Connect with us

top1

ইরানে বিদ্রোহ উসকে দিতে কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সিআইএ

Published

on

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ যখন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে, তখন ইরানে একটি বড় ধরনের বিদ্রোহ ঘটানোর লক্ষ্যে দেশটির বিরোধী কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্র দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। 

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বুধবার এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে।  

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরোধী কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ট্রাম্প ‘ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তান’ বা কেডিপিআই’র প্রধান মোস্তফা হিজরির সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। এ ছাড়া গত রবিবার ট্রাম্প ইরাকের দুই প্রভাবশালী কুর্দি নেতা মাসুদ বারজানি ও বাফেল তালিবানির সঙ্গেও ফোনালাপ করেছেন। বাফেল তালিবানি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিকল্পনার লক্ষ্য ও ইসরায়েলের ভূমিকা

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো কুর্দিদের ব্যবহার করে ইরানি বাহিনীকে ব্যস্ত রাখা। এর ফলে ইরানের ভেতরে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের সুযোগ তৈরি হবে এবং উত্তর ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসরায়েলের জন্য একটি ‘বাফার জোন’ বা সুরক্ষা বলয় তৈরি করা সম্ভব হবে। জানা গেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত কয়েক মাস ধরেই কুর্দিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই জোট গড়ার জন্য তদ্বির করছিলেন। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার কুর্দিদের মধ্যে তাদের নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছে।

বিশ্লেষকদের উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক নীল কুইলিয়াম আল জাজিরাকে বলেছেন, এই পদক্ষেপটি হিতে বিপরীত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটি ইরানের ভেতরে গৃহযুদ্ধকে আরও উসকে দেবে এবং বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে। কুইলিয়াম আরও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই পরিকল্পনাটি খুব একটা গোছানো নয়। ট্রাম্পের নীতি অনেকটা ‘নিজে করো’ পদ্ধতির মতো—যেখানে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র দিয়ে সটকে পড়তে পারে, কিন্তু এর ফলে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে তার দায় নেবে না।

সিআইএ-র অতীত ইতিহাস

বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে সিআইএর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

ইরান (১৯৫৩): ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের সঙ্গে মিলে ইরানের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।

আফগানিস্তান (১৯৭০-এর দশক): সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে আফগান মুজাহিদীনদের প্রশিক্ষণ ও অর্থ দিয়েছিল।

নিকারাগুয়া (১৯৮০-এর দশক): সমাজতান্ত্রিক সরকারকে হটাতে ‘কন্ট্রা’ বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিল।

লিবিয়া (২০১১): গাদ্দাফিকে হটাতে বিদ্রোহীদের গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছিল।

অন্যান্য দেশ: সিআইএ ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, গুয়াতেমালা, কিউবা এবং এল সালভাদরেও বিভিন্ন সময় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিয়েছে।

আঞ্চলিক প্রভাব

কুর্দিরা মধ্যপ্রাচ্যের একটি জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী যারা তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান ও ইরাকে ছড়িয়ে আছে। তাদের কোনো নিজস্ব রাষ্ট্র নেই। যুক্তরাষ্ট্র যদি এখন ইরানি কুর্দিদের অস্ত্র দেয়, তবে সেটি তুরস্ক ও সিরিয়ার মতো আঞ্চলিক মিত্রদের ক্ষুব্ধ করতে পারে। ইতিমধ্যে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি পশ্চিম সীমান্তে কুর্দিদের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র চাইছে কুর্দিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের বর্তমান সরকারকে কোণঠাসা করতে। তবে এই পরিকল্পনা সফল হবে নাকি মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা করবে, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র আর ‘নিরাপদ আশ্রয়’ পাবে না: মোজতবা খামেনি

Published

on

By

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র আর ‘নিরাপদ আশ্রয়’ পাবে না। তিনি বলেন, এসব দেশ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর জন্য আর ‘ঢাল’ হিসেবে আর কাজ করবে না।

মঙ্গলবার টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই মন্তব্য করেন খামেনি। তিনি এমন সময়ে এ মন্তব্য করলেন, যখন ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিমান হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর গত মার্চ মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোজতবা। এরপর থেকে তিনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি।

সূত্র: আলজাজিরা

Continue Reading

top1

হামলা হলেও কয়েকদিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব: রুবিও

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার পর ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশয় তৈরি হলেও ইরানের সঙ্গে এখনো একটি চুক্তি করা সম্ভব বলে মনে করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মঙ্গলবার (২৬ মে) ভারত সফরকালে জয়পুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মার্কো রুবিও জানান, এই চুক্তি নিয়ে বর্তমানে কাতারে মধ্যস্থতা চলছে। আজ কাতারে কিছু আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার মনে হয় প্রাথমিক খসড়ার সুনির্দিষ্ট ভাষা নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে, তাই এতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।

তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে জানান, প্রেসিডেন্ট এটি সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি হয় একটি ভালো চুক্তি করবেন, নয়ত কোনো চুক্তিই করবেন না।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তির বিষয়ে নতুন করে মার্কিন হামলার ফলে সংশয় তৈরি হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি ‘যেভাবেই হোক’ পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, প্রণালিটি অবশ্যই খোলা থাকতে হবে এবং এগুলো এক বা অন্য উপায়ে খোলা হবেই।

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের তীব্র সমালোচনা করে রুবিও আরও বলেন, সেখানে যা ঘটছে তা বেআইনি, অবৈধ, বিশ্বের জন্য টেকসই নয় এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

তথ্যসূত্র: এএফপি

Continue Reading

top1

যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যেই পালিত হচ্ছে পবিত্র হজ, বেড়েছে উপস্থিতি

Published

on

By

সৌদি আরবে শুরু হয়েছে মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সমাবেশ হজ। তবে এবারের হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত এখন পুরো অঞ্চলের উদ্বেগের বিষয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৫ লাখ ১০ হাজার হাজি সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ হাজার বেশি। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ছিল। কিন্তু সেই উদ্বেগ হাজিদের সংখ্যায় প্রভাব ফেলেনি।

গত মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এসব হামলায় সৌদি আরবের আল-খারজ শহরে দুই বেসামরিক নাগরিক এবং একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির এক সেনাসদস্য নিহত হন। আশঙ্কা করা হচ্ছিলো, সেই হামলার প্রভাব পড়তে পারে এবারের হজে।

এদিকে হজকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সৌদি সরকার। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পবিত্র নগরী মক্কার আকাশসীমা রক্ষায় বিশেষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মক্কার আশপাশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যাটারি স্থাপনের দৃশ্যও দেখা গেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক হাজি। মিসরের হাজি মোহাম্মদ শাহাদা বিবিসিকে বলেন, “ইরানের যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে। কেউ যুদ্ধ বা মানুষের ক্ষতি চায় না”।

অনেক মুসল্লি জানান, কয়েক মাসের অনিশ্চয়তা, বিমান চলাচলে বিঘ্ন এবং অতিরিক্ত ভ্রমণ ব্যয়ের পরও তারা হজ পালনের সুযোগ পেয়ে আনন্দিত। মরক্কোর ৬৮ বছর বয়সী জ্রেইশ মোহাম্মদ বলেন, “দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর ধরে হজ করার স্বপ্ন দেখেছি। এ বছর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে”।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ। সামর্থ্যবান ও শারীরিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ পালন ফরজ।

হজের প্রথম দিনেই হাজিদের ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করতে হয়েছে। পরে তারা মিনায় গিয়ে অবস্থান নেন। সেখান থেকে আজ তারা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন।

আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে আজ হজের মূল খুতবা পাঠ করা হবে। এ বছর খুতবা দেবেন মসজিদুল হারামের সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল হুদাইফি। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সুবিধার্থে এই খুতবা বাংলাসহ বিশ্বের ৩৫টি ভাষায় সরাসরি অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হচ্ছে।

খুতবা শেষে এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর এবং আসরের নামাজ একসঙ্গে জামাতে আদায় করবেন মুসল্লিরা। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ না পড়েই হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। মিনায় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় কংকর বা পাথর তারা এই মুজদালিফা থেকেই সংগ্রহ করবেন।

পর দিন (১০ জিলহজ) বুধবার সকালে পুনরায় মিনায় ফিরে হাজিরা ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। প্রথমে বড় শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ, এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা এবং কাবা শরিফ তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করবেন।

পরবর্তী দিনগুলোতেও মিনায় অবস্থান করে তিন শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। সবশেষে বিদায়ি  তাওয়াফের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে এই ইবাদত।

Continue Reading

Trending