Connect with us

খেলাধুলা

আবারও ভারতের কাছে কুপোকাত পাকিস্তান

Published

on

কলম্বোর আলো-আর্দ্র বাতাসে ইতিহাস যেন আবারও পুনরাবৃত্তি হলো—ভারতের বিপক্ষে হার মানতেই হলো পাকিস্তান নারী দলকে। ব্যাট হাতে ভারত গড়ল ২৪৭, আর বল হাতে নামল আগুন ঝরাতে। ক্রান্তি গৌদের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে ধসে গেল পাকিস্তানের ব্যাটিং, আর দাপুটে ৮৮ রানের জয়ে ভারতের মেয়েরা তুলে নিল বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে টানা ১২তম জয় ।

টস জিতে পাকিস্তান ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও শুরুটা ভালো হয়নি তাদের জন্য। ভারতের দুই ওপেনার প্রতিকা রাওয়াল ও স্মৃতি মান্ধানা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। ডায়ানা বেগের এক ওভারেই তিনটি বাউন্ডারি হাঁকান রাওয়াল। তবে মান্ধানা কিছুটা মন্থর ব্যাটিংয়ে ২৩ রানে বিদায় নেন ফাতিমা সানার বলে। এরপর হরলিন দেওল ও অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর গড়ে তোলেন ধীর কিন্তু কার্যকর জুটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত ২৪৭/১০ (৫০ ওভার) – হরলিন দেওল ৪৬, ঋচা ঘোষ ৩৫*, ডায়ানা বেগ ৪/৬৯পাকিস্তান ১৫৯/১০ (৪৩ ওভার) – সিদরা আমিন ৮১, নাতালিয়া পারভেজ ৩৩; ক্রান্তি গৌদ ৩/২০, দীপ্তি শর্মা ৩/৪৫।

ফলাফল: ভারত ৮৮ রানে জয়ী।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা পিএসজির ঘরে

Published

on

By

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্সেনালের সঙ্গে নির্ধারিত সময়, অতিরিক্ত সময় এবং টাইব্রেকারের লড়াই শেষে শিরোপা জিতে ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নিজেদের করে নেয় ফরাসি ক্লাবটি।

হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। বহু বছরের অপেক্ষা শেষে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলেছে ফরাসি জায়ান্টরা।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দারুণ ছিল আর্সেনালের। ষষ্ঠ মিনিটেই কাই হাভার্টজের গোলে এগিয়ে যায় ইংলিশ ক্লাবটি। পিএসজির রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন জার্মান এই ফরোয়ার্ড।

গোল হজমের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় পিএসজি। বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করে একের পর এক আক্রমণ চালালেও প্রথমার্ধে সমতায় ফিরতে পারেনি তারা। আর্সেনালের সংগঠিত রক্ষণ এবং গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার দৃঢ়তায় পিছিয়েই বিরতিতে যেতে হয় ফরাসি দলকে।

বিরতির পর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় পিএসজি। ম্যাচের ৬২ মিনিটে খভিচা কাভারাতসখেলিয়ার ওপর ফাউলের ঘটনায় পেনাল্টি পায় দলটি। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি নিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তিন মিনিট পর স্পট-কিক থেকে গোল করে পিএসজিকে সমতায় ফেরান উসমান ডেম্বেলে।

এরপর ম্যাচে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই। একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়েও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। তবে দুই দলের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকদের দৃঢ়তায় আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত শিরোপা নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় আর্সেনালকে হারিয়ে দেয় পিএসজি। দলের খেলোয়াড়রা নির্ভুল শট নিয়ে গোল করলেও আর্সেনালের কয়েকজন খেলোয়াড় ব্যর্থ হন। ফলে শেষ হাসি হাসে ফরাসি ক্লাবটি।

এই জয়ের মাধ্যমে ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতল পিএসজি। বহু বছর ধরে ইউরোপ সেরার স্বপ্ন দেখা ক্লাবটির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। একই সঙ্গে ক্লাবটির সমর্থকদের দীর্ঘ অপেক্ষারও অবসান ঘটল।

শিরোপা জয়ের পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন পিএসজির খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকরা। ইউরোপিয়ান ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে নিজেদের নাম লেখানোর এই রাত পিএসজির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Continue Reading

top3

২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন রোনালদো: পর্তুগাল কোচ

Published

on

By

৪১ বছর বয়সে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফিট থাকলে আসন্ন ২০৩০ বিশ্বকাপেও তাকে খেলাতে সমস্যা নেই পর্তুগালের, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনটা জানিয়েছেন পর্তুগিজ কোচ রবার্তো মার্টিনেজ।

আসন্ন বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন রোনালদো। বয়সটা ৪০ পেরিয়ে গেলেও মাঠের ঝাঁজটা এখনও আছে পর্তুগিজ মহাতারকার। সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। ফুটবল থেকে কবে অবসর নেবেন এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন রোনালদো। এবার সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন পর্তুগালের কোচ।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপে রোনালদো খেলতে পারেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে স্প্যানিশ রেডিও ‘কাদেনা সের’কে মার্টিনেজ বলেন, ‘কারো এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। সে এই জায়গা নিজের যোগ্যতায় অর্জন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আদর্শ পর্তুগালের সমস্ত তরুণ ফুটবলারদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই, কারণ সে তরুণদের জন্য এক চমৎকার রোল মডেল।’

২০০৩ সালে পর্তুগাল জাতীয় দলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ২২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। দেশের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন তার। শুধু তাই নয়, সর্বোচ্চ (১৪৩) গোলের রেকর্ডও এখন রোনালদোর দখলে। এছাড়া বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ডও রয়েছে তার।

Continue Reading

খেলাধুলা

১৬ হলুদ, ৪ লাল: যে রাতে ফুটবল ম্যাচ হয়ে উঠেছিল যুদ্ধক্ষেত্র

Published

on

By

ফুটবল কখনো কখনো শুধু গোলের গল্প নয়। কখনো এটি রাগের গল্প, প্রতিশোধের গল্প, নিয়ন্ত্রণ হারানোর গল্প। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন কিছু ম্যাচ আছে, যেখানে স্কোরলাইন মনে রাখতে হয় না; মনে থাকে বাঁশি, ধাক্কা, ট্যাকল, প্রতিবাদ আর রেফারির পকেট থেকে বারবার বেরিয়ে আসা কার্ড।

২০০৬ সালের ২৫ জুন, জার্মানির নুরেমবার্গে পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচটি ছিল তেমনই এক রাত। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ব্যাটল অব নুরেমবার্গ’। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ, বড় দুই ইউরোপীয় দল, সামনে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। কিন্তু সেই রাতে ফুটবল যেন ধীরে ধীরে ম্যাচ থেকে সরে গিয়ে জায়গা করে দেয় বিশৃঙ্খলাকে।

স্কোরলাইন ছিল পর্তুগাল ১, নেদারল্যান্ডস ০। গোল করেছিলেন মানিশ। কিন্তু এই ম্যাচকে কেউ শুধু সেই গোলের জন্য মনে রাখে না। মনে রাখে ১৬টি হলুদ কার্ড আর ৪টি লাল কার্ডের জন্য। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন কার্ডের বৃষ্টি আগে দেখা যায়নি। রাশিয়ান রেফারি ভ্যালেন্তিন ইভানোভের জন্য ম্যাচটি হয়ে ওঠে এক দুঃস্বপ্নের রাত।

শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এটি সাধারণ ম্যাচ হবে না। ট্যাকলের ভাষা ছিল কঠিন, শরীরী সংঘর্ষে ছিল উত্তাপ, দুই দলের খেলোয়াড়দের চোখে ছিল অদ্ভুত আগুন। পর্তুগাল-নেদারল্যান্ডস তখন কেবল প্রতিপক্ষ ছিল না; ম্যাচের ভেতর তারা যেন একে অন্যকে সহ্য করতেই পারছিল না। একটি ফাউল আরেকটি ফাউলের জন্ম দিচ্ছিল, একটি প্রতিবাদ আরেকটি উত্তেজনার দরজা খুলছিল।

প্রথমার্ধেই ম্যাচের স্বর বদলে যায়। পর্তুগালের কস্টিনিয়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এর আগে-পরে কার্ডের সংখ্যা বাড়ছিল, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই দলের ক্ষোভও বাড়ছিল। ফুটবলে অনেক সময় রেফারি অদৃশ্য থাকলেই ম্যাচ সুন্দর হয়। কিন্তু নুরেমবার্গে রেফারি নিজেই হয়ে উঠলেন ম্যাচের সবচেয়ে দৃশ্যমান চরিত্র।

দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নেদারল্যান্ডসের খালিদ বোলাহরুজ লাল কার্ড দেখেন। পর্তুগালের ডেকোও দ্বিতীয় হলুদে মাঠ ছাড়েন। শেষে নেদারল্যান্ডসের জিওভানি ফন ব্রঙ্কহর্স্টও লাল কার্ড দেখেন। একসময় এমন দৃশ্য তৈরি হয়, যেখানে মাঠের বাইরের শাস্তিপ্রাপ্ত খেলোয়াড়রাও পাশাপাশি বসে আছেন, যেন ম্যাচের ভেতরকার যুদ্ধ শেষে সবাই একই অস্বস্তির সাক্ষী।

এই ম্যাচের সবচেয়ে অদ্ভুত দিক ছিল, ফুটবল বারবার শুরু হলেও ফুটবল বারবার থেমে যাচ্ছিল। বল গড়াচ্ছে, কিন্তু চোখ চলে যাচ্ছে রেফারির দিকে। আক্রমণ হচ্ছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে পরের ফাউল নিয়ে। কে গোল করবে, সেই প্রশ্নের চেয়ে বড় হয়ে উঠছিল, কে পরের কার্ড দেখবে।

একের পর এক কার্ড দেখাতে হচ্ছিল রাশিয়ার রেফারিকে।

বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে উত্তেজনা থাকবেই। চাপ থাকবে, শরীরী খেলা থাকবে, ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ থাকবে। কিন্তু নুরেমবার্গের রাত আলাদা ছিল, কারণ সেখানে উত্তেজনা ম্যাচকে বড় করেনি, খেয়ে ফেলেছিল। পর্তুগাল জিতেছিল, কিন্তু সেই জয়ও পুরোপুরি নির্মল ছিল না। তারা কোয়ার্টার ফাইনালে গেলেও হারাল ডেকো ও কস্টিনিয়াকে। নেদারল্যান্ডস বিদায় নিল ক্ষোভ, হতাশা আর বিতর্ক নিয়ে।

এই ম্যাচের পর সেপ ব্ল্যাটার নিজেই রেফারিং নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন, যদিও পরে তিনি সেই মন্তব্যের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন। ইভানোভ আর ওই বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাননি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, দায় কি শুধু রেফারির? নাকি খেলোয়াড়দেরও? কারণ কার্ড দেখানো যত সহজ, ম্যাচের মেজাজ আগেভাগে পড়া তত সহজ নয়। নুরেমবার্গে রেফারি, খেলোয়াড়, বেঞ্চ, আবেগ, চাপ, সব মিলেই এক অগ্নিগর্ভ দৃশ্য তৈরি করেছিল।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে লাল কার্ডের গল্প অনেক আছে। ১৯৮৬ সালে উরুগুয়ের হোসে বাতিস্তা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৫৬ সেকেন্ডে লাল কার্ড দেখে ইতিহাসে ঢুকে যান। সেটি এখনো বিশ্বকাপের দ্রুততম লাল কার্ড। কিন্তু নুরেমবার্গের ম্যাচ আলাদা। কারণ এটি একটি মুহূর্তের পাগলামি ছিল না; এটি ছিল পুরো ৯০ মিনিটের ধীরে ধীরে ভেঙে পড়া শৃঙ্খলা।

ফুটবল সৌন্দর্যের খেলা, কিন্তু সেই সৌন্দর্য টিকে থাকে সীমার ভেতর। শক্ত ট্যাকল হতে পারে, আবেগ থাকতে পারে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হতে পারে। কিন্তু যখন প্রতিটি সংঘর্ষ প্রতিশোধের মতো লাগে, প্রতিটি বাঁশি যুদ্ধবিরতির মতো শোনায়, তখন ম্যাচ আর ম্যাচ থাকে না। হয়ে যায় এক সতর্কবার্তা।

২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে। নতুন ফরম্যাট, নতুন দল, নতুন গল্প। কিন্তু প্রতিটি বিশ্বকাপই পুরোনো ইতিহাসের ছায়া নিয়ে আসে। নুরেমবার্গ সেই ইতিহাসের এক অস্বস্তিকর অধ্যায়।

Continue Reading

Trending