Connect with us

ক্যাম্পাস

এক পথচারীর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ইবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

মাঝরাতে এক পথচারীকে মারধর করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি— কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হলে উভয়ের মানিব্যাগ ও মোবাইল পড়ে যায়। সেখান থেকে তুলে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ত্রিবেণী রোডে ‘ভাই ভাই’ মেসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত পথচারীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহত পথচারীর নাম শওকত জামান (৩০)। তিনি শেখপাড়ার (শৈলকূপা) উত্তর পদমদীর ইদ্রিস আলী বিশ্বাসের সন্তান।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ‘আসিফ’ মেসে থাকেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের ৪ শিক্ষার্থী। রাত ২ টায় শেখপাড়া বাজারে চা খেতে বের হয়ে ফেরার পথে পথচারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি থেকে মারধর পর্যায়ে চলে যায়। পাশ থেকে ঘটনাস্থলে লোক এসে দেখে ভুক্তভোগী পথচারীর মাথায় আঘাত লেগে রক্ত বের হচ্ছিল। প্রক্টররিয়াল বড়ি ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয়ে আহত পথচারীকে উদ্ধার করে মেডিকেল চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে মীমাংসা করে দেয়।

আহত পথচারী শওকত বলেন, “আমি বালু ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলাম। রাস্তায় এক শিক্ষার্থী ১মিনিট কথা বলার জন্য রিকুয়েষ্ট করে মোবাইলটা খুঁজে নেন। আমি মোবাইল দিলাম। কিন্তু কল না দিয়ে মোবাইল নিয়ে সামনে আগাচ্ছিলেন। তখন বুঝতে পেরে গালি দিলাম—এটা সত্য কথা। আরেকজন মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং পাশের থেকে টেবিলের ভাঙা-খুটি দিয়ে মারেন। মানি ব্যাগে ৪০ হাজার টাকা ছিল। এখন ১০ হাজার পাইছি আরও ৩০ হাজার পাচ্ছি না।”

অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থী বলেন, “শেখপাড়া বাজার থেকে চা খেয়ে ফেরার পথে ‘ভাই ভাই’ মেসের সামনে আমাকে উদ্দেশ্য করে বকাবকি করছিলেন তিনি। তখন আমি বললাম, ভাই বকতেছেন কেন? তখন তিনি ধাক্কা মারে এবং আমি মাটিতে পড়ে যায়। তখন বন্ধুরা উদ্ধার করেন।”

অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ এক বন্ধুর সঙ্গে ওই ব্যক্তির কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়, তখন গিয়ে দেখি দুইজনই মাটিতে পড়ে আছে। ওই সময় মাটিতে ফোন আর মানিব্যাগ পড়ে যায়। তখন কুঁড়ে নিয়ে মোবাইল আর মানিব্যাগ ফেরত দিই। আমাদের সবার মোবাইলে ব্যালেঞ্জ আছে, আমরা কেন মোবাইল নিতে চাইবো? ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অসত্য ও বানোয়াট।”

জানতে চাইলে কর্তব্যরত ইবি মেডিকেল চিকিৎসক জানান, একজনকে আনা হয়েছিল। মাথায় পেরেকের চিহ্ন। তবে ভিতরে বেশি ঢুকেনি। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ”ঘটনা অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী ও প্রক্টররিয়াল বডি উপস্থিত হয়ে আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ানো হয়েছে। রাত ৩ থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত তাদের উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মীমাংসা করা হয়েছে।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবিতে অ্যারাবিক ক্লাবের নেতৃত্বে আমির-আমান-ফাহিম

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সংগঠন অ্যারাবিক ক্লাবের ২০২৬-২৭ বর্ষের কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল নির্বাচিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিভাগীয় সেমিনার কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে আনঅফিসিয়াল ফলাফল প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. শামছুল হক ছিদ্দিকী। 

নির্বাচনে মোট ৩১৩ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ১৮৪ জন, যার সবগুলোই বৈধ ব্যালট হিসেবে গণ্য হয়েছে। সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে মোট চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ১৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আমির ফয়সাল। দুটি সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হন নূর হোসেন আল রিফাত (২৮ ভোট) ও শহীদ উল্লাহ (১০ ভোট)।

সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে ছয়জন প্রার্থী ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক পদে ১০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মো. আমান উল্লাহ। দুটি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন কামরুল হাছান (৩৪ ভোট) ও ইউসুফ রাকিব (২০ ভোট)।

সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ফাহিম ফয়সাল। দুটি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন ওমর ফারুক (৭৫ ভোট) ও শাকিল আহমেদ (১১ ভোট)।

ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিতদের শুভকামনা জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, অ্যারাবিক ক্লাবের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি এবং অন্যান্য বিভাগের তুলনায় আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বেরোবিতে বিক্ষোভ

Published

on

By

বেরোবি প্রতিনিধি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে আগের মতো নিয়োগ বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’দের ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‘শিক্ষার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হই, অন্যায় সিদ্ধান্ত রুখে দিই’ স্লোগানে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি চলবে না’, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দে’, ‘চাকরি আমার অধিকার, নিয়োগ হবে স্বচ্ছতার’ ও ‘মেধা নিয়ে গড়িমসি চলবে না’সহ নানা স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে প্রধান ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সিদ্দিকুর রহমান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আহসান হাবিব এবং ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সানোয়ার হোসেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া ছেড়ে দিলে স্বচ্ছতা বিনষ্ট হবে এবং মেধার মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা ও মেধ্যাক সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে; স্বজনপ্রীতি বা আর্থিক লেনদেনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।

ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সানোয়ার হোসেন বলেন, “এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মেধাবীদের দূরে রাখার চক্রান্ত চলছে। সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

বেরোবির শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, “বিগত দিনে শিক্ষক নিয়োগে কমিটির পেছনে টাকা নিয়ে ঘোরার যে দুর্নীতির পরিবেশ ছিল, তা আর ফিরতে দেওয়া হবে না। যেভাবে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, একইভাবে এই সিদ্ধান্তও প্রতিহত করা হবে। অবিলম্বে এনটিআরসিএর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ বহাল রাখতে হবে।”

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ইবির নতুন প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম. শরীফ উদ্দীনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) মো. আব্দুল মালেক মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) এ. কে. এম. শরীফ উদ্দীনের ১১ আগস্টের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ওই পদ থেকে ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মেকা) মো. আব্দুল মালেক মিয়াকে প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি নিয়ম অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত)-এর দায়িত্ব পালন করায় এ. কে. এম. শরীফ উদ্দীনকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

Continue Reading

Trending