top3

এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

Published

on

গত প্রায় এক মাস ধরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় চরম আকার ধারণ করেছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে এই সংকট শুরু হওয়ায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার হাটবাজার ও খুচরা দোকানগুলোতে গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না বললেই চলে। কোথাও সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মতলব উত্তর উপজেলার অধিকাংশ পরিবার রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি কাঠ ও কেরোসিনের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ করে এলপিজি গ্যাসের এমন সংকটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নাভিশ্বাস উঠেছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আবারও কাঠ বা বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য।

সরেজমিনে উপজেলার ছেংগারচর, সুজাতপুর, নতুন বাজার’সহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, যেখানে আগে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ থাকত, সেখানে এখন বড় বড় দোকানেও সিলিন্ডার নেই। কিছু কিছু দোকানে সীমিত পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেলেও ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

ভুক্তভোগী গৃহিণী নাজমা বেগম বলেন, আমরা কয়েক বছর ধরে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করে রান্না করি। এখন তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ। বাজারে খোঁজ করেও পাচ্ছি না। কোথাও পেলেও দাম অনেক বেশি। সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে এত টাকা দিয়ে গ্যাস কিনব কীভাবে?

আরেক ভুক্তভোগী কামাল মিয়া জানান, আগে হাটে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানদাররা বলে গ্যাস নেই। রান্না করতে না পেরে পরিবার নিয়ে খুব বিপদে আছি।

এলপিজি ব্যবসায়ীরাও সংকটের বিষয়টি স্বীকার করছেন। সুজাতপুর বাজারের ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, কোম্পানি থেকে আমরা নিয়মিত গ্যাসের সরবরাহ পাচ্ছি না। এজন্য বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও আমাদের কাছে কোনো সঠিক তথ্য নেই।

তিনি আরও জানান, সরবরাহ কম থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান বাজার মনিটরিং কিংবা কোনো লিখিত ঘোষণা না থাকায় একশ্রেণির ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, এলপিজি গ্যাস সংকট বর্তমানে একটি জাতীয় সমস্যা। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version