Connect with us

top1

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না বিএনপি

Published

on

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের চার দিন আগেও দলের ‘অভিমানী’ নেতাদের নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি। ধানের শীষ না পেয়ে এখনো অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এসব নেতাকে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে দেখছে দলটি। তবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না বিএনপি।

দলটি মনে করছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তাই দলীয় নানা উদ্যোগের পরও যেসব স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজেদের নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দল। নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ধানের শীষ ও জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হওয়ায় এখন পর্যন্ত ১১ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপির অবস্থান হচ্ছে, দলের ডাকে এখন ‘বিদ্রোহী’ নেতারা সাড়া না দিলে পরবর্তী সময়ে তাদের ডাকেও দল সাড়া দেবে না। তবে অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ও ত্যাগ বিবেচনায় নিয়ে এজন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেখবে দল। বিএনপির প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলের অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপির মতো এত বড় দলে যোগ্য প্রার্থী প্রচুর। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় এখনো শেষ হয়নি। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। অনেকে এরই মধ্যে প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন। আশা করি, তপশিল ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই বিএনপির বিদ্রোহীরা সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। সেটি না করা হলে দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, নিবন্ধিত শরিকরা তাদের নিজেদের প্রতীকে আর অনিবন্ধিত শরিকরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছেন। অবশ্য বিজয় নিশ্চিতে কৌশলের অংশ হিসেবে শরিক কয়েকটি দলের নেতাদের বিএনপিতে যোগদান করিয়ে ধানের শীষ দেওয়া হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, জোটের ৮ শীর্ষ নেতা ধানের শীষে ভোট করছেন। অন্যদিকে, নিবন্ধিত ছয়টি দলের ৯ জন নেতা তাদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করছেন। আসন ছেড়ে দেওয়া ১২টি দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দলগুলো আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক।

মনোনয়নপত্র দাখিলের পর দেখা গেছে, একদিকে জোটের প্রার্থীদের ধানের শীষ অথবা সমঝোতার ভিত্তিতে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিএনপির নেতারাও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন। এ অবস্থায় মিত্রদের কাছে যাতে কোনো ভুল বার্তা না যায়, জোটের ঐক্যে কোনো ফাটল না ধরে, সেজন্য বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বিএনপি। ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে জোট নেতাদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে চায় দলটি। তাই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরাতে অঞ্চলভিত্তিক বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বেশ আগেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সরাসরি কথা বলছেন; আগামী নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করা হচ্ছে। আর সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে তারেক রহমান নিজেই ঢাকায় ডেকে তাদের কারও কারও সঙ্গে কথা বলছেন।

এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতির জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান, ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা-১৪ আসনে দলের ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া দারুস সালাম থানা বিএনপির আহ্বায়ক এসএ সিদ্দিক সাজুসহ কয়েকজনকে ঢাকায় ডেকে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। জানা গেছে, তারেক রহমান ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছেন। এর অংশ হিসেবে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে ধানের শীষ অথবা বিএনপি জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের যথাযথ মূল্যায়নেরও আশ্বাস দিচ্ছেন। আর এরই মধ্যে বহিষ্কৃত হয়ে থাকলে শিগগির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারেও আশ্বস্ত করা হচ্ছে।

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এরই মধ্যে আব্দুল খালেক ও সৈয়দ একে একরামুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরপরই তাদের দুজনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ একে একরামুজ্জামান বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

তবে বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্দেশনার পরও সাইফুল আলম নীরব ও এসএ সিদ্দিক সাজু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে থাকছেন। সে কারণে গত বুধবার সাজুকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাজু বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত এসএ খালেকের ছেলে।

জানতে চাইলে ঢাকা-১২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব কালবেলাকে বলেন, ‘আমি এই এলাকার সন্তান, এখানেই বড় হয়েছি, এই এলাকায় ৪৩ বছর রাজনীতি করি। এই এলাকায় এরশাদবিরোধী-হাসিনাবিরোধী আন্দোলন করেছি। এই এলাকার জনগণের সঙ্গে আমার সামাজিক বন্ধন আছে। অন্যদিকে যারা এমপি হতে এখানে নির্বাচন করতে আসছেন, তারা কেউ এই এলাকার সন্তান না। তারা এই এলাকায় এরশাদবিরোধী কিংবা হাসিনাবিরোধী আন্দোলনও করেননি, মামলাও খাননি।’

তিনি বলেন, ‘আমি গণসংযোগ করছি, এলাকার জনগণ আমার সঙ্গে আছে। সুতরাং আসন্ন নির্বাচনে আমি ঢাকা-১২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি।’

এদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি) এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত শহীদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী। ওদিকে মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ভোলা-১ আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর। এ আসনটি জোট শরিক বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিকদের আসন ছাড় দিয়ে বিএনপির তৃণমূলকে হাইকমান্ড থেকে এরই মধ্যে কঠোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এরপরও কিছু আসনে ‘বিদ্রোহী’রা মাঠে রয়ে গেছেন। ফলে মাঠপর্যায়ে এখনো দ্বিধা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানোর পর কিছু এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম বলে জোট নেতারা মনে করছেন। বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধেও দলের নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুল। ধানের শীষ না পেয়ে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল। বগুড়া-২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি দলীয় প্রতীক ‘কেটলি’ নিয়ে লড়ছেন। এ আসনে বিএনপির শাহে আলমও দলীয় প্রার্থী হয়েছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তবে ধানের শীষ না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন। যদিও বহিষ্কারের আগেই দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি।

বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ পান গণঅধিকারের রাশেদ খান। তবে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে প্রথমে বিএনপির মনোনয়ন পান দলের উপজেলা শাখার সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। পরে এই আসনটি চূড়ান্তভাবে ১২ দলীয় জোট শরিক ‘অনিবন্ধিত’ জমিয়তের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রশিদ বিন ওয়াক্কাসকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন ইকবাল। নড়াইল-২ আসনে প্রথমে দলের মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। পরে জোট শরিক ‘অনিবন্ধিত’ এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে মনিরুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। তিনি সিলভার লাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান। জানতে চাইলে এম এ এইচ সেলিম কালবেলাকে বলেন, ‘একটা গ্যাপ হওয়ার কারণে আমি এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কিংবা জেলা কমিটির কোনো পদে নেই। মূলত আমি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অনুরোধে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি এবং তিনটি আসনেই নির্বাচন করব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান যদি আমাকে ডাকেন, তিনি কী বলেন আমি শুনব; তারপর আমার সিদ্ধান্ত জানিয়ে আসব।’

এদিকে, ধানের শীষ না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করা বিএনপি নেতাদের নিয়ে গত বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্ট দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করা আপনার ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিক অধিকার, এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু ভুল করবেন না, বিএনপির চেয়ে বড় বিএনপি হতে যাওয়ার ইতিহাস কখনোই সুখকর নয়, বরং নিষ্ঠুর। বি. চৌধুরী, মান্নান ভূঁইয়া, শমসের মবিন চৌধুরী, তৈমুর আলম খন্দকার—এরা সবাই এক সময় সেই আত্মঘাতী ভুলটাই করেছিলেন। পরিণতি কী হয়েছিল, তা ব্যাখ্যার দরকার নেই; ইতিহাস নিজেই রায় দিয়ে রেখেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

মহাসড়কে ৬ দিন ট্রাক, কাডার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ: ডিএমপি

Published

on

By

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় গমনাগমন করবেন। ঈদের সময় আনুমানিক ১ কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ত্যাগ করেন এবং প্রায় ৩০ লক্ষাধিক প্রবেশ করেন। তাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাডার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার (২৪ মে) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে আগামীকাল ২৫ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাডার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। তবে পশুবাহী যানবাহন, নিত্য প্রয়োজনীয় গৃহস্থালী ও খাদ্য-দ্রব্য, পঁচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ঔষধ, সার, এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহনসমূহ এর আওতামুক্ত থাকবে।

সড়ক/মহাসড়কে যান চলাচল সংক্রান্ত নির্দেশনায় আরও বলা হয়-

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, রুট পারমিটবিহীন বাস চলাচল করতে পারবে না। আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রী নিয়ে বাসগুলোকে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে। সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না। অনুমোদিত কাউন্টার ছাড়া রাস্তা থেকে যাত্রী তোলা-নামানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার রাস্তাসমূহে কোনভাবেই যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। লক্কর-ঝক্কর, ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ও কালো ধোঁয়া নির্গমণকারী গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না।

ঈদযাত্রার চাপ সামাল দিতে আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ মে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক একমুখী করা হবে। এ সময়ে এই পথে শুধু ঢাকা থেকে বের হওয়া যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ঢাকায় প্রবেশকারী যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

এদিকে যানজট কমাতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। এর মধ্যে রয়েছে বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, শ্যামলী থেকে গাবতলী পর্যন্ত মিরপুর রোড, ফুলবাড়িয়া থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়ক এবং আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ সড়ক।

Continue Reading

top1

মেহেরপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় একজনের ফাঁসি আদেশ

Published

on

By

মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ঘটনায় শাকিল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালত।

রবিবার (২৪ মে) দুপুর দেড়টায় মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ২৯ কার্য দিবসের মধ্য স্ব-শরীর ও ভার্চুয়াল ভিডিও কলের মাধ্যমে তিন দিনে স্বাক্ষী জবানবন্দি জেরা গ্রহণ করে আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের পুত্র।

ফাঁসি রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেহেরপুর নারী ও শিশু দমন এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলা চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণীর পড়ুয়া মেয়ে তার পিতাকে বাড়ির পাশের আবাদী মাঠে খাবার দিতে যাওয়ার সময় ধর্ষক শাকিল হোসেন শিশুটিকে দেশীয় অস্ত্র ধারালো হাসুয়া দিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পাশ্ববর্তী পাট খেতে নিয়ে গিয়ে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ধর্ষণ শেষে শিশুর চিৎকারে ধর্ষক পালিয়ে যায়। পরে মেয়েটির বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি জানালে গ্রামবাসী ধর্ষককে আটক করে গণপিটুনি দেয়।

পুলিশ ধর্ষককে উত্তেজিত মানুষের কাছ থেকে উদ্ধার করে আটক করে। পরে শিশুর পিতা ইছানুল হক গাংনী থানায় গিয়ে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর পুলিশ ধর্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে।

মামলার তদন্ত রিপোট পুলিশ দাখিলের পর আদালত ২৯ কার্য দিবসের মধ্যে ধর্ষণ মামলায় ১২ জন সাক্ষীর ভার্চুয়ালি ভিডিও কলে ও সশরীরে জবানবন্দি জেরা গ্রহণ করেন।

সাক্ষ্য প্রমাণে এবং মেডিকেল পরীক্ষা রিপোর্টে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ধর্ষক শাকিল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছর কারাদণ্ড আদেশ দেন। জরিমানার টাকা ধর্ষকের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লদ্ধ অর্থ আদালতের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবারকে পরিশোধের আদেশ দিয়েছে আদালত।

রায় ঘোষণাকালে আদালতে গণমাধ্যম কর্মীরা সহ আসামিপক্ষে আইনজীবী ও অন্য আইনজীবী, ধর্ষক উপস্থিত থেকে রায় শ্রবণ করেন। অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসাবে মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদণ্ড রায়ে ধর্ষিত শিশুর পরিবার খুশি বলে সাংবাদিকদের জানান। অন্যদিকে দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বলেন

Continue Reading

top1

৭ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন , ছুটি বাতিল হতে পারে বিশেষ আদালতের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যে যা করতে হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় করবে।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “আজ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে। বিশেষ এই আদালতে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করছি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসা হত্যার আসামিকে ৭ ঘণ্টার ভেতর গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে। আমরা খুব দ্রুততার সাথে ডিএনএ টেস্ট করিয়েছি। পোস্টমর্টেম সহ সব রিপোর্ট একত্র করে গতকাল রাতের মধ্যেই চার্জশিট তৈরি হয়েছে। আশা করছি বিচারও দ্রুততম সময়ের মধ্যে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ আদালতের ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত হতে পারে’

এদিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে রোববার আদালতে হাজির করা হয়েছে।

এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, ডিএনএ প্রতিবেদনের তথ্য আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পরে ২০ মে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন

Continue Reading

Trending