Connect with us

top1

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে আজ বসছে উপদেষ্টা পরিষদ

Published

on

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজ উদ্যোগে সমঝোতায় পৌঁছানোর সময়সীমা কার্যত গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। এ সময়ে সমঝোতার বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। দেখা যায়নি দলগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগও। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিএনপি এতে সাড়া দেয়নি। দলটি জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল নয়, সরকার ডাকলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নবিষয়ক পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে আজ মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকে সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিশেষ করে গণভোট, উচ্চকক্ষে পিআর এবং নতুন সংসদের ২৭০ দিনের মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বিএনপিসহ সমমনাদের দাবি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে হবে। তারা ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ করা জাতীয় সংসদে নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠনেরও বিরুদ্ধে। দলটির দাবি বিদ্যমান সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের আদলে উচ্চকক্ষ গঠিত হতে হবে। এজন্য বিএনপি কমিশনের এই সুপারিশসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্টও দিয়েছে। তবে ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সুপারিশে নোট অব ডিসেন্টগুলোকে আমলে নেয়নি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটদলীয় জোট চায় সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট হতে হবে। উচ্চকক্ষের পিআর ইস্যুতেও এ দলগুলোর অবস্থান বিএনপির সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা চায় প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে পিআর হবে। দুদলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ হলে তাদের বিরোধ আরো প্রকট হয়ে ওঠে। এ সুপারিশকে বিএনপি প্রতারণা বলে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও ওই আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এ দাবিতে তারা আজ ঢাকায় জনসভার ডাক দিয়েছে। এ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা হবে বলে দলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও গণভোট নিয়ে মতবিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ বিশেষ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দলগুলোকে স্বউদ্যোগে সমঝোতায় পৌঁছতে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে দলগুলো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে সরকার তার মতো করে সিদ্ধান্ত জানাবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। এ হিসাবে গতকালই এক প্রকার সময় শেষ হয়েছে।

তবে এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা বা সমঝোতার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। অবশ্য জামায়াত সরকারের এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে দলের দুই নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই কমিটির সদস্য দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ৬ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে টেলিফোন করেন।

ওইদিন রাতেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের দিনক্ষণ নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জামায়াতের আলোচনায় বসার আহ্বান সঠিক পন্থা নয়। আলোচনার জন্য সরকারে কোনো উদ্যোগ নিলে তারা সাড়া দেবে বলেও স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সিদ্ধান্ত বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর দলগুলোর মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ আমার দেশকে বলেন, বিএনপি আমাদের আলোচনার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। তারা আমাদের সঙ্গে বসতে চাচ্ছে না। বিএনপি ডাকলেও আমরা বসতে রাজি। বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি হলে অন্যান্য দলগুলোও সাড়া দিত বলে দাবি করেন আযাদ।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া সময় শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বসছে। অবশ্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, এটি কোনো বিশেষ বৈঠক নয়। অনানুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা তার পরিষদের সিনিয়র সদস্যদের নিয়ে যমুনায় আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় বৃহস্পতিবারের নিয়মিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের এজেন্ডা চূড়ান্তকরণসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। তারই অংশ হিসেবে আজকের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, মঙ্গলবারের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও সাধারণত অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফওজুল কবীর এবং পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা তার পরিষদের অন্য উপদেষ্টাদের ডাকবেন বলে জানা গেছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, আজকের বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকের এজেন্ডাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যার পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা পরিষদেরে বৃহস্পতিবারের নিয়মিত বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সরকারের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোটের বিষয়টি বেশি ঝুলিয়ে রাখতে চাচ্ছে না। সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে আগামী ১৫ নভেম্বর সরকারের তরফ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

শিগগিরই সরকার সিদ্ধান্ত জানাবে : উপদেষ্টা রিজওয়ানা

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আলোচনার জন্য সরকার থেকে দেওয়া সাতদিনের সময়সীমা শেষ হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নেই। জুলাই সনদ ও গণভোট বিষয়ে সরকার শিগগির সিদ্ধান্ত জানাবে।

জাতীয় নির্বাচন আর গণভোট একসঙ্গে করা বা আগে করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা রিজওয়ানা বলেন, সরকার একসঙ্গে বসে সামষ্টিকভাবে এই সিদ্ধান্তটা নেবে। আপনাদের খুব দ্রুতই এটা আমরা জানিয়ে দেব।

নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো যৌক্তিকতা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত দেওয়ার আমার কোনো সুযোগই নেই। সরকারের অংশ হিসেবে আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। সরকার যখন বসবে এ বিষয়ে আলোচনা করবে। আলোচনা করে যখন সিদ্ধান্ত হবে তখন সেটা আপনারা জানবেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার

Published

on

By

স্পোর্টস ডেস্ক

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমার জুনিয়রকে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না করেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড। দীর্ঘ ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) কোপা সুদামেরিকানায় ভেনেজুয়েলার ক্লাব ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলের জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অবসরের ঘোষণা দেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।

জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে নেইমার বলেন, “জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, অনেক ভালো মুহূর্ত পেয়েছি। হলুদ জার্সির জন্য নিজের রক্ত, জীবন—সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখন আর চালিয়ে যেতে চাই না।”

২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের সিনিয়র দলে অভিষেক হয় নেইমারের। জাতীয় দলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৯ অ্যাসিস্ট করে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করলেন তিনি।

বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের আক্ষেপ নিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের হারের পর থেকেই তার অবসর নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। সেই ম্যাচ শেষে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন নেইমার। ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইকুয়েডরের মাকারা।

এদিকে সম্প্রতি সতীর্থদের অপমান করার অভিযোগও নাকচ করেছেন নেইমার। তার দাবি, ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হিসেবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেছিলেন। তবে সেই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

top1

দেশের সব দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা

Published

on

By

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত সব ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একদল গবেষকের গবেষণায় পরীক্ষা করা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব মিলেছে। গবেষকদের মতে, বিশেষ করে ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা এ দূষণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

‘Microplastics Contamination of Milk and Milk Products in Bangladesh: Characterization, Dietary Exposure and Risk Assessment’ শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালনা করেন সানাউল্লাহ মাজুমদারের নেতৃত্বে যবিপ্রবির পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের গবেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৩–২৪ অর্থবছরের গবেষণা অনুদানে পরিচালিত এ গবেষণাকে দেশে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে প্রথম বিস্তৃত গবেষণা বলে দাবি করা হয়েছে।

গবেষণার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও সুপারশপ থেকে ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১৭টি কাঁচা দুধ, ১২টি ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ এবং ১২টি অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য। মাইক্রোস্কোপ ও এফটিআইআর প্রযুক্তিতে পরীক্ষার পর প্রতিটি নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁচা দুধের তুলনায় প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডের দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ মিলিলিটার ব্র্যান্ডের দুধে গড়ে ১৫৬.৬টি, কাঁচা দুধে ৯৩.৩৯টি এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যে ৭০.৮০টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং কারখানার যন্ত্রপাতি ও পাইপলাইনের সংস্পর্শে এসে এসব প্লাস্টিক কণা দুধে মিশে যেতে পারে।

পরীক্ষায় পাওয়া অধিকাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল স্বচ্ছ, আঁশের মতো এবং ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম আকারের। নমুনাগুলোতে পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন, পিডিএমএস এবং পলিস্টাইরিনসহ বিভিন্ন ধরনের পলিমার শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীরের ওজন কম এবং দুধের ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুগ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নতমানের ফিল্টার ব্যবহার এবং নিয়মিত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।

Continue Reading

top1

বিধবা নারীকে ধর্ষণ-গর্ভপাতের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা, অভিযুক্ত পলাতক

Published

on

By

স্টাফ রিপোর্টার

পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং পরে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী মামলাটি দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর ওই নারী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেই সময় থেকে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের বোনের বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গত ২৪ মার্চ পটুয়াখালী শহরের শেরেবাংলা সড়কের একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ভয়ভীতি দেখিয়ে পরবর্তীতে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর গর্ভপাত করাতে চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হলে গত ১৮ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে সদর থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায়ের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Continue Reading

Trending