Connect with us

top1

চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে জ্যামাইকা অভিমুখে

Published

on

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  

চলতি বছরের বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানতে যাচ্ছে জ্যামাইকা উপকূলে। এ পর্যন্ত সেখানে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে এত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানেনি জ্যামাইকা উপকূলে। সূত্র বিবিসি।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, এ ঘূর্ণিঝড়টি প্রাণঘাতী ও এটি মহা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে দেশটিতে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭৫ মাইল বা ২৮২ কিলোমিটার গতিতে হারিকেন মেলিসা এখন ক্যাটাগরি পাঁচ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। যেটি ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ স্তর। এটি ক্রমান্বয়ে আরও শক্তি সঞ্চয় করছে এবং মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভোরের দিকে ক্যারিবীয় দ্বীপ জ্যামাইকায় আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে।

ঝড়ের প্রভাবে জ্যামাইকায় তিনজনের প্রাণহানির পাশাপাশি হাইতি ও ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রেও এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুবই ধীর গতিতে উপকূলের দিকে যাচ্ছে ঝড়টি। যে কারণে যে এলাকা দিয়ে ঝড়টি অতিক্রম করবে, সেখানে দীর্ঘ সময় তাণ্ডব চালাতে পারে। ফলে একদিকে যেমন প্রবল বর্ষণ হবে, অন্যদিকে, বন্যা ও ভূমিধ্বসের ঝুঁকিও বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার বা এনএইচসি বলছে, সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ও কেন্দ্রীয় চাপের দিক থেকে মেলিসা এ বছর বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।

যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির নিউজ পার্টনার সিবিএস জানিয়েছে, ১৮৫১ সাল থেকে জ্যামাইকায় ঝড়ের রেকর্ড সংরক্ষণের পর থেকে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় যেটি আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আঘাত হানতে যাচ্ছে দেশটিতে।

জ্যামাইকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার সন্ধ্যায় জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই ঝড়ের প্রভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) গ্রিনিচ সময় সন্ধ্যায় ৬টায় এনএইচসির আবহাওয়ার বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, জ্যামাইকায় আজ রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রবল ও প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে। যার ফলে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।

এ সতর্কবার্তার সময় ঘূর্ণিঝড় মেলিসা রাজধানী কিংস্টনের প্রায় ১৪৫ বা ২৩৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল এবং ঘণ্টায় প্রায় ছয় কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিমে অগ্রসর হচ্ছিল।

এনএইচসি পরিচালক মাইকেল ব্রেনান সতর্ক করে বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ব্যাপক ভূমিধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে। আপনারা কেউ ঘরের বাইরে যাবেন না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, মেলিসার গতিবেগ শিগগিরই বাড়বে এবং ঝড়ের চোখ দ্রুত গতিতে দ্বীপজুড়ে অগ্রসর হবে। ঝড়ের চোখ আপনার এলাকায় এসে গেলে কেউ বাইরে বের হবেন না।

এনএইচসি জানিয়েছে, আঘাত হানার পর পরবর্তী চার দিন জ্যামাইকার কিছু এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এনএইচসি’র উপপরিচালক জেমি রোম বলেছেন, মূলত মেলিসার ধীরগতির কারণে এ অতিবৃষ্টির সম্ভাবনা জ্যামাইকার জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

জ্যামাইকান সরকার রাজধানী কিংস্টনের কিছু অংশ থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যামাইকার শিক্ষামন্ত্রী ডানা মরিস ডিক্সন বলেন, এমন ঝড় যা আমরা আগে কখনও দেখিনি, যেটি আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আঘাত হানতে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অক্টোবর জুড়ে বৃষ্টি হয়েছে, তাই মাটি এখনও ভেজা। এরপর আবার টানা ও ভারি বৃষ্টি হলে অবশ্যই ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধ্বস হতে পারে।

মন্ত্রী আরও জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটিতে ৮৮১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেগুলো সব জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

মার্কিন জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের একজন মুখপাত্র সিবিএসকে জানিয়েছেন, একটি হারিকেন হান্টার বিমান, যা তীব্র ঝড়ের তথ্য সংগ্রহ করে এবং ঘূর্ণিঝড়ের পথ আর তীব্রতা সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়, তীব্র অস্থিরতার সম্মুখীন হওয়ার পর একটি অভিযান বাতিল করতে বাধ্য হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের একজন মুখপাত্র সিবিএসকে জানিয়েছেন, ঝড়ের গতি ও তীব্রতার পূর্বাভাসের জন্য ঝড়ের মধ্যে যাওয়ার জন্য হারিকেন হান্টার বিমান প্রস্তুত করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়েছে।

লন্ডনে বসবাসরত ইভাডনি ক্যাম্পবেল বর্তমানে জ্যামাইকার উত্তর উপকূলে পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে গেছেন। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমি যে ঘরে আছি সেটি পুরোপুরি ঝড় প্রতিরোধী। নিচ থেকে উপর পর্যন্ত ইট, রড আর কংক্রিট দিয়ে বানানো। আমরা প্রতিবেশী লোকজনেরও খোঁজ নিচ্ছি তারা ঠিক আছে কি-না।’

তিনি আরও বলেন, আমি দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলের মানুষদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। অনেকে ঘর ছাড়তে চান না, কারণ তারা ভয় পাচ্ছেন ঘরে চুরি বা লুটপাট হতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্বের পাহাড়ি শহর হ্যাগলি গ্যাপের ৪৭ বছর বয়সী শিক্ষক ড্যামিয়ান অ্যান্ডারসন বলেন, রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে, আমরা কোথাও যেতে পারছি না। সবাই আতঙ্কে আছি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস দ্বীপজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া বার্তায় তিনি লিখেছেন, সব জ্যামাইকানকে অনুরোধ করছি প্রস্তুত থাকুন, ঝড় চলাকালে ঘরে থাকুন এবং সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মানুন। আমরা এই ঝড় মোকাবিলায় আরও শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াব।

সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমার ধারণা এই অঞ্চলের কোনো বাড়িঘরই ক্যাটাগরি ফাইভ এর ঘূর্ণিঝড় সামাল দিতে পারবে না। তাই বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

কিছু গ্রামীণ এলাকায় দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে স্কুলবাস ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

হাইতিতে মেলিসার প্রভাবে হিস্পানিওলা দ্বীপে মুষলধারে বৃষ্টিপাতের ফলে কমপক্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

হিস্পানিওলার পূর্ব দিকে অবস্থিত ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, ৭৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি বানের পানিতে ভেসে গিয়ে তার মৃত্যু হয়।

এছাড়াও সমুদ্রে সাঁতার কাটার সময় প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির কারণে গাড়িতে আটকা পড়া বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত ৮, আহত ৩৪

Published

on

By

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে এ হামলা হয়। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর টকাচেঙ্কো জানান, হামলায় রাজধানীর অন্তত তিন ডজন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি বিস্তারিত তথ্য দেননি।

অন্যদিকে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে জানান, আহতের সংখ্যা অন্তত ৩৪ জন। তিনি বলেন, সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি আবাসিক ভবনের প্রথম থেকে ষষ্ঠ তলা ধসে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, একটি ৯ তলা আবাসিক ভবনে কয়েকজন বাসিন্দা আটকা পড়েছেন এবং আরেকটি বহুতল ভবনের ছাদে আগুন লেগেছে।

ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এ হামলায় কিয়েভের ডিনিপ্রো নদীর দুই তীরজুড়ে থাকা ১০টি প্রশাসনিক জেলার সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হামলার সতর্কতা জারির পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আহ্বানে বহু বাসিন্দা মেট্রো স্টেশনসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন।

Continue Reading

top1

দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা শেষ, পরবর্তী বৈঠক খামেনির দাফনের পর

Published

on

By

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যকার দুদিনব্যাপী পরোক্ষ আলোচনা সমাপ্ত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় আলোচনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উভয় পক্ষ। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারিত হবে, যা ৯ জুলাইয়ের আগে হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে কাতার।

বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে দোহা বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ মোহাম্মদ আল-আনসারি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দুদিনব্যাপী চলা এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালি সংকট এবং ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের বিষয়গুলো সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সব বিষয়ে চূড়ান্ত সমাধান না আসায় দুপক্ষই আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) জানিয়েছে, স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও পরামর্শ চালিয়ে যাবেন। খুব শিগগিরই পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ৯ জুলাইয়ের আগে নতুন বৈঠক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা জানান, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই কেবল পরবর্তী বৈঠকের দিনক্ষণ জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাতের একেবারে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। কিন্তু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এতদিনেও তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি তেহরান।

Continue Reading

top1

বাংলাদেশে উগ্রবাদী শক্তির কোনো জায়গা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Published

on

By

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের কোনো জায়গা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, এ ধরনের শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে তাদের কখনোই সুযোগ দেওয়া হবে না।

১০ বছর আগে রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে বুধবার এক অনুষ্ঠানে এ একথা বলেন তিনি। ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর বাসভবনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক, ধর্মীয়, আদর্শিক বা অন্য কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে কখনো ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সর্বক্ষেত্রে মোকাবিলায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে কূটনৈতিক কোরের ডিন ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস. ওয়াই. রমাদান, ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান আলবার্ট সিয়া এবং বাংলাদেশ পুলিশের একজন প্রতিনিধি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসের কনস্যুলার শাখার প্রধান লরা স্কেলা অনুষ্ঠানের সূচনা করেন এবং নিহতদের নাম পাঠ করেন। পরে তাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। নিহতদের স্মরণে উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতাও পালন করেন।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত প্রায় পৌনে ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি ও গ্রেনেড নিয়ে ভয়াবহ হামলা চালায় পাঁচ জঙ্গি। হামলাকারীরা ছিলেন মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, খায়রুল ইসলাম পায়েল এবং শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল।

প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী জিম্মি সংকট চলাকালে হামলাকারীরা ২০ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন নয়জন ইতালীয় নাগরিক, সাতজন জাপানি নাগরিক, একজন ভারতীয় এবং তিনজন বাংলাদেশি।

জিম্মিদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির সময় জঙ্গিদের ছোড়া বোমার বিস্ফোরণে নিহত হন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন খান।

পরদিন ভোরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’-এর মাধ্যমে জিম্মি সংকটের অবসান ঘটে। অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয় এবং ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এ জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘দশ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই রাতের ক্ষত এখনো আমাদের জাতীয় চেতনা থেকে মুছে যায়নি। ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ছায়া আজও আমাদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে। এটি আমাদের জাতির ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়।’

নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হামলাটি ছিল আশা, মানবতা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের অভিন্ন মূল্যবোধকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা। বাংলাদেশি নাগরিক এবং ভারত, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ আমরা তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমরা শুধু তাদের স্মৃতিকেই নয়, তাদের সাহস, দৃঢ়তা ও সংহতিকেও সম্মান জানাই।’

ওই হামলাকে মানবতার ওপর নির্মম আঘাত হিসেবে বর্ণনা করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের প্রাণবন্ত, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে ভয়, ঘৃণা ও বিভাজন সৃষ্টি করার পরিকল্পিত চেষ্টা। কিন্তু এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখেও বাংলাদেশ অসাধারণ দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি এবং অভিন্ন মূল্যবোধ রক্ষায় সম্মিলিত সতর্কতার গুরুত্ব আজও স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই দিনের বেদনাদায়ক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি ও সম্মিলিত সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ‘নৃশংস ওই সন্ত্রাসবাদ বাংলাদেশে থাকা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর বড় রকমের প্রভাব ফেলেছিল। ওই সন্ত্রাসী হামলা ২৪ জন নিরপরাধ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। যারা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন।’

তিনি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন।

Continue Reading

Trending