Connect with us

top3

জুম্মা মোবারক:সূরা আল-কাহফ এর বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন

Published

on

সূরা আল-কাহফের পটভূমি
সূরা আল-কাহফ কুরআনের ১৮তম সূরা এবং এটি মক্কায় অবতীর্ণ মক্কী সূরা। এটি মোট ১১০ আয়াতের সমন্বয়ে গঠিত। সূরাটি মূলত বিশ্বাসীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় ইমানকে দৃঢ় করার জন্য নাজিল হয়। নবী মুহাম্মদ (সা.) যখন মক্কায় দুনিয়াবিদের মুশরিকদের সঙ্গে মোকাবিলা করছিলেন, তখন অনেক ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও সংশয় সৃষ্টি হয়। আল্লাহ তায়ালা ওই দশকে এই সূরা নাজিল করে মানুষের এ ধরণের দ্বিধা দূর করতে এবং সৎ পথ অনুসরণের জন্য পাঠ দেয়।

সূরার প্রধান গল্প ও শিক্ষা
সূরাটিতে প্রধান চারটি গল্প বর্ণিত হয়েছে:

  • কাহফের ছেলেদের গল্প: একদল নবীন যারা ঈমানের জন্য গুহায় আশ্রয় নেয় এবং বহু বছর ঘুমিয়ে থাকে, যা ধৈর্য, বিশ্বাস ও আল্লাহর সাহায্যের প্রতীক।
  • দুই বাগানের মালিকের গল্প: একজন ধনী ব্যক্তি তার সম্পদ নিয়ে অহংকারী ছিল, শেষমেষ তার সবকিছু ধূলিসাৎ হয়, যা পার্থিব জীবনের অনিশ্চয়তা ও পরকালের গুরুত্ব তুলে ধরে।
  • মোসা আলে ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলেহি ওয়াসাল্লামের যাত্রা: খেদরের সঙ্গে তার সাক্ষাতের মাধ্যমে জানানো হয় যে আল্লাহর শিক্ষা ও পরিকল্পনা মানুষের বোধগম্যতার বাইরে।
  • জুলকর্ণাইন এর গল্প: এক আদর্শ শাসকের গল্প, যিনি ন্যায়ের পথে সমাজের নিরাপত্তা ও কল্যাণ মূলক কাজ করেন।

শেখার বিষয়

  • ঈমানকে দৃঢ় রাখা উচিৎ, বিশেষ করে জীবনের কঠিন মুহূর্তে।
  • দুনিয়ার সম্পদ অস্থায়ী, তাই পরকালের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
  • আল্লাহর পরিকল্পনা সবসময় আমাদের বোধের বাইরে, তাই তাঁর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
  • ধৈর্য ও কষ্টসহিষ্ণুতা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষার অংশ।
  • জ্ঞান এবং অনুসন্ধান মাথাব্যথার কারণ নয়, বরং আল্লাহর রহস্য বোঝার চেষ্টা করা উচিত।

সূরা আল-কাহফের গুরুত্ব ও প্র্যাকটিস

  • মুসলিমরা প্রতি শুক্রবার রাতে সূরা আল-কাহফ পড়ার গুরুত্ব দেন, যা সাপ্তাহিক প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করে।
  • এটি মুমিনের জীবনে আলোর কাজ করে, অন্ধকার ও মিথ্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
  • সূরার ১৮তম আয়াত বিশেষভাবে কুরআনে ‘নূরের আয়াত’ নামে পরিচিত, যা আলোর প্রতীক হিসেবে সুপরিচিত।
  • দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর আদেশ ও সিদ্ধান্ত মেনে চলার অনুপ্রেরণা দেয়।


সূরা আল-কাহফ আমাদের জীবনের পরীক্ষার সময়ে আল্লাহর সাহায্য, ধৈর্য্য ও স্থিরতার শিক্ষা দেয়। এটি পার্থিব জীবনের অসারতা ও পরকালের গুরুত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয়। প্রতিনিয়ত এই সূরার শিক্ষা গ্রহণ করলে, একজন মুসলিম তার ইমানকে শক্তিশালী করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

শাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতা ৪ সেমিস্টার বহিস্কার

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের খাবারের মান নিয়ে কথা বলায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের দুই নেতাকে ( সদ্য বহিষ্কৃত) ৪ সেমিস্টার বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে বহিষ্কৃত এ দুই ছাত্রনেতা আগামী দুই বছর ক্যাম্পাসে অবস্থান ও প্রবেশ করতে পারবেনা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন- পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও পরিসংখ্যার বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত অফিস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় আজ জরুরী সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের দুই নেতাকে ৪ সেমিস্টার বহিষ্কার ও আগামী দুই বছরের জন্য ক্যাম্পাস অবস্থান ও প্রবেশ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” “একইসঙ্গে তাদের আবাসিক হলের সিট বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া এক সিন্ডিকেট সদস্য জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

top3

শিক্ষার্থী আন্দোলনে বাড়ছে চাপ, মোদি সরকারের জন্য সতর্কবার্তা দেখছেন বিশ্লেষকেরা

Published

on

By

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন শিক্ষা খাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও সরকারের জবাবদিহিতার প্রশ্নে বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে পরিচিত এই নাগরিক উদ্যোগের আন্দোলন ক্রমেই রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত বিবিসি বাংলার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্দোলনটি শুধু শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং দেশের তরুণদের বিস্তৃত অসন্তোষের প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।

সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভ ঘিরে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও সড়ক বন্ধ রাখা হলেও আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যান। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলেও তাদের পুরোপুরি ছত্রভঙ্গ করা সম্ভব হয়নি।

প্রায় এক মাস ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সিজেপি। নামের সঙ্গে ‘পার্টি’ থাকলেও এটি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়; বরং একটি নাগরিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এতদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা হলেও সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তাদের বাস্তব জনসমর্থনের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

স্বাধীন সাংবাদিক স্মিতা শর্মার ভাষ্য, আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণরা সরকারকে জানিয়ে দিয়েছেন যে শিক্ষা সংকটের পাশাপাশি বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের উদ্বেগকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সোমবার সংসদ ভবন অভিমুখে মিছিলের ডাক দেয় সিজেপি। আন্দোলনের শুরুতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সরকার আলোচনার জন্য তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা জানান, আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরাই। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে এবং তারা লিখিত স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলন প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

তবে এখন পর্যন্ত আন্দোলনের মূল দাবিগুলো মেনে নেওয়ার কোনো ঘোষণা দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। সিজেপিও জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদবের মতে, এটি কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের আন্দোলন নয়; বরং নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবির বহিঃপ্রকাশ।

স্মিতা শর্মা বলেন, ইন্টারনেট ও যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও বিপুলসংখ্যক তরুণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আন্দোলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি এই আন্দোলনের বার্তাকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে জনঅসন্তোষ আরও তীব্র হতে পারে। প্রবীণ সাংবাদিক হেমন্ত আত্রিরও একই মত। তার ভাষ্য, এই আন্দোলন আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে গণতন্ত্রে জনগণের প্রত্যাশাকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা যায় না এবং শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি এখন তরুণদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়।

বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সিজেপির আন্দোলন তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের নীতিতে পরিবর্তন আনতে না পারলেও ভারতের তরুণ সমাজের অসন্তোষকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সে কারণে অনেক বিশ্লেষকই এটিকে মোদি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।

Continue Reading

top3

সুষ্টু বিচার নিয়ে শঙ্কা, তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলনে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
হলের খাবারের মান নিয়ে মন্তব্য করার জেরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িত ছাত্রদলের (সদ্য বহিষ্কৃত) দুই নেতার শাস্তির দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এসময় তার হুঁসিয়ারি করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবো।      

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে একাডেমিক ভবন ‘ডি’ এক্সটেনশন প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীদের “খাইরুলের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই”, “সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান, এক হও এক হও”, “অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন”, “জাস্টিস, জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস”, “জাস্টিস ফর খাইরুল”, “লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে”, এবং “সন্ত্রাসীর দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে” ইত্যাদি নানান স্লোগান দিতে শোনা যায়।   

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা প্রক্টরকে বলেন, গতকাল রাত থেকেই অভিযুক্ত তারেক রহমানের বিভাগের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে বিভিন্ন বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহানুভূতি অর্জনের উদ্দেশ্যে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ড যেন তদন্ত কমিটিকে কোনোভাবেই প্রভাবিত না করে। তারা হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ভুক্তভোগীর ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।                

তখন প্রক্টর শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আজকে প্রতিবেদন জমা দিবেন। আগামীকাল সিন্ডিকেট ডেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কারো কোন কার্যক্রমে তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত হবে না।’’
তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলামকে একাধিকবার কল দিলেও সাড়া মিলনি।

Continue Reading

Trending