Connect with us

ক্যাম্পাস

এক শিক্ষকের গাফিলতিতে সেশনজটে বন্দী ইবি শিক্ষার্থীরা

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা শেষ হলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ফলাফল এখনও দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কোর্সের এক শিক্ষকের গাফিলতির কারণে ফলাফল আটকে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সেশনজটে বন্দী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই এখন ক্যাম্পাসে নেই। ইতোমধ্যে তারা পরীক্ষা শেষ করে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু আল ফিকহ বিভাগে অজানা কারণে এখনও ফলাফল আটকে আছে। কোন উদ্দেশ্যে বা কেন এমনটা করা হচ্ছে জানি না। যত দ্রুত মুক্তি পাওয়া যাবে ততই আমাদের জন্য মঙ্গল।

বিভাগীয় সূত্রমতে, ‘এলএল এম (কোর্সের নম্বর ৫২০১) পরীক্ষা হয় গত ২ ডিসেম্বর। সেদিনই ইন্টারনাল হিসেবে উত্তরপত্র জমা নেন আল ফিকহ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাব। কিন্তু ২ মাস হয়ে গেলেও তিনি ওই উত্তরপত্র জমা দেননি। যার ফলে দ্বিতীয় পরীক্ষক ওই উত্তরপত্র দেখতে পারেননি। এছাড়া প্রথম পরীক্ষক হিসেবে আনোয়ারুল ওহাব ৫২০৩ নম্বর কোর্সের উত্তরপত্র দেখার কথা কিন্তু তিনি নেননি। পরে দ্বিতীয় পরীক্ষক ওই উত্তরপত্র দেখেন এবং প্রায় ২ সপ্তাহ পূর্বে জমা দেন। এদিকে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি বলার পর মঙ্গলবার ২য় উত্তরপত্র গ্রহণ করেছেন আনোয়ারুল ওহাব কিন্তু এখনও দেখে দেননি।

জানা যায়, ওই বিভাগ পূর্ব থেকেই চরম সেশনজটে থাকলেও সম্প্রতি জট কাটিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা শেষ হওয়ার এতদিন হলেও তাদের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। এর পিছনে সহযোগী অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ওহাবের অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে পরীক্ষা কমিটি দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করতে পারছে না। এতে শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বিগত সময়েও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে খাতা আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকা বিভাগটির সিনিয়র অধ্যাপক ড. আবুবকর মো. জাকারিয়া মজুমদারের কাছ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত। সংশ্লিষ্ট কোর্সের এক শিক্ষক এখনও খাতা জমা দেয়নি৷ খাতা জমা দিলেই দ্রুত ফলাফল দেওয়া সম্ভব।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ওহাব বলেন, ‘আমি পারিবারিক একটা সমস্যার কারণে ১ মাস ছুটিতে ছিলাম। মৌখিকভাবেই ছুটি নিয়েছি। বিভাগে এসেও খাতা নিতে পারিনি। এক কর্মচারীকে বললাম, তাও অন্য বর্ষের খাতা দিয়ে গেল। মিস্টেক হওয়ায় খাতা মূল্যায়ন শেষ করা সম্ভব হয়নি৷ কর্মচারী ছোটখাটো মিস্টেক করলে তো কিছু বলা যায় না। বিভাগ থেকে খাতা আজকে বা কাল পেলে কয়েকদিনের মধ্যে জমা দিতে পারবো। খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যদি জমা হয় এ মাসের মধ্যে ফলাফল দেওয়া সম্ভব।’

তিনি আরও জানান, ‘শিক্ষার্থীরা ২ বছর পরীক্ষা দিতে পারেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না। এদিকে ছুটিতে থাকায় কিছুটা খাতা মূল্যায়নে দেরি হচ্ছে, তাতেই অভিযোগ।’

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘পরীক্ষা অনেক আগেই শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ফলাফলের জন্য বারবার কল দিয়ে জানতে চাচ্ছে। সকল উত্তরপত্র পেলে দ্রুতই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

ঢাবি ক্যাম্পাসে তারকা জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল

Published

on

By

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকা মেসুত ওজিল। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়।

জানা গেছে, নতুন সরকারের শপথ ও মন্ত্রীসভা নিয়ে যখন আলোচনায় সরগরম দেশ, সে সময় অনেকটা চুপিসারেই বাংলাদেশে পা রেখেছেন ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। আসন্ন রমজানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখতে যাবেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তুর্কি সরকারের আওতাধীন ‘টিকা’ নামের একটি প্রজেক্ট শহীদ মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারের বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজে ঢাবি প্রশাসনকে সাহায্য করছে। এই প্রজেক্টের উদ্বোধনেই মূলত ঢাবিতে এসেছেন ওজিল। ইতোমধ্যে এই প্রজেক্ট ঢাবি মেডিকেল সেন্টারকে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মতো সহায়তা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাকসু সম্পাদক মিনহাজ।

জানা গেছে, গতকাল (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে এসেছেন ওজিল। আজ ঢাবিতে প্রজেক্ট উদ্বোধনের পর আগামীকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি ইফতারে অংশ নেওয়ার কথা আছে তার। এরপর রাতেই দেশ ছাড়বেন তিনি।

Continue Reading

top3

বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের দুই পক্ষের মারামারি, উপাচার্য-প্রক্টরসহ আহত ৭

Published

on

By

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শিক্ষকদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম ও প্রক্টর ড. জসিম উদ্দিনসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। উপস্থিত শিক্ষকেরা এ কথা জানিয়েছেন। উভয় পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী সাদা দলের শিক্ষক।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক রোববার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করতে যান। সে সময় উপাচার্য আলিমুল ইসলামের সঙ্গে শিক্ষকদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে ভিসিসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। তবে তাঁদের কারোরই অবস্থা গুরুতর নয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অ্যাডহক নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে কিছু ত্রুটি আছে। আমরা তাকে উপাচার্যকে এই নিয়োগ দিতে না করি। তবুও তিনি নিয়োগ দেন। মানুষ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আর তিনি ১০ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ দেন। আমরা এটার বিষয়ে উনার সঙ্গে গতকাল বসতে চাচ্ছিলাম। তিনি গতকাল সময় দেননি। আজ গেলে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন সেখানে উপস্থিত প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আমাদের একজন শিক্ষকের ওপর চড়াও হন। তিনি মোজাম্মেল স্যারকে লাথি মেরে সরিয়ে দেন আর তখন মাহবুব স্যার ঝামেলা মেটাতে এলে তাকেও ঘুষি মারা হয়। তখন এই মারামারির ঘটনা ঘটে। তার কাছে কোনো কিছু নিয়ে গেলেই তিনি বলতেন আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভিসি, আমি কোনো কাজ করতে পারব না। এখন শেষ সময়ে তিনি এই নিয়োগ কীভাবে দেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে ইউজিসি আমাদের বাজেট বন্ধ করিয়ে দেবে। তখন আমরা কীভাবে বাঁচব। আমরা সাবধান করতে গিয়েছিলাম। আর আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’

ঘুষি ও লাথির বিষয়ে জানতে প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিনকে মোবাইল ফোনে চারবার কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সিকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর আলিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন করার পরে একটি ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে গন্ডগোল হয়। তখন ছাত্রদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার নিয়োগ দিই। টিচাররাই তাদের নির্ধারণ করে দেন। এখন সহযোগিতা করছে না। নয়া সরকার আসছে, এখন তারা আসছে এই সরকারের লোক বলে। ওরা যে সরকারের লোক, আমিও তো সেই সরকারের লোক। এনএসআই, ডিজিএফআই সব সরকারের কাছেই আমার ইনফরমেশন আছে। কিছু শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে অযথা মব সৃষ্টি করছে। এটা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নিয়োগ। কোনো টাকা, কোনো সুপারিশ কাজ করেনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। লিখিত, ভাইভাসহ যোগ্য লোকদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেখানের ম্যাক্সিমাম সিলেটেরই।’

উপাচার্য তাঁর কক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ছয়জন আহতের কথা স্বীকার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দিইনি।’

সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। থানায় কেউ কোনো অভিযোগ নিয়েও আসেনি

Continue Reading

top1

পদত্যাগ করলেন ঢাবি উপাচার্য

Published

on

By

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগ করেছেন।

মঙ্গলবার বিকালে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদিন আগে এ ঘোষণা দিলেন ঢাবি উপাচার্য।

পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সরে দাঁড়াচ্ছি, যেন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজেদের মতো করে প্রশাসন সাজাতে পারে।’

Continue Reading

Trending