Connect with us

ক্যাম্পাস

ইবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ, ধোঁয়াশা

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক বিষয়ে অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর অভিযোগ দিয়েছে একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব শেখ। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ভোক্তাভোগী হিসেবে নাম থাকা শিক্ষার্থীরা ‘তাদের নাম দেওয়ার বিষয়ে’ জানেন না বলে দাবি করেছেন। ফলে এনিয়ে প্রকৃত ঘটনায় কাটেনি ধোঁয়াশা।

জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগে পরীক্ষায় মূল্যায়নে অনিয়ম, ব্যক্তিগত আক্রোশ, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, ফলাফলে বৈষম্য, হুমকি ও একাডেমিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন রাকিব শেখ। একইসাথে তাকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব থেকে অপসারণ ও সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার দাবি দাবি জানান তিনি।

অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী হিসেবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের খন্দকার ইউসুফ আলী, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আল মামুন হাসান রাজু, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফারিয়া জান্নাত প্রমি ও একই বর্ষের ছাব্বির হোসেন। এছাড়া, ফারিয়া জান্নাত অভিযোগ করেন, তার অনুমতি না নিয়ে পরীক্ষার নম্বরপত্র উঠিয়ে প্রশাসন বরাবর দেয়া অভিযোগপত্রে সংযুক্ত করেছে রাকিব শেখ। এছাড়া ‘গোপনীয় তথ্য ব্যবহারের দায়ে’ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা রাকিব শেখের বিরুদ্ধে বিভাগে অভিযোগ করেন।

এবিষয়ে সাংবাদিকদের ফারিয়া জান্নাত প্রমি বলেন, ‘আমার নাম দিয়ে স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। আমি ঐ অভিযোগটা করি নি। তবে, স্যারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা আসছে, সেই সমস্যাটা পরবর্তীতে স্যার সমাধান করে দিয়েছিলেন। সমস্যাটা স্যার সমাধান করে দেয়ার পরে ঐটা নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই। এমনকি আমি একথা কাউকে বলিও নাই, কাউকে কখনো অভিযোগও করি নাই। আবার, আমার অনুমতি ছাড়া মার্কশিট উত্তোলন করছে, সেটা বিভাগে জমা দিছে এবং পত্রিকায় ছাপাইছে। যেটা উচিত হয়নি।

ছাব্বির হোসেন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমি একদমই অবগত নই। কিছুই বলতে পারছি না, কারা অভিযোগ দিলো।”

জানতে চাইলে অভিযোগপত্রে নাম থাকা আল মামুন হাসান রাজু বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ অভিযোগ দিলে বলতে পারছি না। এটা ঠিক না। সমাধান হওয়া কিছু পুরনো অভিযোগও আমাদের নামে যুক্ত করা হয়েছে দেখলাম।”

এ বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী রাকিব শেখ বলেন, যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেখানে সাপোর্টিভ ডকুমেন্টস সহ দেওয়া হয়েছে। বাকিটা প্রশাসন দেখবেন। যাদের এখানে নাম দেয়া হয়েছে তাদের অনুমতি নিতে হবে এরকম কোনো বিষয় না। তাদের নাম দেয়া আমার ঘটনার সাথে তাদের ঘটনা প্রসঙ্গত হওয়ার জন্য। ধরে নিতে পারেন এগুলো নজির হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন বলেন, “কে কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে জানি না। গণমাধ্যম বরাত যা শুনেছি তা একাডেমিক কাউন্সিলে সমাধান হয়ে গেছে। বিস্তারিত জানতে বিভাগের সভাপতির বক্তব্য নিতে পারেন।”

জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন জানান, “ একজন শিক্ষার্থীর অভিযোগপত্রে অনুমতি ছাড়াই মার্কসিট উত্তোলন সহ, নাম রোল ব্যবহার করে গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা সভাপতি বরাবর আবেদন করেছে। আমরা একাডেমিক মিটিং—এ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।”

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগপত্রে রাকিব শেখ বলেন, বিভাগের বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলন, প্রতিবাদ এবং একাডেমিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় অধ্যাপক ড. নাজিমউদ্দীন তার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ হন। এর জেরে Islamic Law of Inheritance (কোর্স নং ৪১০৫) কোর্সের প্রথম পরীক্ষক হিসেবে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ৭০ নম্বরের মধ্যে ৩২ মার্কস (ক্রসচেকযোগ্য) দেন। তবে একই কোর্সে দ্বিতীয় পরীক্ষক মূল্যায়ন করে ৫৫ মার্কস দেন। পরে উত্তরপত্র মূল্যায়ন তৃতীয় পরীক্ষকের নিকট যায়। তবে সেখানেও মেকানিজম করে তাকে মাত্র ৩৭ নাম্বার দেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে কোটাসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার কারণে ওই শিক্ষিক বিভাগের আরেক শিক্ষককে দিয়ে তাকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন ১৫ মিনিট ক্লাস নিয়ে কোর্স শেষ করে কোনো মিডটার্ম পরীক্ষা না নিয়ে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের খন্দকার ইউসুফ আলীকে ৩য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারে ৩২০৪নং কোর্সে ইন্টার্নালে ৩০ মার্কসের মধ্যে শূন্য দেন। এতে তার অনার্সের চূড়ান্ত ফলাফলে বাধ্যতামূলক রিটেক আসে এবং উক্ত কোর্সে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়। ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারিয়া জান্নাত প্রমিকে ক্লাসে উপস্থিত ও মিডটার্ম পরীক্ষা দেওয়ার পরও তিনি শূন্য মার্কস দিন। এছাড়া গত ৫ আগস্ট বিভাগের সংস্কারের দাবিতে বিভাগের সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ১৭ দফা দাবিতে বলা হয়েছিল, কোনো শিক্ষক যেন ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ইন্টারনাল মূল্যায়ন, মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারেন। কিন্তু পরবর্তীতেও একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটেছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ড. নাজিমুদ্দিন বিভাগের অনেক শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট করেছেন। তিনি সকল জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকেন। তার পুরো টিচিং ক্যারিয়ারে কখনো কোর্স ক্রেডিট আওয়ার পূরণ করেননি। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ২য় বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি থাকাকালীন উক্ত সেশনের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ চার মাস ঘুরেও পরীক্ষার রুটিন না পাওয়ায় যৌক্তিক আন্দোলন করলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে মুচলেকা নেন। ফলে এক শিক্ষার্থী (নাফিসা তাবাসসুম তিসা) আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

কুবিতে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে ৪২ প্রতিষ্ঠানের শিল্প-একাডেমিয়া বৈঠক

Published

on

By

সানজিদা আক্তার সাথী, কুবি প্রতিনিধি :

শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘রাউন্ডটেবিল অন ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন ইনিশিয়েটিভস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসে উপাচার্যের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া বৈঠকে ৪২টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি চাকরিতে কুবি শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ল্যাব সুবিধা বিনিময়েরও প্রতিশ্রুতি দেন তারা। এছাড়া, শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করতে কারিকুলাম পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থান উপযোগী বিষয় চালুর পরামর্শ দেন তারা।

বৈঠক শেষে ছয়টি প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে এমওইউ স্বাক্ষরে সম্মতি জানায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, ‘আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা শুরু থেকেই ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট’ নীতিতে কাজ করার কথা বলে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির উৎসাহেই আজকের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ ৪২টি প্রতিষ্ঠান আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছি। এসব এমওইউর মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ তৈরি করা, ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ, পারস্পরিক চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাজ করা এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের ল্যাব পারস্পরিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমওইউ হয়েছে, সামনে আরও হবে। আজ ইউজিসির সদস্য জানিয়েছেন, দুই মাস পর এ উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। আমরা কতটুকু করতে পেরেছি, তা দেখা হবে। আমরা অবশ্যই আমাদের মূল লক্ষ্য, অর্থাৎ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মযোগ্যতা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কাজ করে যাব।’

ইউজিসির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন। এর অন্যতম অনুষঙ্গ হলো একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক তৈরি করা। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে যেসব সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হচ্ছে, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এমওইউর উদ্দেশ্যের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না, তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে আমরা যে জব লার্নিং পিরিয়ড নির্ধারণ করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় ও একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্কের মাধ্যমে সেটিও যেন ফলপ্রসূ হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এটি এ ধরনের ১২তম আয়োজন।’

উল্লেখ্য, ৪২টি প্রতিষ্ঠান বৈঠকে অংশ নিলেও এমওইউ স্বাক্ষর করেছে ছয়টি প্রতিষ্ঠান। স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো স্মার্ট সলিউশন, বাংলাদেশ স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিক), ড্যাপকো ভেঞ্চারস লিমিটেড, সুপ্রিম ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, উইডেভস অ্যান্ড উইল্যাব এবং ফ্লোরিনা কসমেটিকস।

Continue Reading

top3

বেরোবিতে পাঁচ দফা দাবিতে শিবির নেতাকর্মীদের স্মারকলিপি

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) আবাসিক হলের সিট বণ্টন, হল ডাইনিংয়ের খাবারে ভর্তুকি, আবাসন সংকট নিরসন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও হল প্রভোস্ট কাছে তারা এ স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আবাসিক পরিবেশও তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও পড়াশোনার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তবে আবাসিক হলের সিট বণ্টন, ডাইনিংয়ের খাবারের দাম ও মান, হলের পরিবেশ এবং পড়াশোনার উপযোগী সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সিট সংকট রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে একটি সিটে একাধিকজন থাকতে হচ্ছে। এতে পড়াশোনা ও বিশ্রামের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। তাই মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টনের পাশাপাশি এক সিটে একজনের আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

এদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে হল ডাইনিংয়ের খাবারের খরচ শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে ডাইনিংয়ের খাবারে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

হলের ওয়াশরুমসহ বিভিন্ন স্থানের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ তুলে তারা বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পড়াশোনার জন্য নিরিবিলি পরিবেশ তৈরিতে হলে রিডিং রুমের ব্যবস্থা করার দাবিও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান নিয়েও অসন্তোষের কথা স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান উন্নয়নের দাবি জানান তারা।

তাদের দাবি সমূহ হলো মেধার ভিত্তিতে হলে সিট বণ্টন করতে হবে,হল ডাইনিংয়ের খাবারে ভর্তুকি দিতে হবে,এক সিটে একজনের আবাসন নিশ্চিত করতে হবে,হলের ওয়াশরুমসহ সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে,বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান উন্নত করতে হবে।

অর্থনৈতিক বিভাগের মেহেদী হাসান বলেন, দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং পড়াশোনার জন্য আরও সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায়।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন গোবিপ্রবি উপাচার্য

Published

on

By

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন তাঁদের কবর জিয়ারত করেন তিনি। এ সময় তিনি ফাতিহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্যের শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নবনিযুক্ত চার সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান উপাচার্য।

পৃথক পৃথক অভিনন্দন বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত বলেন, দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত, অভিজ্ঞ ও যোগ্য নেতাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার এ সিদ্ধান্ত বিএনপিকে আরো সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও গতিশীল করবে। নবনিযুক্ত চার সদস্য তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতা কাজে লাগিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে আরো সুসংহত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপাচার্য আরো বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। নতুন চার সদস্যকে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে রাজনীতি, চিকিৎসা, পেশাজীবী অঙ্গন ও প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয় ঘটেছে। একই সঙ্গে তিনি এ সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

Continue Reading

Trending