Connect with us

top1

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: হাসিনাকে আগেই ‘সতর্ক’ করেছিলেন মেজর মোস্তাক

Published

on

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দুদিন আগেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পিলখানায় না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।

২০০৯ সালে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা পেয়েছে ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’। দীর্ঘ ১১ মাস তদন্ত শেষে গত রোববার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় দরবার হলের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেখ হাসিনা কেন যাননি। ১৮ নম্বর কয়েদি সাক্ষী মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের জবানবন্দিতে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

জবানবন্দির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিডিআর সদর ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মোস্তাক ২৫ ফেব্রুয়ারির দু-একদিন আগেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মেজর (অব.) শোয়েব মো. তারিক উল্লাহকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি মেজর শোয়েবকে বলেছিলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী যেন পিলখানায় না আসেন।

সাক্ষী মতিন জানান, মেজর শোয়েব পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, শেখ হাসিনা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় যাবেন না।

সোহেল তাজের ইউনিফর্ম ও কৌতূহল

তদন্ত প্রতিবেদনে বিডিআর সদর দপ্তরে কর্মরত দরজি আকাশের জবানবন্দিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজের জন্য ইউনিফর্ম বানানোর একটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।

আকাশ জানান, ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সদর রাইফেল ব্যাটালিয়নের মেজর মোস্তাকের নির্দেশে তিনি সোহেল তাজের শরীরের মাপ নিতে তার দপ্তরে যান। এ সময় বিডিআর বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ডিএডি তৌহিদ তার সঙ্গে ছিলেন। মাপ নেওয়ার কিছুদিন পরই ইউনিফর্ম তৈরি করে তিনি সোহেল তাজের দপ্তরে পৌঁছে দেন।

দরজি আকাশের ভাষ্যমতে, সোহেল তাজের জন্য বানানো ওই ইউনিফর্মে কোনো র‍্যাংক ব্যাজ লাগানো ছিল না, তবে ‘ডিপ সাইন’ ছিল। ইউনিফর্ম পৌঁছে দেওয়ার দিন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়নি।

জবানবন্দিতে আকাশ আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্যারেড দেখতে আসবেন বলে নিজের জন্য ইউনিফর্ম বানাচ্ছেন—এমন ‘অভূতপূর্ব’ ঘটনা জানাজানি হলে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডে শহিদ কর্নেল আনিস ও মেজর হুমায়ুনসহ অনেকেই তখন ইউনিফর্মটি দেখেছিলেন।

প্রেক্ষাপট

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে চালানো হয় নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। ওই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কজনক এই অধ্যায়টি তদন্তে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ গঠন করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত রোববার (১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে কমিশন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

অটোপাসের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না: শিক্ষামন্ত্রী

Published

on

By

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, মেধাভিত্তিক জাতি গঠনের জন্য পরীক্ষার সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। অটোপাসের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় ‘ডিজিটাল ডিভাইসের’ মাধ্যমে নকল প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

সভায় মন্ত্রী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো ফের তদন্ত করে হালনাগাদ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী নির্দেশনা দেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের যথাযথভাবে বডি সার্চ নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ জোরদার করতে হবে। পরীক্ষা চলাকালে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন বা প্রশ্নসংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট আপলোড হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রের টয়লেটে নকল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হবে। নকল প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় মোটিভেশনাল মিটিং আয়োজন করা হবে।

তিনি ব্যবহারিক পরীক্ষায় গড় নম্বর দেয়ার প্রচলিত প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Continue Reading

top1

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল

Published

on

By

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ কেন অবৈধ হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। রিটের বিরোধিতা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তাদের সহযোগিতা করেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা, আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন, আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এর আগে গত সোমবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক রিট দায়ের করা হয়।

রিটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিল চাওয়া হয়। এছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি ও অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম রিট দুটি দায়ের করেন।

এদিকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ বাতিল ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে আরেকটি রিট দায়ের করা হয়। রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

Continue Reading

top1

সৌদির রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ হামলা

Published

on

By

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ইরানের ছোড়া ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিস্তারের মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুটি ড্রোন মার্কিন দূতাবাসে আঘাত করে। প্রাথমিক মূল্যায়নে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও কিছু স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে অবগত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ভোরের দিকে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং দূতাবাস ভবনে আগুনের শিখা দেখা যায়। রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন অবস্থিত। তাদের মধ্যে দুজন জানান, ভোরের সময় ভবনটি খালি ছিল এবং আগুন তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস রিয়াদ, জেদ্দা ও ধাহরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘শেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশনা জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাস এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনাটির পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Continue Reading

Trending