Connect with us

ক্যাম্পাস

রাবি সমাজকর্ম বিভাগে গবেষণা পদ্ধতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ

Published

on

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সমাজকর্ম বিভাগে আয়োজিত গবেষণা পদ্ধতি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজউদ্দিন আহমেদ একাডেমিক ভবন-এর সমাজকর্ম বিভাগের  গ্যালারি কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কাউন্সিল (এসএসআরসি)।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়ক ও সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহিদুর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, সমসাময়িক একাডেমিক ও পেশাগত পরিসরে গবেষণার গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে মানসম্মত গবেষণা পরিচালনা সম্ভব নয়। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণা নকশা প্রণয়ন, উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কৌশল সম্পর্কে কাঠামোবদ্ধ ধারণা প্রদান করা হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তোলা এবং পদ্ধতিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা হলে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সক্ষম হবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন  বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হলো জ্ঞান সৃষ্টি, সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ। গবেষণা পদ্ধতিতে দক্ষতা অর্জন শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ও নৈতিক গবেষণা চর্চা সমাজের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান প্রস্তাবনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, সমাজকর্ম একটি গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী শাস্ত্র, যেখানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রমাণনির্ভর জ্ঞান অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, সমাজের বহুমাত্রিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, বিশ্লেষণ এবং টেকসই সমাধান প্রস্তাবনায় সুসংগঠিত গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের গবেষণা-সংক্রান্ত ধারণা সুদৃঢ় করার পাশাপাশি পদ্ধতিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করে, যা তাদের একাডেমিক গবেষণা, থিসিস প্রণয়ন এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে সহায়ক হবে। বিভাগের পক্ষ থেকে গবেষণামুখী শিক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক তাফহিমুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ও সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন মজুমদার, অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম, বিভাগের অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম। এছাড়াও প্রভাষক মো. তানভীর হোসেন, প্রভাষক তাহমীদ তাজওয়ার, প্রভাষক মো. আব্দুল মজিদসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্স শ্রেণির মোট ৩৯ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ শেষে সনদ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ কোর্সে গবেষণা নকশা প্রণয়ন, গবেষণা প্রশ্ন নির্ধারণ, তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি, পরিমাণগত ও গুণগত বিশ্লেষণ এবং প্রতিবেদন প্রণয়নের কৌশলসহ গবেষণা পদ্ধতির বিভিন্ন দিক অন্তর্ভুক্ত ছিল।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার

Published

on

By

সানজিদা আক্তার সাথী, কুবি প্রতিনিধি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নতুন উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের দেওয়া এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। এছাড়াও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬-এর ১১(ক)(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকাকে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, উপ-উপাচার্য হিসেবে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। উপ-উপাচার্য হিসেবে তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল।

Continue Reading

top3

ইবিতে ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি, তদন্তে কমিটি গঠন

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগে প্রতারণামূলকভাবে ভর্তিকৃত ছাত্রী শামীমা আকতারের ভর্তি সংক্রান্ত সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা এবং এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার (২৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান এ কমিটি গঠন করেন।

অফিস আদেশে বলা হয়, প্রতারণামূলকভাবে ভর্তিকৃত ছাত্রী শামীমা আকতারের ভর্তি-সংক্রান্ত সকল তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

গঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক এবং মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. তোজাম্মেল হোসেন। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. বদিউজ্জামান।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহা. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ” আমি শুনেছি। আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। আনুষ্ঠানিক চিঠি পেলে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ শুরু করে দিব।”

উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহ আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রতারণার মাধ্যমে এক সেমিস্টার ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শামীমা আক্তার নামে এক ভুয়া শিক্ষার্থী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর ঘটনার তদন্ত এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে এ কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Continue Reading

top3

পাবিপ্রবি’র নবীন বরণ অনুষ্ঠানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের অংশগ্রহণ

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান।

রোববার (২৬ জুলাই) তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপপরিচালক মো. রাজিবুল ইসলামের বরাতে জানানো হয় দুপুর আড়াইটায় পাবিপ্রবি’র মিলনায়তনে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন উপাচার্য।

পাবিপ্রবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম-এর সভাপতিত্বে প্রোগ্রামে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান, সাংসদ মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এ. কে. এম সেলিম রেজা হাবিব, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহমিনা আখতার এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাছানাত আলী।

অতিথির বক্তব্যে ইবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান বলেন, “নবীন শিক্ষার্থীদের সুস্বাগত। তোমরা সৌভাগ্যবান, একটা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তোমরা এখানে জায়গা করে নিতে পেরেছো। আমাদের সমাজ, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট সবকিছু বিবেচনায় আমরা অনেক পশ্চাৎপদ অবস্থানে ছিলাম। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া নারী শিক্ষাবিস্তারের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি নারীদেরকে এইচএসসি পর্যন্ত বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন, যার ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া তাঁর পুরোটা জীবন এই দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন।”

শিক্ষার্থীদের নৈতিক এবং দায়িত্বশীল মানুষ হওয়ার জন্য উপদেশ দিয়ে উপাচার্য আরও বলেন, “কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষ, যাদের ট্যাক্স-এর টাকায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়, তাদের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তোমরা নৈতিক এবং দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান করছি।”

Continue Reading

Trending