Connect with us

top3

পাল্টাপাল্টি মহড়ায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

Published

on


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে ইরান। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে লাইভ-ফায়ার মহড়া করার ঘোষণাও দিয়েছে দেশটির সরকার।

সামা টিভি জানিয়েছে, ওই দিন থেকেই তিন দিনের মহড়া চালাচ্ছে তেহরান। এর মধ্যে ইরানের দিকে আরেকটি নৌবহর যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় নৌবহর মোতায়েন করতে যাচ্ছে পেন্টাগন। এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, তারা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মহড়া চালাবে। গতকাল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, এ মহড়া শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন হুমকির মুখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সৌদি যুবরাজকে ফোন করে সতর্ক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাদের ওই ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জানিয়েছেন, তেহরানে হামলায় আমাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

এর আগে গত মঙ্গলবার ইরান নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটেম) জারি করে। সেই নোটিশে হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশের এলাকায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২৫ হাজার ফুট উচ্চতার নিচে কোনো বিমান দেখা গেলে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে—সেই সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে নোটেমে।

গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরীর বড় একটি বহর। এই বহর আসার পরের দিনই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দিল সেন্টকোম।

২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিক্ততা শুরু হয় তেহরানের। পরে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই শত্রুতা আরও গভীর হয়।

তেহরানের পরমাণু প্রকল্প ঘিরে গত বছর জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতও হয়েছে ইরানের। ১২ দিনের সেই সংঘাতে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়, নিহত হন ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার এবং পরমাণু বিজ্ঞানী।

সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতি হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা হ্রাস পায়নি, উপরন্তু ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সেই উত্তেজনাকে ফের উসকে দিয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে চলতি জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চলেছে এই বিক্ষোভ। বিক্ষোভের সময়েই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে কোনো সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের নির্দেশেই জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল থেকে রওনা হয়ে ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছায় মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ বেশ কয়েকটি রণতরীর একটি বহর। এই বহর আসার পরের দিন ২৭ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দেয় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)।

এর কয়েক ঘন্টার মধ্যে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে লাইভ-ফায়ার মহড়ার ঘোষণা দেয় ইরান।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আগামী বেশ কিছুদিন মার্কিন বিমানবাহিনীর নাইন্থ এয়ারফোর্সের মহড়া হবে। মার্কিন বিমানবাহিনীর নাইন্থ এয়ারফোর্স ‘এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল’ বা এফসেন্ট নামেও পরিচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ বিষয়ক বিবৃতিটি পোস্ট করেছে সেন্টকোম। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এই মহড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকোম) আওতাভুক্ত এলাকায় শক্তি মোতায়েন, শত্রু বিমানবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা প্রদর্শন করবে এফসেন্ট। বেশ কিছুদিন এই মহড়া চলবে।’

এর মধ্যে দ্বিতীয় নৌবহর পাঠানো হচ্ছে উল্লেখ করে ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক বক্তব্যে বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে আরেকটি সুন্দর নৌবহর ইরানের দিকে ভেসে যাচ্ছে। আমি আশা করি, তারা আমাদের সঙ্গে চুক্তি করবে।’

এর আগে সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড় নৌবহর ইরানের কাছে অবস্থান করছে। এখন তিনি জানালেন দ্বিতীয় নৌবহর দেশটির দিকে যাচ্ছে।

এদিকে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল একটি রণতরী পৌঁছানোর পর এবং ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে দুজন ফোনে কথা বললেন।

মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজের সঙ্গে আলাপকালে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই হুমকি শুধু এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নষ্ট করবে এবং অস্থিরতা বাড়াবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, অর্থনৈতিক চাপ বা বাইরের হস্তক্ষেপ দিয়ে ইরানিদের দমানো যাবে না।

সৌদি যুবরাজ এই আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সৌদি আরব এ অঞ্চলের শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ইরানের ওপর হামলার জন্য সৌদি আরবের আকাশসীমা বা মাটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তিনি যে কোনো বিবাদ আলোচনার মাধ্যমে মেটানোর ওপর জোর দেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ববিতে “বিইউ আইএসএসএফ”- এর গ্র্যান্ড ওপেনিং ও সাইবার টক অনুষ্ঠিত

Published

on

By

মাফিদুল হাসান, ববি

ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বরিশাল ইউনিভার্সিটি ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমস সোসাইটি এন্ড সিকিউরিটি ফোরাম ( বিইউ আইএসএসএফ) কতৃক গ্র্যান্ড ওপেনিং ও সাইবার টক অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এই সেমিনারে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বেসিক সাইবার সিকিউরিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ক্রিটিক্যাল থিংকিং এবং এভরিডে আইটি বিষয়ের ওপর আয়োজিত “The Everyday Tech & Logic Quiz” নামক অফলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা।

এই সংগঠনের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার এবং ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরতে এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মোঃ মামুন অর রশিদ। এসময় তিনি বলেন, “ব‍্যাক্তির চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বড়,আর বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে দেশ বড়। ব‍্যাক্তি স্বার্থের জন্য অন্যের ক্ষতি করা যাবেনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না বুঝে এমন কোনো তথ্য শেয়ার করা যাবে না যাতে করে অন্যের ক্ষতি সাধন হয় এবং সমাজ তথা রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।কেননা এই দেশ আমাদের,দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল, সহযোগী অধ্যাপক ড. মঞ্জুর আহমদসহ আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

Continue Reading

top3

ডিজিটাল রূপান্তরের পথে বেরোবির লাইব্রেরি:নতুন বই, বিশ্বমানের ই-জার্নালের সাথে চালু হচ্ছে অটোমেশন

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিবান্ধব করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে লাইব্রেরিতে অটোমেশন, ই-রিসোর্স বৃদ্ধি, নতুন বই সংযোজন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ডিজিটাল ও ই-রিসোর্স সংযোজন:

শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ সহজ করতে আন্তর্জাতিক মানের ই-বুকস ও ই-জার্নালের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকাশনার (JSTOR এবং Emerald) ই-জার্নাল ক্রয় করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইপি (IP) অ্যাড্রেস ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই ডাউনলোড ও পড়তে পারছেন।এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) (HEAT) প্রকল্পের আওতায় ৭টি প্রকাশনার প্রায় ৩০,৭০০ শিরোনামের ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার ই-বুকস ও ই-জার্নাল ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে অটোমেশনের প্রাথমিক ধাপের কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

নতুন বই সংযোজন:

শিক্ষার্থীদের পাঠ্যচাহিদা পূরণে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয় করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে রিডিং রুমে পাঠের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালে প্রায় ২৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই এসব বই লাইব্রেরি সংগ্রহে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা:

শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ালেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইব্রেরি ভবনের পশ্চিমাংশে আউটডোর রিডিং জোনে উভয়মুখী বসার বেঞ্চ ও টেবিল স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ অংশেও একই ধরনের বসার ব্যবস্থা করার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দুটি আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও (স্টাফদের) যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে ভবনের বাইরে গাড়ি রাখার জন্য একটি গ্যারেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইনডোর ও আউটডোর উভয় জোনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভাবনা:

লাইব্রেরির এই আধুনিকায়ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, লাইব্রেরিতে JSTOR এবং Emerald-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের ই-জার্নাল যুক্ত হওয়া আমাদের জন্য দারুণ একটি সুযোগ। আগে গবেষণার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ভালো আর্টিকেল বা বই আমরা পেতাম না। এখন ক্যাম্পাসের আইপি ব্যবহার করে খুব সহজেই এগুলো ডাউনলোড করে পড়তে পারছি। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনে বসার সুন্দর ব্যবস্থা ও নতুন ওয়াশরুমের সুবিধা দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে পড়ার ক্ষেত্রে বেশ স্বস্তি দেবে।

একই বিষয়ে নাম প্রকায় না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি হলো তার শিক্ষা ও গবেষণা। সেন্ট্রাল লাইব্রেরিকে এভাবে প্রযুক্তিবান্ধব ও আধুনিক করার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিপুল পরিমাণ ই-বুক ও ই-জার্নাল সংযোজন শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। একই সাথে নতুন বইয়ের সংযোজন এবং লাইব্রেরির অটোমেশন প্রক্রিয়া শিক্ষক ও গবেষকদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচাবে।

অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম:

আর্কাইভস সেকশনকে সমৃদ্ধ করতে ২০১১ সাল থেকে অদ্যাবধি বাছাইকৃত ৬টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পত্রিকা টেন্ডারের মাধ্যমে বাঁধাইকরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি লাইব্রেরি ভবনের ৩য় তলার আংশিক সম্প্রসারণের কাজও খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, এসব উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার সিংহভাগই ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

Continue Reading

top3

বেরোবিতে শহিদ আবু সাঈদ গেট নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন

Published

on

By

বেরোবি প্রতিনিধি;

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহিদ আবু সাঈদের পিতা মোঃ মকবুল হোসেন । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান প্রমুখ।

নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোঃ ফেরদৌস রহমানের সঞ্চালনায় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি। তিনি বলেন, আবু সাঈদ মুক্তিকামী মানুষের প্রতীক। আমরা রংপুরকে নিয়ে তিনটি কারণে গর্ববোধ করতে পারি। প্রথমত, যার নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া। দ্বিতীয়ত, রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত এই ভাওয়াইয়া গানকে সারা বিশ্বে সমৃদ্ধ করেছেন সুরসম্রাট আব্বাস উদ্দিন। এবং তৃতীয়ত, শহিদ আবু সাঈদ, জুলাই আন্দোলনের বীর আবু সাঈদ যেভাবে বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে, রংপুরের মানুষ যে সাহসী- তা সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কাছে এখন পরিচিত। এই তিন ব্যক্তিত্ব রংপুর অঞ্চলের গর্ব। মন্ত্রী বলেন, ২৪-এর আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশ এখন সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে একনেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাস করার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে যে কয়টি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম জুলাই আন্দোলন। শহিদ আবু সাঈদের আত্মদানের ঘটনা বিশ্বের বুকে সবার উপরে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে পাস করা হবে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে আধুনিক ও যুগোপযোগী সাবজেক্ট যেমন—রোবটিক্স, এআই, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স—এগুলি খুব দ্রুত চালু করা হবে। এছাড়া শিক্ষক সংকট দূর করতে নতুনভাবে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও শুরু হবে। উত্তরাঞ্চলের এই বিদ্যাপীঠকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

সভাপতির বক্তব্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, শহিদ আবু সাঈদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই গেট শুধু একটি প্রবেশদ্বার নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা, মূল্যবোধ ও চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য স্মারক। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সহযোগিতায় এবং বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুগোপযোগী নতুন কিছু সাবজেক্ট বা বিভাগ চালুর জন্য ইতিমধ্যেই ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আরো সমৃদ্ধ হবে বলে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেরোবি শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন, রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন এবং রিফাত হোসেন রাফি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

Trending