Connect with us

আন্তর্জাতিক

মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম ইরানের কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘রা’দ-৭০০’

Published

on

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স মার্কিন ও ইহুদিবাদী শত্রুদের বিরুদ্ধে ‘তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ অর্থাৎ রমজান যুদ্ধের সময় বিভিন্ন ধরণের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং তাদের ওপর মারাত্মক আঘাত হেনেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্সের বহরে যুক্ত হওয়া এবং কার্যকর হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘রা’দ-৫০০’ (জুহাইর-১)। বর্তমানে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে সামনে এসেছে আধুনিক ও কার্যক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ‘রা’দ-৭০০’ (জুহাইর-২)।

একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা

রা’দ-৫০০ (জুহাইর-১) এবং বর্তমানে রা’দ-৭০০ (জুহাইর-২) ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে মনে হচ্ছে যে, ফাতেহ ক্লাসের (ফাতেহ-১১০, ফাতেহ-৩১৩ এবং জুলফিকার) স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র পরিবারের যাত্রা শেষের পথে। এই ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজটিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ হাসান তেহরানি-মোকাদ্দামের এক চিরস্থায়ী ঐতিহ্য হিসেবে স্মরণ করা হয়, যা বছরের পর বছর ধরে ইরানের নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতার মূল ভিত্তি ছিল।

এখন এই অভিজ্ঞ প্রজন্মটি তাদের জায়গা ছেড়ে দিয়েছে আরও আধুনিক নকশা ও উন্নত প্রযুক্তির একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের কাছে এবং এটি এখন আর কারখানার উৎপাদন লাইনে নেই। এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম রা’দ-৫০০ বা জুহাইর-১; যা শহীদ তেহরানি-মোকাদ্দামের শুরু করা পথেরই একটি বড় অগ্রগতি এবং আজ তা হালকা, দ্রুত ও নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এগিয়ে চলেছে।

রা’দ-৫০০ (জুহাইর-১) হলো উপযুক্ত পাল্লা, উচ্চ নির্মাণ গুণমান, ছোট আকৃতি, শক্তিশালী ওয়ারহেড এবং অসাধারণ চালচলন বা ম্যানুভারেবিলিটি সম্পন্ন একটি ক্ষেপণাস্ত্র, যা কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবারে এক নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। ৫০০ কিলোমিটার পাল্লা এবং ছোট ও কমপ্যাক্ট আকারের কারণে এটিকে যথাযথভাবেই ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন প্রজন্ম বলা যেতে পারে; এমন এক প্রজন্ম যা আগের মডেলগুলোর চেয়ে অনেক হালকা, উন্নত এবং কার্যকর।

রা’দ-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্রটি তার সুবিধাজনক আকারের কারণে ‘টুইন-লঞ্চার’ (একসাথে দুটি বহনকারী যান) এর ওপর বহন করা যায় এবং নিকট ভবিষ্যতে এর তিন ও চার ক্ষেপণাস্ত্র বিশিষ্ট সংস্করণও কল্পনা করা সম্ভব। এটি দেখায় যে, ক্ষেপণাস্ত্রটির নতুন নকশা এর পরিবহন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কতটা অপ্টিমাইজড বা কার্যকর হয়েছে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে, রা’দ-৫০০ তার আগের প্রজন্মের তুলনায় উচ্চ নির্মাণ গুণমান এবং অসাধারণ চালচলন ক্ষমতার অধিকারী। তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে এর কার্যকারিতা বিষয়টি প্রমাণ করেছে; যেখানে এটি নিজস্ব জটিল এবং বুদ্ধিমান ফ্লাইট প্রোফাইলের ওপর নির্ভর করে মার্কিন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সফল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং বেশিরভাগ লড়াইয়ে আধিপত্য বজায় রেখেছে।

রা’দ-৫০০ এর বৈশিষ্ট্যসমূহ

এই ক্ষেপণাস্ত্রটি নতুন প্রজন্মের প্রপালশন সিস্টেম এবং কম্পোজিট উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এতে কার্বন ফাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রায় ১০০ বার চাপ সহ্য করতে পারে এবং প্রায় ৩০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকতে সক্ষম।

রা’দ-৫০০ হলো একটি নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র যা ইস্পাতের বডি বিশিষ্ট ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অর্ধেক ওজনের, কিন্তু এর পাল্লা অনেক বেশি। ফাতেহ পরিবারের প্রচলিত মডেলগুলোর তুলনায় রা’দ-৫০০ এর ওজন ৫০% হ্রাস পেলেও, এর পাল্লা ২০০ কিলোমিটার বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রে পূর্ববর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে আরও উন্নত বিস্ফোরক ব্যবহারের কারণে ওয়ারহেডের ওজন কম হলেও, এর কার্যকারিতা ফাতেহ পরিবারের ৪৫০ কেজি ওজনের ওয়ারহেডের সমান। রা’দ-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্রে প্রায় ১২০ কেজি বিস্ফোরক রয়েছে এবং এর ওয়ারহেডটি উচ্চ-বিস্ফোরক ফ্র্যাগমেন্টেশন ধরণের, যার মোট ভর সম্ভবত ২০০ থেকে ২৫০ কেজির কাছাকাছি।

রা’দ-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল বিষয় হলো এর নির্মাণে উন্নত প্রযুক্তি ও উপাদানের ব্যবহার। কারণ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কেবল বডির ক্ষেত্রে নয়, বরং এর প্রোপালশন সিস্টেমের ক্ষেত্রেও “জুহাইর” কম্পোজিট প্রোপালশনে সজ্জিত। এভাবে ইঞ্জিন এবং বডি উভয় ক্ষেত্রেই কার্বন ফাইবার প্রযুক্তির কম্পোজিট উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা ফাতেহ-১১০ পরিবারের অন্যান্য মডেলের তুলনায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। প্রতিরক্ষা শিল্পের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান ২০১৪ সালেই এই প্রযুক্তি অর্জন করেছে।

রা’দ-৭০০ (জুহাইর-২)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ

তবে রা’দ-৫০০ (জুহাইর-১) এই পরিবারের একমাত্র সদস্য নয়। এর পাশাপাশি একটি উন্নত এবং অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত সংস্করণও রয়েছে—যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং তথ্যও সীমিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

রা’দ-৭০০ (জুহাইর-২) কে এর প্রথম প্রজন্ম অর্থাৎ রা’দ-৫০০ এর ওপর ভিত্তি করে একটি গভীর ও ভারী আপগ্রেড বা আধুনিকায়ন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রটি রা’দ-৫০০ এর মূল কাঠামো বজায় রাখলেও কিছু মূল খুঁটিনাটি বিষয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এই সংস্করণে সামগ্রিক আকৃতি প্রায় একই রয়েছে; ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাস আগের মতোই আছে, বুস্টারের দৈর্ঘ্য পরিবর্তন হয়নি এবং কেবল এর কলার বা ওয়ারহেডটি কিছুটা দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। তবে আপাতদৃষ্টিতে ছোট এই পরিবর্তনটি, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের সাথে মিলে ক্ষেপণাস্ত্রের পুরো চরিত্রকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছে:

জুহাইর-২ এর ওয়ারহেডে একটি ছোট সলিড-ফুয়েল (কঠিন জ্বালানি) মোটর যুক্ত করা হয়েছে; এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা এটিকে ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এই আপগ্রেডের ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৭০০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে; যা এর কমপ্যাক্ট বা ছোট আকৃতির বিবেচনায় একটি দুর্দান্ত প্রকৌশলগত কৃতিত্ব।

আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্সের কর্মীদের মাঝে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তার আচরণ এবং উড্ডয়ন শৈলীর মিলের কারণে “ফাত্তাহ কুচুলু” (ছোট ফাত্তাহ) ডাকনামও পেয়েছে। এটি ইরানের হাইপারসনিক পরিবারের অন্যতম কম পরিচিত সদস্য যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়নি, তবে যুদ্ধের সাংগঠনিক কাঠামোতে এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো এর রহস্য উন্মোচন করা হলো।

প্রথম সংস্করণের মতো জুহাইর-২ ক্ষেপণাস্ত্রটিও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং এটি তিন মিনিটেরও কম সময়ে মার্কিন সেনাদের একটি সমাবেশস্থলে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এই হামলায় নিশ্চিতভাবেই ভারী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এবং এটি ক্ষেপণাস্ত্রটির কর্মক্ষমতা চমৎকারভাবে প্রমাণ করেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করার ঘোষণা ট্রাম্পের

Published

on

By

ইরান যুদ্ধের জের ধরে স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, তিনি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ন্যাটোতে স্পেনকে ‘ভয়ানক অংশীদার’ বলে আখ্যায়িত করেন।

গত মার্চ মাসে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের দেশে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি স্পেন। এমনকি মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমাও বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্প এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে আগের সমঝোতা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমার ধারণা, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি এখন শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় ইরানের ৮০টি নির্দিষ্ট স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। এতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

সেন্টকম আরও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার সক্ষমতা কমাতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে যাওয়া তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। তবে ইরান এখনও এসব হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির খার্গ দ্বীপেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

Continue Reading

top1

যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫ সামরিক স্থাপনায় হামলা ইরানের

Published

on

By

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছে। একই অভিযানে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে সংস্থাটি।

বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, বাহরাইনের সালমান বন্দর, যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সামুদ্রিক এলাকা এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনকে গুলি করে নামানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের ৮০টিরও বেশি স্থাপনা হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে করে দুদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আইআরজিসি অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পুরোনো অভ্যাস’ অনুসরণ করেছে। তাদের দাবি, বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজগান ও মাহশাহর উপকূলীয় ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে।   

Continue Reading

top1

তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষোভ নেতানিয়াহুর

Published

on

By

তুরস্কের কাছে আমেরিকার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিলেও দুই নেতার মধ্যে কোনো ধরনের ফাটলের কথা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সিএনএন-এর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই আপত্তির কথা জানান।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহ করলেই তুরস্ক আমেরিকার জন্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের শাসনব্যবস্থাকে তিনি ‘মুসলিম ব্রাদারহুড দ্বারা সংক্রমিত একটি রেজিম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান যে এফ-৩৫ বিমান দিলে তা মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সামরিক শক্তির ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে।

তবে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে তুরস্কে অবস্থান করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আঙ্কারার ওপর আগের নিষেধাজ্ঞাটি তুলে নেওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প তুরস্ককে আমেরিকার একটি অসাধারণ মিত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের সঙ্গে তার রাজনৈতিক দূরত্বের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন যে প্রধান প্রধান বৈশ্বিক ইস্যুতে তারা দুজন আসলে একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।

সাক্ষাৎকারে ওবামা প্রশাসনের আমলে ইরানের পরমাণু চুক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা নেতানিয়াহু এবার আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি সমালোচনা করা থেকে বিরত ছিলেন। এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটেছে এবং হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত করার বিনিময়ে ইরানের ওপর থাকা তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নেতানিয়াহু আমেরিকার ডেমোক্রেটিক দলের আইনপ্রণেতাদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কারণ দলটির ভেতরে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার পেছনে নিজের কোনো ব্যক্তিগত দায় রয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন নেতানিয়াহু সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারণাই এর মূল কারণ।

সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সাম্প্রতিক ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের তিনি ‘কিশোর অপরাধী’ হিসেবে বর্ণনা করে স্বীকার করেন যে এই সহিংসতার বিষয়টি ধারণার বাইরে অনেক বড় আকার ধারণ করেছে এবং ইসরায়েলের আদালতগুলো এদের প্রতি অত্যন্ত নরম আচরণ করে

Continue Reading

Trending