Connect with us

আইন-শৃঙ্খলা

সকালে রিমান্ডের পর বিকেলে জামিন মঞ্জুর, সন্ধ্যায় মুক্তি সুরভীর

Published

on

কারামুক্ত হয়েছেন আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভী। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি গাজীপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর আগে, চাঁদাবাজির একটি মামলায় ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেয়ার পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে জামিন দেয়া হয়। 

অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ-১–এর বিচারক অমিত কুমার দে চার সপ্তাহের জন্য জামিন মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, সুরভীর আইনজীবী ও গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান কামাল। তিনি জানান, দুপুরে আদালতের দেয়া দুই দিনের রিমান্ড আবেদনের বিরুদ্ধে আমরা দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়ের করি। পরে আদালতের বিচারক শুনানি শেষে বয়স ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুইদিনের রিমান্ড আদেশ বাতিল করেন এবং আমার জিম্মায় আসামির চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।

তারও আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই ওমর ফারুক পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে। গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহাদী শুনানি শেষে আসামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

একটি চাঁদাবাজির মামলায় সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

এদিকে, সুরভীকে অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবি করে এই রিমান্ড ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন জুলাইযোদ্ধারা।

এর আহে গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে সুরভীকে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। টঙ্গী এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে সুরভী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তাকে ঘুম থেকে তুলে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর ঘুমন্ত অবস্থা থেকে পুলিশ সুরভীকে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানায়, সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের করা একটি চাঁদাবাজি মামলায় তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, সুরভীর বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে নাঈমুর রহমান দুর্জয় নামে এক সাংবাদিক কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর ২৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে বারোটার দিকে গাজীপুর মহানগরী টঙ্গী নিজ বাসা থেকে সুরভিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকে সুরভী গাজীপুর জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। 

বাদী নাঈমুর রহমান দুর্জয় ঢাকার বাসাবো শাহীবাগ এলাকার সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি এজাহারে নিজেকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন। 

অপরদিকে, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মামলার বাদীর একাধিক অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে শোনা যায়, বাদী গ্রেপ্তার জুলাই যোদ্ধা সুরভীকে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই অডিও শেয়ার করে অনেক জুলাইযোদ্ধা দাবি করেছেন, সুরভী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।

সোমবার সুরভীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে সকাল থেকেই জুলাই যোদ্ধারা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে সমবেত হন। তারা সুরভীর নিঃশর্ত মুক্তি ও রিমান্ড বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় পরিকল্পিতভাবে নির্দোষ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে ফাঁসানো হয়েছে। গভীর রাতে বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বয়সের বিষয়টি গোপন করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই কায়দায় আজ তাকে হয়রানীমূলকভাবে পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করায়। 

পুলিশ গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ হাজির করে সুরভীর ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গাজীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন অ্যাডভোকেট কামাল বলেন, আমরা আদালতের আদেশটি রিভিউ চাইবো এবং চেষ্টা করব আজকে রিমান্ড বাতিল করে আগামীকাল যাবেন শুনানি করার জন্য। তিনি বলেন সুরভীর বয়স ১৭ বছরের একটু বেশি কিন্তু ১৮ বছর হয়নি। তাই এ বিষয়গুলি আদালতের সামনে তুলে ধরা হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই ওমর ফারুক বলেন, ‘আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম, আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বয়স সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’ গ্রেপ্তারের ১১ দিন পরও আসামির প্রকৃত বয়স যাচাই না করার বিষয়ে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, এজাহারে বয়স ২১ বছর উল্লেখ থাকায় তারা আলাদা করে খোঁজ নেননি। তবে এখন বিতর্ক ওঠায় আসামির পরিবারের কাছে জন্মনিবন্ধন চাওয়া হয়েছে এবং তা অনলাইনে যাচাই করা হবে।

গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির একজন আইনজীবী জানান, ‘পুলিশ প্রতিবেদনে বয়স যা উল্লেখ করে, আদালত সাধারণত তার ভিত্তিতেই আদেশ দেন। বয়স কম হওয়ার বিষয়টি সম্ভবত আদালতের নজরে আনা হয়নি। এখন উচ্চ আদালতে রিভিউ আবেদন করলে রিমান্ড বাতিল ও জামিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘মামলাটি আমি দায়িত্ব নেয়ার আগের। বিষয়টি আমি জেনেছি। কোনও ধরনের অবিচার যেন না হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটি দেখব। আশা করছি একটি ন্যায় সংগত সমাধান হবে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

রামিসা হত্যা মামলার শুনানি রোববার হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

বহুল আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি ও মাগুরার শিমু আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর শিশু রামিসা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হতে পারে।

এর আগে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনজীবী নিয়োগের জন্য সলিসিটরকে নির্দেশ দেন। পরে গত ২৫ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে দণ্ডের বিরুদ্ধে তারা জেল আপিল করেন।

এখন ওই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Continue Reading

top1

রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে দফায় দফায় মারধরের ঘটনায় রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এসএম সালমান সাব্বিরসহ ৯জন রাকসু ও শিবির নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। আরও ১৭ থেকে ১৮ জনকে মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলার মতিহার থানা আমলি আদালতে তিন দফা মারধরের শিকার শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের পিতা এম.এস. আজাদ উজ জামান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। 

এ দিকে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীর আইনজীবী হযরত আলী।

মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব, তথ্য ও গবেষণা উপ-সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদ ভিপি আহসান উল্লা ফারহান, নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের জিএস নুরুল ইসলাম শহীদ, শাখা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজীব, ক্যাম্পাস মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ফাহিম রেজা। এ ছাড়াও ১৭/১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।

মামলার এজাহার উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অবস্থানের সময়ে ১৯-২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, বেত ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর শুরু করে।

এজাহারে হত্যাচেষ্টার বর্ণনা দিয়ে বলা হয়, প্রধান আসামি সালাহউদ্দিন আম্মার লোহার রড দিয়ে মাহিনের মাথা ও কপালে একাধিকবার আঘাত করেন। অন্য আসামিরাও লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে মাটিতে ফেলে বুক ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন ও স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে উদ্ধার করে এম্বুলেন্সে তুলতে গেলেও, তাকে সেখান থেকে নামিয়ে একাধিকবার হত্যার উদ্দেশে মারধর করা হয়।

থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি উল্লেখ করে এজাহারে বলে হয়েছে, ঘটনার পরদিন বাদী মতিহার থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তিনি মামলাটি দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মাহমুদুল হাসানের পিতা এম.এস. আজাদ উজ জামান জানান, সহিংসতার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান।

তিনি অভিযোগ করেন, ২৮শে জুলাই তিনি পুলিশের কাছে গেলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করেন এবং তাঁকে আদালতের মাধ্যমে আইনি প্রতিকার চাওয়ার পরামর্শ দেন।

অভিযুক্তের পক্ষে আইনজীবী হযরত আলী বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আদেশ না দিয়ে বরং তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে পাঠিয়েছে।

তিনি দাবি করেন যে, মাহিনের বাবা ‘আবেগের বশে’ অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন।

Continue Reading

আইন-শৃঙ্খলা

সাবেক রাষ্ট্রপতির অতীত কার্যক্রম যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

Published

on

By

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অতীত কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জনগণের দাবি ও বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন সময়ের কার্যক্রম যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার চায় না অন্যায়ভাবে কেউ কষ্ট পাক। তবে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধানের বিধান অনুসারেই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানাই।

বঙ্গভবন ছাড়লেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিগত সরকারের সময়কার দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে নথিভুক্ত উপায়ে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের সমান। এ তথ্য তার ব্যক্তিগত নয়। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।

দুর্নীতির উদাহরণ তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আবার পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ কেবল কাগজে-কলমে দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। বাস্তবে সেখানে এক ইঞ্চি সড়কও নির্মাণ হয়নি।

আইনমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এসব অনিয়ম দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং জনগণের আস্থায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এসব মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে বর্তমানে মিথ্যা মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবী হওয়ার কোনো শর্টকাট পথ নেই। প্রতিদিন শিখতে হয়। তিনি নতুন আইনজীবীদের অর্থের পেছনে না ছুটে মানুষের সেবা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পেশাগত সততা বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নিজের দলের কেউও যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধেও আইনজীবীদের সোচ্চার হতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

Continue Reading

Trending