Connect with us

top1

সারা দেশে ৫৬ জন নির্বাচনি পর্যবেক্ষক মোতায়েন ইউরোপীয় ইউনিয়নের

Published

on

দেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশন দেশের ৬৪ জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। আজ সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় রওনা দেওয়ার মাধ্যমে নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ মিশনের কাজ শুরু হয়। শনিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিশনের উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে এ তথ্য তুলে ধরেন।

পর্যবেক্ষক মোতায়েনের আগে রাজধানীর একটি হোটেলে সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানে ইইউ ইওএমের উপপ্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি আরো জানান, ইইউ ইওএম দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী পদ্ধতি অনুসরণ করে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা যায়।

দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকেরা আঞ্চলিক পর্যায়ে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি ঢাকাভিত্তিক মূল বিশেষজ্ঞ দলের বিশ্লেষণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।

ইন্তা লাসে জানান, পর্যবেক্ষকেরা দুই সদস্যের দল গঠন করে কাজ করবেন। তারা নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সঙ্গে নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। এই কার্যক্রম শুধু শহরেই নয়, ছোট শহর ও গ্রাম পর্যায়েও পরিচালিত হবে।

ইইউ কর্মকর্তারা জানান, ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকেও পর্যবেক্ষক নেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরুর আগে তাদের বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনগত কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন মোতায়েন করা হয়েছে। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইইয়াবস। তিনি গত ১১ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মিশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে মিশন আরো জোরদার করা হবে। তখন ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকও মাঠে নামবেন। তাদের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকেরাও যুক্ত হবেন। তারা ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফল সংকলন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।

এছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলও মিশনে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনে ২৭টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন।

ইইউ ইওএম আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এরপর পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে।

ইইউ কর্মকর্তারা জানান, উভয় প্রতিবেদনই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। মিশনের ওয়েবসাইটেও তা প্রকাশ করা হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (ইইউ ইওএম) কঠোর আচরণবিধি অনুসরণ করে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করাই তাদের মূল নীতি।

২০০৫ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গৃহীত আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের নীতিমালা ঘোষণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মিশনটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সুত্র: বাসস

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

নগদের মাধ্যমে বিতরণ হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ

Published

on

By

পরিবারের নারীপ্রধানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আরও আত্মবিশ্বাসী করতে সরকার যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছে, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ।

মঙ্গলবার সকালে কড়াইল বস্তি এলাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ১৩ জেলার ৬ হাজার ৪৫১টি পরিবার ‘নগদ’-এর মাধ্যমে ১ কোটি ৬২ লাখ ৪ হাজার ২৬৫ টাকা পেয়েছেন।

কড়াইল বস্তির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে মাঝপথে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধা পাবেন।

ফ্যামিলি কার্ডের মতো সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের অর্থ বিতরণের জন্য ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা নগদকে বেছে নেওয়ায় নগদ কর্তৃপক্ষ সরকার এবং বিশেষভাবে সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নগদের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সাধারণ জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি পূরণের যে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, সেটি আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। সরকারের এমন একটি প্রকল্পের অংশীদার হতে পেরে আমরা গোটা নগদ পরিবার সরকারপ্রধানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

সরকারের নির্বাচন-পূর্ব প্রতিশ্রুত এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩ জেলার সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই নগদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাই এবং একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ রোধ, সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়া হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সরকারের এই উদ্যোগটি নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Continue Reading

top1

যে তিন কারণে মনে করা হচ্ছে নেতানিয়াহু আর নেই

Published

on

By

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হয়েছেন— এমন গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এর পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ইরানি হামলার পর নেতানিয়াহু আহত বা নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তবে তাদের এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি কারণে এই জল্পনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর নতুন ভিডিও প্রকাশ না হওয়া, তার বাসভবনের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং কিছু কূটনৈতিক সফর স্থগিত করা।

তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে সাধারণত ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগও এই সংবাদমাধ্যমকে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হওয়ার দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে অনেক সময় শীর্ষ নেতাদের প্রকাশ্যে উপস্থিতি সীমিত রাখা হয়।

এদিকে সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ৭ মার্চ নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া ৬ মার্চ তাকে বিয়ারশেবার একটি এলাকা পরিদর্শনের সময়ও দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হয়েছেন— এমন কোনো দাবিই নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হয়নি।

Continue Reading

top1

ইরান সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করল ইরাক

Published

on

By

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পূর্ব সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ইরাক। একই সঙ্গে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ইরাকের সীমান্তের বড় অংশই পাহাড়ি এলাকা। এই পথ ব্যবহার করে ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীগুলো দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে কয়েকটি বার্তা দিতে চায় বাগদাদ। প্রথমত, তারা চায় না ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলো ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাক।

দ্বিতীয়ত, ২০২৩ সালে ইরানের সঙ্গে করা নিরাপত্তা চুক্তি মানার বিষয়টিও তারা দেখাতে চায়। ওই চুক্তিতে ইরাক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় ইরানি কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা দমন করা হবে।

এদিকে ইরান ইতোমধ্যে ইরাকের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ওই অঞ্চলের কিছু ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সব মিলিয়ে উত্তেজনা বাড়ায় সীমান্তে নতুন সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ইরাক সরকার।

Continue Reading

Trending