Connect with us

top1

দিল্লিতে হাসিনার বাসায় গোপন বৈঠক: দেশজুড়ে চোরাগোপ্তা হামলার পরিকল্পনা

Published

on

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লিকে তাদের প্রধান রণকৌশল প্রণয়নের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। সেখান থেকেই তারা দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার মাধ্যমে সরকার পতনের নীলনকশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে দলটির পলাতক নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা গণহত্যা মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পরই রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্রশস্ত্র। 

দিল্লিতে শেখ হাসিনার গোপন আস্তানা থেকেই চলছে নাশকতার গোপন প্রস্তুতি। তবে আন্দোলন পরিচালনার কৌশল নিয়ে মা শেখ হাসিনা এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মধ্যে গত ৪ নভেম্বর কথাকাটাকাটি হয়। পুতুল মাকে এই মুহূর্তে চুপ থাকার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষেপে যান বলে হাসিনার ওপর নজরদারিতে নিয়োজিত ঢাকার নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স বাংলো জোনে ভারত সরকারের দেওয়া সুরক্ষিত একটি বাড়িতে শেখ হাসিনা বর্তমানে অবস্থান করছেন। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ এশিয়া চ্যাপ্টারের প্রধানের পদ হারানোর পর থেকে সার্বক্ষণিক তার সঙ্গেই থাকছেন। বাসভবনটিকে কার্যত একটি ‘ওয়ার রুম’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে নিয়মিত শারীরিক চেকআপের জন্য চিকিৎসক ও নার্স এবং বড় কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ওই বাসায় থাকছেন ভারতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক একজন হাইকমিশনার। পাশাপাশি ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের পছন্দ করা একজন আইনজীবী আইনি ও গণমাধ্যমের বিষয়গুলো দেখভাল করছেন। দিল্লি প্রেস ক্লাবের একজন সাংবাদিকও সহযোগিতা করছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের প্রশ্নের উত্তরগুলো তারা দেখভাল করেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নিয়ে পরিকল্পনা কীভাবে সাজানো যায় এবং দ্রুত সফলতা পাওয়া যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ নিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মাকে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ রাখার কথা বললে হাসিনা রেগে যান।

গত ১১ অক্টোবর শেখ হাসিনার দিল্লির বাসায় সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী পলাতক শেখ হাসিনার দিল্লির গোপন বাসভবনে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন—ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়াও সাভার এলাকার সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চু, কক্সবাজারের সাবেক এমপি ও হুইপ সাইমুম সরোয়ার কমল, ফরিদপুরের সাজেদা চৌধুরীর ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরী বাবলু এবং টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি ছোট মনির বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধানত তিনটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়—প্রথমত, সম্প্রতি ‘গুম প্রসিকিউশন চার্জে’ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ। দ্বিতীয়ত, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন জোরদার করা। তৃতীয়ত, দলকে সংগঠিত করা এবং তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করাসহ ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিভাগীয় শহর এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

১১ অক্টোবরের গোপন বৈঠকে কে কে ছিলেন

বৈঠকে যারা ছিলেন, তাদের নিয়েই পুতুল মায়ের কাছে প্রশ্ন তোলেন। পুতুলের বিশ্লেষণ হচ্ছে, ওই লোকগুলোর কারণেই হাসিনার এই পরিণতি হয়েছে। আর হাসিনার বক্তব্য হচ্ছে, এদের দিয়েই পরিস্থিতি পাল্টাতে হবে।

অন্য একটি সূত্র আরো নিশ্চিত করেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবির আহমেদের নাম সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তিনি শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ৯ অক্টোবর শেষ রাতে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

অর্থ জোগান ও নেতাকর্মীদের অসন্তোষ

নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থ জোগান দেওয়া নিয়েও পলাতক নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। সূত্র জানায়, ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশের সব জেলা কমিটির বাছাইকৃত নেতাদের সঙ্গে গত শুক্রবার রাতে অনলাইনে বৈঠক করেন ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা। মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং ক্যাসিনো সম্রাটখ্যাত যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। বৈঠকে প্রতিটি উপজেলা থেকে অন্তত ২০০ জন করে নেতাকর্মী ঢাকায় জড়ো করার ওপর জোর দেওয়া হয়। নেতাকর্মীদের এরই মধ্যে ঢাকা এবং আশপাশের থানাগুলোয় (বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, দোহার, নবাবগঞ্জ, রূপগঞ্জ, ফতুল্লাসহ নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড ও চাষাঢ়া) জড়ো করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ জোগান দেওয়ার বিষয়ে পলাতক নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। নিজ থেকে আগ্রহী হয়ে টাকা খরচের ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছেন নেতাদের কেউ কেউ।

তাদের বক্তব্য ছিল—অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তি হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন এবং অনেকে ব্যবসায়ী সেজে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন। তাই বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিচ্ছে, তাদের কাছ থেকে ফান্ড নেওয়া দরকার।

এর মধ্যেই আলোচনায় উঠে আসে, শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সিকদার গ্রুপ ইতোমধ্যে সরকার ফেলে দিতে ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর পাশাপাশি নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ আরো বাড়ে, যখন জানা যায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা আবেগী নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা শহরে গুলির মুখে মিছিল করছেন কিন্তু তাদের মাত্র দুই হাজার কিংবা পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ টাকার পরিমাণ বাড়ানোর কথা নেতাদের আলোচনায় উঠে আসে।

নাশকতার ব্লুপ্রিন্ট ও ককটেল হামলা

সূত্র জানায়, সরকারের পতন ঘটাতে নাশকতার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এড়িয়ে বোমা এবং ককটেলবাজি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু লক্ষণও দেখা গেছে। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের চার্চের (গির্জা) গেটে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ জানায়, কিছুটা নিরিবিলি এলাকায় গভীর রাতে মোটরসাইকেল থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে মূলত নিজেদের জানান দেওয়া এবং জনমনে ভীতি ছড়ানোর কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিতভাবে এভাবে বোমাবাজি এবং ককটেল নিক্ষেপ করা হবে বলে পরিকল্পনা নিয়েছে পলাতক ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ।

এর আগে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ঢাকায় নাশকতার পরিকল্পনার মূল সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। তাকে কৌশলগত সব সহযোগিতা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসবির সাবেক প্রধান ভারতে পলাতক পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মনিরুল ইসলাম এবং ডিএমপির পলাতক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে। এসএসএফের সাবেক ডিজি ও সাবেক কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেনসহ একাধিক সেনা কর্মকর্তা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির মিশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে পলাতক সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদার, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ওরফে ক্যাসিনো সম্রাট। এ নাশকতার অংশ হিসেবে আদালতপাড়া ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় বোমাবাজির টার্গেট করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সরকার পতনের লক্ষ্যে নেওয়া নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাছাইকৃত নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনা শুরু হয়েছে এবং ওই দিন ঢাকায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটাতে চায় ষড়যন্ত্রকারীরা। এর মধ্যে সশস্ত্র ক্যাডাররা অস্ত্রবাজি করতে পারে বলে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, নভেম্বরের মধ্যেই যদি হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলার রায় হয়ে যায়, তাহলে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার ছক তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে মাঠপর্যায়ে এখনই সেনা মোতায়েন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান

অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অভিযান জোরদার করেছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ও আশপাশের থানাগুলোয় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৭ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ঢাকা জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ সাঁড়াশি অভিযান পলাতক নেতৃত্বের নাশকতার পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হচ্ছেন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী যদি দেশে আবার বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করে, তাহলে জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিবাদ সরকার পালিয়ে গেছে। দেশ ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে এবং করে চলেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ভোট দিয়ে জয়-পরাজয় মেনে নিন: জাতির উদ্দেশে সিইসির আহ্বান 

Published

on

By

নির্বাচনে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসার এবং নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

সিইসি বলেন, “সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসবেন, ভোট দেবেন এবং জয়-পরাজয় মেনে নেবেন।”

আসন্ন এই নির্বাচনকে সার্থক করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের এবং আন্তরিক সহযোগিতার অনুরোধ জানান তিনি। ভাষণে তিনি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কমিশনের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিইসি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নির্বাচনি প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেন এবং ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার নিশ্চয়তা দেন।

Continue Reading

top1

৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই

Published

on

By

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আখতার আহমেদ বলেন, অর্থ বৈধ হলে এবং তার উৎস ও ব্যবহার যথাযথভাবে প্রমাণ করা গেলে যত খুশি টাকা বহন করা যাবে। সোর্স ও বৈধ খাত দেখাতে পারলে ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, যদি কোনো অর্থ ভোটারদের প্রভাবিত করতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে বিষয়টি ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’ তদন্ত করবে। আর অর্থের উৎস অবৈধ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এর আগে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে বিপুল টাকাসহ আটক করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে প্রশাসন।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জব্দ টাকা মেশিনে গণনা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটকের সময় বেলাল উদ্দিনের কাছে নগদ অর্থসহ বেশকিছু নথিপত্রও পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।

জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সৈয়দপুর যান এ জামায়াত নেতা। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে ৫০ লাখের বেশি টাকা ছিল।

আটক করার সময় একটি ভিডিওতে বেলাল উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও শহরের হাজিপাড়ায়। ওই এলাকার দবিরুল ইসলামের ছেলে তিনি। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও শালন্দা কলেজের শিক্ষক তিনি। লাগেজে কত টাকা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে ৫০ লাখের বেশি টাকা রয়েছে। এগুলো তার গার্মেন্টস ব্যবসার টাকা।

Continue Reading

top1

বিমানবন্দরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে দেখার সুযোগ নেই: বিএনপি

Published

on

By

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বুধবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বিএনপির অনিবার্য বিজয়ের বিপরীতে একটি গোষ্ঠী নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। আমরা আজ সকালে গণমাধ্যমে দেখতে পেলাম, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঢাকা থেকে যাওয়ার পর নগদ অর্ধ কোটিরও বেশি টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে আটক করেছে পুলিশ। যেখানে নির্বাচনে অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন প্রতিহত করতে সব ব্যাংক, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাবসায়িক লেনদেন ও কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে; সেখানে স্বাভাবিকভাবে সর্বত্র প্রশ্ন উঠছে, জামায়াতের একটি জেলা সর্বোচ্চ নেতা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে কী উদ্দেশ্যে কাদের দেওয়ার জন্য নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন?’

তিনি বলেন, টানা চার দিন যেখানে দেশের সব ব্যাবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেখানে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ কোন ব্যাবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতে পারে; সেটি বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। স্পষ্টতই আচরণ বিধির এই লঙ্ঘন গণবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির দেউলিয়াত্ব ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা প্রমাণ করছে। যারা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বয়ান তৈরি করে তাদের কাছে প্রশ্ন করা যেতেই পারে টাকা দিয়ে ভোট কেনা তাদের সেই দুর্নীতিবিরোধী বয়ানের সঙ্গে কতটা সংগতিপূর্ণ।’

সৈয়দপুর বিমানবন্দর-কাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন বলে দেখার সুযোগ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় অর্থসহ অনেককে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।’

Continue Reading

Trending