Connect with us

top2

শুরুতেই ধাক্কা খেল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ

Published

on

সংবিধান সংস্কার পরিষদ

সংবিধান সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। গণভোটে ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে জনগণ। এতে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনসহ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ওই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার একই স্থানে দুটি শপথ হওয়ার কথা ছিল। এর একটি সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে; কিন্তু সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিএনপি জোট ও স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ীরা এই শপথ পাঠ করেননি। তারা শুধু এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে জামায়াত ও তাদের মিত্র এনসিপিসহ অন্য দলগুলো থেকে বিজয়ীরা দুটি শপথই নিয়েছেন।

এদিকে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে গতকাল রিট করেছেন এক আইনজীবী। এ নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ প্রথমেই আইনি প্রশ্নের মুখে পড়ে একটা ধাক্কা খেল। এই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করাটাও সংবিধানসম্মত হয়নি। ফলে শুরুতেই এমন জটিলতা তৈরি হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। শপথ না নেওয়ার মাধ্যমে জটিলতা তৈরি হলো। শুরুতেই একটি বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলো। আমরা আশা করব, জটিলতা সৃষ্টি না করে সমস্যার সমাধান করা হবে। আমরা এমনিতেই অর্থনীতিসহ নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সমজাতীয় জাতি হলেও আমরা বহুধাবিভক্ত। বিভক্ত জাতি বেশিদূর এগোতে পারে না। বিভিন্ন দলীয় অবস্থান থাকা সত্ত্বেও এসব সমস্যা সমাধানে জাতি হিসেবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম কালবেলাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আদেশ প্রদানের কোনো ক্ষমতা নেই। তিনি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু আলী রীয়াজ সাহেব এটা পেলেন কোথায়? এটা কোনো নির্বাহী আদেশ হতে পারত। অথবা কোনো অঙ্গীকার হলে সেটা মানত। এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সংবিধানসম্মত হয়নি। সংবিধানকে সংবিধানসম্মতভাবেই চলতে দিতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুটি শপথের কথা বলা হয়েছে। এটা পেল কোথায়? কেন তারা দুটো শপথ নেবে? দুটো শপথের বিষয়টি তো সংবিধানে থাকতে হবে। তার প্রেসক্রাইবড একটা ফর্ম থাকতে হবে। কিন্তু এগুলো নেই। সে কারণে এই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’

এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেছেন, ‘বেআইনিভাবে কিছু কাজ করা হয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটি শপথের বিষয় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে যুক্ত করা হয়েছে, যার কোনো এখতিয়ারই নেই।’ তিনি বলেন, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ হিসেবে সবগুলো আইন প্রশ্নয়ন করা হয়েছে। কিন্তু জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পরে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি আদেশ জারি করেছেন, যা এই আমলে একমাত্র আদেশ। এই আদেশে একটি শপথ যুক্ত করেছেন। কোনো আদেশ দিয়ে এভাবে সংবিধানের বিধান পরিবর্তন করা যায় না। সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন হয়ে যায়, এমন কোন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়নি।’’

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় আরও বলেন, ‘সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে তৃতীয় তপশিলে যে শপথের নমুনা দেওয়া আছে, সে অনুযায়ী শপথ পাঠ করাবেন। কিন্তু সনদ বাস্তবায়ন আদেশে তপশিল-১ বলে আরেকটি শপথ যুক্ত করা হয়েছে। আলাদা একটি আদেশ দিয়ে এভাবে বিকল্প করা যায়? সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন করে এভাবে শপথ ঢুকাবেন? এভাবে দ্বিতীয় শপথের আদেশ তো অবৈধ।’

২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জুলাই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজসহ কমিশনের সদস্যরাও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেন। আর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোট আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করে। জুলাই সনদ ৪৮টি প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ৩০ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে। বাকিগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত পোষণ) রয়েছে। এই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় তিনটি ধাপ নির্ধারিত আছে। প্রথম ধাপে আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি গত বছরের ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন।

সনদ বাস্তবায়নের গেজেটে বলা হয়েছে, গণভোট অনুষ্ঠানের পর, জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফল অনুসারে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করবে। সংবিধান সংস্কার হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর একই শপথ অনুষ্ঠানে এই আদেশের তপশিল-১ অনুযায়ী পরিষদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। সংসদ সদস্যদের যিনি শপথ পড়াবেন, তিনিই পরিষদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। অর্থাৎ গতকাল সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে দুটি শপথ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের এই শপথ গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিএনপি শপথ গ্রহণ করেনি: গতকাল শপথের জন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি ফরম দেওয়া হয়। এর একটি ছিল সাদা রঙের, যেটি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। অন্যটি ছিল নীল রঙের, যেটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শপথকক্ষে উপস্থিত দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে একটি নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়ে দেন, তারা সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হননি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হলে; সংবিধানের তৃতীয় তপশিলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের ফরম যুক্ত হলে; কে এই শপথ পড়াবেন তা নির্ধারিত হলে; তখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া যাবে।’

দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সহকর্মীদের জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এরপর বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্যের শপথপত্রে সই করেন। এরপর বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

জামায়াত জোটের শপথ: সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। কারণ, তারা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন। এ বক্তব্যের পরও তারা আলোচনা করে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। গতকাল দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। আর দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। জামায়াত জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পৃথকভাবে এই দুই শপথ পড়ান সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।

গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট: গণভোট পরিচালনা ও ফলাফলের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন হয়েছে। এতে গণভোট-২০২৬–এর ফলাফল বাস্তবায়ন করা থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ গতকাল বিকেলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।

আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ বলেন, মূলত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং গণভোটের ফল ঘোষণা করে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেট স্থগিত চেয়ে রিটটি করা হয়েছে। পাশাপাশি এটি বাতিল চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান তিনি।

গণভোটের বৈধতা, সাংবিধানিক স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক বৈধতা, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট এবং ১৩ ফেব্রুয়ারির গেজেটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাংবিধানিক শ্রেষ্ঠত্ব, আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতের দিকগুলো রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। রিটে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ বা কোনো সাংবিধানিক সভা (গণপরিষদ) নয়; বরং এটি একটি সাংবিধানিক ট্রাস্টি, যা কঠোরভাবে সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকতে বাধ্য। অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ আনুষ্ঠানিক নয়; বরং এটি একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, যা ভঙ্গ করা সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল।

একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক কাঠামো; বিস্তৃত গণভোট আইন অথবা বিধিমালা; স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, সমান অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের অবহিত করে সম্মতি নিশ্চিত করা ছাড়াই ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এ ধরনের বিষয় বাদ দেওয়া এবং কার্যক্রম (গণভোট পরিচালনা) জনগণের সার্বভৌমত্বকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো।

রিটের যুক্তিতে বলা হয়, সংবিধানই দেশের সর্বোচ্চ আইন, যা অন্তর্বর্তী সরকারসহ রাষ্ট্রের সব অঙ্গের জন্য বাধ্যতামূলক। শপথগ্রহণ বাধ্যতামূলক সাংবিধানিক দায়িত্ব আরোপ করে যে ব্যক্তি সংবিধানের মধ্যে থেকেই কার্যপরিচালনা করবেন। সাংবিধানিক অনুমোদন ছাড়া ক্ষমতার যে কোনো চর্চা নিয়মবিরুদ্ধ ও বাতিলযোগ্য। প্রয়োজন, সুবিধা বা রাজনৈতিক উত্তরণের যুক্তিতে সংবিধান লঙ্ঘন কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না।

রিটের প্রার্থনায় বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোট এবং ১৩ ফেব্রুয়ারির প্রকাশিত গেজেট (গণভোটের ফল) কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কোনো গণভোট প্রয়োগের আগে একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত কাঠামো তৈরি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে। রুল বিচারাধীন অবস্থায় গণভোট-২০২৬-এর ফলাফল বাস্তবায়ন করা থেকে বিবাদীদের বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইনসচিব ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

এমপিদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

Published

on

By

আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্য, বিশেষ করে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং প্রথমবারের মতো হওয়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের জন্য দুদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে বিএনপি।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মশালা উদ্বোধন ঘোষণা করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত আছেন- সাবেক আমলা, অ্যাকাডেমিশিয়ান ও সাবেক সংসদ সদস্যরা। এতে সংসদীয় কার্যক্রম, বিল-বাজেট, স্থায়ী কমিটির কাজসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।

দুদিনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমপিদের দায়িত্ব, মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংসদীয় রেওয়াজ ও মন্ত্রণালয় পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে কৌশলগত ভূমিকা কেমন হবে, তা তুলে ধরা হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করেই মূলত নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীদের জন্য এই নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে ২০৯ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নয়ন, নীতিমালার কার্যকর প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে এ কর্মশালায়।

এ ছাড়া মন্ত্রীদের দুর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়েও আলোচনা হবে।

Continue Reading

top2

বাহরাইনে ইসরায়েলি দূতাবাস লক্ষ্য করে ইরানের হামলা

Published

on

By

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় ইসরায়েলি দূতাবাস লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাতে মানামার ‘ফাইন্যান্সিয়াল হারবার টাওয়ারস’ নামের ওই বাণিজ্যিক ভবনে এই আক্রমণ চালানো হয়। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটিতে ইসরায়েলি দূতাবাস অবস্থিত হওয়ার কারণেই সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরান এই হামলাকে সরাসরি ইসরায়েলি স্বার্থের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটির কাছাকাছি এলাকায় একটি ইরানি ড্রোন শনাক্তের পর সেটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। লেবাননের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা ইসরায়েলি স্থল সেনাদের পাশাপাশি ইসরায়েলের সমুদ্রবন্দরেও এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের যোদ্ধারা লেবানন সীমান্তের মারউন আল-রাস এবং কাফার কিলা এলাকায় অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া অধিকৃত গোলান মালভূমির ‘ইয়োভ’ সামরিক ক্যাম্প এবং হাইফা বন্দরের একটি নৌঘাঁটিও এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

যদিও এই হামলায় হতাহতের কোনো তাৎক্ষণিক খবর পাওয়া যায়নি, তবে অভিযানের আগে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের এলাকা ত্যাগের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

Continue Reading

top2

জুমার দিন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে কাঁপছে তেলআবিব, একাধিক বিস্ফোরণ

Published

on

By

ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শুক্রবার ইসরায়েলের তেলআবিবজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ।

জরুরি সেবা কর্মকর্তারা জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়ার পর সেখানে টিম পাঠানো হয়েছে। একটি আবাসিক ভবনে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে, যেখানে দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তেলআবিবের উপকণ্ঠে একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হানার পর সেখানকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।

এর আগে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে বড় ধরনের হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই হামলার পরই তেলআবিব লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম দাবি করেছে, তেলআবিবের কেন্দ্রস্থলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা আকাশে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Continue Reading

Trending