Connect with us

top1

স্বপ্নাকে বার বার বললাম, বইন দরজাটা খুল কিন্তু খুলে নাই: রামিসার মায়ের সাক্ষ্য

Published

on

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন রামিসার মা পারভিনা আক্তার। সাক্ষ্যতে শিশু রামিসাকে কীভাবে খুঁজে পান, ওইসময় কী কী করেছিলেন ও দেখেছিলেন তার বর্ণনা দেন তিনি।

আদালতে পারভিনা আক্তার বলেন, ‘আমি বার বার স্বপ্নাকে কেঁদে বলি। বইন দরজাটা খুল, দরজাটা খুল। কিন্তু খুলে নাই। পরে দরজা ভাঙতে হয়। ভিতরে গিয়ে মেয়ের খণ্ডিত মরদেহ দেখে অজ্ঞান হয়ে যাই।’

মঙ্গলবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ সাক্ষ্য দেন তিনি।

এদিন প্রথমে রামিসার বাবা সাক্ষ্য দেন। তার সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হলে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে রামিসার মা পারভীনা আক্তার সাক্ষ্য দেন। সকাল ১১ টা ৩ মিনিটের দিকে পারভীনার সাক্ষ্য শুরু হয়। এসময় আসামব সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণে পারভীনা আক্তার আদালতে বলেন, ‘আমি গৃহিনী। গত ১৯ মে সকালে এ ঘটনা ঘটে। আমি তখন রান্না করছিলাম। রান্না প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। আমার দুই মেয়ে। বড় মেয়ের নাম রাইসা আক্তার। রাইসাকে ঘটনার দিন আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে বললাম, তার চাচা গোলাম মোস্তফার বাসায় যেতে। তখন ছোট মেয়ে রামিসা বললো, ‘‘আম্মু আমিও আপুর সাথে যাবো’’। আমি তাকে যেতে না করি।’

‘এরপর আমি আবার রান্নাতে ব্যস্থ হয়ে যায়। পরে বড় মেয়ে চাচার বাসায় যায়। ছোট মেয়েকে নেয়নি। রাইসাকে বলে তুমি রুমে থাকো। এটা আমি রান্না ঘর থেকে শুনতে পাই। পরে রাইসা তাকে নিয়ে চাচার বাসায় যাই কিনা জানতাম নাম,’ আদালতে বলেন রামিসার মা।

তিনি আরও বলেন, ‘একটুর পর আমি রান্না ঘর থেকে একটা বাচ্চার চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। পাশের ফ্ল্যাটের আসামি সোহেলদের বাসায় বাচ্চা নেই জানতাম। তবে একটু পর রুমের বাইরে বের হলাম। কাউকে পেলাম না বাইরে। এর ৩-৪ মিনিট পর রাইসা একা তার চাচার বাসা থেকে আসে। আমি রাইসাকে বললাম, তুমি একা কেন। রামিসা কোথায়? রাইসা বলে, সে তো আমার সাথে যায় নাই। নিচে গেছে মনে হয়। নিচে গিয়ে দেখি রামিসা নাই। আশেপাশে সবার কাছে শুনতে থাকি, রামিসাকে দেখছেন। সবাই বলে, না দেখি নাই।’

পারভীন আক্তার বলেন, ‘বিল্ডিয়ের নিচে অফিস রুম ভাড়া একটা। সেটার দরজা খুলে দেখলাম, মেয়ে আছে কিনা। কিন্তু পায়নি। দুই তালায় ব্যাচেলর ভাড়া দিছে। সেখানেও খুঁজলাম। কিন্তু পেলাম না। পরে তিনতালায় সোহেলদের রুমে ধাক্কা দিলাম। খুললো না। পরে তাদের দরজার সামনে দেখলাম মেয়ের একটা জুতা পড়ে আছে। তখা মনে হলো আগে একটা বাচ্চার চিৎকার শুনছিলাম, ওই বাচ্চার চিৎকার কি আমার মেয়ের? তাহলে কি আমার রামিসাকে এখানে আটকে রেখেছে?’

এরপর দরজা খোলার জন্য বার বার ধাক্কাতে থাকেন উল্লেখ করে রামিসার মা বলেন, ‘কিন্তু কেউ খুলে না। পরে পাঁচতলার মনির ও আসমা নামে একটা মহিলা আসলো। এরপর একে একে অনেক লোকজন আসলো। সবাই দরজা খোলার কথা বলে। কিন্তু আসামিদের কেউ খুলে না। পরে মনিরকে বললাম, নিচে যান। আরও মানুষ ডেকে আনেন। তিনি নিচে গিয়ে ১০-১২ জন ডেকে আনে। তখন আমি আমার স্বামীকে বারবার ফোন দিতে থাকি। উনাকে বলি, আসাদের রামিসাকে পাচ্ছি না। স্বামী তখন অফিস থেকে আসে। ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে চলে আসে।’

পারভীনা আক্তার সাক্ষ্যতে বলেন, ‘তখন সবাই দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে দরজার গোল বোল্ড লক ভাঙা হয়। ভাঙা লকের ছিত্র দিয়ে দেখি বাথরুম খোলা। ভিতরে কি রক্ত। রাজু নামে একটা ছেলে সেটার ভিডিও করে। আমি চিৎকার করে কাঁদতে থাকি। তখন আমি আসামি স্বপ্নাকে ভিতরে হাঁটতে দেখি। আমি বাইরে থেকে স্বপ্নাকে বার বার বলতে থাকি, বইন দরজাটা খুল। দরজাটা খুল। আমি তোকে কিছু বলবো না। কাঁদতে থাকেন মা পারভিনা।’

পারভীনা আরও বলেন, ‘এরপর দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখি আমার মেয়ের মাথা একজায়গায় আর দেহ আরেক জায়গায়। মাথা বাথরুমে বালতিতে। আর দেহ আসামিদের রুমের খাটের নিচে লুকিয়ে রেখেছে। পরে পুলিশ এসে। মেয়ের মরদেহ, জামা কাপড় সব নিয়ে যায়।’

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু রামিসার মায়ের কাছে জানতে চান, তখন স্বপ্নার কাছে কোনো কিছু জানতে চাইলেন কিনা? পারভীনা বলেন, ‘তখন অনেক মানুষজন ঢুকে পড়ে। আমি তার কাছে কিছু জানতে পারি নাই। তারা স্বপ্নার কাছে জিজ্ঞাসা করছিল।’

পিপি আরও বলেন, ‘দেখেন তো এখানে স্বপ্না আছেন কিনা।’ তখন পারভীনা কাঠগড়ার দিকে হাত দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, ওই যে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। আমি কতো বলেছি, বইন দরজাটা খুল, দরজাটা খুল। কিন্তু খুলে নাই সে।’ এ কথা বলে কাঁদতে থাকেন রামিসার মা।

বেলা ১১টা ২২ মিনিটে তার সাক্ষ্য শেষ হয়। এরপর রামিসার মাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ। এরপর বেলা ১১টা ২৬ মিনিটের জেরা শেষ হয়।

এর আগে গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের কাছে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সোহেল।

তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদকে আসক্ত থাকতেন সোহেল। ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে বাথরুমে টেনে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। রামিসা চিৎকার করে কান্নাকাটি করায় ও পরিবারকে জানানোর কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে মাথা ও হাত কেটে হত্যা করে সোহেল। এ ছাড়া লাশ গুম করতে ও পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী স্বপ্না।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেবেন আদালত: তথ্য উপদেষ্টা

Published

on

By

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না— সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল)। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সে বিচারের পর নির্ধারিত হবে।

‘যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাস দমন আইন ২০০৯-এর অধীনে। তাই তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। এই দলটা এখন যে কোনো কর্মসূচি নিয়ে যদি মাঠে নামতে চায়, তাহলে তারা একটা আইন ভঙ্গকারী কাজ করছে। তাই সরকার সেখানে ব্যবস্থা নেবে, এটাই স্বাভাবিক।’

বর্তমানে আওয়ামী লীগ মাঠে অনেক কিছু করে ফেলতে পারবে বলেও মনে করেন না প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন না যে আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে শক্ত অবস্থান নেওয়ার মতো নৈতিক সাহস রয়েছে।

অতীতের ঘটনাগুলো জনগণের স্মৃতিতে এখনো স্পষ্টভাবে বিদ্যমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেসব স্মৃতি মুছে যাওয়ার আগে দলটির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে কথা বলা কঠিন হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা লুটপাট, দুর্নীতি ও মাফিয়াতন্ত্রের সঙ্গে জড়িত, তাদের সাধারণত নৈতিক অবস্থান দুর্বল থাকে। এ ধরনের গোষ্ঠীর পক্ষে নৈতিক শক্তির ভিত্তিতে জনসম্মুখে অবস্থান নেওয়া সহজ নয়।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এসব জেলায় সেনা মোতায়েন থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জান-মালের সুরক্ষার লক্ষ্যে সেনাসদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

Continue Reading

top1

চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

Published

on

By

নতুন করে পররাষ্ট্র নীতি সাজানোর অংশ হিসেবে চীন থেকে অত্যাধুনিক ২৪টি জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সরকার।

সোমবার (২২ জুন) থেকে শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরকালে এই সামরিক চুক্তিটি বড় ধরনের গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করছি চলতি বছরের আগস্ট মাসের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।’ ওই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেছেন যে এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি অত্যাধুনিক চীনা যুদ্ধবিমানের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ কোটি বা ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই আলোচনার গতি বাড়াতে গত সপ্তাহে চীনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করেছে এবং বেইজিং সফরকালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা এই ক্রয়ের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতে চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে পৃথক বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

এই বিশেষ প্রতিরক্ষা আলোচনাটি মূলত দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি বৃহত্তর অংশ। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর একটি যৌথ ইশতেহারের মাধ্যমে দুই দেশের বর্তমান কৌশলগত সম্পর্ককে একধাপ উন্নীত করে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ইশতেহার স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

দুই দেশের এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হিসেবে বহুল আলোচিত তিস্তা নদী ব্যারাজ প্রকল্পের একটি যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি নিয়ে আলোচনা হবে।

এর পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার আধুনিকীকরণ প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে যা দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সঠিক ব্যবহারের অভাবে ভুগছিল। এই বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার মংলায় চীনকে একটি বিশেষ ১১০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চল বা স্পেশাল ইকোনমিক জোন দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

মংলার এই বিশেষ শিল্প পার্কটি মূলত এর আগে ভারতের বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং একটি মুম্বাই-ভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের জন্য অতীতে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডার একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ঢাকা সম্প্রতি ভারতের সাথে হওয়া ওই চুক্তিটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করেছে যার ফলে মংলার এই জমিটি এখন সরাসরি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হলো।

এই সিদ্ধান্তের ঠিক এক সপ্তাহ আগেই সরকার চট্টগ্রামের একটি এক্সক্লুসিভ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দিয়েছে যেখানে বেইজিং ইতোমধ্যে ৫০ কোটি বা ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে সরকারের ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘আমাদের তাৎক্ষণিক ও প্রধান লক্ষ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।’ তিনি আরও যোগ করেন যে চীন থেকে বড় বড় উৎপাদনকারী শিল্প বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত বাংলাদেশে স্থানান্তরিত করতে পারলে তা দেশের হাজার হাজার বেকার যুবকের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে।

অবশ্য কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার এই সম্পর্কের দ্রুত সম্প্রসারণ প্রতিবেশী দেশ ভারতের অত্যন্ত নিবিড় নজরদারিতে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের সাথে ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত শেয়ার করে এবং দুই দেশ বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও অভিন্ন নদীর পানি বন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে গভীরভাবে সংযুক্ত।

সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তে পুশ-ইন বা জোরপূর্বক পুশব্যাক করার চেষ্টা বৃদ্ধি এবং নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার মতো ঘটনাগুলোকে বিশ্লেষকেরা দুই দেশের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনের স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

অতীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর যেকোনো প্রধান বৈদেশিক সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে সবসময় ভারতকে বেছে নিতেন যা দিল্লির সাথে তাঁর বিশেষ সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করত। তবে এর বিপরীতে বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বহু-পাক্ষিক বা ব্যালেন্সড পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে যার মূল লক্ষ্য হলো একই সাথে ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো এবং নয়া দিল্লির সাথে সমানভাবে সক্রিয় সম্পর্ক বজায় রাখা। বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নানাবিধ সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক চুক্তিটি সচল রেখেছে।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে ঢাকা মূলত আমেরিকার শক্তিশালী কৃষি লবিকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং তুলা আমদানি বৃদ্ধি করার মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সাথে দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চাইছে।

চীনে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানচীনে পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ঢাকার এই বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা রাশিয়ার মস্কো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়া সফর করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কর্মকর্তারা আশা করছেন যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকস-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টাকে মস্কো পূর্ণ সমর্থন জানাবে যেখানে চীন অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

তাত্ত্বিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অদূর ভবিষ্যতে ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে নয়া দিল্লির সাথে এই সম্পর্ক মেরামতের পথটি যে বেশ জটিল তা সংশ্লিষ্ট সকলেই স্বীকার করছেন

Continue Reading

top1

ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি

Published

on

By

বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছে আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। তবে তার গোলেই লিড পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। আর এই গোলের মাধ্যমে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি

ম্যাচের ৩ মিনিটে বক্সের ভেতর ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনা স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজ। অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডারের চাপে বল রাখতে পারেননি।

মার্তিনেজকে বক্সের ভেতর ফাউল করেছেন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার স্তেফান পশ। ভিআর দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মেসি। সাইড পোস্টের বাইরে দিয়ে মারেন তিনি।

বিস্তারিত আসছে..

Continue Reading

Trending