Connect with us

top2

ক্ষমতায় গেলে ‘বিডিআর’ নাম পুনর্বহাল করবে বিএনপি: তারেক রহমান

Published

on

শনিবার রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নাম পুনরায় বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করা হবে। ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পে বাস্তবায়ন করা হবে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও পিলখানায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান এ প্রতিশ্রুতি দেন। ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সশস্ত্র বাহিনী-বিষয়ক উপকমিটি আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ‘২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর সেনা হত্যাকাণ্ডের পর পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট শক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এমনকি তাদের পোশাকের রংও পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। আমি আপনাদের সামনে একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করা হবে ইনশা আল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে শহীদ সেনা দিবস, অথবা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার আগে সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা আমাকে সেনাবাহিনীর জন্য কিছু সুপারিশ তুলে দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু কিছু বিধিমালা পরিমার্জন বা সংস্কারসহ এসব সুপারিশ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। তবে এতটুকু বলতে পারি, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আপনাদের উপস্থাপিত এসব সুপারিশমালা বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর সাবেক এবং বর্তমান সদস্যদের সমন্বয়ে আমরা একটি কমিটি গঠন করব। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাবিদাওয়াগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পে বাস্তবায়ন করা হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘সেনাবাহিনী আমার কাছে বৃহত্তর পরিবার বলে মনে হয়। সেনানিবাসেই আমার বেড়ে ওঠা। ছোটবেলায় আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। আমি বড় হয়ে দেখেছি, সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার একধরনের নির্ভরতা ছিল, সম্মান ছিল। আমার মরহুমা মা সব সময় মনে করতেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা দরকার। সন্তান হিসেবে আমার পিতাকে নিয়ে যেমন আমি গর্ব করি, তেমনি আমি বিশ্বাস করি, একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনীকেও তিনি করেছিলেন গর্বিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের কাছে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।’

পিতাকে নিয়ে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘শহীদ জিয়াকে নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক জনগণ যেমন গর্বিত, আমি বিশ্বাস করি এবং আমার পরিবারও বিশ্বাস করে, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীও তেমন গর্বিত। জনগণ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রহরী হিসেবে মনে করে। সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে সংযুক্ত করা হলে সেনাবাহিনীর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় বলে মনে করি।’

আওয়ামী লীগ আমলের প্রসঙ্গ টেনে তারেক বলেন, ‘বিগত দেড় দশকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং গৌরব সম্পর্কে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যরা নিজেরা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞেস করলে হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। দেশ তাঁবেদার এবং অপশক্তির কবলে পড়ার পর দেশের গণতন্ত্র হরণ হয়নি শুধু, একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। এমনকি পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের দিনেও সেনাবাহিনী যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি বা রাখতে দেওয়া হয়নি। সেনাবাহিনীর হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হবে, আমি এ রকম কথা বলতে চাই না। গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না, এটা অর্জনের বিষয়। গৌরব ধারণ করার বিষয়। সেনাবাহিনীর গৌরব সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে হবে। সেনাবাহিনীর নিজেদের সম্মান এবং মর্যাদা সম্পর্কে নিজেদেরই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে একটি কথাই বলতে পারি, জনগণের রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই রাজনৈতিক কোনো স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনীর সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয় এমন কোনো কাজ বিএনপি অতীতেও করেনি, বর্তমানেও না এবং ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতেও করবে না। কারণ, বিএনপি সব সময় বাংলাদেশের পক্ষের দল। বিএনপি সব সময় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তি। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি মাঠে শক্তিশালী থাকলে বাংলাদেশ শক্তিশালী থাকে। সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাও অক্ষুণ্ন থাকবে। সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপারে সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া অবশ্যই উচিত হবে না। রাজনীতির চাদরে তাদের পেশাদারত্ব যেন আবর্তিত হয়ে না যায়, সে ব্যাপারে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের ও সদস্যদের সচেতন থাকা জরুরি।’

এ সময় মেজর (অব.) মিজানুর রহমান উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে যে যেখানে আছে, জাতীয়তাবাদকে বিশ্বাস করে সবাই তারেক রহমানকে সাপোর্ট করবেন। গণতান্ত্রিক পথ বেছে নিতে কেউ ভুল করবেন না।’

মেজর মিজানুর রহমান তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, ‘গত ১৭ বছর কী পরিমাণ নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তা বলে বোঝানো যাবে না। গুলশানে আমার বাসার দরজা ভেঙে আমাকে আমার স্ত্রী-সন্তানের সামনে থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ট্রমা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। জানি না, এই বিচার কবে পাব। আমরা চাই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ। আপনি দৃঢ় হলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ আপনি গড়ে তুলতে পারবেন বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনে আপনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।’

বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর স্বাগত বক্তব্য দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এডিসি কর্নেল (অব.) হারুনুর রশিদ খান, মেজর (অব.) জামাল হয়দার, বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সন্তান রাকিন আহমেদ প্রমুখ।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, চাঁদাবাজির অভিযোগ নাকচ পুলিশের

Published

on

By

ডিজিটাল রিপোর্ট

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চাঁদাবাজির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, হামলাটি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। নিউ গিনি প্রপার্টিজের মালিক পক্ষের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের বিরোধের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদিরের কাছে চাঁদা চাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্রও পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি প্রপার্টিজের মালিক পক্ষের ব্যক্তিগত বিরোধ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্টুডিওটি ওই প্রপার্টিজের ভেতরে থাকায় ভাঙচুরের সময় সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।

ভিডিওতে স্টুডিওর চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। কয়েকজন কর্মীকেও সেখানে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওতে সালমান জানান, হামলায় তার স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেছিলেন, চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা চালানো হয়েছে। স্টুডিওর সিসি ক্যামেরা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও আসবাব ভাঙচুরের পাশাপাশি কিছু মালামাল লুটের অভিযোগও ওঠে।

তবে পুলিশের বক্তব্য, হামলার মূল কারণ ছিল নিউ গিনি প্রপার্টিজের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের বিরোধ। চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Continue Reading

top2

সব শর্ত মানলেও পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেবে না ইরান

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহারসহ ইরানের অন্যান্য শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত তেহরান। তবে ওয়াশিংটন সব প্রস্তাবে সম্মত হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হতে পারে। তবে এর জন্য সাত দিনের মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনের আলোচনায় হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির বিষয় হয়ে উঠেছে। তেহরান মার্কিন নৌ অবরোধ থেকে মুক্তি চায়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়। বর্তমানে প্রণালিটি ইরান কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এক ফাঁকে গত বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করছেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এমন একটি চুক্তি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মেনে নিলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে প্রস্তুত তারা। তবে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে ইরান ছাড় দেবে না। উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তারা ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তুলে ধরে। তবে তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

Continue Reading

top2

বাংলাদেশ ডিবেটার্স সোসাইটি আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “বিডিএস ইনভাইটেশনালস ২০২৬”

Published

on

By

আনাস মাহমুদ

বাংলাদেশ ডিবেটার্স সোসাইটি (বিডিএস) কর্তৃক আগামী ২৩-২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো “আন্ত স্কুল-কলেজ” পর্যায়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে “বিডিএস ইনভাইটেশনাল ২০২৬” ডিবেট টুর্নামেন্ট। এশিয়ান পার্লামেন্টরি ঘরনার এই টুর্নামেন্টিতে ২২ টি দলের হয়ে সারা বাংলাদেশের পরিচিত এবং আলোচিত মোট ৬৬ জন বিতার্কিক নিজেদের যুক্তির তীক্ষ্ণতার লড়াইয়ে নামবেন।

এই টুর্নামেন্টে সকল বিতার্কিকদের তিনটি আলাদা Pool-এ বিভক্ত করে প্রত্যেক Pool থেকে একজন বিতার্কিককে নিয়ে দলসমূহ গঠন করা হয়েছে। Pool-A তে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে দেশের সুপরিচিত ২২ জন বিতার্কিককে যারা ইতিমধ্যে দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নিজেদের অর্জনকে সমাদৃত করেছেন। Pool-B এবং Pool-C তে যোগ্যতা, ব্যক্তিগত অর্জন, এবং আবেদনের ভিত্তিতে ২২ জন করে বিতার্কিককে জায়গা দেয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী Pool-A এর বিতার্কিকবৃন্দ অকশনের মাধ্যমে Pool-B এবং Pool-C থেকে একজন করে বিতার্কিককে নিজের দলে যুক্ত করতে পারবেন। অর্থাৎ এই টুর্নামেন্টের ২২ টি দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার শক্তিমত্তা নিয়ে বিতর্কে নামছেন।

এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিতর্ক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন তৈরী হয়েছে। “আন্ত-স্কুল-কলেজ” এবং “আন্ত বিশ্ববিদ্যালয়” বিতর্ক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে “আমন্ত্রনমূলক” বা “ইনভাইটেশনাল” পদ্ধতিতে বিতর্ক টুর্নামেন্ট আয়োজন এর পূর্বে দেখা যায়নি। এমন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহন করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বিতার্কিকরা।

বিডিএস এর চেয়ারম্যান জনাব জামান আপেল জানান, “এই টুর্নামেন্টটি বিতর্ক অঙ্গনে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। প্রথমবারের মতো স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ইনভাইটেশনাল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এর মাধ্যমে জুনিয়র বিতার্কিকরা নিজেদের আরো শানিত করতে পারবে এবং বৃহৎ স্কেলে নিজেদের প্রমান করার সুযোগ তৈরী হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আজকের একজন যুক্তিবাদী বিতার্কিকই আগামী দিনের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

বিডিএস এর ডেপুটি চেয়ারম্যান সৌমিত্র রক্ষিত বলেন, “যুক্তির আলোয় অন্ধকার ভেদ করার নামই বিতর্ক। বিডিএস নিজেদের প্রথম বছরেই একটি ব্যতিক্রমী টুর্নামেন্ট নিয়ে হাজির হয়েছে, এবং এই ধারা চলমান থাকবে। আমরা চাই, প্রতিটি বিতার্কিক যুক্তির শক্তিতে নিজেকে প্রকাশ করুক, ভিন্নমতকে গ্রহণ করতে শিখুক এবং সমাজকে দেখুক আরও গভীর ও প্রশ্নমুখী দৃষ্টিতে। এই টুর্নামেন্ট থেকে জন্ম নিক অসংখ্য চিন্তার স্ফুলিঙ্গ, তৈরি হোক আগামী দিনের যুক্তিবাদী নেতৃত্ব।”

উল্লেখ্য যে, এই টুর্নামেন্টে ৪০ জন বিচারক নিজেদের দক্ষ বিচারকার্য পরিচালনার অভিজ্ঞতা দ্বারা টুর্নামেন্টকে পথ দেখাবেন এবং সকল সমস্যা ত্বরিত সমাধানের জন্য অরগানাইজিং টিম পাশে থাকবে। টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে অনলাইনে।

Continue Reading

Trending