Connect with us

top1

বিরোধী মত দমনে আইনটি যেন ব্যবহার না হয়: বিরোধী দল

Published

on

জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। এ বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে বিরোধী দলের সদস্যরা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে এক দলের বিরুদ্ধে আরেক দল অপপ্রচার চালানো, ব্যক্তির চরিত্রহনন বন্ধের দাবি করেন। এ ছাড়া সাইবার স্পেসে নারীদের জন্য সুরক্ষা বিষয়ে সরকারের মনোযোগের দাবি জানানোর পাশাপাশি এ আইন যাতে বিরোধী মত দমনের ব্যবহার না করা হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার দাবি তোলা হয়।

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল পাসের জন্য সংসদে তোলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিদ্যমান আইনের ২০ ধারাটি বিলুপ্ত করতে সংশোধনী বিল পাস করা হয়। এ ধারায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার বিষয়ে অপরাধ ও দণ্ডের বিধান আছে। আজই জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন করতে বিল পাস করা হয়। সেখানে অনলাইন জুয়ার বিস্তারিত সংজ্ঞা ও দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তাই সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে এ সংক্রান্ত ধারাটি বাদ দেওয়া হচ্ছে।

সাইবার স্পেসে নারীর সুরক্ষার বিষয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি, পাবলিক ফিগার, নোন ফেস তাদের প্রতিনিয়ত সাইবার নিপীড়নের শিকার হচ্ছি, সাইবার বুলিংসহ নানা রকমের সাইবার অপরাধের শিকার হতে হয়।

তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির বিষয়ে তিনি বলেন, অস্বীকার করার উপায় আমরা এখন এআই জগতে আছি। অস্বীকার করার উপায় নেই, কোনটা ভুয়া, কোনটা সঠিক। শিক্ষিত সমাজের অনেকেও বের করতে হিমশিম খেয়ে যায়। সে রকম প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গ্রামের প্রতিটি মানুষের হাতে যখন স্মার্ট ফোন, ফেসবুক তখন বিশেষ করে নারীরা এবং পরিচিত নারীরা— যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বা মিডিয়াজগতের সঙ্গে যুক্ত তাদের সাইবার স্পেসটি প্রতিদিনই আরেকটু আরেকটু করে কঠিন হয়ে যায়। আমি আশা করবো নারীদের জন্য একটা নিরাপদ সাইবার স্পেস রাখতে পারি, তৈরি করতে পারি, সেই ব্যাপারে সরকার মনোযোগী হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ থাকবে, নারীরা যে দলেরই কর্মীরা হোক, যে দলের সমর্থক হোক না তাদের নিপীড়ন করা আপাতত..বিরোধী মতের কর্মীদের নিপীড়ন আপাতত আনন্দদায়ক হতে পারে কিন্তু সেটা বুমেরাং হবে।

সাইবার সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার হবে না সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য জনমত যাচাইয়ের আলোচনায় বলেন শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা যখন সরকারের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেছে, তখন সাইবার আইন দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। এই আইনে রাজনৈতিক নেতাদেরও হয়রানি করা হয়। নতুন আইনটি যাতে শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয় সে জন্য জনমত যাচাইয়ের দাবি করেন তিনি। শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, সাইবার অপরাধের নামে দিবারাত্রী পুলিশ গ্রেপ্তার করতো।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম বলেন, যোগাযোগ, ব্যবসা ও বিনোদনসহ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্র এখন অনলাইন ও সাইবার স্পেসের ওপর নির্ভরশীল। তবে ডিজিটাল অগ্রগতির সঙ্গে হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইল, ভুয়া তথ্য ছড়ানো, আর্থিক জালিয়াতি ও অনলাইন হয়রানিও বেড়েছে। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো সুরক্ষিত করা দরকার। তবে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগে সতর্কতা থাকতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারও রক্ষা পায়।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধ, এআইয়ের অপব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো ও বিভ্রান্তি তৈরির মতো অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োজন। তবে এই আইন যেন বাকস্বাধীনতা খর্ব করার পরিবেশ তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা পক্ষ অনেক সময় প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে এ ধরনের আইন ব্যবহার করে। তাই ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করেই আইন সংশোধন করা উচিত।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আইন আরও কঠোর করার দাবি জানান। তিনি বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে এক দলের বিরুদ্ধে আরেক দল অপপ্রচার চালাচ্ছে, ব্যক্তির চরিত্রহনন করা হচ্ছে। যারা এসব করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে চরিত্রহনন, অপতথ্য, গুজব, মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার বিষয়ে সরকার আলাদা উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এ বিষয়ে পরে প্রয়োজনীয় সংশোধনী বা বিল আনা হবে।

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনটি সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তার জন্য। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে সবাই শঙ্কিত। আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন মূল বিষয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা

Published

on

By

বাজেট ঘাটতি মেটাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহের চিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। এ সময়ে সরকার প্রায় পুরোপুরি ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে ৮৪ শতাংশের বেশি ঋণ নিয়েছে। বিপরীতে জাতীয় সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যাংক খাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের প্রকাশিত ‘মাসিক প্রতিবেদন অন গভর্নমেন্ট ডোমেস্টিক বোরোয়িং-এপ্রিল ২০২৬’ অনুযায়ী, গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে সরকারের মোট নিট অভ্যন্তরীণ ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, যা পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যের ৮৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৮১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সরকারের এ ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এবং ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রথম ১০ মাসেই ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে। অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সংগ্রহ লক্ষ্যের অনেক নিচে রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই-এপ্রিল সময়ে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, সরকারি ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণ হয়েছে মাত্র ৭৬৮ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ৩১ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এ খাত থেকে ঋণ সংগ্রহ প্রায় পুরোপুরি কমে গেছে।

প্রতিবেদন বলছে, জাতীয় সঞ্চয়পত্রে সরকারের নিট ঋণ ঋণাত্মক হওয়াই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। জুলাই-এপ্রিল সময়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৭৫ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। একই সময়ে মেয়াদপূর্তিসহ বিভিন্ন কারণে পরিশোধ করতে হয়েছে ৭৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। ফলে সরকারকে নিট ৪২৯ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিট পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা।

শুধু এপ্রিল মাসের হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যায়। ওই মাসে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৫ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা ঋণ নিলেও পরিশোধ করেছে ৩০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। ফলে মাস শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের নিট পরিশোধ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকার ১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা নিট ঋণ সংগ্রহ করেছে।

প্রতিবেদনে শরিয়াহভিত্তিক সরকারি অর্থায়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট বন্ড (বিজিআইআইবি)-এর নিট স্থিতি জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৬ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক (বিজিআইএস)-এর স্থিতি এপ্রিল শেষে বেড়ে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সরকারি সিকিউরিটিজ—বিশেষ করে ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ড-ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বাড়ায় ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ ঋণের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

এ বিষয়ে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ কালবেলাকে বলেন, বর্তমানে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে এ ঋণ আরও বাড়ার পাশাপাশি সুদ পরিশোধের চাপও বৃদ্ধি পাবে, যা বাজেটের একটি বড় অংশ গ্রাস করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের ঋণগ্রহণ অনেকাংশেই স্বাভাবিক এবং অনেক ক্ষেত্রে অনিবার্য। তবে এ ঋণ যেন দীর্ঘমেয়াদে দেশকে ঋণের ফাঁদে না ফেলে, সেটিই হওয়া উচিত। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কারণে সরকারকে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। কিন্তু এ পরিস্থিতি থেকে টেকসইভাবে উত্তরণের জন্য দেশের নিজস্ব সম্পদ আহরণের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এজন্য রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কঠোর ব্যয়-সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করতে হবে। স্বল্পমেয়াদে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে ঋণনির্ভরতা হ্রাস এবং কর-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ জোরদার করা প্রয়োজন।

Continue Reading

top1

২০৩০ সালের মধ্যে সড়কে মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের

Published

on

By

২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মদশকের (২০২১-৩০) বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। 

তিনি জানান, সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে মহাসড়কে লক্ষ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবন্ধ।

সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। তিনি সকল সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় ‘সড়ক নিরাপত্তায় বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় জোরদার: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা সফলভাবে কমিয়ে আনা দেশগুলোর সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টে মন্ত্রী যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্র: বাসস

Continue Reading

top1

হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া নিয়ে সুখবর

Published

on

By

আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র হজযাত্রীদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৩৭ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

জামায়াতকে টেক্কা দিয়ে ‘প্রকৃত বিরোধী দল’ হওয়ার চেষ্টায় কয়েকটি দল

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০২৭ সালের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Continue Reading

Trending