Connect with us

top1

শিক্ষিকা হত্যা: চার দফা দাবিতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ, কী হয়েছিল সেদিন?

Published

on

স্টাফ রিপোর্টার:

গেল ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত নববর্ষ উদযাপন কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি শিক্ষিকা রুনা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত সহ ৪ দফা দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসময় দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনে ও প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়েছিলেন তারা। দুপুর ১২ টায় থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। প্রথমে নির্ধারিত সময়ের আল্টিমেটাম, পরে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি না পেয়ে অবস্থানরত বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন-সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে চার দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হল— নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সকল দোষীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, নির্মাণাধীন হল ম্যামের নামে নামকরণ করা ও বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া। তবে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে প্রশাসন ভবনের ভিতরে থাকা অবরুদ্ধ এক ব্যক্তির অসদাচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হন। ওই সময় উত্তেজিত অবস্থায় শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠনের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়।

তখন আন্দোলনরত বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, “ম্যাম হত্যার ৪২দিন পার হওয়ার পরেও আমরা দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। যার প্রেক্ষিতে প্রথমে অবস্থান কর্মসূচি করি এবং যথাসময়ে প্রশাসনের কোনো রেসপন্স না পেয়ে তালা দিলে ভিসি স্যার ও অন্যান্য শিক্ষকেরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পরবর্তীতে ভিসি স্যাররা ডিপার্টমেন্টে এসে আমাদের সাথে বসেন এবং আমরা ভিসি স্যারের কাছে ফেস টু ফেস অনেক কথাবার্তা বলেছি।”

ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে সমালোচনা ও অভিযোগ:

প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করলে ভিতর থেকে এক কর্মকর্তার সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা হয়। উত্তেজিত অবস্থায় পাশে টাঙানো ছবি সম্বলিত ব্যানার (ছাত্র সংগঠন, জিয়া পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত) ছিঁড়ে ফেলতে দেখা যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়। শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেন, “আমরা এতদিন আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটতে দেখিনি। হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়া উচিত।”

ব্যানার ছিঁড়ার বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেইদিন (১৫ এপ্রিল) বিকালে সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “এক কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে মিসবিহেভ করলে উত্তেজিত অবস্থায় ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনা ঘটেছে। যা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা ইচ্ছাকৃত করিনি। দুঃখপ্রকাশ করছি।”

কর্মচারীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগবিতণ্ডা:

চার দাবিতে প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেয় সমাজকল্যাণ বিভাগের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ওই সময় ভিতরে অবরুদ্ধ থাকা এক কর্মচারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উচ্চবাচ্য করতে শোনা যায়। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “তোমরা ভিসি স্যারের রুমে গিয়ে তালা দেও, আমাদের আটকিয়ে রাখছো কেন? আমাদের কষ্ট দিবি কেন? ওনার কাছে গিয়ে বিচার চাও, দরজার খুলে দাও। খুলে দিতে বলছি কিন্তু……”। পরপরই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এদিক থেকে শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, “কষ্ট কি শুধু আপনার হচ্ছে? পারলে বিচার আপনিও চান। ধৈর্য্য ধরতে হবে। বেশি কথা বাড়াবেন না, সরে যান এখান থেকে…..”। একপর্যায়ে “ওনারে ধর ধর” বলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা ছুটাছুটি করতে লাগছিলেন।

ব্যানার ছিঁড়ে অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদলিপি:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ও জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘জিয়া পরিষদ’ ও ‘ইউট্যাব’। দোষীদের সনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মনে করেন, প্রশাসন ভবনের সামনে কতিপয় ছাত্র নামধারী দুষ্কৃতিকারী দেশের আপসহীন নেত্রী সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিত করে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত হলদে পারে না। জাতীয় পতাকা আমাদের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। একইসঙ্গে দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা করা শুধু ব্যক্তির প্রতি নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর আঘাত। যারা এ ধরনের ঘৃণ্য কাজে জড়িত, তারা প্রকৃত ছাত্র হতে পারে না। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই অবমাননাকর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ব্যানার ছেঁড়ার ইস্যুতে শিক্ষকদের প্রতিবাদ সমাবেশ:

গত ১৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জাতীয়তাবাদী বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন ‘ইউট্যাব’ ও ‘জিয়া পরিষদ’। এসময় সংহতি জানিয়ে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা সংগঠন ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে কেউ ৭ দিন আর কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। ১৫ তারিখের ঘটনা ১৯ তারিখ পার হওয়ায় অনেকে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এসময় নেতৃবৃন্দ বলেন, “প্রশাসনিক চেয়ারে যারা বসে আছে তারা কী করে? যদি আপনারা সরকারের সম্মান রক্ষা করতে না পারেন তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে চলে যান। আর যদি দায়িত্ব উপযুক্তভাবে পালন করতে পারেন তাহলে দায়িত্বে থাকেন।”

তারা আরও বলেন, “খালেদা জিয়ার অবমাননা মানে বাংলাদেশের অবমাননা, একটি চক্র এরকম তাজ করেই যাবে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়।”

৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন:

প্রশাসন ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ভবনে তালা লাগিয়ে অবরুদ্ধ করা, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা, ভাংচুর করা, উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শাহীদ মিয়া-কে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা। অন্যান্য সদস্যরা হলেন- অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহাবুল আলম, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শহিদুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের দুঃখপ্রকাশ:

শিক্ষক সংগঠনের প্রতিবাদ সমাবেশের পর গতকাল (২০ এপ্রিল) বিষয়টা স্পষ্ট করতে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা দিলেন সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ঘটনার দিন (১৫ এপ্রিল) বিকেলেই আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকে আমরা দুঃখ প্রকাশ করেছি। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছি- গতকালকে আমাদের সম্মানিত শিক্ষকরা একটা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমরা জানি না। তারপরও যদি উনারা কষ্ট পেয়ে থাকেন; আমরা সমাজকল্যাণ পরিবারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চাই না ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার কেউ রাজনৈতিকভাবে অন্যদিকে ডাইভার্ট করুক।তারা বলেন, দাবি আদায়ে যখন আমরা প্রশাসন ভবনের গেটে তালা দিই, গুটিকয়েক শিক্ষার্থী ও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভিতরে আটকা ছিল। উনারা আমাদেরকে বলছিল যে “আপনারা গেট খুঁলে দেন”। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের তাড়া বা খুব বেশি সমস্যা যাদের ছিল, তাদের প্রবেশ/বাহির হওয়ার সুযোগ দিয়েছি। ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে কর্মচারীদের বলেছিলাম যে “ভিসি স্যার আসা পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করেন, যদি কথা বলে সন্তুষ্ট হই; আমরা আপনাদেরকে ছেড়ে দিব।”

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, একপর্যায়ে রেজিস্টারভুক্ত কর্মচারী কি-না জানি না, একজন লোক আমাদের সাথে এবং আমাদের মেয়েদের স্লেজিং করেন। রাগান্বিত অবস্থায় তেড়ে আসার চেষ্টা করেন। পরপরই হুমকি ধামকি দিচ্ছিল তিনি। তখন আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঐ মানুষটার সাথে একটু বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটায়। গেটের বামপাশের যে পুরোটা দৃশ্য বিভিন্ন ব্যানারে আটকা। ওখানে দেখা যায় না। উনি যখন ব্যানারের ওপাশে লুকিয়ে যায়, নিচ থেকে উনার (কর্মচারীর) পা দেখা যাচ্ছিল। তখন শিক্ষার্থীরা তাঁকে খুঁজতে গিয়ে ব্যানার বেখেয়ালি সরাতে যায়। ব্যানারগুলো সাধারণত শক্ত রশি দিয়ে টাঙানো না। কর্মচারীকে দেখতে গিয়ে উত্তেজিত অবস্থায় ব্যানারগুলো ছিঁড়ে পড়ে যায়। আমরা কোনো ইনটেনশনালি এই কাজ করতে যাইনি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী ম্যামের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে গিয়েছি।

আসামির রিমান্ড শেষে পরবর্তী প্রক্রিয়া:

শিক্ষিকা রুনা হত্যার প্রধান আসামির ২ দিন পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞেসাবাদের (রিমান্ড) পর বিজ্ঞ আদালতে রিপোর্ট জমা দিয়েছে পুলিশ। বাদীপক্ষ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ সাইদ এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান। যদি ঘটনাক্রমে আরও জিজ্ঞেসাবাদের প্রয়োজন পড়ে তারা যেকোনো সময় রিমান্ড চাইবেন। আসামি পক্ষ যদি জামিন চাওয়া তাহলে রাষ্ট্রপক্ষ নামঞ্জুরের প্রক্রিয়ায় যাবেন।

(প্রতিবেদনে সহযোগিতা করেছেন ক্যাম্পাস সাংবাদিক রবিউল আলম ও মোসাদ্দেক হোসেন)

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ

Published

on

By

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নতুন এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর করা সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।

জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। এ ছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে কোনো পশু স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেটিকে জবাইয়ের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার বিজেপি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো খোলা জায়গায় পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়মটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই নতুন আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ছাড়া এই সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই আমূল পরিবর্তন আনা হলো। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং নতুন সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Continue Reading

top1

ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

Published

on

By

পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে টানা দুই টেস্ট জিতে নতুন ইতিহাস লিখেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের লাল বলের সেই জয়ের ছন্দটা এবার লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ধরে রাখল ঘরের মাঠেও। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে অতিথি পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এতে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলার দামাল ছেলেরা। ঘরের মাটিতে প্রথমবার টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয় পেল দেশের ক্রিকেটাররা। এর আগে নিজেদের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য এসেছিল ২০১৫ সালে। ওই বছর খুলনাতে পাকিস্তানে সঙ্গে প্রথম টেস্ট ড্র করেছিল বাংলাদেশ। এই প্রথম ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারালো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।এই ব্যাট-বলের দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে দাপুটে এ জয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ফাইফারের দেখা পেয়েছেন নাহিদ রানা। তার ফাইফারের ওপর ভর করে মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬৩ রানে। তাতে ১০৪ রানের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রথম ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারালো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ব্যাটিংয়ের মাঝে ভালো করলেও শুরুতে আর শেষ দিকে দ্রুত উইকেট পড়ে যাওয়ায় লড়াই জমিয়ে তুলতে পারেননি পাকিস্তান। শেষের ৭ উইকেট সফরকারীরা হারিয়েছেন মাত্র ৪৪ রানের ব্যবধানে। যে কারণে লড়াই থেকে ছিটকে যায় শান মাসুদের দল। অথচ ৪ উইকেট হারিয়ে ১১৯ রান তুলে ফেলেছিল পাকিস্তান।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৬ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দেন আব্দুল্লাহ ফজল। আর ২৬ রান আসে সালমান আগার ব্যাট থেকে। দলীয় স্কোরে সমান ১৫ রান করে যোগ করেন আজান আওয়াইস, সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। নাহিদ ৪০ রান দিয়ে শিকার করে ৫ উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম।

তার আগে ১৭৯ রানের লিড নিয়ে আজ পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিমকে হারালেও লিড বাড়াতে কোনো সমস্যা হয়নি। ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে খেলা শুরু করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ব্যক্তিগত ১৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা মুশফিক ফিরে যান ৩৭ বলে ২২ রান করেই। শাহিন শাহ আফ্রিদির বাউন্সারে ফাইন লেগে ক্যাচ তুলে দেন লিটন দাস। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ২৮ বলে ১১ রান।


রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোরের শিকার হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ৫৮ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে সেঞ্চুরির আভাসই দিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক। কিন্তু জাদুকরী তিন অঙ্ক মিস করেছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি করার সুযোগ ছিল তার সামনে। তবে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান তিনি। শান্তকে শতক থেকে বঞ্চিত করেন নোমান আলী।

ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। নোমান আলীর বলে সালমান আগার হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ২৭ বলে ২৪ রান। তাসকিন আহমেদ অনেকটা ওয়ানডে স্টাইলে করছিলেন ব্যাট। ৬ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ১১ রান। হাসান আলীর বলে তার বিদায়ের পর ইনিংস ঘোষণা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাতে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২৬৭। আর তাতে পাকিস্তানের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ১ম ইনিংসে ৪১৩/১০ ও ২য় ইনিংসে ২৪০/৯ ডিক্লে. (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬, মিরাজ ২৪, মুশফিক ২২, তাসকিন ১১; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬, শাহিন ২/৫৪)।
পাকিস্তান: ১ম ইনিংসে ৩৮৬/১০ ও ২য় ইনিংসে ১৬৩/১০ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২)।
ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত।
সিরিজ: ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে।

Continue Reading

top1

বিএনপি নেতার ইয়াবা সেবনের ছবি ভাইরাল

Published

on

By

সম্প্রতি একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছে।

সবুজ মিয়া জামালপুর সদরের রানাগাছা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিতে সবুজ মিয়াকে নিচু হয়ে ইয়াবা সেবন করতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ওই এলাকার এক বিএনপি নেতা বলেন, সে আগে থেকেই মাদকের সঙ্গে যুক্ত। ২৩ সালে ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার আগেই সে মাদক সেবন করত।

এ বিষয়ে সবুজ মিয়া ছবিটি তার স্বীকার করে বলেন, ছবিটি কোনো এক ঈদের পরের দিন তোলা হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের পরের দিন একটু মজা করতে গিয়ে সবাই মিলে মাল খেয়েছি, বেড়ার ফাঁক দিয়ে কেউ ছবিটা তুলেছিল। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার কয়েক মাস পর এই ছবি প্রথমবার পোস্ট করা হয়েছিল একটি আইডি থেকে। দুই বছর পর কয়েক দিন ধরে নতুন করে ছবিটি পোস্ট করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমি নেশা করি না, আগে মাঝেমধ্যে টুকটাক করলেও এখন করি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিউর রহমান সফি বলেন, মাদকের সঙ্গে যুক্ত কেউ বিএনপির রাজনীতিতে থাকতে পারে না। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পেলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে

Continue Reading

Trending