Connect with us

আন্তর্জাতিক

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কিভাবে প্রাণে বাঁচলেন?

Published

on

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার (সর্বোচ্চ নেতা) হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় সন্তান। সোমবার (৯ মার্চ) রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

যেভাবে নির্বাচিত হলেন নতুন নেতা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮৮ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে গঠিত ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ সর্বশেষ ভোটাভুটির মাধ্যমে মোজতবা খামেনিকে এই পদে আসীন করেন। একই সঙ্গে অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে নতুন নেতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও আনুগত্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর তথ্য: যেভাবে রক্ষা পান মোজতবা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ বিমান হামলায় সস্ত্রীক নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ওই হামলায় খামেনির এক মেয়ে এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাও প্রাণ হারান।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স জানিয়েছে, ওই সুনির্দিষ্ট হামলায় মোজতবা খামেনিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে হামলার সময় তিনি তেহরানের ওই অবস্থানে ছিলেন না। ফলে তিনি অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান। হামলার সময় তিনি ঠিক কোথায় অবস্থান করছিলেন, নিরাপত্তার খাতিরে তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

কে এই মোজতবা খামেনি?

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন। যদিও তিনি একজন মধ্যম সারির আলেম হিসেবে পরিচিত, তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ধর্মীয় অঙ্গনে পর্দার আড়াল থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত এই নেতাকে তার বাবার সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

হামলার প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ১৯৮৯ সাল থেকে ইরান শাসন করা এই শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করতে ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করেছে।

খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই তার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম আলোচনায় ছিল, যা অবশেষে সোমবার রাতে পূর্ণতা পেল।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল

Published

on

By

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলা সোমবার (৯ মার্চ) পর্যন্ত দশম দিনে গড়ালো। এতে ইরানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ২০০ জনে ছাড়িয়েছে। সেইসঙ্গে আহত হয়েছে শত শত ইরানি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে ইরান শর্তহীনভাবে আত্মসমর্পণ না করলে হামলা অব্যাহত থাকবে।

এরমধ্যে ইরান তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করেছে। এতে বেজায় আরও চটেছেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সোমবার (৯ মার্চ) ইরানের মধ্যাঞ্চলে ‘শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়েছে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগে ‘খুশি নন’ ট্রাম্পইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগে ‘খুশি নন’ ট্রাম্প
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলে ‘ইরানের শাসনব্যবস্থার অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে। তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে- সেই সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

এর আগে ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপরও ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এদিকে ট্রাম্প সর্বশেষ জানিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নেবেন।

লেবাননে ইসরায়েলি কমান্ডোদের সঙ্গে হিজবুল্লাহর ব্যাপক সংঘর্ষলেবাননে ইসরায়েলি কমান্ডোদের সঙ্গে হিজবুল্লাহর ব্যাপক সংঘর্ষ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়টি একটি ‘যৌথ’ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে এবং তিনি ও নেতানিয়াহু এই বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

ট্রাম্পের মতে, পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সঠিক সময়েই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

Continue Reading

top2

কাতার, বাহরাইন, সৌদি ও আমিরাতে মুহুর্মুহু হামলা

Published

on

By

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলা সোমবার (৯ মার্চ) পর্যন্ত দশম দিনে গড়ালো। এতে ইরানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। সেইসঙ্গে আহত হয়েছে শত শত ইরানি। ইসরায়েল-মার্কিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার জেরে পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। দেশটি ইসরায়েল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে সিরিজ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বাহিনী নতুন করে ফের কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালিয়েছে।

প্রায় চার ঘণ্টা আগে কাতারকে লক্ষ্য করে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান। তবে এসব মিসাইল ভূপাতিতের দাবি করেছে কাতার। আল জাজিরার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা দোহার আকাশে অন্তত ১২টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে।

এদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, সিত্রা এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, শেবাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং তেলক্ষেত্র খালি ছিল বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের উত্তরে দুইটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি আরব পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে ইরান হামলা বন্ধ না করলে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণের জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে।

ইরানে হামলা অব্যাহত: কেউ আতঙ্কে, আবার কেউ ভাসছে খুশির জোয়ারেইরানে হামলা অব্যাহত: কেউ আতঙ্কে, আবার কেউ ভাসছে খুশির জোয়ারে

সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের হামলা থেকে রেহাই পায়নি। দেশটি জানিয়েছে, প্রজেক্টাইল ভূপাতিত করলেও তার ধ্বংসাবশেষে ফুজাইরাহ এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।

Continue Reading

top1

উপসাগরীয় দেশগুলোতে রাতভর হামলা চালিয়েছে ইরান

Published

on

By

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যখন সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাতে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নতুন এক তরঙ্গ আছড়ে পড়ে। কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে চালানো এই হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা পাঠানো শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই আকাশজুড়ে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা ছিল ইরানের দিক থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্য করে কাতারি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা আঘাত।

দোহার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা অন্তত ১২ থেকে ১৩টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রায় ১৫ মিনিট পর হুমকির মাত্রা কমিয়ে আনা হয় এবং জানানো হয় যে বিপদ আপাতত কেটে গেছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সফলভাবে কাতারকে লক্ষ্য করে চালানো একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। তবে এই হামলা কেবল কাতারে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পুরো অঞ্চলজুড়ে ইরানের এই আক্রমণের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল যা প্রতিবেশী দেশগুলোর জননিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বাহরাইনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানায়, রাজধানী মানামার দক্ষিণের সিতরা এলাকায় ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীও রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রাতভর এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের দিক থেকে আসা এসব হুমকি মোকাবিলায় বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চালানো এই সুসংগঠিত হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে।

বর্তমানে এই দেশগুলোর আকাশসীমা এবং সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং এই হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার কথা ভাবছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Continue Reading

Trending