Connect with us

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করল জাতিসংঘ

Published

on

যুদ্ধকালীন সংঘাতময় এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের কালোতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ঘটনার প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জাতিসংঘের একটি আসন্ন প্রতিবেদন। তথ্য আলজাজিরার। 

জাতিসংঘের একটি বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতার ঘটনায় ইসরায়েলকে ‘কালোতালিকায়’ যুক্ত করা হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইসরায়েল।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, তারা জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে জাতিসংঘ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভুল ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা দাবি করেন, এই প্রতিবেদন তাদের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অপমানজনক। তাদের মতে, জাতিসংঘ একটি পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান নিচ্ছে এবং ইসরায়েলকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহাসচিবের কার্যালয়ের দরজা এখনও খোলা আছে এবং তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিম আলসালেম এই তালিকায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করাকে যথাযথ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় নারীদের ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে আরও কঠোরভাবে তদন্ত প্রয়োজন।

এর আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং বলে যে তাদের তদন্তকারীদের কোনো কারাগার বা আটককেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের ঘটনা ঘটছে। তাদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি ধারাবাহিক প্যাটার্ন।

সম্প্রতি পশ্চিম তীর নিয়ে কাজ করা একটি মানবাধিকার সংস্থা জানায়, বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতা অনেক ফিলিস্তিনিকে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কিছু স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীরাও অভিযোগ করেছেন যে আটক অবস্থায় তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সরকার বিভিন্ন সময় এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে, কিছু প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার প্রতিফলন নয়।

এই ঘটনার পেছনে বড় একটি প্রেক্ষাপট হলো ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ। সেই সময় হামাসের হামলার পর ইসরায়েল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।

এরপর থেকে জাতিসংঘ ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনে পড়ে। জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইসরায়েলে অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করার ঘটনাও ঘটে।

সব মিলিয়ে নতুন এই প্রতিবেদনকে ঘিরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, আর আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

সম্পাদক: পলাশ মাহমুদফোন: +৮৮০১৩১২৫৫৯৯৬৬ই-মেইল: info@asia-post.com

ঠিকানা: লেভেল ১০, বেঙ্গল সেন্টার, ২৮ তোপখানা রোড, শাহবাগ, ঢাকা- ১০০০।

যুদ্ধকালীন সংঘাতময় এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের কালোতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ঘটনার প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জাতিসংঘের একটি আসন্ন প্রতিবেদন। তথ্য আলজাজিরা

জাতিসংঘের একটি বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতার ঘটনায় ইসরায়েলকে ‘কালোতালিকায়’ যুক্ত করা হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইসরায়েল।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, তারা জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে জাতিসংঘ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভুল ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা দাবি করেন, এই প্রতিবেদন তাদের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অপমানজনক। তাদের মতে, জাতিসংঘ একটি পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান নিচ্ছে এবং ইসরায়েলকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহাসচিবের কার্যালয়ের দরজা এখনও খোলা আছে এবং তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিম আলসালেম এই তালিকায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করাকে যথাযথ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় নারীদের ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে আরও কঠোরভাবে তদন্ত প্রয়োজন।

গাজার ৭০ শতাংশ দখলে নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর

এর আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং বলে যে তাদের তদন্তকারীদের কোনো কারাগার বা আটককেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের ঘটনা ঘটছে। তাদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি ধারাবাহিক প্যাটার্ন।

সম্প্রতি পশ্চিম তীর নিয়ে কাজ করা একটি মানবাধিকার সংস্থা জানায়, বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতা অনেক ফিলিস্তিনিকে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কিছু স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীরাও অভিযোগ করেছেন যে আটক অবস্থায় তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সরকার বিভিন্ন সময় এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে, কিছু প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার প্রতিফলন নয়।

এই ঘটনার পেছনে বড় একটি প্রেক্ষাপট হলো ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ। সেই সময় হামাসের হামলার পর ইসরায়েল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।

এরপর থেকে জাতিসংঘ ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনে পড়ে। জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইসরায়েলে অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করার ঘটনাও ঘটে।

সব মিলিয়ে নতুন এই প্রতিবেদনকে ঘিরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, আর আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

হচ্ছে না পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ অবসানের পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণের লক্ষ্যে শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে পূর্বনির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনায় যোগদানের সফরটি শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে এক বিবৃতি প্রদান করে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট সুইজারল্যান্ডে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য নির্ধারিত সময়ে ওয়াশিংটন ত্যাগ করছেন না। তিনি জানান যে এই ধরনের আন্তর্জাতিক ও স্পর্শকাতর আলোচনার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা বা লজিস্টিকস প্রক্রিয়া কখনোই সাধারণ বা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব হয় না।

মুখপাত্র তার সরকারি বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট তার সংবাদ সম্মেলনে যেমনটি বলেছিলেন, আসন্ন কারিগরি আলোচনার পরিকল্পনাগুলো এখনো চূড়ান্ত করা যায়নি।’ তবে তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন যে মার্কিন প্রতিনিধি দল প্রথম সুযোগেই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে যাত্রা করছেন না।

মার্কিন প্রশাসন অবশ্য ইরানের সঙ্গে এই শান্তি আলোচনা দ্রুত শুরু করার বিষয়ে তাদের ইতিবাচক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে তারা যত দ্রুত সম্ভব কারিগরি পর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করতে উন্মুখ হয়ে আছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ বা এই সফরের নতুন সময়সূচির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ও নিরেট তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা গণমাধ্যমকে দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

Continue Reading

top1

বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা

Published

on

By

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নৌবাহিনীর নতুন ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

ইন্ডিয়া টুডের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে কমিশনপ্রাপ্ত হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচিতে পৌঁছেছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন আরব সাগরের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিজেদের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। বহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানিয়েছেন, পাকিস্তান তাদের নৌবহরে এ শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরে তাদের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

চীন থেকে পাকিস্তানে ফেরার পথে কলম্বো বন্দরে পাকিস্তানের ফ্রিগেট ‘পিএনএস তৈমুর’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমোডর ওমর ফারুক সাবমেরিনটিকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে ইসলামাবাদ এখন কেবল উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে বিস্তৃত উপস্থিতির মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের মুখোমুখি হতে আগ্রহী।

গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি। ভারতের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ বঙ্গোপসাগরের সামরিক ভারসাম্য রাতারাতি বদলে দেওয়ার মতো না হলেও, এটি ভারতের জন্য কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ কর্তৃক ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দেওয়ার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সতর্ক করছে যে, এই নতুন সাবমেরিন মোতায়েন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার নৌ-কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

Continue Reading

top1

ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার

Published

on

By

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত এবং শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আলোচনার নির্ধারিত সময়কালে উভয় পক্ষই সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে বলে এক সমঝোতায় পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সব সমুদ্র বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে চুক্তির শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে।

সেন্টকম তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছে যে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরে প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার সমস্ত নৌ-যান চলাচলের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে। তবে তাদের শক্তিশালী নৌ-জাহাজগুলো ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে যাতে চুক্তির প্রতিটি দিক কঠোরভাবে মেনে চলা হয়।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, অবরোধ শিথিল করার পর গত বুধবারই হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়েছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী এক ডজনেরও বেশি জাহাজকে এই প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে যে যুদ্ধকালীন সময়ে হরমুজ প্রণালীতে পুঁতে রাখা মাইনগুলো দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আগামী ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি বা শুল্ক আদায় করা হবে না। তবে প্রণালী পার হতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোকে ইরানের একটি নতুন সরকারি সংস্থায় ট্রানজিট অনুরোধ জমা দিতে হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয় এবং বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। বর্তমান এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই ভঙ্গুর চুক্তিটি এখনো বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত উপস্থিতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ৬০ দিনের আলোচনা শেষে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যেখানে ইরান পরবর্তীতে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে, তা এই চুক্তির স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সাথে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করায় দেশের অভ্যন্তরে সমালোচনার মুখে পড়েছে। চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই মার্কিন ছাড় হিসেবে দেখছেন।

তবে এই সমালোচনার জবাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, মানুষ যখন এই চুক্তি এবং দেশের আলোচনার অবস্থানটি পুরোপুরি বুঝতে পারবে, তখন তারা উপলব্ধি করবে যে এটি মার্কিন জনগণের জন্য অত্যন্ত চমৎকার একটি সিদ্ধান্ত।

Continue Reading

Trending