Connect with us

খেলাধুলা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

Published

on

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সুপার সিক্স পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে সুপার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে খেলা। 

টুর্নামেন্টের নিয়মানুযায়ী, সুপার সিক্সে দু’টি করে ম্যাচ খেলবে দলগুলো। ইংল্যান্ডের পর নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে ৩১ জানুয়ারি স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ।

চাপে থেকেই সুপার সিক্স শুরু করতে হবে যুবা টাইগারদের। কারণ গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট সুপার সিক্সে যুক্ত হবে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। ভারতের কাছে হারের পর বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ডের সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে সুপার সিক্স নিশ্চিত করে তারা।

৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকায় গ্রুপ রানার্স-আপ হয় বাংলাদেশ। এই গ্রুপ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত এবং নিউজিল্যান্ড সুপার সিক্সে উঠেছে। ফলে ভারতের কাছে হারের কারণে কোনো পয়েন্ট পাবে না আজিজুল হাকিমের দল। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় ১ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্স খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

‘বি’ গ্রুপে সেরা তিন দল সুপার সিক্সে লড়বে ‘সি’ গ্রুপের দলগুলোর সাথে। ‘সি’ গ্রুপ থেকে সুপার সিক্স নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। নিয়োনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’ চ্যাম্পিয়ন ও তৃতীয় হওয়া দলের সাথে খেলবে ‘বি’ গ্রুপে রানার্স-আপ হওয়া বাংলাদেশ। ‘সি’ গ্রুপ রানার্স-আপ পাকিস্তানের সাথে তাদের খেলা নেই।

বাংলাদেশ একাদশ: জাওয়াদ আবরার, রিফাত বেগ, আজিজুল হাকিম (অধিনায়ক), কালাম সিদ্দিকী, রিজান হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (উইকেটরক্ষক), সামিউন বাসির, শাহরিয়ার আহমেদ, স্বাধীন ইসলাম, আল ফাহাদ, ইকবাল হোসেন ইমন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

বার্সেলোনার বিপক্ষে মেসির গোল

Published

on

By

স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা এবং লিওনেল মেসি যেন একে অন্যের পরিপূরক। এলএমটেনের আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে জড়িয়ে আছে কাতালান ক্লাবটির নাম। সম্পর্ক ছিন্ন হলেও তাই বার্সা মেসির কাছে এক আবেগের নাম হয়ে থাকবে সারা জীবন।

এবার বার্সেলোনার বিপক্ষেই গোল করে নতুন বছর শুরু করলেন লিওনেল মেসি। প্রাক মৌসুম প্রীতি ফুটবল ম্যাচে বার্সেলোনা এফসির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে ইন্টার মায়ামি। তবে ভক্তদের পরিস্কার করা দরকার যে, এই বার্সেলোনা মেসির সাবেক ক্লাব নয়। এই বার্সা ইকুয়েডরের জনপ্রিয় একটি ক্লাব। তাদের বিপক্ষে খেলতেই ইকুয়েডরের কিতোয় গিয়েছিল মায়ামি। তবে কাঙ্খিত জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি ফ্লোরিডার ক্লাবটি।

ম্যাচে নিজে এক গোল করার পাশাপাশি সতীর্থের গোলেও অবদান রাখেন মেসি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়কের গোলটি ছিল চোখে লেগে থাকার মতো। তাঁর কল্যাণে ৩১ মিনিটে লিড নেয় মায়ামি। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে বার্সার অর্ধে ছুটতে থাকেন মেসি। বক্সে ঢোকার সময় দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শটে জালে জড়ান। কিছুই করার ছিল না প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের।

১০ মিনিটের মাথায় ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। তাদের হয়ে জালের ঠিকানায় বল পাঠান হোয়াও রোজাস। বিরতিতে যাওয়ার আগেই স্কোরলাইন ২-১ করে মায়ামি। ডি বক্সে মেসির পাস থেকে বল পেয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সফরকারীদের মেক্সিকান ফরোয়ার্ড বার্তেরেম। এদিন পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন না মেসি। দুই গোলে অবদান রাখা এই ফুটবলারকে ৬০ মিনিটে তুলে নেন মায়ামির কোচ হ্যাভিয়ের মাশচেরানো। বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসির বন্ধু লুইস সুযারেজ।

ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট আগে দশজনের দলে পরিণত হয় মায়ামি। ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বদলি নামা ডেভিড আয়ালা। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সমতা টানে বার্সা। তাদের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন থমাস মার্টিনেজ।

Continue Reading

top1

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিজেপির ‘হিন্দুত্ববাদের’ থাবায় যেভাবে বিপন্ন ক্রিকেট

Published

on

By

১৯৯৩ সালের কথা। ‘ডর’ ও ‘বাজিগর’–এর মতো পরপর দুটি মেগাহিট সিনেমা দিয়ে বলিউডে এক কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন এক উদীয়মান তারকা। তিনিই প্রথম দর্শকদের কাছে ‘অ্যান্টি-হিরো’ বা খলনায়ক চরিত্রের নতুন এক ধারণা নিয়ে আসেন। এর ঠিক ৩৩ বছর পর, সেই ঘটনার জেরেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কৃত হতে হলো বাংলাদেশকে!

কথাগুলো পড়ে যদি আপনার কাছে অর্থহীন মনে হয়, তবে এই দুই ঘটনার পেছনের যোগসূত্র মেলাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। তবে এই গল্পের মূলে যে নতুন উদ্বেগজনক বাস্তবতা, তা হলো—বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কীভাবে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

গত ২ জানুয়ারি ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সংগীত সোম দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় মুসলিম ব্যক্তিত্ব শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করে বসেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) মালিক শাহরুখ। তার দলই মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল। 

মোস্তাফিজকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুমকি দিয়ে সংগীত সোম দাবি করেন, ভারতে শাহরুখের ‘বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই’। 

এর কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার ‘অনুরোধ’ করে। কারণ হিসেবে ‘চারপাশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলির’ মতো একটি অস্পষ্ট অজুহাত দাঁড় করায় তারা।

এমন ঘটনার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নিতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নির্দেশ দেন তিনি।

আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, ‘যদি একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে না পারেন… তাহলে পুরো বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের জন্য ভারতে ভ্রমণ করাটা নিরাপদ বোধ করতে পারে না।’

বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর আইসিসি কড়া ভাষায় বাংলাদেশের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। সংস্থাটি জানায়, এমন কিছু করা হলে তা ‘এমন এক নজির স্থাপন করবে, যা আইসিসির ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করবে এবং বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’ 

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই সরিয়ে দিয়ে আইসিসি বাংলাদেশের বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করে।

এরপর, আইসিসির এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি আইসিসির এই পদক্ষেপকে ‘দ্বৈত নীতি’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করেন। এর কয়েক দিন পরই পাকিস্তান সরকার তাদের ক্রিকেট দলকে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটি বয়কট করার নির্দেশ দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো, এই পুরো ঘটনার সঙ্গে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সম্পর্ক কোথায়?

শুরুতেই বলা যায়, শাহরুখ খান ও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে সংগীত সোমের দেওয়া হুমকি মূলত বিজেপির সেই পুরনো মুসলিমবিদ্বেষী কৌশলেরই অংশ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। 

সেখানকার স্থানীয় মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি শরণার্থী’ দাবি করে বহিষ্কারের ডাক দিচ্ছে বিজেপি, কট্টর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অংশ হিসেবেই এসব বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে তারা।

যদিও হিন্দুত্ববাদী বিজেপির লক্ষ্যবস্তুতে শাহরুখ খান এবারই প্রথম নন। কয়েক দশকের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে ভারতীয় সমাজে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ‘আইকন’ হিসেবে তাকে বারবার নিশানা করা হয়েছে।

তবে এবারে খোদ বিসিসিআই সরাসরি হস্তক্ষেপ করে মোস্তাফিজকে সরিয়ে নিতে কেকেআরকে ‘অনুরোধ’ জানায়। এই সিদ্ধান্তের আগে বিসিসিআইয়ের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের আলোচনা বা বিতর্ক হয়নি। 

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের একেবারে উচ্চপর্যায় থেকে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বোর্ডের সাধারণ সদস্য বা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গেও কোনো পরামর্শ করা হয়নি। বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা নিজেরাও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। কোনো আলোচনা হয়নি, আমাদের কোনো পরামর্শও নেওয়া হয়নি।’

কেকেআরের কাছে বিসিসিআইয়ের সেই অনুরোধটিও ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট। কেন বা কী কারণে এমন দাবি তোলা হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সেখানে ছিল না। আর এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়েই আইসিসি পরবর্তীতে বিসিবির নিরাপত্তা উদ্বেগের দাবিটি নাকচ করে দেওয়ার সুযোগ পায়।

ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিক শারদা উগ্রার মতে, এই ‘অস্পষ্টতা’ মূলত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক কর্মপদ্ধতির একটি কৌশলগত বৈশিষ্ট্য। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারতীয় দলকে কেন হাত মেলাতে নিষেধ করা হয়েছিল, তার কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব তিনি অনেক চেষ্টা করেও পাননি।

একইভাবে গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য ভারত কেন পাকিস্তান সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানাল, তারও কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত নির্দেশনা নেই। শারদা বলেন, ‘বিদেশ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র দপ্তর কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়—কোথাও কোনো স্পষ্ট বিবৃতি বা নির্দেশনা নেই। কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়াই সবকিছু ঘটছে।’

মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। শারদা বলেন, ‘কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কোনো প্রমাণ নেই। এমন কোনো কাগজ নেই যেখানে লেখা আছে যে এই ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না কিংবা তিনি বিপদে আছেন। সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতাও নেই। পুরোটাই ঘটেছে শুধুমাত্র ফিসফাস আর গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে।’

বিসিসিআই যদি ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে আইসিসিও তার থেকে আলাদা কিছু নয়। আইসিসির বর্তমান প্রধান জয় শাহ স্বয়ং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে—যিনি নরেন্দ্র মোদির পর ভারতের বর্তমান শাসনব্যবস্থার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। 

বিশেষ করে, পাকিস্তানের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচগুলো ভারতের আপত্তির মুখে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যারা হাসিমুখে মেনে নিয়েছিল, তাদের মুখে নিরপেক্ষতার বুলি এখন উপহাসের মতোই শোনায়।

গার্ডিয়ান-এর সাংবাদিক তাহা হাশিম লিখেছেন, ‘ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর পবিত্রতা রক্ষার দাবিটি আইসিসির জন্য একটি ‘কমেডি’। কারণ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে তাদের হাইব্রিড মডেলের সিদ্ধান্তই একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে, যা আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোকে হাসির খোরাক বানিয়ে দিয়েছে।’

ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মধ্যে একমাত্র পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভিই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির এই আচরণকে ‘দ্বৈত নীতি’ ও ‘অবিচার’ হিসেবে অভিহিত করে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই সংকটে পাকিস্তানের মতো মিত্র পেলেও বাংলাদেশের বাস্তবতাকে একটু ভিন্নভাবে দেখছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক মোহাম্মদ ইসাম।

ইসামের মতে, তিন দিকে ভারতবেষ্টিত একটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ওপারের বাংলা ভাষাভাষীদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর। ফলে বাংলাদেশের সামনে বিকল্প পথগুলো সীমিত। তিনি মনে করেন, বর্তমান সংকটটি সরাসরি সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও আসন্ন নির্বাচনমুখী রাজনীতির ফল।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা ছিল, মোস্তাফিজের ঘটনার পর বিসিবি হয়তো একটি কূটনৈতিক অবস্থান নেবে। ইসাম বলেন, ‘বিসিবি একটি মধ্যমপন্থি বিবৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। কারণ, বর্তমান সরকারের জন্য ভারতের বিরোধিতা করা রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ভারতীয় ক্রিকেটই সব। 

বিসিবি আসলে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে না। কারণ, ভারতের একটি মাত্র সফর দিয়ে বিসিবির কয়েক বছরের খরচ চলে যায়।’ 

আর্থিক লোকসানের এই ভয়টাই হলো ভারতের সেই ‘লাঠি’, যা দিয়ে তারা বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের একচ্ছত্র দাপট বজায় রাখে। পাকিস্তান ক্রিকেট প্রায় দুই দশক ধরে ভারতীয় অর্থ ও সম্পর্কের বাইরে থেকে টিকে থাকার অভ্যাস করে নিলেও, অন্য ছোট বোর্ডগুলোর সেই সক্ষমতা বা সাহস নেই। এমনকি ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রভাবশালী বোর্ডগুলোও এই বিষয়ে আশ্চর্যরকম উদাসীন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির লেকচারার সুশান্ত সিং এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘সংখ্যাগুরুবাদী রাজনীতির বেদীতে বিসর্জন দেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে মোস্তাফিজই শেষ ব্যক্তি নন… এই তলোয়ার এখন প্রস্তুত এবং এর কার্যকারিতাও প্রমাণিত। আইসিসি, অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড কিংবা বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম—কারোরই এই ধারা থামানোর সদিচ্ছা নেই।’

এই স্রোত প্রতিরোধের উপায় কী? সুশান্ত সিং মনে করেন, ‘ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো যখন এমন পরিস্থিতির শিকার হবে, তখনই হয়তো কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আয়ের অংকের কথা চিন্তা করে এই অপমান মুখ বুজে সয়ে যাওয়াই হয়তো বোর্ডগুলোর নীতি হয়ে থাকবে।’

আইসিসি কিংবা ভারত বাদে অন্য দুই শক্তিশালী বোর্ড (ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) থেকে কোনো প্রতিবাদের আশা দেখছেন না শারদা উগ্রাও। তিনি গত ৩০ বছর ধরে ক্রিকেট কাভার করছেন। তার মতে, ‘আইসিসিকে এর আগে কখনো এতটা অসহায় ও ছন্নছাড়া মনে হয়নি। এটি এখন একটি নীতিহীন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। 

আর অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডগুলো বর্তমান ক্রিকেটের ‘বিগ ডন’ বিসিসিআইয়ের আজ্ঞাবহ সহযোগী ছাড়া আর কিছুই নয়। আইসিসিতে এখন কোনো যোগ্য বা পরিপক্ক নেতৃত্ব নেই।’

আইসিসির এই কথিত নেতৃত্বের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর। প্রতিটি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি আয় আসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে। পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই আইসিসি তড়িঘড়ি করে এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আশা করে পিসিবি আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে নেবে। 

বাংলাদেশের অনুরোধের ক্ষেত্রে আইসিসি যেমন কঠোর ছিল, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তাদের সুর ঠিক ততটাই নরম ও নমনীয়। স্পষ্টতই, বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় আইসিসি তাদের নীতি বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।

শারদা উগ্রা বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন ও বিসিসিআইয়ের ওপর বিজেপির নিয়ন্ত্রণ ক্রিকেটের বারোটা বাজাচ্ছে। বিসিসিআই এখন ক্রিকেট ভক্তদের চেয়ে ভারতের ‘ভোটের রাজনীতির’ মাঠকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’ 

ভারতের কোনো একটি রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার আঁচ গিয়ে পড়ছে ভিনদেশের খেলোয়াড় বা ক্রিকেট বোর্ডের ওপর, যা এই খেলার ভবিষ্যৎকেই পঙ্গু করে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন ভারতীয় বিশ্লেষক যেমনটি লিখেছেন, ‘কয়েকজন মানুষের খুশির জন্য আপনি যদি আপনার সবচেয়ে বড় ‘সফট পাওয়ার’ (ক্রিকেট) পুড়িয়ে ফেলেন, তবে এমনই হবে। মোস্তাফিজকে নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের জেরেই পাকিস্তানের এই বয়কটের সিদ্ধান্ত।’

দুর্ভাগ্যবশত, এই সংকটের কোনো সহজ সমাধান নেই। সুশান্ত সিং মনে করেন, এই খেলার ‘শেষ উইকেটটি’ কোনো প্রতিপক্ষ বোলারের ডেলিভারিতে পড়বে না; বরং এটি পড়বে ব্রডকাস্টারদের মামলা কিংবা বাণিজ্যিক চুক্তির পতনের মাধ্যমে। এর ফলে ক্রিকেট নৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক—সব দিক থেকেই দেউলিয়া হয়ে যাবে। এই পথ থেকে ফেরার একমাত্র উপায় হলো ‘জবাবদিহি’।

ততদিন পর্যন্ত ক্রিকেটের মাঠের নিষ্ঠুর বাস্তবতা এটাই যে, ভারতের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি প্রজাপতির ডানা ঝাপটানো অন্য দেশের ক্রিকেটের ভাগ্যে ঝড় ডেকে আনতে পারে।

সুত্র: টিবিএস

Continue Reading

top3

পিএসএলে মোস্তাফিজের চমক, নিলামের আগেই পেলেন দল

Published

on

By

নিলামের আগেই পাকিস্তান সুপার লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। সরাসরি চুক্তিতে পাকিস্তান সুপার লিগ-এর অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি লাহোর কালান্দার্স গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেছে তার নাম। যে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরাসরি সাইনিং হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মুস্তাফিজুর রহমানকে ক্যালান্ডার্স ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এবার আবারও তিনি লাহোর কালান্দার্সের জার্সি পরবেন। চুক্তি অনুযায়ী তার বেতন ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি।

লাহোর কালান্দার্সের মালিক সামীন রানা বলেন, “একবার কালান্দারস , সবসময় ক্যালান্দার। মুস্তাফিজুর কেবল একজন খেলোয়াড় নয়; তিনি আমাদের পরিবারের ভাই, এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ যিনি কখনো আমাদের ছেড়ে যাননি। আমরা তাকে আবার আমাদের ড্রেসিং রুমে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। তার প্রতিভা, অভিজ্ঞতা এবং নিষ্ঠা আমাদের জন্য অমূল্য হবে, যখন আমরা আমাদের শিরোপা রক্ষা করতে এবং শক্তিশালী ছাপ রাখতে চাই।”

এর আগে লাহোর কালান্দার্স তাদের অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি, প্রধান ব্যাটসম্যান আবদুল্লাহ শফিক, বহুমুখী খেলোয়াড় সিকান্দার রাজা এবং তরুণ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাঈমকে ধরে রেখেছিল। এই কৌশলগত পদক্ষেপ দলের মূল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং আগামী নিলামের আগে শক্তিশালী অভিযান গড়ার ভিত্তি তৈরি করেছে।

Continue Reading

Trending