Connect with us

আইন-আদালত

বাতিল ইভিএম, ফিরল ‘না ভোট’

Published

on

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। আরপিওতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইভিএম ব্যবহার বাতিল, ‘না ভোট’ পুনর্বহাল, প্রার্থীদের দেশি-বিদেশি আয় ও সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পলাতক আসামিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা।

আজ বৃহস্পতিবারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আরপিও সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকের পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ২০২৫ চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরাম খালাস

Published

on

By

একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খালাসের এ রায় ঘোষণা করেন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা-গণহত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে মৃত্যুদণ্ড এবং খান আকরাম হোসেনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বলা হয়, আসামি সিরাজের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর আকরাম দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটিতে। রায়ের পর খান আকরাম হোসেন আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, খান আকরাম হোসেনের জন্ম ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটি গ্রামে। বাবার নাম জয়নাল আবেদীন খান, আর মা জুলেখা বেগম। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেন আকরাম। এরপর ভোল পাল্টে সরকারি চাকরি পান তিনি।

কিশোর বয়সে যুদ্ধাপরাধে অংশ নেওয়া আকরাম কৃষি বিভাগের মেকানিক হিসেবে ২০১১ সালে অবসরে যান। সিরাজ মাস্টারের মত আকরামও একাত্তরে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন এবং বাগেরহাট অঞ্চলে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতায় নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধে অংশ নেন।

Continue Reading

top1

যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছর কারাদণ্ড

Published

on

By

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের পৃথক দুই ধারায় ১০ বছর করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেনের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফকির মো. জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই ধারায় সম্রাটকে ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে ৬ মাস করে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।

এ মামলায় ৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজকের তারিখ ধার্য করেছিলেন আদালত।

২ ফেব্রুয়ারি মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মোট ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর সম্রাটকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর তাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ওই বছরের ১২ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

Continue Reading

top1

চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো ‘সাহসী’ তাজুল ইসলামকে

Published

on

By

পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামকে। তার জায়গায় নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বহুল আলোচিত বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যেই এ পরিবর্তন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিচারকাজের গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। তার আন্তরিকতা, সাহসিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যূনালে জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারকাজ দ্রুততার সঙ্গে এগিয়েছে। তার দেড় বছরের দায়িত্বকালে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির ফাঁসিসহ বিভিন্ন কারাদণ্ড হয়েছে।

বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ও তার টিম এবং বিচারকরা এর প্রশংসার দাবিদার। তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ট্রাইব্যূনালে চলমান মামলাগুলো আগের গতিতে এগোবে কি না এ নিয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেন।

নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুলের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে। তিনি খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ইতঃপূর্বে দায়িত্ব পালন করেন। গতকাল সোমবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর মনজুরুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নতুন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

বিদায় বেলায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব পালনে তিনি সবার সহযোগিতা পেয়েছেন এবং নতুন চিফ প্রসিকিউটরও একই সহযোগিতা পাবেন বলে আশা করেন। তিনি বলেন, যে অপরাধগুলোর বিচার চলছে, সেগুলোর রায় সম্পন্ন হওয়ার পর যেন বাংলাদেশে আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা এ ধরনের অপরাধকে আর অ্যাফোর্ড করতে পারব না। আবার গুম হয়ে যাবে, যখন-তখন যাকে খুশি তুলে নিয়ে হত্যা করবে। পুলিশ নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মারবে এমন দিন আমরা আর দেখতে চাই না।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনিক পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয় এবং আমি মনে করি, এখানে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। নতুন যিনি দায়িত্বে আসছেন, তিনি বিচারপ্রার্থী নির্যাতনের শিকার ও বেদনাহত মানুষের কথা মাথায় রাখবেন। তাদের প্রতি সুবিচারের স্বার্থে এ বিচারপ্রক্রিয়া সামনে অগ্রসর হবে।

চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে তাজুল ইসলামের ভূমিকা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায়। জুলাই-আগস্টের এক মাসের আন্দোলনে এক হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হন এবং ২৫ হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতা মারাত্মকভাবে আহত হন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার যাত্রা শুরু করে। এরপর জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে তাজুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তাজুল ইসলাম প্রায় দেড় বছর চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশি-বিদেশি সব বাধা-হুমকি উপেক্ষা করে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারে দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে যান। নানা বাধা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাসহ জুলাই খুনিদের বিচারে সাহসী ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনা ও র‌্যাব কর্মকর্তাদের বিচার শুরুর ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন।

ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত মামলার রায়

তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ। এর মধ্যে ২১টি মামলার বিচার চলছে এবং তিনটির রায় ঘোষণা হয়েছে। ঘোষিত রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২৬ জন দণ্ডিত হন।

রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলা। এছাড়া রামপুরায় সংঘটিত একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের মামলারও বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানও। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট বহু এমপি-মন্ত্রীও এখন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি।

তাজুল ইসলামের দৃঢ় ভূমিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যা প্রথম মামলায় পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ ঘোষিত এ রায়ে আরো পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং পলাতক আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরপর ট্রাইব্যুনাল-২-এ আশুলিয়ায় আন্দোলনকারীদের হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মামলার রায় হয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি। সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করে।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে এবং রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এছাড়াও সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এমন মামলার মধ্যে রয়েছে, শেখ হাসিনা এবং ১১ জন সেনা কর্মকর্তা ও অন্যান্যসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের অভিযুক্ত মামলা। জেআইসি বা আয়নাঘরে গুমের মামলার শেখ হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। শতাধিক মানষকে গুম খুনের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান। অন্যদিকে জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিচার শুরু হয়েছে।

জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ীর তাইমুর হত্যা মামলা, কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি জঙ্গি নাটকে গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত চলমান মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালের হেফাজত হত্যাকাণ্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভে গণহত্যা, জুলাই বিপ্লবে ফার্মগেটে গণহত্যা, উত্তরায় তাপস-নানকের গণহত্যার মামলা।

এসব মামলা অল্প সময়ের মধ্যে বিচারের প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার পেছনে বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের কঠোর পরিশ্রম, চেষ্টা ও আন্তরিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সব মিলিয়ে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২-এ ২৪টি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে; ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১৮টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ ছয়টি। বিচার চলছে ২১টি মামলার, ট্রাইব্যুনাল-১-এ ১৬টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ পাঁচটি। রায় ঘোষণা হয়েছে তিনটি; ট্রাইব্যুনাল-১-এ দুটি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি।

সাজা দেওয়া হয়েছে শেখ হাসিনাসহ ২৬ জনকে। একজনকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। বিচারাধীন মামলায় সর্বমোট আসামির সংখ্যা ৪৫৭ জন। উভয় আদালতে গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা ১৬১ জন। পলাতক আসামির সংখ্যা ২৯৩ জন। জামিন দেওয়া হয়েছে একজনকে। মারা গেছেন একজন এবং খালাস পেয়েছেন একজন।

এছাড়া রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ মামলা দুটি। আবু সাঈদ হত্যা মামলা ও রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলির মামলা। এ দুই মামলায় ৩৫ জন আসামি। বিচারাধীন মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির মধ্যে আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীসহ গ্রেপ্তার ৭৪ জন। এছাড়া পুলিশের ৬৫ জন, সেনাবাহিনীর ২০ জন ও আনসারের একজন।

এছাড়া বিবিধ মামলার সংখ্যা ৩৪টি, ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৩২টি ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ দুটি। আসামির সংখ্যা ২২১ জন। গ্রেপ্তার ৯৬ জন। পলাতক ১২৫ জন।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বিচারকাজে সহযোগিতা করব আমিনুল

গতকাল সোমবার চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আমিনুল ইসলাম। দুপুর আড়াইটার দিকে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এ সময় বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান।

এরপর প্রেস ব্রিফিংয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে যেসব বিচার চলমান আছে এবং আগামী দিনে যে মামলাগুলো বিচারের জন্য আসবে, আমি সম্পূর্ণরূপে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, আমি শুধু একটা কথা বলতে চাই। এ ট্রাইব্যুনালে যেসব অপরাধী বিচারের সম্মুখীন তাদের জন্য সুস্পষ্ট মেসেজযারা কোনো অন্যায় করেনি, অন্তত প্রসিকিউশনের মাধ্যমে তারা কোনো হয়রানির শিকার হবেন না। কিন্তু যারা প্রকৃত অপরাধী তাদের প্রাপ্য সাজা পেতে হবে।

নতুন সরকারের অধীনে ট্রাইব্যুনালের বিচার মন্থর হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজের গতি আরো বাড়বে বলে আমি প্রত্যাশা করছি।

Continue Reading

Trending