Connect with us

top1

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: আগস্টের শেষে তফসিল অক্টোবরে ভোটের চিন্তা

Published

on

চলতি জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি হালনাগাদ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপর আগামী আগস্টের শেষের দিকে তফসিল দিয়ে অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনে গতকাল সোমবার ঈদ পুনর্মিলনীতে কমিশনের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন।

ঈদের ছুটি শেষে গতকাল প্রথম কার্যদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনী করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব। সেখানে কর্মকর্তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী সবাইকে কাজ করতে বলা হয়েছে। সরকার যখনই নির্বাচন আয়োজনে লিখিত নির্দেশনা দেবে, তখন যাতে ভোট করতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সভায় আমাদের বলা হয়েছে অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য তফসিল দেওয়া হতে পারে আগস্টের শেষ দিকে।’

তবে কমিশনের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঈদ পুনর্মিলনী সভায় ভোটের সম্ভাব্য তারিখের কথা বলা হয়েছে। আমার মনে হয়, সেটি আরও মাসখানেক পেছানোর সম্ভাবনাও আছে। কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য হয়তো অক্টোবরে ভোটের কথা বলা হয়েছে।’

নির্বাচনের তফসিল কখন হতে পারে—এমন প্রশ্নে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তফসিল কবে হবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় সরকার বিভাগের ওপর, তারা কবে নাগাদ নির্বাচন চায়। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি তো চলমান।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আপনি যা শুনেছেন, তা কাছাকাছি (আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোট)। আজকে (সোমবার) এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো আলাপ হয়নি। যদি অক্টোবরে নির্বাচন করতে হয়, তার জন্য দেড় মাস আগে তফসিল দিতে হবে। সরকারের নির্দেশনা পেলে আমরা সেটা করতে পারব।’

ঈদ পুনর্মিলনীর আলোচনার একপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলেন। এ বিষয়ে দু-এক কর্মকর্তা তাঁদের প্রস্তাব তুলে ধরেন। পরে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘জুন-জুলাই মাসের মধ্যে নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। আগামী আগস্ট মাস থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করব। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যাতে ভোট গ্রহণ করা যায়, সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

জাতীয় সংসদের চেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও ভালোভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে মানের হয়েছে, ওই মানের চেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও ভালো করতে হবে। কোনোভাবে ওই মানের নিচে নামা যাবে না।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শুরুতে ইউপি ও পৌরসভার নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনই হবে কয়েক ধাপে। এরপর সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং সর্বশেষ ধাপে উপজেলা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্রায় সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব নির্বাচন শেষ করতে ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসি বর্তমানে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পৃথক বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধন করছে। সংশোধিত স্থানীয় সরকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯, পৌরসভা আইন, ২০০৯, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ এবং সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯ সংশোধন করেছে, যা পরে সংসদে অনুমোদিত হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধি তৈরি করতে একাধিক বৈঠক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে গতকালও বৈঠক করেন তাঁরা। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে বিধিমালা ও আচরণবিধির খসড়া করে মতামত নিতে ১৫ জুন ইসির ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে। তাতে সবাই মতামত দিতে পারবেন।

এ বিষয়ে কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ১৫ জুনের মধ্যে বিধিমালা ও আচরণবিধি তৈরি করে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। তা আবার ১৫ দিন রাখতে হবে। সেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, নতুন গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশন ছাড়া ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টির বেশি উপজেলা পরিষদ, ৩০০টির বেশি পৌরসভা এবং ৬১টি জেলা পরিষদের আইনগত জটিলতা ছাড়াই এসব নির্বাচন করা সম্ভব। এ ছাড়া প্রায় ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের আইনগত সময়সীমা এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে, ফলে আগামী অক্টোবরের মধ্যে এসব নির্বাচন আয়োজন বাধ্যতামূলক। আরও ২ হাজার ৮০০ বেশি ইউপি নির্বাচনের ১৮০ দিনের গণনা জুলাই থেকে শুরু হবে।

তথ্যসুত্র: আজকের পত্রিকা 

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত: তথ্য উপদেষ্টা

Published

on

By

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না— সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল)। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সে বিচারের পর নির্ধারিত হবে।

‘যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাস দমন আইন ২০০৯-এর অধীনে। তাই তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যে কোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, তাহলে তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। তাই সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে, এটাই স্বাভাবিক।’

বর্তমানে আওয়ামী লীগ মাঠে অনেক কিছু করে ফেলতে পারবে বলেও মনে করেন না প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন না যে আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে শক্ত অবস্থান নেওয়ার মতো নৈতিক সাহস রয়েছে।

অতীতের ঘটনাগুলো জনগণের স্মৃতিতে এখনো স্পষ্টভাবে বিদ্যমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেসব স্মৃতি মুছে যাওয়ার আগে দলটির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কথা বলা কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা লুটপাট, দুর্নীতি ও মাফিয়াতন্ত্রের সঙ্গে জড়িত, তাদের সাধারণত নৈতিক অবস্থান দুর্বল থাকে। এ ধরনের গোষ্ঠীর পক্ষে নৈতিক শক্তির ভিত্তিতে জনসম্মুখে অবস্থান নেওয়া সহজ নয়।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এসব জেলায় সেনা মোতায়েন থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জান-মালের সুরক্ষার লক্ষ্যে সেনাসদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

Continue Reading

top1

চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

Published

on

By

নতুন করে পররাষ্ট্র নীতি সাজানোর অংশ হিসেবে চীন থেকে অত্যাধুনিক ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার।

সোমবার (২২ জুন) থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করছি চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।’ ওই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেছেন যে এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি অত্যাধুনিক চীনা যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই আলোচনার গতি বাড়াতে গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে এবং বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এই ক্রয়ের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

এই বিশেষ প্রতিরক্ষা আলোচনাটি মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বৃহত্তর অংশ। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহারের মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ককে একধাপ উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ইশতেহার স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই দেশের এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের একটি যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে আলোচনা হবে।

এর পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহারের অভাবে ভুগছিল। এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার মংলায় চীনকে একটি বিশেষ ১১০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা স্পেশাল ইকোনমিক জোন দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

মংলার এই বিশেষ শিল্প পার্কটি মূলত এর আগে ভারতের বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং একটি মুম্বাই-ভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের জন্য অতীতে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ঢাকা সম্প্রতি ভারতের সাথে হওয়া ওই চুক্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে যার ফলে মংলার এই জমিটি এখন সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো।

এই সিদ্ধান্তের ঠিক এক সপ্তাহ আগেই সরকার চট্টগ্রামের একটি এক্সক্লুসিভ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দিয়েছে যেখানে বেইজিং ইতোমধ্যে ৫০ কোটি বা ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে সরকারের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘আমাদের তাৎক্ষণিক ও প্রধান লক্ষ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।’ তিনি আরও যোগ করেন যে চীন থেকে বড় বড় উৎপাদনকারী শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করতে পারলে তা দেশের হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে।

অবশ্য কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই সম্পর্কের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের অত্যন্ত নিবিড় নজরদারিতে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সাথে ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত শেয়ার করে এবং দুই দেশ বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে গভীরভাবে সংযুক্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক পুশব্যাক করার চেষ্টা বৃদ্ধি এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার মতো ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষকেরা দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

অতীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যেকোনো প্রধান বৈদেশিক সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে সবসময় ভারতকে বেছে নিতেন যা দিল্লির সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করত। তবে এর বিপরীতে বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বহু-পাক্ষিক বা ব্যালেন্সড পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে যার মূল লক্ষ্য হলো একই সাথে ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো এবং নয়া দিল্লির সাথে সমানভাবে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নানাবিধ সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিটি সচল রেখেছে।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ঢাকা মূলত আমেরিকার শক্তিশালী কৃষি লবিকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং তুলা আমদানি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে।

চীনে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানচীনে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ঢাকার এই বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা রাশিয়ার মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়া সফর করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন জানাবে যেখানে চীন অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

তাত্ত্বিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নয়া দিল্লির সাথে এই সম্পর্ক মেরামতের পথটি যে বেশ জটিল তা সংশ্লিষ্ট সকলেই স্বীকার করছেন

Continue Reading

top1

ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি

Published

on

By

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছে আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। তবে তার গোলেই লিড পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। আর এই গোলের মাধ্যমে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি

ম্যাচের ৩ মিনিটে বক্সের ভেতর ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনা স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজ। অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডারের চাপে বল রাখতে পারেননি।

মার্তিনেজকে বক্সের ভেতর ফাউল করেছেন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার স্তেফান পশ। ভিআর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। সাইড পোস্টের বাইরে দিয়ে মারেন তিনি।

বিস্তারিত আসছে..

Continue Reading

Trending