ইউনাইটেড নেশনস ইয়ুথ অ্যান্ড স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউনিস্যাব) রাজশাহী বিভাগের ২০২৬-২৭ বর্ষের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে রাজশাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন রাশেদুজ্জামান রাকিব এবং সহকারী আঞ্চলিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়াম। গতকাল শুক্রবার ( ১২ ডিসেম্বর) রাজশাহী বিভাগের সাবেক আঞ্চলিক সম্পাদক মো. শিহাব মিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষজ্ঞ টিম এই কমিটি ঘোষণা করেন।
নতুন দায়িত্বে তাদের নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। নতুন কমিটিতে মোট ৩৮ জন সদস্য দায়িত্ব পেয়েছেন, যারা রাজশাহী ডিভিশনের যুবসমাজের নেতৃত্ব বিকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক নতুন কমিটি রাজশাহী বিভাগের যুবসমাজের জন্য বিশেষ ধরনের ইভেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে সুদক্ষ পরিকল্পনা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে পরিচালনা করবে। তারা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ব্র্যান্ডিং অ্যান্ড প্রোমোশন, ডকুমেন্টেশন, এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স, রিসোর্স প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশনস, লজিস্টিকস অ্যান্ড ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট—এই ৯টি উইংয়ের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম সুষ্ঠভাবে চালিয়ে নিয়ে যাবে।
অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পেয়েছেন ইবাইদুর রহমান খান, ব্র্যান্ডিং অ্যান্ড প্রোমোশন-এর মো. আকিব, ডকুমেন্টেশন-এর মৌমিতা হক মেঘা, এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স-এর অর্নব কুমার ধর, রিসোর্স প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর তানজিলা আক্তার, লজিস্টিকস অ্যান্ড ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট-এর হৃদয় মন্ডল, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশনস-এর কো- অর্ডিনেটর তাসনিয়া বিনতে মাহমুদ, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশনস-এর কো-কোঅর্ডিনেটর সুমন কুমার দাস, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট -এর ইমতিয়াজ আহমেদ নিয়াদ, এবং হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট-এর আকসা আক্তার অনন্যা।
এছাড়া, কমিটিতে বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ মেম্বাররাও আছেন। যারা হলেন: হিমেল আহমেদ সাকিব, বাধন চন্দ্র শিল, রিয়া সাহা, মো. তানভির হাসান রিফাত, এস এম সিদ্দিকুর রহমান কেয়াব, রায়হান আহাম্মেদ, গোপাল চন্দ্র শিল, নওরিন আহমেদ, তিয়াশা রয়, আতিকুর রহমান আবির, জারিন তাসনিম নামিরা, অম্রিতা চক্রবর্তি, মাজ হাসান অনিক, মাশিয়াত হোসাইন স্বপ্ন, সাগর কুমার দাস, জিলকার নবাব, নাজমুল হুদা, জিহাদ ফিল্লাহ, ইরফান আহমেদ সোহান, তাইয়্যেবা নেহা, সৌরদ্বিপ দাস স্বপ্নিল, রাব্বি হাওলাদার, সুজানা সাফি অনন্যা, মনিয়া ইশরাত ইরা, জয়িতা মল্লিক এবং রাফিউর রহমান রাফি।
ইউনাইটেড নেশনস ইয়ুথ অ্যান্ড স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ – রাজশাহী ডিভিশন (UNYSAB-Rajshahi Division) একটি স্বেচ্ছাসেবী, যুবনেতৃত্বাধীন জাতীয় সংগঠন, যা ২০১৪ সাল থেকে যুব নেতৃত্ব উন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতা এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনিস্যাব রাজশাহী ডিভিশন বিভিন্ন নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি, সামাজিক উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় ইভেন্টের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ, দায়বদ্ধ ও বৈশ্বিক চিন্তাধারাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শিক্ষকদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম ও প্রক্টর ড. জসিম উদ্দিনসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। উপস্থিত শিক্ষকেরা এ কথা জানিয়েছেন। উভয় পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী সাদা দলের শিক্ষক।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক রোববার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করতে যান। সে সময় উপাচার্য আলিমুল ইসলামের সঙ্গে শিক্ষকদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে ভিসিসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। তবে তাঁদের কারোরই অবস্থা গুরুতর নয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অ্যাডহক নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে কিছু ত্রুটি আছে। আমরা তাকে উপাচার্যকে এই নিয়োগ দিতে না করি। তবুও তিনি নিয়োগ দেন। মানুষ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আর তিনি ১০ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ দেন। আমরা এটার বিষয়ে উনার সঙ্গে গতকাল বসতে চাচ্ছিলাম। তিনি গতকাল সময় দেননি। আজ গেলে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন সেখানে উপস্থিত প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আমাদের একজন শিক্ষকের ওপর চড়াও হন। তিনি মোজাম্মেল স্যারকে লাথি মেরে সরিয়ে দেন আর তখন মাহবুব স্যার ঝামেলা মেটাতে এলে তাকেও ঘুষি মারা হয়। তখন এই মারামারির ঘটনা ঘটে। তার কাছে কোনো কিছু নিয়ে গেলেই তিনি বলতেন আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভিসি, আমি কোনো কাজ করতে পারব না। এখন শেষ সময়ে তিনি এই নিয়োগ কীভাবে দেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে ইউজিসি আমাদের বাজেট বন্ধ করিয়ে দেবে। তখন আমরা কীভাবে বাঁচব। আমরা সাবধান করতে গিয়েছিলাম। আর আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’
ঘুষি ও লাথির বিষয়ে জানতে প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিনকে মোবাইল ফোনে চারবার কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সিকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করার পরে একটি ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে গন্ডগোল হয়। তখন ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিই। টিচাররাই তাদের নির্ধারণ করে দেন। এখন সহযোগিতা করছে না। নয়া সরকার আসছে, এখন তারা আসছে এই সরকারের লোক বলে। ওরা যে সরকারের লোক, আমিও তো সেই সরকারের লোক। এনএসআই, ডিজিএফআই সব সরকারের কাছেই আমার ইনফরমেশন আছে। কিছু শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে অযথা মব সৃষ্টি করছে। এটা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নিয়োগ। কোনো টাকা, কোনো সুপারিশ কাজ করেনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। লিখিত, ভাইভাসহ যোগ্য লোকদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেখানের ম্যাক্সিমাম সিলেটেরই।’
উপাচার্য তাঁর কক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ছয়জন আহতের কথা স্বীকার করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দিইনি।’
সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। থানায় কেউ কোনো অভিযোগ নিয়েও আসেনি
প্রথমবারের মতো আইন ও বিচারব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে তরুণদের যুক্তিবাদী বিতর্কচর্চা জোরদার করতে “হক ল একাডেমি” কর্তৃক আয়োজিত ‘ইন্টার ইউনিভার্সিটি ডিবেট অন লিগ্যাল ইস্যুজ’ -এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আইন বিভাগের প্রতিনিধিত্বকারী দল “Law Verse”। উক্ত টিমের বিতার্কিকগণ হলেন মো. ইমন হোসেন, খন্দকার রামিম হাসান পায়েল, ফাঈদ হোসেন।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় রাজধানীর ফার্মগেটের আর. এইচ. হোম সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হকের সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
জানা যায়, দেশের ২৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সমসাময়িক আইন ও বিচারসংক্রান্ত ইস্যুতে তাদের যুক্তি, বিশ্লেষণ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে ১ম রাউন্ডে দুইটি স্লটে বিতর্ক করে ১২টি দল ২য় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়। পরে ২য় রাউন্ডে কোয়ার্টার ৮টি দল ও সেমিফাইনালে ৪টি দল বিতর্ক করে।
ফাইনালে সরকারি দলে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এবং বিরোধী দলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সাফরিন সুলতানা, মন্ত্রী হিসেবে মাহির লাবিব ও সাংসদ হিসেবে তামিম মাহমুদ এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে ইমন হোসেন, উপনেতা হিসেবে ফাইদ হোসেন ও সাংসদ হিসেবে খন্দকার রামীম হাসান অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফিসহ ১২ হাজার টাকা ও রানার্স আপ দলকে ট্রফিসহ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সকলকে সনদ প্রদান করা হয়।
হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মোহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যৎ আইনজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের চিন্তাশক্তি ও গণতান্ত্রিক বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তারিকুল আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল আহাদ, মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোতাসিম বিল্লাহ, বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মিল্টন হোসেন এবং বিচারক হিসেবে রাকিব আহমেদ, ফায়জুল ইসলাম, রায়হান হোসেন ও মাশরাফী ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন।