নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা পর্যালোচনা কমিটির সদস্য ও সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এমন ‘অসম্মানজনক’ বিদায় প্রাপ্য ছিলেন না। তার মতে, যোগ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন আচরণ চললে ভবিষ্যতে সংকটের সময় কোনো দক্ষ মানুষ দেশের হাল ধরতে আসবে না।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত প্রোফাইলে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত ছয় সদস্যের পর্যালোচনা কমিটির সদস্য হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য সেখানে তুলে ধরেন তিনি।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, রিজার্ভ চুরির তদন্তে তার মূল ভূমিকা ছিল কারিগরি নিরাপত্তা রিভিউ করা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট সার্ভার রুম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করে আমরা মোট ২৮টি সুপারিশ দিয়েছি। এর মধ্যে ১৭টি বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজ চলমান। এই পুরো প্রক্রিয়ায় গভর্নর ড. মনসুর অত্যন্ত আন্তরিক ও সহযোগী ছিলেন।”
সুইফট সিস্টেমের নিরাপত্তা জোরদারে বিশ্বমানের ‘প্রিভিলেজ এক্সেস ম্যানেজমেন্ট’ (PAM) সফটওয়্যার ব্যবহারের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তার বিভিন্ন টুলস (SIEM, SOAR, VPN, XDR) ব্যবহারের যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুইফট টিম তা পালনের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
ড. মনসুরের মেয়াদে সামষ্টিক অর্থনীতির অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩ বিলিয়ন ডলারের নেট রিজার্ভ থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে ২৯ বিলিয়ন ডলারে (গ্রস ৩৫ বিলিয়ন) উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছে। ৩৬ মাস ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতি নভেম্বরে ৭ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে।”
৫ লক্ষ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ও প্রায় ২০টি দেউলিয়া ব্যাংক নিয়ে যাত্রা শুরু করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসায় সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ ও ড. আহসান এইচ মনসুরের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
তবে গভর্নরের বিদায়ের পর এই সংস্কার কাজগুলো থমকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, “গভর্নর পরিবর্তন হওয়ায় সুইফট এবং আইটি সিস্টেমের ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত কাজগুলো যেন আটকে না যায়।”
নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কবাণী দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি নলেজ-ড্রিভেন ফাইনান্সিয়াল রেগুলেটর হতে হবে। এখানে ডিজিটাল কারেন্সি ও ফিনটেক বোঝার মতো নেতৃত্ব লাগবে। কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট আছে এমন কাউকে বা বড় খেলাপিদের সুবিধা দেওয়া ব্যক্তিদের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর বিপদসমূহ বিবেচনা করা উচিত।”
বাংলাদেশের পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নিজের হতাশার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশন রোডম্যাপে আরও ইনপুট দেওয়ার সুযোগ ছিল, যা তৈরি হয়নি। সময় থাকতে নীতিনির্ধারকদের কাণ্ডজ্ঞান প্রয়োগ করা উচিত।”