Connect with us

top1

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিজেপির ‘হিন্দুত্ববাদের’ থাবায় যেভাবে বিপন্ন ক্রিকেট

Published

on

১৯৯৩ সালের কথা। ‘ডর’ ও ‘বাজিগর’–এর মতো পরপর দুটি মেগাহিট সিনেমা দিয়ে বলিউডে এক কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন এক উদীয়মান তারকা। তিনিই প্রথম দর্শকদের কাছে ‘অ্যান্টি-হিরো’ বা খলনায়ক চরিত্রের নতুন এক ধারণা নিয়ে আসেন। এর ঠিক ৩৩ বছর পর, সেই ঘটনার জেরেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কৃত হতে হলো বাংলাদেশকে!

কথাগুলো পড়ে যদি আপনার কাছে অর্থহীন মনে হয়, তবে এই দুই ঘটনার পেছনের যোগসূত্র মেলাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। তবে এই গল্পের মূলে যে নতুন উদ্বেগজনক বাস্তবতা, তা হলো—বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কীভাবে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

গত ২ জানুয়ারি ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সংগীত সোম দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় মুসলিম ব্যক্তিত্ব শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করে বসেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) মালিক শাহরুখ। তার দলই মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল। 

মোস্তাফিজকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুমকি দিয়ে সংগীত সোম দাবি করেন, ভারতে শাহরুখের ‘বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই’। 

এর কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার ‘অনুরোধ’ করে। কারণ হিসেবে ‘চারপাশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলির’ মতো একটি অস্পষ্ট অজুহাত দাঁড় করায় তারা।

এমন ঘটনার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নিতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নির্দেশ দেন তিনি।

আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, ‘যদি একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে না পারেন… তাহলে পুরো বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের জন্য ভারতে ভ্রমণ করাটা নিরাপদ বোধ করতে পারে না।’

বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর আইসিসি কড়া ভাষায় বাংলাদেশের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। সংস্থাটি জানায়, এমন কিছু করা হলে তা ‘এমন এক নজির স্থাপন করবে, যা আইসিসির ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করবে এবং বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’ 

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই সরিয়ে দিয়ে আইসিসি বাংলাদেশের বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করে।

এরপর, আইসিসির এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি আইসিসির এই পদক্ষেপকে ‘দ্বৈত নীতি’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করেন। এর কয়েক দিন পরই পাকিস্তান সরকার তাদের ক্রিকেট দলকে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটি বয়কট করার নির্দেশ দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো, এই পুরো ঘটনার সঙ্গে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সম্পর্ক কোথায়?

শুরুতেই বলা যায়, শাহরুখ খান ও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে সংগীত সোমের দেওয়া হুমকি মূলত বিজেপির সেই পুরনো মুসলিমবিদ্বেষী কৌশলেরই অংশ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। 

সেখানকার স্থানীয় মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি শরণার্থী’ দাবি করে বহিষ্কারের ডাক দিচ্ছে বিজেপি, কট্টর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অংশ হিসেবেই এসব বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে তারা।

যদিও হিন্দুত্ববাদী বিজেপির লক্ষ্যবস্তুতে শাহরুখ খান এবারই প্রথম নন। কয়েক দশকের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে ভারতীয় সমাজে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ‘আইকন’ হিসেবে তাকে বারবার নিশানা করা হয়েছে।

তবে এবারে খোদ বিসিসিআই সরাসরি হস্তক্ষেপ করে মোস্তাফিজকে সরিয়ে নিতে কেকেআরকে ‘অনুরোধ’ জানায়। এই সিদ্ধান্তের আগে বিসিসিআইয়ের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের আলোচনা বা বিতর্ক হয়নি। 

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের একেবারে উচ্চপর্যায় থেকে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বোর্ডের সাধারণ সদস্য বা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গেও কোনো পরামর্শ করা হয়নি। বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা নিজেরাও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। কোনো আলোচনা হয়নি, আমাদের কোনো পরামর্শও নেওয়া হয়নি।’

কেকেআরের কাছে বিসিসিআইয়ের সেই অনুরোধটিও ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট। কেন বা কী কারণে এমন দাবি তোলা হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সেখানে ছিল না। আর এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়েই আইসিসি পরবর্তীতে বিসিবির নিরাপত্তা উদ্বেগের দাবিটি নাকচ করে দেওয়ার সুযোগ পায়।

ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিক শারদা উগ্রার মতে, এই ‘অস্পষ্টতা’ মূলত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক কর্মপদ্ধতির একটি কৌশলগত বৈশিষ্ট্য। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারতীয় দলকে কেন হাত মেলাতে নিষেধ করা হয়েছিল, তার কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব তিনি অনেক চেষ্টা করেও পাননি।

একইভাবে গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য ভারত কেন পাকিস্তান সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানাল, তারও কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত নির্দেশনা নেই। শারদা বলেন, ‘বিদেশ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র দপ্তর কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়—কোথাও কোনো স্পষ্ট বিবৃতি বা নির্দেশনা নেই। কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়াই সবকিছু ঘটছে।’

মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। শারদা বলেন, ‘কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কোনো প্রমাণ নেই। এমন কোনো কাগজ নেই যেখানে লেখা আছে যে এই ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না কিংবা তিনি বিপদে আছেন। সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতাও নেই। পুরোটাই ঘটেছে শুধুমাত্র ফিসফাস আর গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে।’

বিসিসিআই যদি ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে আইসিসিও তার থেকে আলাদা কিছু নয়। আইসিসির বর্তমান প্রধান জয় শাহ স্বয়ং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে—যিনি নরেন্দ্র মোদির পর ভারতের বর্তমান শাসনব্যবস্থার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। 

বিশেষ করে, পাকিস্তানের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচগুলো ভারতের আপত্তির মুখে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যারা হাসিমুখে মেনে নিয়েছিল, তাদের মুখে নিরপেক্ষতার বুলি এখন উপহাসের মতোই শোনায়।

গার্ডিয়ান-এর সাংবাদিক তাহা হাশিম লিখেছেন, ‘ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর পবিত্রতা রক্ষার দাবিটি আইসিসির জন্য একটি ‘কমেডি’। কারণ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে তাদের হাইব্রিড মডেলের সিদ্ধান্তই একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে, যা আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোকে হাসির খোরাক বানিয়ে দিয়েছে।’

ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মধ্যে একমাত্র পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভিই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির এই আচরণকে ‘দ্বৈত নীতি’ ও ‘অবিচার’ হিসেবে অভিহিত করে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই সংকটে পাকিস্তানের মতো মিত্র পেলেও বাংলাদেশের বাস্তবতাকে একটু ভিন্নভাবে দেখছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক মোহাম্মদ ইসাম।

ইসামের মতে, তিন দিকে ভারতবেষ্টিত একটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ওপারের বাংলা ভাষাভাষীদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর। ফলে বাংলাদেশের সামনে বিকল্প পথগুলো সীমিত। তিনি মনে করেন, বর্তমান সংকটটি সরাসরি সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও আসন্ন নির্বাচনমুখী রাজনীতির ফল।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা ছিল, মোস্তাফিজের ঘটনার পর বিসিবি হয়তো একটি কূটনৈতিক অবস্থান নেবে। ইসাম বলেন, ‘বিসিবি একটি মধ্যমপন্থি বিবৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। কারণ, বর্তমান সরকারের জন্য ভারতের বিরোধিতা করা রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ভারতীয় ক্রিকেটই সব। 

বিসিবি আসলে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে না। কারণ, ভারতের একটি মাত্র সফর দিয়ে বিসিবির কয়েক বছরের খরচ চলে যায়।’ 

আর্থিক লোকসানের এই ভয়টাই হলো ভারতের সেই ‘লাঠি’, যা দিয়ে তারা বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের একচ্ছত্র দাপট বজায় রাখে। পাকিস্তান ক্রিকেট প্রায় দুই দশক ধরে ভারতীয় অর্থ ও সম্পর্কের বাইরে থেকে টিকে থাকার অভ্যাস করে নিলেও, অন্য ছোট বোর্ডগুলোর সেই সক্ষমতা বা সাহস নেই। এমনকি ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রভাবশালী বোর্ডগুলোও এই বিষয়ে আশ্চর্যরকম উদাসীন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির লেকচারার সুশান্ত সিং এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘সংখ্যাগুরুবাদী রাজনীতির বেদীতে বিসর্জন দেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে মোস্তাফিজই শেষ ব্যক্তি নন… এই তলোয়ার এখন প্রস্তুত এবং এর কার্যকারিতাও প্রমাণিত। আইসিসি, অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড কিংবা বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম—কারোরই এই ধারা থামানোর সদিচ্ছা নেই।’

এই স্রোত প্রতিরোধের উপায় কী? সুশান্ত সিং মনে করেন, ‘ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো যখন এমন পরিস্থিতির শিকার হবে, তখনই হয়তো কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আয়ের অংকের কথা চিন্তা করে এই অপমান মুখ বুজে সয়ে যাওয়াই হয়তো বোর্ডগুলোর নীতি হয়ে থাকবে।’

আইসিসি কিংবা ভারত বাদে অন্য দুই শক্তিশালী বোর্ড (ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) থেকে কোনো প্রতিবাদের আশা দেখছেন না শারদা উগ্রাও। তিনি গত ৩০ বছর ধরে ক্রিকেট কাভার করছেন। তার মতে, ‘আইসিসিকে এর আগে কখনো এতটা অসহায় ও ছন্নছাড়া মনে হয়নি। এটি এখন একটি নীতিহীন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। 

আর অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডগুলো বর্তমান ক্রিকেটের ‘বিগ ডন’ বিসিসিআইয়ের আজ্ঞাবহ সহযোগী ছাড়া আর কিছুই নয়। আইসিসিতে এখন কোনো যোগ্য বা পরিপক্ক নেতৃত্ব নেই।’

আইসিসির এই কথিত নেতৃত্বের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর। প্রতিটি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি আয় আসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে। পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই আইসিসি তড়িঘড়ি করে এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আশা করে পিসিবি আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে নেবে। 

বাংলাদেশের অনুরোধের ক্ষেত্রে আইসিসি যেমন কঠোর ছিল, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তাদের সুর ঠিক ততটাই নরম ও নমনীয়। স্পষ্টতই, বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় আইসিসি তাদের নীতি বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।

শারদা উগ্রা বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন ও বিসিসিআইয়ের ওপর বিজেপির নিয়ন্ত্রণ ক্রিকেটের বারোটা বাজাচ্ছে। বিসিসিআই এখন ক্রিকেট ভক্তদের চেয়ে ভারতের ‘ভোটের রাজনীতির’ মাঠকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’ 

ভারতের কোনো একটি রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার আঁচ গিয়ে পড়ছে ভিনদেশের খেলোয়াড় বা ক্রিকেট বোর্ডের ওপর, যা এই খেলার ভবিষ্যৎকেই পঙ্গু করে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন ভারতীয় বিশ্লেষক যেমনটি লিখেছেন, ‘কয়েকজন মানুষের খুশির জন্য আপনি যদি আপনার সবচেয়ে বড় ‘সফট পাওয়ার’ (ক্রিকেট) পুড়িয়ে ফেলেন, তবে এমনই হবে। মোস্তাফিজকে নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের জেরেই পাকিস্তানের এই বয়কটের সিদ্ধান্ত।’

দুর্ভাগ্যবশত, এই সংকটের কোনো সহজ সমাধান নেই। সুশান্ত সিং মনে করেন, এই খেলার ‘শেষ উইকেটটি’ কোনো প্রতিপক্ষ বোলারের ডেলিভারিতে পড়বে না; বরং এটি পড়বে ব্রডকাস্টারদের মামলা কিংবা বাণিজ্যিক চুক্তির পতনের মাধ্যমে। এর ফলে ক্রিকেট নৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক—সব দিক থেকেই দেউলিয়া হয়ে যাবে। এই পথ থেকে ফেরার একমাত্র উপায় হলো ‘জবাবদিহি’।

ততদিন পর্যন্ত ক্রিকেটের মাঠের নিষ্ঠুর বাস্তবতা এটাই যে, ভারতের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি প্রজাপতির ডানা ঝাপটানো অন্য দেশের ক্রিকেটের ভাগ্যে ঝড় ডেকে আনতে পারে।

সুত্র: টিবিএস

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

যমুনা সেতুতে ৪৮ঘন্টায় টোল আদায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা

Published

on

By

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যমুনা সেতু দিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় ৮২ হাজার ৬০১টি গাড়ি থেকে সাড়ে ৬ কোটি টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় এ টোল আদায় করা হয়।

রোববার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ৪৮ ঘন্টায় ৮২ হাজার ৬০১টি গাড়ি পারাপার হয়েছে। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা।

জানা গেছে, সোমবার বিকেল থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। মহাসড়কের গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইল এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সুবিধা পাচ্ছে যাত্রীরা। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার যানজটের আশঙ্কা করলেও এখন পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়নি।

এদিকে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৪৪৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা। অপরদিকে উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীত টোল আদায় এক কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা। একদিনে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।

যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৯ থেকে ১৮টি বুথ দিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। এছাড়া দুই পাড়ে মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক দুটি করে বুথ করা হয়েছে।

Continue Reading

top1

ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে নতুন করে হামলা

Published

on

By

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস চত্বরে নতুন করে হামলা হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স। দূতাবাসটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন’ এলাকায় অবস্থিত, যেখানে বহু কূটনৈতিক মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই মার্কিন ঘাঁটিটি বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করলেন আরাগচিইরান যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করলেন আরাগচি
এএফপি জানায়, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দূতাবাস চত্বর লক্ষ্য করে ছোড়া একটি রকেট প্রতিহত করেছে। প্রায় একই সময়ে, বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ড্রোনের আঘাতে আগুন লেগে যায়। এই এলাকাটিতে প্রায়ই বিদেশি কূটনীতিকরা যাতায়াত করেন।

মঙ্গলবার আলাদা আরেকটি ঘটনায়, আল-জাদিরিয়াহ মহল্লার একটি বাড়িতে হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি

Continue Reading

top1

অবশেষে প্রকাশ্যে নেতানিয়াহু

Published

on

By

কয়েকদিন আগে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এর পরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে তেহরান। এতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার খবরও প্রকাশ পায়।

এরই মধ্যে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হতে পারেন এমন ধারণা প্রকাশ করা হয়। এরপরই শুরু হয় নানান গুঞ্জন।

জল্পনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—নেতানিয়াহুর নতুন ভিডিও প্রকাশ না হওয়া, তার বাসভবনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং কিছু কূটনৈতিক সফর স্থগিত করা।

তবে জল্পনা শুরুর পর দুটি ভিডিও প্রকাশ করা হলেও তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। কেউ কেউ বলেন- ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি। এবার নতুন ভিডিও প্রকাশ করলেন নেতানিয়াহু।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) আওতাধীন আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ ফোর্সের’ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার দাবি করে তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, চিফ অফ স্টাফ, মোসাদের প্রধান, বিমান বাহিনীর প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকের একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি এখানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, আমাদের চিফ অফ স্টাফ, মোসাদের প্রধান, বিমান বাহিনীর প্রধান এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন কমান্ডারদের সঙ্গে আছি। গত ২৪ ঘণ্টায় আমরা এই স্বৈরাচারের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী নেতাকে নির্মূল করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিমানগুলো স্থলভাগে, চৌরাস্তায়, শহরের চত্বরে সন্ত্রাসীদের ওপর আঘাত হানছে। এর উদ্দেশ্য হলো ইরানের সাহসী জনগণকে অগ্নি উৎসব উদযাপনের সুযোগ করে দেওয়া।’

‘সুতরাং উদযাপন করুন এবং নওরোজের শুভেচ্ছা। আমরা উপর থেকে নজর রাখছি’, বলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী।

Continue Reading

Trending