Connect with us

ক্যাম্পাস

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইবিতে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও অভিযান

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সরকারের ঘোষিত তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে ফেলা হয়।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মামুন আল রশীদ, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সরফরাজ নেওয়াজ, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল মঈদ বাবুলসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা।

অভিযানের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাইকে সচেতন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “আজকের এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র একদিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। এটি এখন আর শুধু ঢাকা শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; দেশের প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আমরা যদি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন না হই, তাহলে আমাদেরও এর ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের অন্যতম একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই, যা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় অনুসরণ করবে। একাডেমিক উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কারিকুলাম ও শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা এই ক্যাম্পাসকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন, ক্লিন ও গ্রিন ক্যাম্পাসে রূপান্তর করতে চাই।”

উপাচার্য আরও বলেন, “এ জন্য আপনাদের সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা নিজ নিজ অবস্থান ও আঙিনায় উদ্যোগ নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করবেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা আশা করি, এক মাসের মধ্যেই ক্যাম্পাসের পরিবেশে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাব।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

‘প্রধানমন্ত্রী গাছ লাগাবেন’ বলে রোপণ করা গাছ তুলে ফেলতে বাধ্য হলেন ইবি শিক্ষার্থী

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নবনির্মিত শহীদ আবরার ফাহাদ হল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চলতি মাসের ১২-১৫ তারিখের দিকে কুষ্টিয়া শহরের সিডিউল রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে হল উদ্বোধনের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে এখনও নির্ধারিত সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে হলটির আশেপাশে সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ রোপণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য শিক্ষার্থীর রোপণ করা সৌন্দর্যবর্ধনকারী রক্তকাঞ্চন গাছ হলের সামনে থেকে তুলে ফেলার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বাধ্য হয়ে ইতোমধ্যে রোপণ করা ২০টির মতো গাছ তুলে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী।

এনিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের স্ট্যাটাসে প্রতিক্রিয়া জানান হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম) বিভাগের শিক্ষার্থী মানিক রহমান।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, চলতি বছরের জুলাই মাসে শহীদ আবরার হলের সামনে রক্তকাঞ্চনের গাছ লাগান তিনি। গাছগুলো লাগানোর পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস, এস্টেট অফিস, ছাত্র উপদেষ্টা অফিস, প্রক্টর অফিস ও ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েছিলেন। যেসব জায়গায় স্থায়ী কোনো স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেই এবং সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ লাগানো যেতে পারে— সেসব জায়গায় সৌন্দর্যবর্ধনকারী এসব গাছ লাগিয়েছিলেন তিনি।

তিনি জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে শহীদ আবরার ফাহাদ হলের প্রভোস্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অফিস থেকে ফোন করে গাছগুলো তুলে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কারণ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে শহীদ আবরার ফাহাদ হল উদ্বোধন করে হলের সামনে সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ লাগাবেন।

এবিষয়ে মানিক বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় রোপণ করা গাছগুলো তুলে ফেলছি। ওইগুলো সরিয়ে ৩ জনকে দিয়েছি। ৩টা চাপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে গেছে, ৮টা কুড়িগ্রাম যাবে, আর ৬টা ত্রিবেণীর (ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী) এক মাদ্রাসার জন্য এক আপু নিয়েছে। গাছ ছিল ২২ টা। দুইটা মরে গেছে। দুইটা ওখান ইট ফেলানোর কারণে দুইটা চাপা পড়ছে হয়তো। গাছ তুলার সময় একটা নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শহীদ আবরার ফাহাদ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, হলের সামনে মাটি দ্বারা সমান করা হবে এবং ওখানে গার্ডেন করা হবে এজন্য তাকে গাছ সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সরানোর বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি।

গাছগুলো সরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে এস্টেট অফিস প্রধান মো. আলাউদ্দিন বলেন, উপাচার্য স্যারের নির্দেশে এটা করা হয়েছে। এ বিষয়টা উপাচার্য স্যার দেখছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুলকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, প্রভোস্ট তাকে যা বলেছেন, এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য নেই। আমি এর সাথে জড়িত নই। তবে আমরা তাকে যেভাবে গাছ রোপণ করতে অনুমতি দিয়েছিলাম, সেভাবে সে রোপণ করেনি।

Continue Reading

top3

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অষ্টম বর্ষে পদার্পণ

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

‘বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তারুণ্যের মূল প্রবাদ’—এই স্লোগানকে ধারণ করে ২০১৯ সালের ৩ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ববিসাস) গৌরব ও সাফল্যের সঙ্গে অষ্টম বর্ষে পদার্পণ করেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সমস্যা, শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও সম্ভাবনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরে আসছে।

আট বছরের পথচলায় ববিসাস বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনা ও কার্যক্রমের সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সংকট ও সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরছে সংগঠনটির সদস্যরা। ক্যাম্পাসের ইতিবাচক উদ্যোগ, শিক্ষার্থীদের অর্জন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়মের বিষয়ও গণমাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছেন তারা।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা ও সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে আসছে ববিসাস। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে সংগঠনটি।

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি এবং সম্ভাবনাকে সমাজের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই ববিসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা বিষয় জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে তুলে ধরে আসছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃহত্তর সমাজের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদানের ক্ষেত্রেও সংগঠনটির কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরছে। বস্তুনিষ্ঠতার যে ভিশন নিয়ে ববিসাস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, আজ অষ্টম বছরে এসে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস করি।”

তিনি আরো বলেন, “ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কথা তুলে ধরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি ও সম্ভাবনাকে মানুষের সামনে নিয়ে আসা। একই সঙ্গে কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিতে আনা। ববিসাস ভবিষ্যতেও সাংবাদিকতার নীতি ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।”

ববিসাসের আট বছরের পথচলায় সংগঠনটির বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা সদস্যদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান সদস্যদের কর্মচাঞ্চল্যের সমন্বয়ে সংগঠনটি সামনে আরও শক্তিশালী ও পেশাদার ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করতে চায়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই সময়ে সংগঠনটির সদস্যদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে ববিসাস আরও বেশি শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার চর্চা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও সম্ভাবনা সমান গুরুত্বে তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষা, গবেষণা ও অর্জনের খবর আরও বিস্তৃত পরিসরে গণমাধ্যমে পৌঁছে দেবে।

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় নিয়ে শুরু হওয়া ববিসাসের আট বছরের পথচলা তাই কেবল একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের বিষয় নয়; বরং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বশীল ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার চর্চাকে আরও এগিয়ে নেওয়ারও একটি প্রত্যয়।

Continue Reading

top3

ইবিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

দেশের ২২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রথমবারের মতো ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন-২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সঙ্গে শিল্প খাতের সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ‘শিক্ষা-শিল্পের ঐকতান: কর্মসংস্থানের সমাধান’ প্রতিপাদ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান।

সভায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এ জন্য পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিল্প খাতের চাহিদার সমন্বয় এবং গবেষণা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, দেশের শিক্ষা ও গবেষণাব্যবস্থায় উদ্ভাবন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্টার্টআপ খাতে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষকদের একটি করে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষাকে আরও আনন্দময় ও প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা অর্জন, সংস্কৃতিচর্চা ও খেলাধুলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য শিক্ষাক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি সফরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের মেধাবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর কয়েকজন বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে চিন্তা-চেতনা ও ধ্যানধারণায় মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষাক্রমে এসব পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটাতে না পারলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, গবেষণা, একাডেমিক কার্যক্রম ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার সব সময় উন্মুক্ত থাকবে।

উপাচার্য আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ একাডেমিক কর্তৃপক্ষ একাডেমিক কাউন্সিল প্রতিটি ডিসিপ্লিনের পাঠ্যক্রমে তিন ক্রেডিটের ১০০ নম্বরের একটি করে শিল্পসংশ্লিষ্ট কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ, গবেষণা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, সভায় স্কয়ার, প্রাণ-আরএফএল, নেসলে, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, আনোয়ার ইস্পাত, শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক, বিআরবি ক্যাবলস, বাংলালিংক, টেলিটক, বিটোপিয়া লিমিটেড, বেনকিউ, টেকনোডেরা, এনসিংগা, টিপি-লিংক, সিটিও টেকনোলজি, এজি ফুড, রাজবাড়ী জুট মিলস, আকিজ রিসোর্স, আকিজ ভেঞ্চার, মাতাদোর, ওয়ালিদ লিফট, বিএটি বাংলাদেশ ও গোল্ডেন জুটসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Continue Reading

Trending