Connect with us

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে লাফিয়ে বাড়ছে তেল-গ্যাসের দাম

Published

on

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বেড়েছে তেলের দাম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহের চেয়েও দীর্ঘায়িত হতে পারে। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৬ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই সংঘাতের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি ও সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে চলতি বছরে তেলের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছিল।

ইরানের তেল উৎপাদন বিশ্ব চাহিদার ৫ শতাংশেরও কম হলেও বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশের বেশি পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেলবাজারের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় শিপিং কোম্পানি ওই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করেছে।

সোমবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের হামলা অব্যাহত রাখবে। তিনি ধারণা করেন, সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, এমনকি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধেও রূপ নিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘সময় যাই লাগুক, সমস্যা নেই। আমরা শুরুতে ৪-৫ সপ্তাহ ভেবেছিলাম, তবে প্রয়োজন হলে আরও দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর সক্ষমতা আমাদের আছে।’

প্রাইস-ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গ্যাস স্টেশনগুলোতে দাম বাড়তে শুরু করেছে। রোববার থেকে জাতীয় গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের খুচরা মূল্য বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৭ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

ফলে গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য সামনে আরও কঠিন সময় আসতে পারে।

জেপি মরগানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমি ডিমন সিএনবিসিকে বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদে এটি গ্যাসের দাম কিছুটা বাড়াবে। যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত না হয়, তবে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতি নাও হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় চললে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।’

মঙ্গলবার মার্কিন শেয়ারবাজারে লেনদেনের শুরুতে বড় পতন দেখা গেলেও দিনশেষে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়। তবে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনা ও ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। সোনার দাম ২ শতাংশ বা ১০০ ডলারের বেশি বেড়েছে।

তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতার জানিয়েছে, তাদের অপারেটিং স্থাপনায় হামলার কারণে এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এ খবরের পর ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ ডলারের ওপরে ওঠে, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। গত শুক্রবার থেকে হিসাব করলে মোট বৃদ্ধি ১৫ শতাংশেরও বেশি।

ইউরোপে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার পর কিছুটা কমেছে, যদিও সোমবারও তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছিল। একই সঙ্গে চিনি, সার ও সয়াবিনের দামও ঊর্ধ্বমুখী।

ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরাক মঙ্গলবার জানিয়েছে, তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে লোডিং পয়েন্টে পৌঁছাতে না পারে, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে।

ইরাকি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে দেশটি রুমাইলা তেলক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৭ লাখ ব্যারেল এবং পশ্চিম কুরনা-২ ক্ষেত্র থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে।

ইরান পাঁচটি জাহাজে হামলা চালানোর পর টানা চতুর্থ দিনের মতো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করবে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে ইরানের ক্লাস্টার ব্যালাস্টিক মিসাইল

Published

on

By

ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ক্লাস্টার বোমার সাব-মিউনিশন (ছোট বিস্ফোরক) আকাশ থেকে পড়ে আসার সম্ভাব্য দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান তাদের দিকে ছোড়া কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে ক্লাস্টার বোমা ওয়ারহেড ব্যবহার করেছে।

টাইসস অব ইসরায়েলের লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে আকাশ থেকে একাধিক ছোট বিস্ফোরক মাটির দিকে পড়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ক্লাস্টার বোমার সাব-মিউনিশন।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, এই ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড মাটির দিকে নামার সময় মাঝ আকাশে খুলে যায়। এরপর এর ভেতর থেকে প্রায় ২০টি ছোট বিস্ফোরক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিটি সাব-মিউনিশনে প্রায় ২.৫ কেজি বিস্ফোরক থাকে এবং সেগুলো প্রায় ৮ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাস্টার বোমা অত্যন্ত বিপজ্জনক অস্ত্র। কারণ এর অনেক সাব-মিউনিশন বিস্ফোরিত না হয়ে মাটিতে পড়ে থাকতে পারে, যা পরে সাধারণ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্বের অনেক দেশ এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করলেও এখনো সব দেশ সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় ইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Continue Reading

top3

ইরানকে ক্ষমা চাইতে হবে : আলিয়েভ

Published

on

By

আজারবাইজানে ড্রোন হামলায় দুইজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইরানের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটির স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র নাখচিভানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল, একটি স্কুল ও অন্যান্য এলাকা ইরানের কাপুরুষোচিত হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় একটি জরুরি সভা আহ্বান করেছেন ইলহাম আলিয়েভ।

আলিয়েভ বলেন, ‘নাখচিভান স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্রের ভূখণ্ডে ইরানি মনুষ্যবিহীন বিমানবাহী যান দিয়ে গুলি চালিয়েছে। লক্ষ্য ছিল বেসামরিক মানুষ। আজারবাইজান রাষ্ট্র এই কুৎসিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায়। যারা এটি করেছে, তাদের অবিলম্বে জবাবদিহি করতে হবে।’

এই ঘটনার পর আজারবাইজান বাকুতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। যদিও ইরানের কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আজারবাইজানে কোনো ড্রোন হামলা করেনি।

Continue Reading

top1

চলমান সংঘাতে ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত!

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলায় সংঘাত তীব্র হয়েছে। এ সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৫০০-র বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। কর্মকর্তা আলি লারিজানি এ দাবি করেছেন।

পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ‘অন্যায় যুদ্ধ’ বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে চারজন কুয়েতে নিহত হয়েছেন।

বুধবার (৪মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লারিজানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘ভাঁড়ামিপূর্ণ আচরণে’ প্রভাবিত হয়েছেন। তার অভিযোগ, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে ইরানের বিরুদ্ধে একটি অন্যায় যুদ্ধে জড়িয়ে দিয়েছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

পোস্টে তিনি লেখেন, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ৫০০-র বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এখন ট্রাম্পকে হিসাব করতে হবে-যুক্তরাষ্ট্র কি এখনও সবার আগে, নাকি ইসরায়েল? বর্তমানে লারিজানি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল-এর প্রধান। এর আগে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘গল্প এখানেই শেষ নয়।’তিনি আরও বলেন, ‘ইমাম খামেনির শাহাদাতের জন্য আপনাদের বড় মূল্য দিতে হবে, ইনশাআল্লাহ। সরকারি হিসাবে, চার দিনের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে ১৬৫ জন স্কুলশিশুর মৃত্যুর খবর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নিজের বাসভবনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থানকালে হামলার লক্ষ্যবস্তু হন খামেনি। নিহতদের মধ্যে তার স্ত্রী, মেয়ে, পুত্রবধূ, জামাতা ও নাতি-নাতনিও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নেতৃত্ব কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে লারিজানি বলেন, ইরান ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার যে প্রস্তাব ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি দিয়েছিলেন, তা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা মধ্যস্থতা করছিল ওমান

Continue Reading

Trending