Connect with us

top1

নভেম্বরেই নতুন ইউনিফর্ম পাচ্ছে পুলিশ

Published

on

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাধারণ পুলিশ সদস্যদের দাবি ছিল বর্তমান পোশাক পরিবর্তন করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। নয় মাস পর সেই নতুন পোশাক পেতে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশের পোশাক নির্ধারণ হয়েছে লোহার (আয়রন) রঙের। র‍্যাবের পোশাক জলপাই (অলিভ) রঙের। আর আনসারের পোশাক সোনালি গমের (গোল্ডেন হুইট) রঙের। আপাতত মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা পোশাক পাবেন। পর্যায়ক্রমে সারাদেশের জেলা পুলিশ সদস্যদের নতুন পোশাক দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, নির্বাচনের আগে সব বাহিনী যেন নতুন ইউনিফর্ম পরতে পারে সেজন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারণ করা হয়েছে ইউনিফর্মের রং ও কাপড়।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশে ইউনিফর্মের রং ভিন্ন। নতুন ইউনিফর্ম হবে সবার জন্য এক রঙের। ১৫ নভেম্বর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ (ডিএমপি) সব মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্য নতুন ইউনিফর্ম পরতে পারবেন। আর জেলা পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

নতুন ইউনিফর্ম ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দেখা যাবে। যে রঙের ইউনিফর্ম পাস হয়েছিল সেটাই দেখা যাবে। ১৫ নভেম্বর থেকে ডিএমপিসহ সব মেট্রোপলিটনে ইউনিফর্ম পরা শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো ইউনিট নতুন ইউনিফর্ম পাবে।- পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (লজিসটিক্স) খোন্দকার নজমুল হাসান

এদিকে র‍্যাবের বর্তমান কালো রঙের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের কথা থাকলেও নতুন জলপাই রঙের ইউনিফর্মের কোনো অগ্রগতি নেই।

এছাড়া বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য সোনালি গমের রঙের নতুন ইউনিফর্ম তৈরির কথা থাকলেও রং পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই কাপড়

বিশ্বজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক দুই ভাবে নির্ধারণ করা হয়। দেশ-কালের ওপর ভিত্তি করে সেবা সংস্থাগুলোর পোশাক নির্ধারণ করা হয় বেশিরভাগ সময়। যেমন শীতপ্রধান দেশগুলোর পুলিশের পোশাকের রং হয় কালো রঙের। সেখানে তাপমাত্রা ধরে রাখার একটা বিষয় পোশাকে যুক্ত থাকে। গরম বা নাতিশীতোষ্ণ দেশগুলোতে পুলিশের পোশাক সাদা, খয়েরি বা হালকা রঙের দেখা যায়, যা কি না তাপ শোষণ কম করে। ভারত বা এ অঞ্চলে বিভিন্ন সেবাসংস্থার পোশাক খাকি হওয়ার আরেকটি কারণ ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ইতিহাস।

কেমন হলো পুলিশের নতুন ইউনিফর্ম?

পুলিশের ইউনিফর্মের রং ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। কাপড়ও নির্ধারণ হয়েছে। কাপড় পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে দেশের পরিবেশ ও সব ধরনের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই কি না, পাশাপাশি কাপড়ের মানও যাচাই করা হয়েছে। কাপড় পরীক্ষায় আরও দেখা হয়েছে নতুন ইউনিফর্মের রং বাহিনীর জন্য উপযুক্ত কি না এবং সদস্যরা সেই পোশাক পরে আরাম অনুভব করছেন কি না। ইউনিফর্ম চূড়ান্ত হওয়ায় রঙের সঙ্গে সমন্বয় রেখে চূড়ান্ত হয়েছে ব্যাচের রং।

ডিজাইন চূড়ান্ত

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, যেহেতু ইউনিফর্মের রং চূড়ান্ত হয়েছে, সেক্ষেত্রে ইউনিফর্মের ডিজাইন চূড়ান্ত হয়েছে। পুলিশের আয়রন রঙের সঙ্গে মিল রেখে ডিজাইনও চূড়ান্ত হয়েছে।

নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে পুলিশে হতাশা

ডিএমপিতে কর্মরত কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অন্তত ১০ জন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জাগো নিউজ। তারা বলছেন, জেলা পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যদের জন্য আলাদা ইউনিফর্ম করা দরকার ছিল। কারণ সবাই যদি একই ইউনিফর্ম পরেন তাহলে চেনা যাবে না তিনি মেট্রোপলিটন নাকি জেলা পুলিশে কর্মরত। এছাড়া পরিবর্তিত নতুন ইউনিফর্মের রং নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। হঠাৎ করে আয়রন রঙের পোশাক মানিয়ে নিতে পারবে না বলেও মনে করছেন অনেকে।

বর্তমান ইউনিফর্মেও অনীহা অনেকের

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনী সংস্কারের দাবি ওঠে। একই সঙ্গে পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন চান অনেকে। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য জাগো নিউজকে বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় এই ইউনিফর্ম পরে পুলিশ সদস্যরা ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালিয়েছিল। সেই ইউনিফর্ম আমরা আর পরতে চাই না। আমরা নতুন ইউনিফর্মে নতুন উদ্যমে কাজ করতে চাই।

১৫ নভেম্বরের মধ্যে নতুন ইউনিফর্ম, এখনই পাচ্ছে না র‌্যাব-আনসার

পুলিশের নতুন ইউনিফর্মের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (লজিসটিক্স) খোন্দকার নজমুল হাসান জাগো নিউজ বলেন, ‘নতুন ইউনিফর্ম ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দেখা যাবে। যে রঙের ইউনিফর্ম পাস হয়েছিল সেটাই দেখা যাবে। ১৫ নভেম্বর থেকে ডিএমপিসহ সব মেট্রোপলিটনে ইউনিফর্ম পরা শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো ইউনিট নতুন ইউনিফর্ম পাবে।’

জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয়ে র‍্যাবের যে নতুন ইউনিফর্ম দেখানো হয়েছিল এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আপডেট নেই। র‍্যাবের সদস্যরা কালো রঙের ইউনিফর্মই বর্তমানে পরছেন।- র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী

নির্বাচনের আগে পুলিশের সব ইউনিট নতুন ইউনিফর্ম পাবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশের সদস্য সংখ্যা দুই লাখের বেশি। এতসংখ্যক পুলিশের নির্বাচনের আগে নতুন ইউনিফর্ম দেওয়া সম্ভব নয়। জেলা পুলিশ ছাড়া নির্বাচনের আগে পুলিশের সব ইউনিট নতুন ইউনিফর্ম পাবে।’

র‍্যাবের নতুন ইউনিফর্মের বিষয়ে জানতে চাইলে বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয়ে র‍্যাবের যে নতুন ইউনিফর্ম দেখানো হয়েছিল এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আপডেট নেই। র‍্যাবের সদস্যরা কালো রঙের ইউনিফর্মই বর্তমানে পরছেন।’

পরিবর্তনের কথা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ইউনিফর্মও। কিন্তু বাহিনীটির গোল্ডেন হুইট রঙের ইউনিফর্ম মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত করা হলেও তারা রঙের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, নতুন কয়েকটি রঙের ইউনিফর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। নির্বাচনের আগে নতুন ইউনিফর্মে যাওয়া মনে হয় সম্ভব হবে না।

আগেও পরিবর্তন হয়েছে পুলিশের ইউনিফর্ম 

এক সময় বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকের রং ছিল খাকি। এই রঙের পোশাকের ইতিহাস ব্রিটিশ আমলের সঙ্গে জড়িত। আমাদের এ অঞ্চল যখন ব্রিটিশ শাসিত ছিল তখনই পুলিশ ব্যবস্থা চালু হয়, তবে প্রথম দিকে কোনো নির্ধারিত পোশাক ছিল না। কিছু সময় পর তাদের জন্য সাদা পোশাক করা হয়। কিন্তু এই পোশাক নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়, সেটা হলো- পুলিশ সদস্যদের সাদা ইউনিফর্ম ডিউটি করার সময় খুব তাড়াতাড়ি নোংরা হয়ে যেত। এতে ব্রিটিশ পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খুবই বিচলিত হয়ে পড়তেন।

ফলে নোংরা আড়াল করতে পুলিশ সদস্যরা তাদের ইউনিফর্ম বিভিন্ন রঙে রাঙাতে থাকে, যা ছিল বিব্রতকর। ১৮৪৭ সালে ব্রিটিশ অফিসার স্যার হ্যারি লুমসডেনের পরামর্শে পুলিশের ইউনিফর্ম হালকা হলুদ এবং বাদামি রঙের করা হয়। তারপর চা পাতা, পানি ব্যবহার করে সুতি কাপড়ের রং রঞ্জকের মতো তৈরি করে ইউনিফর্মের ওপর লাগানো হতো। ফলে পোশাকের রং খাকি হয়ে যায়। সেই বছরই পুলিশে খাকি রঙের পোশাক গৃহীত হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাঙালি পুলিশ সদস্যরা খাকি রঙের পোশাক ব্যবহার করেন। অনেকে অবশ্য সাদা পোশাকেও লড়াই করেছেন পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ২০০৪ সালে। সেই বছর পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে মহানগরগুলোয় হালকা জলপাই রঙের করা হয়। জেলা পুলিশকে দেওয়া হয় গাঢ় নীল রঙের পোশাক। র‌্যাবের কালো ও এপিবিএনের পোশাক তৈরি করা হয় খাকি, বেগুনি আর নীল রঙের মিশ্রণে।

এমনকি ২০০৯ সালেও কিছুটা পরিবর্তন আসে পুলিশের পোশাকে। ২০২০ সাল থেকেই বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছিল। ২০২১ সালের শুরুর দিকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য বেশ কয়েকটি পোশাকের ট্রায়ালও হয়। তারপরও নানান কারণে নতুন পোশাক পাননি বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। তবে শুরু থেকেই র‍্যাবের কালো ইউনিফর্ম কখনো পরিবর্তন হয়নি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

Published

on

By

পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ জয় পেলেই এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর আজকের ম্যাচেও অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে টাইগাররা। ব্যাটিং অর্ডারে ওপেনিংয়ে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের পর থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়। লিটন দাসকে দেখা যাবে পাঁচ নম্বর পজিশনে, আর ছয়ে থাকছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। অধিনায়ক মিরাজ নিজে খেলছেন সাত নম্বরে।

বোলিং ইউনিটে ধার বাড়াতে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানার সঙ্গে থাকছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।

অন্যদিকে, সিরিজে সমতায় ফিরতে মরিয়া পাকিস্তান দলে এসেছে একটি পরিবর্তন। লেগ স্পিনার আবরার আহমেদের পরিবর্তে একাদশে জায়গা পেয়েছেন পেসার হারিস রউফ।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে বর্তমানে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আজ দুপুর সোয়া ২টায় শুরু হওয়া এই ম্যাচটি জিতলেই ঘরের মাঠে আরও একটি সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়বে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দুই দলের একাদশ:

বাংলাদেশ: সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), আফিফ হোসেন ধ্রুব, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান।

পাকিস্তান: সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শ্যামল হুসাইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), সালমান আলী আঘা, হুসাইন তালাত, আবদুল সামাদ, ফাহিম আশরাফ, শাহীন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), হারিস রউফ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম।

Continue Reading

top1

১৫ মার্চ থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ, বাড়বে না গণপরিবহনের ভাড়া: রেলমন্ত্রী

Published

on

By

আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগামী ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু, রেল এবং নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ায় ঈদে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জ্বালানি ও ভাড়া নিয়ে সুখবর

মন্ত্রী জানান, জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। ফলে পরিবহন মালিকদের ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ থাকবে না। ১৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে গণপরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অনলাইন টিকিটিং ও রেলের সক্ষমতা

ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, “৩ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এবার প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কেনার চেষ্টা করেছেন। তবে রেলের সীমাবদ্ধ সক্ষমতার কারণে আমরা প্রায় ৩৬ হাজার টিকিট দিতে পেরেছি।”

অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের জটিলতা নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, একটি টিকিট বুক করার পর পেমেন্টের জন্য ৫ থেকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। ওই সময়ে টিকিটটি ‘হোল্ড’ অবস্থায় থাকে বলে অন্য যাত্রীরা সেটি দেখতে পান না বা কিনতে পারেন না। এ কারণেই অনেক সময় যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।

ঈদ স্পেশাল ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ

যাত্রীচাপ সামলাতে রেলের বিশেষ প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান:

রেলে নতুন করে মোট ১২৪টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে।

মিটারগেজ লাইনে আরও ১৪টি কোচ বাড়ানো হয়েছে।

ব্রডগেজ লাইনে চালু করা হয়েছে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন।

নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ঈদযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি নিয়মিত পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মন্ত্রী বলেন, “যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত। তবে যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ, সংকটের সময় কিছুটা ধৈর্য ধরে আমাদের সহযোগিতা করবেন।”

Continue Reading

top1

সংসদে নিরপেক্ষ আম্পায়ারিং করব: স্পিকার

Published

on

By

জাতীয় সংসদে নিরপেক্ষ ‘আম্পায়ারিং’ করবেন বলে জানিয়েছেন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

স্পিকার বলেন, সংসদে আমরা (স্পিকারে এবং ডেপুটি স্পিকার) নিরপেক্ষ থাকব। ক্রিকেট খেলায় যেমন আম্পায়ার থাকে আমরাও সেরকম নিরপেক্ষ আম্পায়ারিং করব।

তিনি বলেন, ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পরে আমরা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পেয়েছি। তাই আশা করি জনগণের সেই স্বপ্নের দেশ আমরা উপহার দিতে সক্ষম হব। একটি বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় আমাদের লক্ষ্য।

রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউটের বিষয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে ওয়াকআউট একটি প্রচলিত রীতি। তবুও তারা মোটামুটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। তবে সংসদের স্লোগান দেওয়া ঠিক না, এটা সংসদের রেওয়াজের বাইরে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিনের পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক হত্যা মামলায় কারাগারে থাকায় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য খন্দকার মোশাররফের নাম প্রস্তাব করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে জামায়াতসহ সব সংসদ সদস্যদের সম্মতিতে খন্দকার মোশাররফ সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

এরপর অধিবেশনে নতুন স্পিকার হিসেবে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। এতে সমর্থন করেন হুইপ রাকিবুল ইসলাম। পরে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় কণ্ঠভোটে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার নির্বাচিত হন।

Continue Reading

Trending