Connect with us

top1

ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট: জামায়াত

Published

on

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ‘ঋণনির্ভর, বাস্তবায়ন অযোগ্য ও লুটপাটের বাজেট’ আখ্যা দিয়েছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী।

দলটির দাবি, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জনকল্যাণমূলক, কর্মসংস্থানমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেটের পরিবর্তে সরকার এমন একটি বাজেট দিয়েছে, যা ঋণনির্ভর, বাস্তবতা-বিবর্জিত এবং শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি ও লুটপাটকে উৎসাহিত করবে।

শুক্রবার (১২ জুন) নতুন অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বাজেট প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে এসব কথা বলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটটি ব্যাংক ও বৈদেশিক বিরাট ঋণের ওপর নির্ভরশীল। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের আর্থিক সংস্থান করতে গিয়ে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার যে রাজস্ব আয়ের কথা বলা হয়েছে, সেই রাজস্ব কীভাবে আদায় করা হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। বাজেটের ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা কোথা থেকে পূরণ করা হবে- সেটি স্পষ্ট নয়। যেসব উৎস দেখানো হচ্ছে সেখানে যে কর কাঠামো, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রয়োজন, সেগুলোর উল্লেখ নেই।

তিনি আরও বলেন, এবারের বড় ঘাটতি বাজেটের যে ব্যয় সংকুলান, তা ব্যাংক লোন থেকে করা হবে। তাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে। ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না, স্বাভাবিকভাবে বেসরকারি খাতে প্রভাব পড়বে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর সঙ্গে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যুক্ত হওয়ায় বাজেট বাস্তবায়ন ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ‘অবাস্তব’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৫ শতাংশের নিচে রেখেছে। সেখানে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একইভাবে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি একটি ফাঁপানো ও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য। ভেতরে এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

পরওয়ার বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের প্রতিফলন এ বাজেটে নেই। বাংলাদেশকে একটি স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কোনো রূপরেখাও এই বাজেটে পরিলক্ষিত হয়নি।

তিনি বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করা হয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে এডিপির আকার বৃদ্ধি করলে দুর্নীতি ও অপচয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত এসব অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত আমাদের পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের নীতির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এ ছাড়াও উচ্চাভিলাষী এই বাজেটের অর্থায়ন করতে গিয়ে সরকারকে অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছে। দেশীয় উৎস, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়বে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, ন্যূনতম ব্যক্তিগত করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। মূল্যস্ফীতির কারণে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে, সেখানে অতিরিক্ত করের বোঝা জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

এই বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই বাজেট প্রণয়নে কোনো ধরনের হঠকারিতা জনগণ মেনে নেবে না। তাই অতিসত্বর অবাস্তবায়নযোগ্য, উচ্চাভিলাষী ও লুটপাটের সহায়ক এই বাজেট সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

জামায়াত প্রস্তাবিত ছায়া বাজেটের সঙ্গে তুলনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তাদের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছিল ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, যা সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় কম ঘাটতি ও কম ঋণনির্ভর।

তিনি বলেন, আমাদের ছায়া বাজেট জনকল্যাণমুখী ও সংস্কারভিত্তিক। সরকারের বাজেটের তুলনায় এটি বেশি বাস্তবসম্মত এবং দেশের অর্থনীতির জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।

সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বাজেটে আনা হয়েছে: অর্থমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, বাজেট ঘাটতির ক্ষেত্রে সরকারের প্রস্তাবিত ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ জামায়াতের বাজেটে ঘাটতি অনেক কম, যা জিডিপির প্রায় ২.৪৩ শতাংশ; সেখানে সরকারের ঘাটতি ৩.৫ শতাংশ। সরকারি বাজেট ও জামায়াতে ইসলামীর ছায়া বাজেটের মধ্যে পার্থক্য শুধু সংখ্যাগত নয়; অর্থনৈতিক দর্শন, নীতিগত অবস্থান এবং বাস্তবায়ন কৌশলেও মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত আমির অর্থবছর পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর ক্যালেন্ডার বছরভিত্তিক অর্থবছর চালু।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমরা আশা করি, সরকার গঠনমূলক প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে বাজেট সংশোধন করবে এবং বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য ও অনিয়মের লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে, তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মু. আতাউর রহমান সরকার ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

অপরিবর্তিত থাকছে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার 

Published

on

By

মধ্যবিত্ত পরিবারের কথা ভেবে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ছয় মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বর্তমানে মেয়াদ ও বিনিয়োগের পরিমাণ বিবেচনায় সঞ্চয়পত্র থেকে একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ সুদ পেয়ে থাকেন ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। পরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সঞ্চয় অধিদপ্তর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলেছেন চিঠিতে সই করা অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা।

এর আগে সঞ্চয় অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুদহার কমানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হয়। এতে সঞ্চয়পত্রের বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সুদহার কমানো হয়।

তবে মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে, এমন শঙ্কায় চার দিন পর চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করা হয়। ফলে জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্যও আগের হারে সুদ অপরিবর্তিত রয়ে যায়। বর্তমানে ছয়মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণ করে আসছে আইআরডির সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর।

স্থগিত হওয়া প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থবছরের শেষ ছয় মাস, অর্থাৎ জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা এর চেয়ে কম বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ; সর্বনিম্ন ধরা হয়েছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

তার আগে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য এ ধরনের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার সরকারের সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে একই হারে তথা আগের মতই সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদ পাবেন। তবে বিনিয়োগের মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হারে ভিন্নতা রয়েছে।

পরিবার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা আছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে এমন বিনিয়োগে সুদের হার আগের মতোই ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থাকছে।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগের সুদের হার সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে আগের মতই ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগ হলে সুদের হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। বিনিয়োগ সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে তিন বছর মেয়াদে সাড়ে সাত লাখ টাকার বিনিয়োগের সুদহার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সরকার ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রে সুদহার ঘোষণা করে। তবে সুদহার বদলালেও যখন যে স্কিমে বিনিয়োগ করা হয়, সেটির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেনার সময়কার সুদহারই বহাল থাকে।

একক বা যৌথভাবে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বিনিয়োগে এক ধরনের সুদহার পাওয়া যায়। এর চেয়ে বেশি বিনিয়োগে অপেক্ষাকৃত কম সুদহার দেয় সরকার। বিনিয়োগের মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হারেও ভিন্নতা রয়েছে। এক স্কিমে এক থেকে পাঁচ বছরের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে বিনিয়োগ করা যায়। সঞ্চয় স্কিমে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পরিবার সঞ্চয়পত্র।

Continue Reading

top1

মির্জা ফখরুলের বাসায় যুবদলের পদবঞ্চিতরা, সাক্ষাৎ চান প্রধানমন্ত্রীর

Published

on

By

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেছেন যুবদলের পদবঞ্চিত নেতারা। এ সময় তারা তাকে দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি দেওয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ৮টা ৪০ থেকে ৯টা পর্যন্ত হেয়ার রোডের নিজ বাসায় পদবঞ্চিতদের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যুবদলের পদবঞ্চিত ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতা এতে অংশ নেন।

এর আগে গত ৪ জুন যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে এ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হন পদবঞ্চিতরা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তারা হাজির হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পদবঞ্চিত নেতারা মূল দলের মহাসচিবের কাছে তাদের ক্ষোভের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষ করে দলের অভিভাবক তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধৈর্য সহকারে তাদের কথা শোনেন এবং বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যারা

যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক এবং সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুবদলের সদ্য সাবেক কমিটির গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম রিয়ন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান অলি উদ্দিন সুমন ও গোলাম ফারুক, সাবেক সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুল আলম টিটু, সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক বি এম আমান উল্লাহ বিপুল, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বাছেদুর রহমান সোহেল, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহিম, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম হিমেল প্রমুখ।

সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সরকার মামুন, শাহিনুজ্জামান মিন্টু, সেলিম হোসাইন মুন্না আকন্দ, মিজান খান ও দুলাল হোসেনও বৈঠকে অংশ নেন।

স্থানীয় নির্বাচনে যেসব যোগ্যতায় মিলবে বিএনপির সবুজ সংকেত

সাবেক ছাত্রদল নেতারা

ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক ও জাকির হোসেন খান; সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন উজ্জ্বল, আবুল হাসান, মাহফুজুর রহমান, মিজানুর রহমান সোহাগ; সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল আলম, ইসমাইল হোসেন খান শাহীন, মুজাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আরিফ, আনোয়ার জাহিদ, সুমন চৌধুরী, ফজলুল হক নিরব; সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ সরকার, গোলাম আজম সৈকত, সবুর খান সাগর, জাহাঙ্গীর আলম, শফিউল আজম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও অংশ নেন ছাত্রদলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মিরাজ আজিম, সাবেক জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক স্বপন মন্ডল, সাবেক সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম মাসুম, সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক রবিউল হাসান আরিফ, সাবেক বেসরকারি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াকুব রাজু এবং সাবেক সদস্য মহিবুল্লাহ জয়, খলিলুর রহমান জনি ও এম কামরুল হাসান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক সহ-সভাপতি ফরিদ খান, শরিফ আল ফরহাদ দীপু ও বিশ্বজিৎ ভদ্র; জহুরুল হক হলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি খসরু আহমেদ হিরন এবং সাবেক ছাত্রনেতা কবির আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

যুবদল মহানগর উত্তর ও অন্যান্য ইউনিট

যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ ও মাহমুদ খান; ছাত্রদল পূর্বের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুলাল মাতব্বর; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার আমিনুল হক কাকন, সাবেক ছাত্রনেতা এমদাদুল হক পারভেজ, ইমদাদুল হক, জাহিদ হাসান হিরন, নজরুল ইসলাম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে মো. হুমায়ুন কবির, শাহীন আকন্দ, সেলিম রেজা, মাসুদ রানা, মানিক হোসেন, মহিউদ্দিন বেগ সুজন, আমির হোসেন বাদশা এবং হাসান জাহিদ হিরনসহ যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পদবঞ্চিত নেতাদের দাবি, দলের ক্রান্তিলগ্নে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই তারা সরাসরি দলীয় হাইকমান্ডের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে চান।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিবের এপিএস ইউনুস আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘যুবদলের পদবঞ্চিতরা মহাসচিব স্যারের কাছে এসেছিলেন। তাদের কাছে স্যার আবেদনপত্র চেয়েছেন। সেটি পেলে যাছাই বাছাই করে চেয়ারম্যান।

Continue Reading

top1

ছাত্রশিবিরের ভর্তি কেন্দ্রের বুথ থেকে জমা রাখা আইফোন হারানোর অভিযোগ, পাঁচ মাসেও নেই সমাধান

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি:


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষায় হলে প্রবেশের আগে জমা রাখা একটি মোবাইল ফোন (আইফোন ১৩) হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাবি শাখার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীর দাবি, গত ১৭ জানুয়ারি সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে মোবাইল ফোনটি শাখা ছাত্রশিবিরের হেফাজত থেকে হারিয়ে যায়। তবে ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো ফোনটি ফেরত পাননি। একই সঙ্গে তার দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণও তাকে দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের দাবি, ঘটনার পর থেকেই তারা ভুক্তভোগীকে সহযোগিতা করছে এবং পুলিশের মাধ্যমে ফোন উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি, এ ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টার অভিযোগও করেছে সংগঠনটি।

এদিকে গতকাল (১ জুলাই) “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার নামক” একটি ফেসবুক গ্রুপে অভিযোগকারী লিখেন, ‘আমার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ছাত্রশিবিরের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছে আমার ফোনটি জমা রাখি। পরীক্ষা শেষে বের হয়ে যখন তাদের কাছে ফোনটি ফেরত চাই, তখন তারা জানায় যে ফোনটি হারিয়ে গেছে। এরপর তারা আমাকে নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। কিন্তু জিডিতে সম্পূর্ণ দোষ আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, ফোনটি আমার অজান্তে হারিয়ে গেছে।’

তিনি আরও লিখেন, প্রথমে সংশ্লিষ্টরা তার মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। পরে ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব না হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। তবে ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি ফোনটি ফেরত পাননি এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ক্ষতিপূরণও পাননি। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে ছাত্রশিবিরের একাধিক দায়িত্বশীলের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার সময় আমাদের একটি বুথ দেওয়া হয়েছিল। আমাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল, ওই বুথে কোনো ব্যাগ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা যাবে না। সেখানে শুধুমাত্র অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা এবং পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি পানের ব্যবস্থা ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘তবে ওই ছেলেটি অনেক অনুরোধ করায় তার ব্যাগটি রাখা হয়। আমরা টোকেন ছাড়া কখনো কোনো মোবাইল ফোন গ্রহণ করি না। পরে সে এসে দাবি করে, তার ফোনটি ব্যাগের ভেতরে ছিল। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই বুথে দায়িত্বে থাকা সদস্যরা তাকে নিয়ে থানায় যান এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ওই ছেলেটির সঙ্গে আমার সরাসরি আর যোগাযোগ হয়নি।’

তবে অভিযোগকারী বলেন, ‘সেদিন রাতেই আমি সালাহউদ্দিন আম্মারের কাছে যাই। প্রক্টর তাকে ফোন করে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন। তখন প্রক্টর আমাকে সাত দিন সময় দিতে বলেন এবং আশ্বস্ত করেন যে ফোনটি পাওয়া যাবে। পরে তারা আরও তিন মাস সময় চান। তিন মাস পর আমি আবার সালাউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “আমি শিবিরের কেউ নই, আমি স্বতন্ত্র। আপনি শিবিরের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলুন।” এরপর আমি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানকে ফোন করি। তিনি বলেন, “আচ্ছা, দেখতেছি।” কিন্তু এরপর তিনি আর আমার ফোন রিসিভ করেননি। একদিন অসুস্থতার অজুহাতও দেন তিনি।’

এ বিষয়ে শাখা শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘এডমিশন হেল্প ক্যাম্প থেকে সাধারণত তথ্য সেবা, পানি, গার্ডিয়ানদের বসার ব্যবস্থা, প্রাইমারি মেডিসিন সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও উপহার হিসেবে কলম এবং চাবির রিং দেওয়া হয়েছিলো। ফোন বা ব্যাগ রাখা আমাদের সার্ভিসের মধ্যে ছিলো না কিংবা প্রস্তুতিও ছিলো না। কিন্তু ঐদিন হলে ফোন, ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দিচ্ছিলো না বিধায় ক্যান্ডিডেটদের বারবার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বুথে কয়েক’শ ফোন ব্যাগ জমা রাখা হয়। শতশত ফোন ব্যাগ ক্যান্ডিডেটরা ফেরত পেলেও প্রচন্ড ভীড়ের মধ্যে একটা ফোন মিসিং হয়। এরপর উক্ত ক্যান্ডিডেটকে সাথে নিয়ে দায়িত্বশীল ভলান্টিয়াররা প্রক্টর স্যারের অফিসে নিয়ে যায়। প্রক্টর স্যার পুলিশের সাথে কথা বলে থানায় একটা জিডি করতে বলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিবিরের দায়িত্বশীলরা ভুক্তভোগীকে সাথে নিয়ে থানায় যায় এবং জিডি করে। এখানে উল্লেখ্য যে জিডিতে চুরি লেখা যায়না, হারিয়ে যায় লিখতে হয়। চুরি লিখলে জিডি নয় মামলা করতে হয়। এটি বাংলাদেশের আইনেরই দুর্বলতা। তারপর প্রক্টর স্যার ও আমরা থানার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি, আপডেট নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ফোন, ল্যাপটপ উদ্ধার হতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটু সময় বেশি লাগে। ৬ মাস ১ বছর পরেও পাওয়া যায়। কিন্তু ভুক্তভোগী সময় দিতে রাজি না হয়ে বারবার জরিমানা দাবি করতে থাকেন। ইভেন রিসেন্ট সময়েও পুলিশের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের উদ্ধারের কাজ চলমান আছে বলে জানিয়েছেন।’

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এমতাবস্থায় একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে নিয়ে ছাত্রদল নোংরা রাজনীতি করতে চাচ্ছে এবং সবাই গণহারে পোস্ট দিয়ে তাদের হলে অবৈধভাবে সিট দখলের ইস্যুকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা আশাবাদী পুলিশ প্রশাসন এবং প্রক্টরিয়াল বডির প্রচেষ্টার ভুক্তভোগীর ফোন উদ্ধার হবে এবং তছরুপকারীকেও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

আবদুল্লাহর দাবি, সেখানে মোবাইল ফোন জমা রাখার ব্যবস্থা ছিল এবং তিনি ফোন জমা দেওয়ার পর একটি টোকেনও পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা শেষে আমি টোকেন দেওয়ার পর তারা ১০–১৫ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে জানায়, “ভাই, ফোন তো মিসিং। ফোন পাওয়া যাচ্ছে না।” এরপর আমার টোকেনটিও আমাকে আর ফেরত দেওয়া হয়নি। আমি কোনো ব্যাগ জমা দিইনি, শুধু আমার মোবাইল ফোনটি জমা দিয়েছিলাম। পরে বিজয়-২৪ হলের ভিপি ভাইসহ আরেকজন আমাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। প্রক্টরের পরামর

তিনি আরও বলেন, ‘শিবিরের দায়িত্বশীলরা ভুক্তভোগীকে সাথে নিয়ে থানায় যায় এবং জিডি করে। এখানে উল্লেখ্য যে জিডিতে চুরি লেখা যায়না, হারিয়ে যায় লিখতে হয়। চুরি লিখলে জিডি নয় মামলা করতে হয়। এটি বাংলাদেশের আইনেরই দুর্বলতা। তারপর প্রক্টর স্যার ও আমরা থানার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি, আপডেট নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ফোন, ল্যাপটপ উদ্ধার হতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটু সময় বেশি লাগে। ৬ মাস ১ বছর পরেও পাওয়া যায়। কিন্তু ভুক্তভোগী সময় দিতে রাজি না হয়ে বারবার জরিমানা দাবি করতে থাকেন। ইভেন রিসেন্ট সময়েও পুলিশের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তাদের উদ্ধারের কাজ চলমান আছে বলে জানিয়েছেন।’

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এমতাবস্থায় একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে নিয়ে ছাত্রদল নোংরা রাজনীতি করতে চাচ্ছে এবং সবাই গণহারে পোস্ট দিয়ে তাদের হলে অবৈধভাবে সিট দখলের ইস্যুকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা আশাবাদী পুলিশ প্রশাসন এবং প্রক্টরিয়াল বডির প্রচেষ্টার ভুক্তভোগীর ফোন উদ্ধার হবে এবং তছরুপকারীকেও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’

আবদুল্লাহর দাবি, সেখানে মোবাইল ফোন জমা রাখার ব্যবস্থা ছিল এবং তিনি ফোন জমা দেওয়ার পর একটি টোকেনও পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা শেষে আমি টোকেন দেওয়ার পর তারা ১০–১৫ মিনিট অপেক্ষা করিয়ে জানায়, “ভাই, ফোন তো মিসিং। ফোন পাওয়া যাচ্ছে না।” এরপর আমার টোকেনটিও আমাকে আর ফেরত দেওয়া হয়নি। আমি কোনো ব্যাগ জমা দিইনি, শুধু আমার মোবাইল ফোনটি জমা দিয়েছিলাম। পরে বিজয়-২৪ হলের ভিপি ভাইসহ আরেকজন আমাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। প্রক্টরের পরামর্শে আমরা থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। কিন্তু জিডিতে এমনভাবে লেখা হয়, যেন ফোনটি আমার অজান্তে হারিয়ে গেছে। অথচ ফোনটি তাদের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় হারিয়েছিল।’

আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘পরে আমি শাখা রাকসুর সভাপতি (ভিপি) জাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের কেউ নই, আমি কিছু করতে পারব না।” সর্বশেষ আমি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমার কাছ থেকে জিডির কাগজ নিয়েছিলেন, কিন্তু এরপর আর আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।’

Continue Reading

Trending