Connect with us

ক্যাম্পাস

ইবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ, ধোঁয়াশা

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক বিষয়ে অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর অভিযোগ দিয়েছে একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব শেখ। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ভোক্তাভোগী হিসেবে নাম থাকা শিক্ষার্থীরা ‘তাদের নাম দেওয়ার বিষয়ে’ জানেন না বলে দাবি করেছেন। ফলে এনিয়ে প্রকৃত ঘটনায় কাটেনি ধোঁয়াশা।

জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগে পরীক্ষায় মূল্যায়নে অনিয়ম, ব্যক্তিগত আক্রোশ, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, ফলাফলে বৈষম্য, হুমকি ও একাডেমিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন রাকিব শেখ। একইসাথে তাকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব থেকে অপসারণ ও সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার দাবি দাবি জানান তিনি।

অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী হিসেবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের খন্দকার ইউসুফ আলী, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আল মামুন হাসান রাজু, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফারিয়া জান্নাত প্রমি ও একই বর্ষের ছাব্বির হোসেন। এছাড়া, ফারিয়া জান্নাত অভিযোগ করেন, তার অনুমতি না নিয়ে পরীক্ষার নম্বরপত্র উঠিয়ে প্রশাসন বরাবর দেয়া অভিযোগপত্রে সংযুক্ত করেছে রাকিব শেখ। এছাড়া ‘গোপনীয় তথ্য ব্যবহারের দায়ে’ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা রাকিব শেখের বিরুদ্ধে বিভাগে অভিযোগ করেন।

এবিষয়ে সাংবাদিকদের ফারিয়া জান্নাত প্রমি বলেন, ‘আমার নাম দিয়ে স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। আমি ঐ অভিযোগটা করি নি। তবে, স্যারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা আসছে, সেই সমস্যাটা পরবর্তীতে স্যার সমাধান করে দিয়েছিলেন। সমস্যাটা স্যার সমাধান করে দেয়ার পরে ঐটা নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই। এমনকি আমি একথা কাউকে বলিও নাই, কাউকে কখনো অভিযোগও করি নাই। আবার, আমার অনুমতি ছাড়া মার্কশিট উত্তোলন করছে, সেটা বিভাগে জমা দিছে এবং পত্রিকায় ছাপাইছে। যেটা উচিত হয়নি।

ছাব্বির হোসেন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমি একদমই অবগত নই। কিছুই বলতে পারছি না, কারা অভিযোগ দিলো।”

জানতে চাইলে অভিযোগপত্রে নাম থাকা আল মামুন হাসান রাজু বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ অভিযোগ দিলে বলতে পারছি না। এটা ঠিক না। সমাধান হওয়া কিছু পুরনো অভিযোগও আমাদের নামে যুক্ত করা হয়েছে দেখলাম।”

এ বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী রাকিব শেখ বলেন, যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেখানে সাপোর্টিভ ডকুমেন্টস সহ দেওয়া হয়েছে। বাকিটা প্রশাসন দেখবেন। যাদের এখানে নাম দেয়া হয়েছে তাদের অনুমতি নিতে হবে এরকম কোনো বিষয় না। তাদের নাম দেয়া আমার ঘটনার সাথে তাদের ঘটনা প্রসঙ্গত হওয়ার জন্য। ধরে নিতে পারেন এগুলো নজির হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন বলেন, “কে কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে জানি না। গণমাধ্যম বরাত যা শুনেছি তা একাডেমিক কাউন্সিলে সমাধান হয়ে গেছে। বিস্তারিত জানতে বিভাগের সভাপতির বক্তব্য নিতে পারেন।”

জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন জানান, “ একজন শিক্ষার্থীর অভিযোগপত্রে অনুমতি ছাড়াই মার্কসিট উত্তোলন সহ, নাম রোল ব্যবহার করে গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা সভাপতি বরাবর আবেদন করেছে। আমরা একাডেমিক মিটিং—এ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।”

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগপত্রে রাকিব শেখ বলেন, বিভাগের বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলন, প্রতিবাদ এবং একাডেমিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় অধ্যাপক ড. নাজিমউদ্দীন তার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ হন। এর জেরে Islamic Law of Inheritance (কোর্স নং ৪১০৫) কোর্সের প্রথম পরীক্ষক হিসেবে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ৭০ নম্বরের মধ্যে ৩২ মার্কস (ক্রসচেকযোগ্য) দেন। তবে একই কোর্সে দ্বিতীয় পরীক্ষক মূল্যায়ন করে ৫৫ মার্কস দেন। পরে উত্তরপত্র মূল্যায়ন তৃতীয় পরীক্ষকের নিকট যায়। তবে সেখানেও মেকানিজম করে তাকে মাত্র ৩৭ নাম্বার দেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে কোটাসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার কারণে ওই শিক্ষিক বিভাগের আরেক শিক্ষককে দিয়ে তাকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন ১৫ মিনিট ক্লাস নিয়ে কোর্স শেষ করে কোনো মিডটার্ম পরীক্ষা না নিয়ে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের খন্দকার ইউসুফ আলীকে ৩য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারে ৩২০৪নং কোর্সে ইন্টার্নালে ৩০ মার্কসের মধ্যে শূন্য দেন। এতে তার অনার্সের চূড়ান্ত ফলাফলে বাধ্যতামূলক রিটেক আসে এবং উক্ত কোর্সে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়। ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারিয়া জান্নাত প্রমিকে ক্লাসে উপস্থিত ও মিডটার্ম পরীক্ষা দেওয়ার পরও তিনি শূন্য মার্কস দিন। এছাড়া গত ৫ আগস্ট বিভাগের সংস্কারের দাবিতে বিভাগের সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ১৭ দফা দাবিতে বলা হয়েছিল, কোনো শিক্ষক যেন ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ইন্টারনাল মূল্যায়ন, মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারেন। কিন্তু পরবর্তীতেও একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটেছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ড. নাজিমুদ্দিন বিভাগের অনেক শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট করেছেন। তিনি সকল জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকেন। তার পুরো টিচিং ক্যারিয়ারে কখনো কোর্স ক্রেডিট আওয়ার পূরণ করেননি। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ২য় বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি থাকাকালীন উক্ত সেশনের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ চার মাস ঘুরেও পরীক্ষার রুটিন না পাওয়ায় যৌক্তিক আন্দোলন করলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে মুচলেকা নেন। ফলে এক শিক্ষার্থী (নাফিসা তাবাসসুম তিসা) আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

বেরোবির ওয়েবসাইটে মিলছে না শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য, বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

Published

on

By

আনাস মাহমুদ, বেরোবি প্রতিনিধি;

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্ব বাড়লেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এখনো রয়ে গেছে নানা সীমাবদ্ধতা। শিক্ষকদের অসম্পূর্ণ প্রোফাইল, প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব, দীর্ঘদিন ধরে তথ্য হালনাগাদ না হওয়া এবং প্রায়ই ওয়েবসাইটে প্রবেশে সমস্যার কারণে শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট শুধু প্রশাসনিক তথ্যের মাধ্যম নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণার ডিজিটাল পরিচয়। ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী, গবেষক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কিংবা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকেরা প্রথমেই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। কিন্তু বেরোবির ওয়েবসাইটে অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক প্রোফাইলে শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার ক্ষেত্র, প্রকাশনা, ই-মেইল, যোগাযোগের তথ্য কিংবা চলমান গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনুপস্থিত। এমনকি কয়েকটি বিভাগের কিছু শিক্ষকের প্রোফাইলে ব্যক্তিগত ছবিও সংযুক্ত নেই। অনেক প্রোফাইল দীর্ঘদিন ধরে হালনাগাদ করা হয়নি বলেও দেখা গেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একাডেমিক বা গবেষণার প্রয়োজনে কোনো শিক্ষকের বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়ে তারা প্রায়ই সমস্যায় পড়েন। অনেক সময় গবেষণার আগ্রহ, প্রকাশনা কিংবা যোগাযোগের মাধ্যম সম্পর্কে কোনো তথ্যই পাওয়া যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবদুল মালেক বলেন, “বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটই তার ডিজিটাল পরিচয় বহন করে। কিন্তু বেরোবির ওয়েবসাইটে অনেক শিক্ষক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য নেই। গবেষণার কাজে কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে গিয়ে শিক্ষকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।”

আরেক শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল, গবেষণা, প্রকাশনা, গুগল স্কলার, ORCID কিংবা যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু বেরোবির ওয়েবসাইটে অনেক ক্ষেত্রেই এসব তথ্য অনুপস্থিত।”

শুধু তথ্যের ঘাটতিই নয়, ওয়েবসাইটের কার্যকারিতা নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। শিক্ষার্থীদের দাবি, অনেক সময় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। আবার কখনো সার্ভার সমস্যার কারণে ওয়েবসাইট খুলতেই চায় না। এতে ভর্তি, ফলাফল, নোটিশ, টেন্ডার, একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও বিভিন্ন প্রশাসনিক তথ্য জানতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শিক্ষক প্রোফাইল, গবেষণা, প্রকাশনা, চলমান প্রকল্প, একাডেমিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি যেমন উন্নত হয়, তেমনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও গবেষণার সুযোগও বৃদ্ধি পায়।

শিক্ষার্থীরা উদাহরণ হিসেবে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে শিক্ষক প্রোফাইলগুলো তুলনামূলকভাবে বিস্তারিত ও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। বেরোবিতেও একই ধরনের আধুনিক, তথ্যসমৃদ্ধ ও ব্যবহারবান্ধব ওয়েবসাইট গড়ে তোলার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার (শাখা প্রধান) মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ওয়েবসাইট রয়েছে সেটি টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে মাঝে মাঝে প্রবেশ করতে সমস্যা হয়। আর শিক্ষকদের জন্য আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে দেওয়া হয়েছে তারা তাদের পাবলিকেশন, ইনফরমেশন এবং অন্যান্য তথ্য নিজেরাই আপডেট করে নিতে পারবে। তাদের ইনফরমেশন গুলো খুবই সেনসিটিভ সে জন্যই তাদের অ্যাকাউন্ট করে দেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

top3

গুচ্ছে চূড়ান্ত ভর্তির সময় বাড়ল ২১ জুলাই পর্যন্ত

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

দেশজুড়ে চলমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত ভর্তির সময়সীমা আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভর্তি কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে গুচ্ছ ভর্তি কমিটির এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।

সভায় জানানো হয়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারেননি। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত ভর্তির সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোট ৪২০টি আসন ফাঁকা রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি আসন শূন্য রয়েছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সময় বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এখনো ৩৬টি আসন খালি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি মেধা কোটার এবং একটি কোটাভিত্তিক আসন।

ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্ধিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

শাবিতে খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় ছাত্রদলের দুই নেতার মারধরের শিকার এক শিক্ষার্থী, শেষরাতে ভিসি বাসভবনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে হলের গ্রুপে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতা। এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে রাত ৩টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থী সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।

মারধরের শিকার হওয়া খাইরুল খন্দকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন- পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও পরিসংখ্যার বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান।

ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী অর্থনীতি বিভাগের আবরার বিন সেলিম বলেন, “আমি যখন পাশে একটা দোকানে থাকি, তখন পরিসংখ্যানের তারেক ভাই ও পিএসএসের হাসিব ভাইয়ের সাথে খাইরুলের তর্কাতর্কি হচ্ছে। যাওয়ার পর সেখানে তারেককে সিনক্রিয়েট করতে না বলি এবং বিভাগের সিনিয়র দিয়ে বিষয়টা সমাধান করতে বলি।”
“তখন তারেক ভাই আমাকে হলের গ্রুপে খাইরুলের খাবারের অভিযোগটা বলে। তখন আমি তারেক ভাই ও হাসিব ভাই দুজনের কথা শুনি। একই সাথে তারা বলে হল প্রভোস্ট নাকি তার (খায়রুল) মেসেজের স্ক্রিনশট পাটিয়েছেন বিষয়টি দেখার জন্য। পরবর্তীতে যখন খাইরুলের কথা শুনি, তখন হাসিব তার কথার মধ্যে বারবার ইন্টাফেয়ার করে। তখন হাসিবের কি একটা কথার উপর খাইরুল বলে- ভাই আপনি কি দলীয় প্রভাব দেখাচ্ছেন? আমি যদি কথা বলি হল প্রভোস্টের সাথে কথা বলব। আপনাদের সাথে কেন কথা বলব।”

“তখন হাসিব এত জোরে খাইরুলের বুকে লাথি মারে, সে নিজেই পড়ে যায়। তখন তারেক খাইরুলের মাথার পিছনে ঘাড়ের উপরের সংবেদনশীল জায়গা মারা শুরু করে। এভাবে হাসিব-তারেক খাইরুলকে এত মারাত্বকভাবে মারা শুরু করে, যা আমি আমার পুরো লাইফে কখনও দেখেনি।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী খায়রুল খন্দকার বলেন, “হলের ক্যান্টিনের খাবারে পচা মাছের তরকারি নিয়ে প্রভোস্ট স্যারকে মেনশন দিয়ে একটা মেসেজ দিই ভাল খাবারের ব্যবস্থা করতে। এ নিয়ে গতকাল (শুক্রবার) বিকালে ছাত্রদলের তারেক ভাই আমাকে আমার এক বন্ধু দিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। ডেকে নিয়ে বলে , হল গ্রুপে ম্যাসেজ দেওয়ার প্রশাসনের উর্ধ্বতন একজন মনক্ষুণ্ণ হয়েছেন। আমি উর্ধ্বতন কে বলাতে বলল প্রভোস্ট স্যার। তিনি আমাকে প্রভোস্ট স্যারকে সরি বলতে বলেন। আমি ওকে বলে চলে আসি।”

“এরপর গতকাল রাতে ( শুক্রবার) ক্যান্টিনের বাজে খাবার দেখে প্রভোস্ট স্যারকে মেনশন দিয়ে খাবারের বিষয়ে অভিযোগ করি। ম্যাসেজে বলি- ক্যান্টিনে আমাদের যা-তা খাওয়াচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আজকে (শনিবার) সন্ধ্যায় গেইটে আসলে হাসিব ও তারেক আমাকে হলের গ্রুপে খাবারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। আমি বললাম কিছু বলার থাকলে হল প্রভোস্ট আমাকে বলবে, আপনারা কেন বলবেন। তখন হাসিব আমাকে জোরে বুকে লাথি মারে ও তারেক মাথার পিছনে, মুখে আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এরপর আশপাশ মানুষ আসলে কয়েকজন সিনিয়র ভাই ও বন্ধুরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।”

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান বলেন, “হলের গ্রুপে খাবারের বিষয়ে কথা বলায় প্রভোস্ট স্যার একটু মন খারাপ করছেন। তখন আমার এ নিয়ে খায়রুলকে বুঝাচ্ছিলাম। কিন্ত সে জুনিয়র হয়েও আমাদের সাথে খুব বাজে আচরণ করে। যেটা আমাদের কাছে খুব সিনিয়র হিসেবে খুব খারাপ লাগছে।” “তখন এক কথা-দুই কথা হইতে হইতে বিষয়টা বড় পর্যায়ে চলে গেছে। এক পর্যায়ে সে তেড়ে এসে আমার শরীরে তার হাত টাচ করছে। তখন হাসিব বাধা দিতে গিয়ে হাতাহাতি পর্যায়ে চলে গেছে। এতে হাসিবের চশমা ভেঙ্গে গেছে, তার হাত কেটে গেছে। তার ফোন পুরোটা ডেড হয়ে গেছে।”

এ বিষয়ে জানতে হাসিবুর রহমানকে কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ছাত্রদলের দুই নেতাকে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড ইফতেখার আহমদ বলেন, এখানে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। কাউকে মারার জন্য মদদও দেইনি দায়িত্ব ও দেই নি । হলের সমস্যা নিয়ে কোন শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে আমি আমার রুমে ডেকে তার সাথে কথা বলে সমাধান করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী আমার কাছে সমান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ঘটনার যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

Continue Reading

Trending