Connect with us

top1

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান হওয়া উচিত :ইউজিসি চেয়ারম্যান 

Published

on

ডেস্ক নিউজ 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেছন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে মেধাবীদের আকর্ষণবোধ করতে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সমান হওয়া উচিত।

রবিবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সমান হওয়া উচিত। যেন মেধাবীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে আকর্ষণবোধ করেন। মেধাবীদের শিক্ষকতায় আনতে না পারলে শিক্ষাব্যবস্থাকে আমরা এগিয়ে নিতে পারবো না, শিক্ষার্থীদেরও যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করা সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, আজ মহান শিক্ষক দিবস। আজকের আলোচনায় শিক্ষকদের কেমন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত, সেটাই মূখ্য বিষয়। আমরা তাদের কী ধরনের বেতন-ভাতা দিচ্ছি এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কেমন দেওয়া উচিত; তা বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরি। গভীর মনোযোগের সঙ্গে আমাদের চিন্তা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা গ্লোবাল (বৈশ্বিক) হিসাব না হয় ভুলে গেলাম। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আমাদের শিক্ষকদের অবস্থান কোথায়? সম্প্রতি আমরা পাকিস্তান গিয়েছিলাম। পাকিস্তানের উদাহরণ এজন্য দিচ্ছি যে, তারা সব দিক দিয়ে আমাদের তুলনায় পিছিয়ে। সেখানে অন্য পেশাজীবীদের চেয়ে শিক্ষকরা দুই-তিনগুণ বেশি বেতন পান। অন্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের শিক্ষকরা যা পান, তা শুনলে অবাক হওয়ার মতো। তাদের ল্যাবরেটরি, গবেষণাগারও সমৃদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, অনেক দেশ আছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা যে বেতন-ভাতা পান, প্রাথমিকের শিক্ষকরাও তেমনই বেতন-ভাতা পান। এটা আমাদেরও করা উচিত। যেন মেধাবীদের আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আকর্ষণ করতে পারি। মেধাবীদের যদি আমরা শিক্ষকতায়; সেটা হোক প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনতে না পারি; তাহলে শিক্ষার্থীদেরও আমরা এগিয়ে নিতে পারবো না। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাবীদের জন্য আকর্ষণ রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতনের ‘দুরাবস্থা’ তুলে ধরে লেন, আমাদের সরকারি শিক্ষা কাঠামোতে সবচেয়ে নিচে রয়েছেন প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষকগণ। তারা কততম গ্রেডে বেতন পান? ১৩। একজন কম্পিউটার অপারেটরের স্কেলে আমরা তাকে ফেলেছি, এই হচ্ছে তার সম্মান। এবং উনি (প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক) উপজেলা হেড কোয়ার্টারে যেখানে উনার বেতনটা পান, ওই যে হিসাবরক্ষক— তার স্কেল হলো ১২। তাকে স্যার ডাকার মত অবস্থা। এই হচ্ছে আমাদের অবস্থা। স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাদ দিয়ে যদি হিসাব করি, আমাদের সরকারি কলেজের অধ্যাপক, তার স্কেল কত? ৪, অর্থাৎ উনি একজন যুগ্ম সচিবেরও নিচে অবস্থান করেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্ত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। অন্যদের মধ্যে ছিলেন- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুজান ভাইজ, ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (আইসিইএসসিও) মহাপরিচালক সালিম এম আল-মালিক। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক গোলাম মুস্তফা।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সংকট উত্তরণে জামায়াতের ৯ প্রস্তাব

Published

on

By

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত দলটির জেলা আমির সম্মেলন থেকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৯টি প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

সম্মেলনে সারাদেশের সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর আমিররা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এরমধ্যে অবিলম্বে গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে একটি সুস্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়। যাতে প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি জনগণের কাছে দৃশ্যমান হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, ‘হ্যাঁ’ ভোটে বিজয়ী ‘গণভোট’ একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মৌলিক রূপরেখা। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা ও সরকারের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য অশুভ সংকেত।

জ্বালানি সংকট নিরসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ
বর্তমান জ্বালানি সংকট দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, শিল্প খাতের উৎপাদন, কৃষি কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি, গ্যাস সংকট এবং জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে এবং উৎপাদনশীল খাতকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জামায়াত জেলা আমির সম্মেল থেকে প্রস্তাব করেছে জ্বালানি খাতে বিদ্যমান দুর্নীতি, অনিয়ম ও অদক্ষতা চিহ্নিত করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করে দেশীয় গ্যাস, কয়লা ও নবায়নযোগ্য শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলা করা যায়। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অপচয় ও চুরি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতার জন্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। জ্বালানি সমস্যার কারণে কৃষকেরা মারাত্মকভাবে সার সংকটে নিপতিত হয়েছেন। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোতে দলীয়করণ বন্ধ করা

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহে দলীয়করণ, পক্ষপাতিত্ব ও প্রভাব বিস্তার সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নষ্ট হচ্ছে এবং জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে সম্মেলন থেকে প্রস্তাব করা হয়, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। সকল নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের জীবনযাত্রার মান রক্ষা করা

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বাজার সিন্ডিকেট, মজুদদারি ও তদারকির দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

এ অবস্থায় জামায়াত প্রস্তাব করছে বাজার সিন্ডিকেট, কারসাজি ও মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তদারকি জোরদার করতে হবে। ভর্তুকি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও টার্গেটেড সহায়তার মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে কার্যকর সহায়তা প্রদান করতে হবে। কৃষক ও উৎপাদকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। হামের ভয়াবহ আক্রমণে জনস্বাস্থ্য আজ মারাত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন। এ থেকে উত্তররণের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূল

দেশব্যাপী চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তার জননিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হবে। এ প্রেক্ষিতে সম্মেলন থেকে প্রস্তাব করা হয়- অপরাধীদের দলীয় পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে তাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিচার ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ, দ্রুত, কার্যকর ও সময়োপযোগী করে অপরাধ দমনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা জোরদার করতে হবে। সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের অন্যায়ভাবে হত্যা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মুক্ত করে দেয়া

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থাণের প্রেক্ষাপট, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের চরিত্র উন্মোচন এবং জাতির আত্মত্যাগের ইতিহাসকে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে অতি দ্রুত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এজন্য জুলাই জাদুঘরে প্রবেশমূল্য না রাখা। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্যাম্পেইন করা। জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণার জন্য দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

রাষ্ট্রের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই স্থানীয় পর্যায়ের সকল স্তরে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সরকার দলীয় নেতাদের অপসারণ করতে হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারকে ভূমিকা রাখতে হবে। আর্থিক খাত ভেঙে পড়লে রাষ্ট্র তার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না, জনগণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে দলীয়করণ করা যাবে না। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অর্থ লোপাটকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দখলবাজি বন্ধ করতে হবে। গ্রাহকদের আমানত রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা সরকারকে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও মুসলিম বিশ্বের করণীয়

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয় মুসলিম বিশ্বকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। নিরীহ মানুষের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আন্তর্জাতিক বিবেককে নাড়া দিচ্ছে এবং বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে সম্মেলন মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান- মুসলিম দেশসমূহ পারস্পরিক বিভেদ ও দ্বন্দ্ব পরিহার করে কার্যকর ঐক্য ও সহযোগিতা গড়ে তুলবে। সংঘাত নিরসনে সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও ফলপ্রসূ কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ সুগম করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিতভাবে জোরদার করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

Continue Reading

top1

হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয় পরীক্ষা করছে ভারত সরকার: রণধীর জয়সওয়াল 

Published

on

By

সাবেক প্রধানমন্ত্রী পলাতক শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার (প্রত্যর্পণ) বিষয়ে ঢাকা থেকে পাঠানো অনুরোধ ভারত সরকার পরীক্ষা করে দেখছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই তথ্য জানান।

প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তোলা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘অনুরোধটি বর্তমানে চলমান বিচার বিভাগীয় এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা এই ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাব।’

৮ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফর ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তার বৈঠক প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের ফলাফল আমরা আগেই জানিয়েছি। আমি আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করার আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’

রণধীর জয়সওয়াল আরো জানান, উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে অংশীদারত্ব আরো গভীর করার প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখতে একমত হয়েছে। শিগগিরই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ৮ এপ্রিল দিল্লি সফর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ সময় তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর ১০ এপ্রিল মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওই বৈঠকের বিষয়ে কথা বলেন খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি। এই সফরে আমরা সেই দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছি।’ তবে কৌশলগত কারণে আলোচনার সব তথ্য এখনই প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন।

Continue Reading

top1

দেশ রক্ষায় সামরিক স্বেচ্ছাসেবী হতে চান ২৬ মিলিয়ন ইরানি

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা সামলিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে গেছে ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের এ যুদ্ধবিরতি যেকোনো কারণে যেতে পারে ভেঙ্গে। এমন হলে আবারও হামলার শিকার হতে পারে তেহরান।

এরইমধ্যে, দেশ রক্ষায় সামরিক সেবায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নাম নিবন্ধন করেছেন ২৬ মিলিয়নের ( ২ কোটি ৬০ লাখ) বেশি ইরানি নাগরিক। এমন দাবি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির।

আইআরআইবির খবরে বলা হয়, ‘স্যাক্রিফাইস ইয়োর লাইফ’ শীর্ষক একটি প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশটির জনগনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে এই ব্যাপক সাড়া।

ধারণা করা হচ্ছে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করা হবে এই স্বেচ্ছাসেবীদের।

এছাড়া শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো রক্ষার জন্য ‘হিউম্যান চেইন’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে তেহরানের।

আইআরআইবির তথ্য, স্বেচ্ছাসেবীদের তালিকায় রয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ ছাড়া তার মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য, বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা, ক্রীড়াবিদ এবং শিল্পীরাও নাম লিখিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিজের নাম নিবন্ধন করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফও।

Continue Reading

Trending