Connect with us

ফিচার

আজ প্রিয়জনকে মনের কথা জানানোর দিন

Published

on

ভালোবাসা কখনও হঠাৎ করে আসে না। ধীরে ধীরে অজান্তেই মানুষের হৃদয়ের ভেতরে জায়গা করে নেয়। একদিন দেখা হয়, আরেকদিন কথা হয়, তারপর অদ্ভুত এক টান তৈরি হয়, যার নামই ভালোবাসা। কিন্তু ভালোবাসা মনে জন্মালেই কি তা সম্পূর্ণ হয়?

ভালোবাসা পূর্ণতা পায় তখনই, যখন মনের গভীর অনুভূতিগুলো প্রিয় মানুষটির কাছে পৌঁছে যায়। আর সেই অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার জন্যই যেন ভালোবাসা সপ্তাহের সবচেয়ে সাহসী দিনটি প্রপোজ ডে।

আজ ৮ ফেব্রুয়ারি, প্রপোজ ডে। ৭ ফেব্রুয়ারি রোজ ডে দিয়ে শুরু হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে পর্যন্ত প্রতিটি দিনের আলাদা আলাদা অর্থ রয়েছে। ধারণা করা হয়, ভালোবাসা প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট দিন রাখার ভাবনাটি আধুনিক যুগের তরুণ সমাজের মধ্য থেকেই জনপ্রিয়তা পায়। যদিও ভালোবাসা জানানোর ইতিহাস মানব সভ্যতার মতোই প্রাচীন, তবে প্রপোজ ডে নামক নির্দিষ্ট দিনের প্রচলন মূলত বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে পশ্চিমা বিশ্বে শুরু হয়। ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সিনেমা ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির মাধ্যমে এটি বিশ্বের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আজ বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের তরুণদের মধ্যেও দিনটি আবেগ আর রোমান্টিকতায় উদযাপিত হচ্ছে।

প্রপোজ ডে মানে শুধু হাঁটু গেড়ে বসে গোলাপ হাতে প্রস্তাব দেওয়া নয়। প্রপোজ ডে মানে নিজের বুকের ভেতরে জমে থাকা অনুচ্চারিত অনুভূতিগুলোকে সাহস করে শব্দে রূপ দেওয়া।

“আমি তোমাকে ভালোবাসি” এই তিনটি শব্দ উচ্চারণ করতে অনেকের বুক কেঁপে ওঠে। ভয় হয়, যদি প্রত্যাখ্যাত হই? যদি সম্পর্ক বদলে যায়? যদি প্রিয় মানুষটি দূরে সরে যায়? অথচ না বলা অনুভূতিগুলোই অনেক সময় সারাজীবনের আফসোস হয়ে থেকে যায়।

ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোনো নিখুঁত সময় আসে না। সময়কে নিখুঁত বানাতে হয় আমাদেরই। প্রপোজ ডে সেই সুযোগ এনে দেয়, যেদিন নিজের মনের কথা বলা যেন সামাজিকভাবেই স্বীকৃত। যারা অনেক দিন ধরে কাউকে ভালোবাসছেন, অথচ সাহস করে বলতে পারছেন না, তাদের জন্য আজকের দিনটি হতে পারে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। হয়তো একটুখানি সাহসেই বদলে যেতে পারে দুটি মানুষের ভবিষ্যৎ।

প্রপোজের জন্য দামি উপহার, বড় রেস্টুরেন্ট বা আলোক-ঝলমলে আয়োজনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল অনুভূতির সত্যতা। কখনও নিরিবিলি কোনো বিকেলে, কখনও আকাশভরা তারার নিচে, কখনও আবার খুব সাধারণ একটি মুহূর্তেই বলা যায় মনের কথা। একটা চিঠি, একটা ছোট্ট নোট, কিংবা ফোনের পর্দায় লেখা কয়েকটি আন্তরিক লাইন, এসবই হতে পারে ভালোবাসা প্রকাশের সবচেয়ে সুন্দর মাধ্যম। শব্দ যদি হৃদয় থেকে আসে, তাহলে তা প্রিয়জনের হৃদয় স্পর্শ করবেই।

যারা ইতোমধ্যেই সম্পর্কে আছেন, তাদের জন্যও প্রপোজ ডে নতুন করে ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ। সম্পর্কের ভিড়ে অনেক সময় অনুভূতিগুলো বলা হয়ে ওঠে না। অভিমান, ব্যস্ততা আর দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তিতে ভালোবাসার কথাগুলো চাপা পড়ে যায়। আজকের দিনে আবারও প্রিয় মানুষটির চোখের দিকে তাকিয়ে বলা যায়, “তোমাকে পেয়ে আমার জীবনটা সুন্দর।” এমন ছোট্ট স্বীকারোক্তিই সম্পর্কে নতুন উষ্ণতা এনে দেয়।

যদি কাউকে ভালোবাসেন, তবে নিজের অনুভূতিগুলো আর আটকে রাখবেন না। হয়তো প্রিয় মানুষটিও অপেক্ষা করছে আপনার কথার। আজকের প্রপোজ ডে হোক আপনার জীবনের সেই দিন যেদিন সাহস করে মনের কথা বলে ফেলা যায়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জাতীয়

ভিন্ন আবহে শুরু ভাষা আন্দোলনের মাস, নেই বইমেলার আমেজ

Published

on

By

শুরু হয়েছে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি। তবে এবার ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুটা ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা ভেঙে ভাষার মাসের প্রথম দিনে শুরু হচ্ছে না “অমর একুশে বইমেলা”। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ে শুরু হচ্ছে না বইমেলা।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নানা কর্মসূচির পাশাপাশি বইমেলার আয়োজন বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর বইমেলার মিলিত আবহেই সাধারণত শুরু হয় ভাষার মাস। এবার সেই পরিচিত চিত্র অনুপস্থিত।

ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে শুধুই একটি মাস নয়। এটি আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ ও ভাষাভিত্তিক পরিচয় অর্জনের মাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় মাতৃভাষার অধিকার। যারা সেদিন শহীদ হয়েছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পুরো মাসজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালে। ওই বছর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঘোষণা দেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনও ভাষা নয়।’ একই বক্তব্য তিনি কার্জন হলেও দেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্র ‘না’ ‘না’ বলে প্রতিবাদ জানান। পরে একদল ছাত্র জিন্নাহর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে।

এর আগে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ও অধ্যাপক গড়ে তোলেন তমদ্দুন মজলিস। রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে সভা-সমাবেশ ও আলোচনার মাধ্যমে সংগঠনটি আন্দোলনকে সংগঠিত করে তোলে। পাশাপাশি গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ, যা আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করে।

১৯৪৮ সালের ২ মার্চ তমদ্দুন মজলিস, গণআজাদী লীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ফজলুল হক হলে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিনই ১১ মার্চ সারা পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধর্মঘট চলাকালে শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদসহ ৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হলে ঢাকায় ১৩ থেকে ১৫ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের ধারায় নতুন উত্তেজনা তৈরি হয় ১৯৪৮ সালের শেষ দিকে। করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেন। পরের বছর ১২ ফেব্রুয়ারি পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ডের সভায় তিনি বাংলা হরফ বাতিল করে আরবি হরফ প্রবর্তনের ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ১৯৪৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ সভা করেন এবং বাংলা হরফ রক্ষার আন্দোলন জোরদার করেন।

ক্রমেই বাংলাভাষার সমমর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন দানা বাঁধে। আন্দোলন দমনে সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় পুলিশের গুলিতে সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত, শফিকসহ আরও অনেকে শহীদ হন।

রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষার অধিকার বাঙালিকে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে নতুন পথ দেখায়। সেই পথ ধরেই এগিয়ে যায় স্বাধিকার আন্দোলন, যার পরিণতিতে ১৯৭১ সালে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

i

Continue Reading

ফিচার

সকালের নাশতা বাদ দিলে যা হতে পারে

Published

on

By

ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সকালে তাড়াহুড়োর কারণে না খেয়েই বাইরে বেরিয়ে পড়েন। কেউ কেউ আবার ওজন কমানোর আশায় ইচ্ছাকৃতভাবে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবারটি এড়িয়ে চলেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

শক্তির ঘাটতি হয়

সকালে নাশতা না করলে শরীরে প্রয়োজনীয় জ্বালানি মেলে না, ফলে দ্রুত ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়। পুষ্টিবিদরা বলছেন, তিন বেলার মধ্যে সকালের খাবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দিনের শুরুতেই কর্মক্ষমতা এবং মনোযোগ বাড়ায়।

মেজাজ খারাপ হয়

খালি পেটে কাজ শুরু করলে অনেক সময় রাগ, অস্থিরতা ও মনোযোগে ঘাটতি দেখা যায়। ক্ষুধা মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে। বিপরীতে, নিয়মিত নাশতা মন ভালো রাখতে সহায়ক ‘সেরোটোনিন’ হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে।

দিনভর অতিরিক্ত ক্ষুধা

সকালের খাবার বাদ দিলে সারা দিনে ক্ষুধা বাড়ে এবং অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া হয় বেশি পরিমাণে, যা ওজন কমানোর বদলে বাড়িয়ে দেয়।

হরমোনে অসামঞ্জস্য

নাশতা না করলে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। এর ফলে মানসিক চাপ ও বিপাকজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রোটিনসমৃদ্ধ নাশতা হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।

রোগপ্রতিরোধ কমে

পুষ্টিকর নাশতা শরীরকে ভাইরাস ও জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। নিয়মিত নাশতা না করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

সমাধান কী?

সময় স্বল্পতায় পুরো নাশতা না পারলেও ডিম, ওটস, দই, ফল বা বাদাম খাওয়া যেতে পারে- যা দ্রুত তৈরি হয় এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়। সকালের নাশতা শুধু পেট ভরায় না, এটি শরীর ও মনকে চাঙা রাখে। তাই যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, এই অভ্যাসটি গড়ুন।

সূত্র : ইটিংওয়েল

Continue Reading

ফিচার

নতুন বছরে নারী শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

Published

on

By

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নতুন বছরের আগমনটাও একটু ভিন্ন দৃশ্যপটে। বিপ্লব পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর অপূর্ণতার ভার ২০২৫ সালের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। ২৫ সালের সকল অপূর্ণতা ২০২৬ সালে পূর্ণতা পাক সেই প্রত্যাশা রাখে ছাত্র সমাজ। বিশেষ করে নতুন বছর আগমনে নারীরা কী ভাবছে? তাদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুরাইয়া শ্রাবণী

নতুন বছরে আমরা আশা করি— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় আরও এগিয়ে যাক। শিক্ষার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সুস্থ ও স্বাভাবিক সংস্কৃতির চর্চা নিশ্চিত হোক, কোনো ধরনের অশ্লীলতা যেন প্রশ্রয় না পায়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইকসু) নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হোক। ইকসু নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়, নেতৃত্বের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হবে। একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে উঠুক—এটাই নতুন বছরের প্রত্যাশা।

সাদিয়া জামান রিমু

ব্যবস্থাপনা বিভাগ

২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষ

‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে আরও সুপরিকল্পিত এবং টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাঠদানের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান, দক্ষ ও গবেষণামুখী শিক্ষক এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ করা যায়।আবাসিক শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য হলের খাবারের মান উন্নত করা, হলগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ সুসজ্জিত রিডিং রুম স্থাপন এবং পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কল্যাণের স্বার্থে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত আসন, আধুনিক গ্রন্থ, গবেষণা জার্নাল এবং দীর্ঘ সময় অধ্যয়নের সুব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

নদীয়া খাতুন

বিভাগ: ব্যবস্থাপনা

২০২২-২০২৩

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং এখানকার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলার শিকার। জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী বছর হিসেবে ২০২৫ সাল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি আদর্শ ও দৃষ্টান্তমূলক বছর হয়ে উঠতে পারত। অভূতপূর্ব উন্নয়নের সুবর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সবকিছু সীমাবদ্ধ থেকেছে কেবল সম্ভাবনার গণ্ডিতে। শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমের পরিসংখ্যান বিচার করলে তা অত্যন্ত নগণ্য বলেই প্রতীয়মান হয়।যেখানে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিজেদের রূপান্তরিত করছে, সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখনও গতানুগতিক নিয়মনীতি আঁকড়ে ধরে আছে। ২০২৫ সাল অতিক্রম করে ২০২৬ সালের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েও এখানে আধুনিকায়নের কোনো সুস্পষ্ট চিহ্ন চোখে পড়ে না। ২০২৫ সালে ক্যাম্পাসে সংঘটিত সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনা—সহপাঠী সাজিদ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না ঘটিয়ে প্রশাসন আমাদের গভীর হতাশা ও বেদনায় নিমজ্জিত করেছে। সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে, আশানুরূপ উন্নয়নের স্বপ্ন থাকলেও বছরশেষে তার প্রতিফলন প্রত্যাশার তুলনায় ছিল হতাশাজনক; বাস্তবতার চেয়ে তা রয়ে গেছে প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনার মধ্যেই আবদ্ধ। সবকিছুর পরও নতুন বছর আমাদের জন্য বয়ে আনুক নতুন আলো, নতুন প্রত্যয় ও নতুন সম্ভাবনা। প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসুক ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার গৌরবময় অবস্থান পুনরুদ্ধার করুক—এই প্রত্যাশাই রইল। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব পেরিয়ে নতুন বছর হোক আত্মসমালোচনা, সংশোধন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বছর।

নার্গিস পারভীন

বিভাগ: ফার্মেসি

২০২১-২২

ক্যাম্পাস জীবন শুধু একটি অধ্যায় নয়, এটি জীবনের সবচেয়ে রঙিন ও স্মরণীয় সময়ের নাম। ক্লাসের দিনগুলো, ক্যান্টিনের আড্ডা, বন্ধুদের খুনসুটি আর হলের রাতের গল্প—সব মিলিয়ে এই সময়টুকু হয়ে ওঠে হৃদয়ের বিশেষ অংশ।আর আমার হৃদয়ের অংশ হলো ইবি!ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আমার স্বপ্ন ও সম্ভাবনার জায়গা। এই ক্যাম্পাস থেকে আমি চাই জ্ঞান, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়। প্রত্যাশা করি—ক্যাম্পাস হবে রাজনীতি ও সহিংসতামুক্ত, যেখানে শিক্ষার পরিবেশ থাকবে শান্ত ও নিরাপদ। শিক্ষকরা হবেন আরও শিক্ষার্থী–বান্ধব, গবেষণামুখী এবং নৈতিকতায় অনুকরণীয়। ক্লাস, লাইব্রেরি ও ল্যাব সুবিধা হবে আধুনিক ও কার্যকর।আমি চাই ক্যাম্পাসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু তা হবে শালীন ও দায়িত্বশীল। সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার সুযোগ আরও বাড়ুক। হল ও আবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। সর্বোপরি, ইবি ক্যাম্পাস এমন এক মানবিক পরিবেশ গড়ে তুলুক, যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশ ও সমাজের জন্য যোগ্য, সচেতন ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

মাহফুজা আক্তার মনি

বিভাগ সমাজ কল্যাণ

২০২২-২৩

Continue Reading

Trending