Connect with us

top1

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিজেপির ‘হিন্দুত্ববাদের’ থাবায় যেভাবে বিপন্ন ক্রিকেট

Published

on

১৯৯৩ সালের কথা। ‘ডর’ ও ‘বাজিগর’–এর মতো পরপর দুটি মেগাহিট সিনেমা দিয়ে বলিউডে এক কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন এক উদীয়মান তারকা। তিনিই প্রথম দর্শকদের কাছে ‘অ্যান্টি-হিরো’ বা খলনায়ক চরিত্রের নতুন এক ধারণা নিয়ে আসেন। এর ঠিক ৩৩ বছর পর, সেই ঘটনার জেরেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কৃত হতে হলো বাংলাদেশকে!

কথাগুলো পড়ে যদি আপনার কাছে অর্থহীন মনে হয়, তবে এই দুই ঘটনার পেছনের যোগসূত্র মেলাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। তবে এই গল্পের মূলে যে নতুন উদ্বেগজনক বাস্তবতা, তা হলো—বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কীভাবে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

গত ২ জানুয়ারি ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সংগীত সোম দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় মুসলিম ব্যক্তিত্ব শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করে বসেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) মালিক শাহরুখ। তার দলই মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল। 

মোস্তাফিজকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুমকি দিয়ে সংগীত সোম দাবি করেন, ভারতে শাহরুখের ‘বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই’। 

এর কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার ‘অনুরোধ’ করে। কারণ হিসেবে ‘চারপাশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলির’ মতো একটি অস্পষ্ট অজুহাত দাঁড় করায় তারা।

এমন ঘটনার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নিতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নির্দেশ দেন তিনি।

আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, ‘যদি একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে না পারেন… তাহলে পুরো বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের জন্য ভারতে ভ্রমণ করাটা নিরাপদ বোধ করতে পারে না।’

বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর আইসিসি কড়া ভাষায় বাংলাদেশের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। সংস্থাটি জানায়, এমন কিছু করা হলে তা ‘এমন এক নজির স্থাপন করবে, যা আইসিসির ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করবে এবং বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’ 

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই সরিয়ে দিয়ে আইসিসি বাংলাদেশের বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করে।

এরপর, আইসিসির এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি আইসিসির এই পদক্ষেপকে ‘দ্বৈত নীতি’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করেন। এর কয়েক দিন পরই পাকিস্তান সরকার তাদের ক্রিকেট দলকে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটি বয়কট করার নির্দেশ দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো, এই পুরো ঘটনার সঙ্গে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সম্পর্ক কোথায়?

শুরুতেই বলা যায়, শাহরুখ খান ও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে সংগীত সোমের দেওয়া হুমকি মূলত বিজেপির সেই পুরনো মুসলিমবিদ্বেষী কৌশলেরই অংশ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। 

সেখানকার স্থানীয় মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি শরণার্থী’ দাবি করে বহিষ্কারের ডাক দিচ্ছে বিজেপি, কট্টর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অংশ হিসেবেই এসব বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে তারা।

যদিও হিন্দুত্ববাদী বিজেপির লক্ষ্যবস্তুতে শাহরুখ খান এবারই প্রথম নন। কয়েক দশকের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে ভারতীয় সমাজে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ‘আইকন’ হিসেবে তাকে বারবার নিশানা করা হয়েছে।

তবে এবারে খোদ বিসিসিআই সরাসরি হস্তক্ষেপ করে মোস্তাফিজকে সরিয়ে নিতে কেকেআরকে ‘অনুরোধ’ জানায়। এই সিদ্ধান্তের আগে বিসিসিআইয়ের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের আলোচনা বা বিতর্ক হয়নি। 

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের একেবারে উচ্চপর্যায় থেকে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বোর্ডের সাধারণ সদস্য বা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গেও কোনো পরামর্শ করা হয়নি। বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা নিজেরাও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। কোনো আলোচনা হয়নি, আমাদের কোনো পরামর্শও নেওয়া হয়নি।’

কেকেআরের কাছে বিসিসিআইয়ের সেই অনুরোধটিও ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট। কেন বা কী কারণে এমন দাবি তোলা হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সেখানে ছিল না। আর এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়েই আইসিসি পরবর্তীতে বিসিবির নিরাপত্তা উদ্বেগের দাবিটি নাকচ করে দেওয়ার সুযোগ পায়।

ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিক শারদা উগ্রার মতে, এই ‘অস্পষ্টতা’ মূলত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক কর্মপদ্ধতির একটি কৌশলগত বৈশিষ্ট্য। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারতীয় দলকে কেন হাত মেলাতে নিষেধ করা হয়েছিল, তার কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব তিনি অনেক চেষ্টা করেও পাননি।

একইভাবে গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য ভারত কেন পাকিস্তান সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানাল, তারও কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত নির্দেশনা নেই। শারদা বলেন, ‘বিদেশ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র দপ্তর কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়—কোথাও কোনো স্পষ্ট বিবৃতি বা নির্দেশনা নেই। কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়াই সবকিছু ঘটছে।’

মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। শারদা বলেন, ‘কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কোনো প্রমাণ নেই। এমন কোনো কাগজ নেই যেখানে লেখা আছে যে এই ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না কিংবা তিনি বিপদে আছেন। সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতাও নেই। পুরোটাই ঘটেছে শুধুমাত্র ফিসফাস আর গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে।’

বিসিসিআই যদি ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে আইসিসিও তার থেকে আলাদা কিছু নয়। আইসিসির বর্তমান প্রধান জয় শাহ স্বয়ং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে—যিনি নরেন্দ্র মোদির পর ভারতের বর্তমান শাসনব্যবস্থার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। 

বিশেষ করে, পাকিস্তানের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচগুলো ভারতের আপত্তির মুখে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যারা হাসিমুখে মেনে নিয়েছিল, তাদের মুখে নিরপেক্ষতার বুলি এখন উপহাসের মতোই শোনায়।

গার্ডিয়ান-এর সাংবাদিক তাহা হাশিম লিখেছেন, ‘ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর পবিত্রতা রক্ষার দাবিটি আইসিসির জন্য একটি ‘কমেডি’। কারণ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে তাদের হাইব্রিড মডেলের সিদ্ধান্তই একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে, যা আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোকে হাসির খোরাক বানিয়ে দিয়েছে।’

ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মধ্যে একমাত্র পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভিই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির এই আচরণকে ‘দ্বৈত নীতি’ ও ‘অবিচার’ হিসেবে অভিহিত করে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই সংকটে পাকিস্তানের মতো মিত্র পেলেও বাংলাদেশের বাস্তবতাকে একটু ভিন্নভাবে দেখছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক মোহাম্মদ ইসাম।

ইসামের মতে, তিন দিকে ভারতবেষ্টিত একটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ওপারের বাংলা ভাষাভাষীদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর। ফলে বাংলাদেশের সামনে বিকল্প পথগুলো সীমিত। তিনি মনে করেন, বর্তমান সংকটটি সরাসরি সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও আসন্ন নির্বাচনমুখী রাজনীতির ফল।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা ছিল, মোস্তাফিজের ঘটনার পর বিসিবি হয়তো একটি কূটনৈতিক অবস্থান নেবে। ইসাম বলেন, ‘বিসিবি একটি মধ্যমপন্থি বিবৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। কারণ, বর্তমান সরকারের জন্য ভারতের বিরোধিতা করা রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ভারতীয় ক্রিকেটই সব। 

বিসিবি আসলে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে না। কারণ, ভারতের একটি মাত্র সফর দিয়ে বিসিবির কয়েক বছরের খরচ চলে যায়।’ 

আর্থিক লোকসানের এই ভয়টাই হলো ভারতের সেই ‘লাঠি’, যা দিয়ে তারা বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের একচ্ছত্র দাপট বজায় রাখে। পাকিস্তান ক্রিকেট প্রায় দুই দশক ধরে ভারতীয় অর্থ ও সম্পর্কের বাইরে থেকে টিকে থাকার অভ্যাস করে নিলেও, অন্য ছোট বোর্ডগুলোর সেই সক্ষমতা বা সাহস নেই। এমনকি ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রভাবশালী বোর্ডগুলোও এই বিষয়ে আশ্চর্যরকম উদাসীন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির লেকচারার সুশান্ত সিং এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘সংখ্যাগুরুবাদী রাজনীতির বেদীতে বিসর্জন দেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে মোস্তাফিজই শেষ ব্যক্তি নন… এই তলোয়ার এখন প্রস্তুত এবং এর কার্যকারিতাও প্রমাণিত। আইসিসি, অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড কিংবা বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম—কারোরই এই ধারা থামানোর সদিচ্ছা নেই।’

এই স্রোত প্রতিরোধের উপায় কী? সুশান্ত সিং মনে করেন, ‘ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো যখন এমন পরিস্থিতির শিকার হবে, তখনই হয়তো কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আয়ের অংকের কথা চিন্তা করে এই অপমান মুখ বুজে সয়ে যাওয়াই হয়তো বোর্ডগুলোর নীতি হয়ে থাকবে।’

আইসিসি কিংবা ভারত বাদে অন্য দুই শক্তিশালী বোর্ড (ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) থেকে কোনো প্রতিবাদের আশা দেখছেন না শারদা উগ্রাও। তিনি গত ৩০ বছর ধরে ক্রিকেট কাভার করছেন। তার মতে, ‘আইসিসিকে এর আগে কখনো এতটা অসহায় ও ছন্নছাড়া মনে হয়নি। এটি এখন একটি নীতিহীন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। 

আর অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডগুলো বর্তমান ক্রিকেটের ‘বিগ ডন’ বিসিসিআইয়ের আজ্ঞাবহ সহযোগী ছাড়া আর কিছুই নয়। আইসিসিতে এখন কোনো যোগ্য বা পরিপক্ক নেতৃত্ব নেই।’

আইসিসির এই কথিত নেতৃত্বের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর। প্রতিটি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি আয় আসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে। পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই আইসিসি তড়িঘড়ি করে এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আশা করে পিসিবি আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে নেবে। 

বাংলাদেশের অনুরোধের ক্ষেত্রে আইসিসি যেমন কঠোর ছিল, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তাদের সুর ঠিক ততটাই নরম ও নমনীয়। স্পষ্টতই, বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় আইসিসি তাদের নীতি বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।

শারদা উগ্রা বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন ও বিসিসিআইয়ের ওপর বিজেপির নিয়ন্ত্রণ ক্রিকেটের বারোটা বাজাচ্ছে। বিসিসিআই এখন ক্রিকেট ভক্তদের চেয়ে ভারতের ‘ভোটের রাজনীতির’ মাঠকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’ 

ভারতের কোনো একটি রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার আঁচ গিয়ে পড়ছে ভিনদেশের খেলোয়াড় বা ক্রিকেট বোর্ডের ওপর, যা এই খেলার ভবিষ্যৎকেই পঙ্গু করে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন ভারতীয় বিশ্লেষক যেমনটি লিখেছেন, ‘কয়েকজন মানুষের খুশির জন্য আপনি যদি আপনার সবচেয়ে বড় ‘সফট পাওয়ার’ (ক্রিকেট) পুড়িয়ে ফেলেন, তবে এমনই হবে। মোস্তাফিজকে নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের জেরেই পাকিস্তানের এই বয়কটের সিদ্ধান্ত।’

দুর্ভাগ্যবশত, এই সংকটের কোনো সহজ সমাধান নেই। সুশান্ত সিং মনে করেন, এই খেলার ‘শেষ উইকেটটি’ কোনো প্রতিপক্ষ বোলারের ডেলিভারিতে পড়বে না; বরং এটি পড়বে ব্রডকাস্টারদের মামলা কিংবা বাণিজ্যিক চুক্তির পতনের মাধ্যমে। এর ফলে ক্রিকেট নৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক—সব দিক থেকেই দেউলিয়া হয়ে যাবে। এই পথ থেকে ফেরার একমাত্র উপায় হলো ‘জবাবদিহি’।

ততদিন পর্যন্ত ক্রিকেটের মাঠের নিষ্ঠুর বাস্তবতা এটাই যে, ভারতের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি প্রজাপতির ডানা ঝাপটানো অন্য দেশের ক্রিকেটের ভাগ্যে ঝড় ডেকে আনতে পারে।

সুত্র: টিবিএস

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

গুচ্ছভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে ইবিতে চার স্তরের নিরাপত্তা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে গুচ্ছভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) ভর্তি পরীক্ষা। এবার সারাদেশে ২১টি কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছেন মোট ১লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ ভর্তিচ্ছু। এরমধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবেন ১১ হাজার ১৮৫ জন। এ নিয়ে পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যাল কেন্দ্রে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রক্টর বলেন, “এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ করার জন্য আজ থেকে গোয়েন্দা সংস্থা কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং আগামীকাল সকাল থেকে চার স্তরের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে পুলিশ ফোর্স, র‍্যাব, আনসার, রোভার ও বিএনসিসির সদস্যরা কাজ করবে।”

তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য মেডিকেল টিম এবং হেল্পডেক্স বসানো হয়েছে। প্রধান ফটকে সবসময় একটা এম্বুলেন্স রাখা হবে, যাতে কেউ অসুস্থতা বোধ করলে দ্রুত মেডিকেলে নেওয়া যায়। প্রতিটি ভবনের প্রবেশপথে শিক্ষার্থীদের জিনিসপত্র রাখার জন্য বুথ বসানো হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী জন্য বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ক্রিয়াশীল সংগঠনও হেল্পডেক্স বসিয়েছে, যাতে অভিভাবকদের সাহায্যের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আশা করি আগামীকালের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হবে।”

জানা গেছে, আগামীকাল (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০০ নম্বরের এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পাস নম্বর— ন্যূনতম ৩০ নম্বর পেতে হবে। নেগেটিভ মার্কিং— প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে।

ইবি কেন্দ্রে সমন্বয়কারী বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান জানান, ‘এবার গুচ্ছভুক্ত ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় ইবি কেন্দ্রে অংশগ্রহণ করবে ১১ হাজার ১৮৬ জন ভর্তিচ্ছু। ইবি কেন্দ্রে ৯টি ভবনে আসন বিন্যাস করা হয়েছে।’

Continue Reading

top1

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনা মুদ্রা নিচ্ছে ইরান

Published

on

By

টানা ৩৮ দিনের সংঘাতের পর ১৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়ের মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপ করেছে তেহরান, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পুরো সময়জুড়ে এই টোল আদায় কার্যকর থাকবে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড জাহাজগুলোকে আগাম টোল পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, টোল পরিশোধ করতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে।

অন্যদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক ইরানি বাণিজ্য প্রতিনিধির তথ্যমতে, প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বড় তেলবাহী সুপার ট্যাংকারগুলোর জন্য এই খরচ কয়েক মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে খালি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো ফি প্রযোজ্য হবে না।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার আগে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে ইমেইলের মাধ্যমে আগাম নোটিশ দিতে হবে এবং জাহাজের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া, টোল পরিশোধ করতে হবে প্রবেশের আগেই এবং শুধুমাত্র বিটকয়েন বা ইউয়ানে তা গ্রহণ করা হবে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূল ঘেঁষে নির্ধারিত পথ কাশেম ও লারেক দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরানের দাবি, মিত্র দেশগুলোর জাহাজ সহজে চলাচল করতে পারলেও শত্রুভাবাপন্ন দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে বিলম্ব বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলারে লেনদেন এড়িয়ে বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ইউয়ান বেছে নিয়েছে তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং নিষেধাজ্ঞা এড়ানো সহজ হবে।

ইতোমধ্যে ইউয়ানে টোল আদায় শুরু হয়েছে বলে আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এই নতুন ব্যবস্থায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

Continue Reading

top1

তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে গাজা, থামেনি ইসরায়েলি হামলা

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রায় ৬ মাস আগে যুদ্ধবিরতি হলেও গাজার পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং জ্বালানি, নগদ অর্থ ও খাদ্যদ্রব্যের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। খবর আল জাজিরার।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানায়, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও বাস্তবে এর কোনো প্রভাব নেই। ইরান ও লেবাননে হামলার পাশাপাশি গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

গাজার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসরায়েল এখনো গাজায় আটা, খাদ্য ও জ্বালানি প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। যার ফলে বন্ধ হয়ে গেছে গাজার অধিকাংশ রুটির বেকারি। খুব অল্পসংখ্যক বেকারি খোলা থাকলেও নগদ অর্থের অভাবে গাজার বেশিরভাগ সাধারণ মানুষই খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।

একাধিক মানবিক সহায়তা সংস্থা গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিছু সংস্থার মতে, জরুরি খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে গাজার দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

এদিকে, প্রায় ছয় সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ খুলে দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।

হঠাৎ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করল সৌদি আরব, নেপথ্যে কী?

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, ভোরে মসজিদের দরজা খুলে দেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি সেখানে জড়ো হন। পরে শত শত মুসল্লি একসঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করেন।

ইসরায়েলি পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইবাদতকারী ও দর্শনার্থীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখলের পর এ ধরনের দীর্ঘ সময় মসজিদটি বন্ধ থাকার ঘটনা এটিই প্রথম। এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় নেতারা

Continue Reading

Trending