Connect with us

top3

‎‎কুবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, শহীদ আব্দুল কাইয়্যুমকে মরণোত্তর সম্মাননা

Published

on

‎সানজিদা আক্তার সাথী, ‎কুবি প্রতিনিধি:

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় ছাত্র-জনতার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এর ২য় বর্ষপূর্তি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা, মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

‎বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি ক্যাম্পাস গেট, গোলচত্বর ও শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

‎পরে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আব্দুল কাইয়্যুমকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং তাঁর মায়ের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

‎আলোচনা সভা শেষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

‎অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম। এছাড়া শহীদ আব্দুল কাইয়্যুমের মা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

‎শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের কথা স্বরণ করে অশ্রুশিক্ত কণ্ঠে তাঁর মা বলেন, “আমার ছেলের কথা বলতে গেলে কখনো শেষ হবে না৷ আমি মনে করি আমার ছেলের মতো আর দ্বিতীয় কেউ হতে পারবে না। আমার ছেলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই এত বড় একটা আয়োজন করেছে এটার জন্য আমি খুশি। আপনারা জানেনই আমার অবস্থা; স্যাররা গিয়েছিলো আমার বাড়িতে, তারা দেখে আসছে৷”

‎কোষাধক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, “আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই এদেশ বিনির্মাণে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সর্বশেষ ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত হয়েছেন তাদেরকে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে সামনে রেখে আমাদের দেশ, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমরা যে যেখানে আছি সে জায়গা থেকে কাজ করে যেতে চাই। আব্দুল কাইয়ূম আমার বিভাগের একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী স্টুডেন্ট ছিলেন। আমার প্রত্যাশা থাকবে আমরা যেন শহীদ আব্দুল কাইয়ূম কে ভুলে না যাই। প্রশাসনের প্রতি আমার প্রত্যাশা আব্দুল কাইয়ূম এর পরিবারকে যেন সর্বোচ্চ সহায়তা করা হয়।”

‎শহীদ আব্দুল কাইয়ুম এবং তার পরিবারকে নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “আমরা আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ তারা আমাদের ডাকে সারা দিয়েছেন, আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছেন। আব্দুল কাইয়ুম কোন ফ্যাকাল্টিতে পড়তো, কোন বিভাগে ক্লাস করতো, পরীক্ষা দিতো এগুলো তার পরিবারকে দেখানোর জন্যই এই ফ্যাকাল্টিতে আয়োজন করেছি। শহীদ আব্দুল কাইয়ুম ৪ তারিখে যেদিন গুলিবিদ্ধ হয় সেদিন স্বৈরাচার দেশে ছিলো, আর ৬ তারিখ যেদিন মারা যায় সেদিন দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছিলো।”

‎তিনি আরও বলেন, “সরকার শহীদ পরিবারদেরকে যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিচ্ছে। আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, যেন আপনাদের পরিবারও সেই সুবিধাটুকু পায়৷ সেটা পাওয়ার জন্য আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু করা লাগে আমরা সবটুকুই করবো। প্রয়োজনে আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে দেখা করে সেই সুবিধাটুকু নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। আপনারা আমাদের মাঝে এসেছেন৷ আপনাদের হারানের যে বেদনা সেটা পূরণ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু আপনাদের হারানোর মাধ্যমে দেশ যে প্রাপ্তিটা পেয়েছে, আমরা যে প্রাপ্তিটা পেয়েছি তার কৃতজ্ঞতা আপনাদের পরিবারের প্রতি আমাদের সারা জীবন থাকবে।”

‎অনুষ্ঠানের সভাপতি ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত। যারা এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। সেই সময়ে শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের সাহসী অংশগ্রহণ না থাকলে আন্দোলনটি গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিত কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে ।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে আমরা একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি। তারা একসঙ্গে বসে বছরের কোন সময়ে কোন সাংস্কৃতিক আয়োজন হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। তারা নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং এ ক্ষেত্রে ছাত্র উপদেষ্টা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আয়োজন সফল করার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উদযাপন

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

নানান আয়োজনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী পালিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং আনন্দের প্রতীক বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম মতিনুর রহমান।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে একটি আনন্দ র‍্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসিসি মিলনায়তনে এসে আলোচনা সভায় সমবেত হয়। এসময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা, ছাত্র-শিক্ষকদের জুলাই বিপ্লবের ভূমিকা নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং জুলাই ৩৬ এর ২য় বর্ষ পালন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শাহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষক-কর্মকর্তার সংগঠনের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য অতিথিরা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. মতিনুর রহমান বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যারা নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা; তাদের পরিবারের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। একই সাথে এই বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্বাধীনতার দিন থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে অন্যায়ভাবে যাদেরকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে, তারাসহ সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা রেখেছেন। সেই সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণে যে সকল প্রাজ্ঞ ব্যক্তি চিন্তা করেছেন, দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদেরও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

তিনি আরও বলেন, বিপ্লবের সময়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াটা মোটেই কোনো সহজ বিষয় ছিল না, অনেক কঠিন বিষয় ছিল।
আমরা ২৪ জুলাই ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিস্ট তাড়িয়েছিলাম; আজ আবার নতুন করে শপথ গ্রহণ করি। আমি মনে করি যে জুলাই একটি আবেগ ছিল, কিন্তু পুরোটাই যদি আবেগের বশবর্তী হয়, তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, ইনশাআল্লাহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে লক্ষ্য—আমি আগেও বলেছি, আজও এই ৫ আগস্টের ৩৬ জুলাই উপলক্ষে বলতে চাই—সেই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যকে ধারণ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এদেশ আমাদের। এ দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, এ দেশটাকে আমরা ভালোবাসি, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হই, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, সমালোচনা থাকবে এবং সেটি আমরা অব্যাহত রাখব।

এরপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হলসমূহের মধ্যে প্রীতি ভলিবল প্রতিযোগিতা ও মহিলাদের মধ্যে পিলো পাসিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

Continue Reading

top3

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণের আহ্বান

Published

on

By

রাশেদ হোসেন, জাককানইবি প্রতিনিধি:

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় র‌্যালি, নির্মিত প্রস্তাবিত জুলাই সোপানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

আলোচনা সভার প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন তাঁর বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জুলাইসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যারা দেশের জন্য আত্মাহুতি দিয়েছেন এবং গণতন্ত্রের মানসকণ্যা, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্র পুনরুত্থানকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। প্রধান অতিথি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস এক অর্থে গণতন্ত্র পুনরুত্থান দিবস।’

মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, ‘জুলাই একদিকে আনন্দঘন এবং আরেকদিকে বেদনাবিধুর দিন। জুলাই মানে সন্তানহারা মা-বাবার বুকফাটা কান্না; জুলাই মানে ভাই হারা বোন আর বোন হারা ভায়ের কান্না। পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো নিজের জীবন। সময়ের প্রয়োজনে দেশের জন্য এদেশের জনগণ নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। জুলাই শহিদগণ জীবন দিয়ে মৃত্যুকে জয় করেছেন। ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক, জনতা সবাই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সার্বজনীন আন্দোলনে রূপ নেওয়ার কারণেই ফ্যাসিস্ট বিদায় নিতে বাধ্য হয়। তাই অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে সকলের সহযোগিতায় সকল বিতর্কের উর্ধ্বে উঠে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে হবে। এছাড়া আমরা যেন বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারি তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে, তবেই জুলাইয়ের অর্জন স্বার্থক হবে।’

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ। সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস- ২০২৬’ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান। ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপÍরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রায়হানা আক্তার, কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি হারুনুর রশিদ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান ও সদস্য-সচিব মামুন সরকার, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ তাদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এসময় বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন এর নেতৃত্বে বিজয় র‌্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ হতে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন নির্মিতব্য প্রস্তাবিত জুলাই সোপানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

Continue Reading

top3

বেরোবির প্রধান ফটকে ছাত্রদলের দেয়াল লিখন, শিক্ষার্থীদের সমালোচনা

Published

on

By

বেরোবি প্রতিনিধি:
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রধান ফটকের দেয়ালে ছাত্রদল কর্তৃক রাজনৈতিক স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দেয়ালে লাল রঙে ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা দেখা যায়। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রংপুর মহানগর ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সন্ধ্যার দিকে প্রধান ফটকের দেয়ালে ‘শিবির মুক্ত ক্যাম্পাস’ লেখা দেখতে পান শিক্ষার্থীরা।

দেয়াল লিখনের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নান্দনিকতা ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান।

সাবেক শিক্ষার্থী রিশাদ নুর এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “একটা গেট কত সংগ্রাম আর কষ্ট করে পেয়েছে, সেটা এই ক্যাম্পাসের সাবেকরা জানে। কয়েকজনের কারণে গেটের এমন অবস্থা হলো। ক্যাম্পাস সবার, কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নয়।”

আরেক শিক্ষার্থী সোবুর খান লেখেন, “গেটের সৌন্দর্য নষ্ট করে রাজনীতি নয়, দ্রুত এসব লেখা মুছে ফেলা উচিত।”
শিক্ষার্থী মেহেরাজ হোসাইন প্রশ্ন তুলে লেখেন, “শিক্ষাঙ্গন কি নিরাপদ?”

এদিকে ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যেও অনেক শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এছাড়া আরও অনেক শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নান্দনিকতা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: ফেরদৌস রহমান বলেন, আমাদের একটা তদন্ত কমিটি করে দেওয়া আছে তদন্ত কমিটির প্রধান ফটকের লিখনের বিষয় যারা জড়িত আছে তাদের বিষয়টি দেখবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রধান ফটকের মেরামতের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Continue Reading

Trending