আব্দুল কাদের চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

এ ছাড়া দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর) আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টি মনোনীত আব্দুল হক শেষ দিনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বৈধতা পাওয়া ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে দুজন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় বর্তমানে তিন আসনে মোট বৈধ প্রার্থী ২১ জন। মনোনয়ন প্রত্যহারকারী দুজন হলেন শরীয়তপুর-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন ও শরীয়তপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহানা কাদের রহমান।

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ আসনে ডা. মাহমুদা মিতুসহ ৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের কাছে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফরম জমা দেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহমুদা মিতু, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম আজম সৈকত এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। অন্যদিকে, ঝালকাঠি-২ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী শেখ জামাল তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মুন্সীগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট চারজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এর ফলে জেলায় মনোনয়ন দাখিলকারী মোট ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে।

মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এর আগে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে তিনি বৈধতা ফিরে পেয়েছিলেন।

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে দুজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক এভিএম ফজলুল করিম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম। ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উভয় প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এদিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাজি আব্বাস কাজী দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা: প্রধানমন্ত্রী

Published

on

By

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে নির্ধারিত বিধিবদ্ধ নীতি ও নিয়ম অনুযায়ী। আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

ভাষণে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং, জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সব রকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।’

রমজান মাসজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসজুড়ে ইফতার, তারাবীহ ও সেহরির সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত পালনের পরিবেশ তৈরি করা আমাদের সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে অপচয় রোধ করে সংযম ও কৃচ্ছতা অবলম্বন করাও প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী কর্তব্য। অফিস-আদালতসহ সর্বত্র বিনা প্রয়োজনে বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা— এটিও ইবাদতের অংশ বলে আমি মনে করি।

রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে যাতে সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস আদালত ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল নৌ সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে। সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ সুলভ এবং নিরাপদ করা করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে অপরদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে আমি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত ধর্ম দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে, এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশী হিসেবে, আপনার আমার আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশী নাগরিকের অধিকার সমান।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃংখলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।’

Continue Reading

top1

রমজানে ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময় নির্ধারণ

Published

on

By

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে দেশের ব্যাংক লেনদেন ও অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সূচি অনুযায়ী, রমজান মাসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত গ্রাহকরা ব্যাংকে লেনদেন করতে পারবেন।

এ সময়ের পর ব্যাংকগুলো গ্রাহক লেনদেন বন্ধ করলেও আনুষঙ্গিক দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রমজান মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সব তফসিলি ব্যাংকের অফিস সময় হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তিও নতুন সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

এ ছাড়া রমজান মাসে শেয়ারবাজারের লেনদেন সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত শেয়ারবাজারে লেনদেন চলবে। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত যোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রমজান শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অফিস এবং লেনদেন সময়সূচি আবার স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে আসবে।

প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে গ্রাহকদের সুবিধা এবং ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকের অফিস ও লেনদেন সময়সূচিতে এ ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।

Continue Reading

top1

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও অংশ নেন।

উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। থানার ওসির ফোন যেন সরাসরি মন্ত্রীর কাছে না আসে। এসব বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বৈঠকে মন্ত্রী জানান, অতীতে যা ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। তিনি কাজের মূল্যায়নে বিশ্বাসী বলেও জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন।

Continue Reading

Trending