Connect with us

top1

খুলনায় চলতি বছর ৩৬ হত্যাকাণ্ড, নেপথ্যে কী, বাড়ছে উদ্বেগ

Published

on

খুলনা যেন খুনোখুনির এক ভীতিকর অঞ্চল হয়ে উঠেছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড নগরীর বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি একদিনে চার খুনের ঘটনাও ঘটেছে। চলতি মাসে প্রকাশ্যে আদালতের সামনে দুজনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা বেপরোয়া খুনোখুনির আলোচনাকে সামনে এনেছে। সবশেষ সোমবার খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক এবং খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদারকে সোনাডাঙ্গার একটি ভাড়া বাসার ভেতরে গুলির ঘটনা জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এসব ঘটনার মূলহোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

১৮ ডিসেম্বর খুলনা মহানগরীতে ইমদাদুল হক মিলন (৪৫) নামে এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দেবাশীষ বিশ্বাস (৩৫) নামে এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মহানগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া বাজার এলাকায় জনতা ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন ওই এলাকার মো. বজলুর রহমানের ছেলে। তিনি ‘বর্তমান সময়’ নামের একটি নিউজ পোর্টাল চালাতেন এবং ডুমুরিয়ারর শলুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। তবে এ ঘটনার রহস্য এখনও উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নগরীতে খুনের ঘটনায় ৩৬টি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব হত্যার নেপথ্যে ১৪টি কারণ শনাক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২৩টি মামলার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। কিন্তু ১৩টি মামলার রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। যা মোট হত্যাকাণ্ডের ৩৬ শতাংশ। সেগুলোর কারণ খুঁজছে পুলিশ।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‌‘‌২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৬টি মামলা হয়। এর মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে ২৩টির। ৩৬টি খুনের মামলার মধ্যে মাদকের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে ১৩টি। ইজিবাইক চুরির উদ্দেশ্যে ঘটেছে দুটি, পরকীয়ার কারণে ঘটেছে দুটি, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে একটি, জমির ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটেছে একটি, চোরাই স্বর্ণের চেইন বিক্রয়ের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঘটেছে একটি, টিসিবির লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে ঘটেছে একটি, পারিবারিক কলহের কারণে ঘটেছে ছয়টি, ব্যবসার টাকা লেনদেন নিয়ে ঘটেছে দুটি, প্রেমঘটিত কারণে দুটি, চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে হত্যার ঘটনা একটি, বন্ধু কর্তৃক হত্যা হয়েছে একটি, দুই পক্ষের মারামারি ঠেকাতে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে একটি, অজ্ঞাত কারণে হত্যা হয়েছে দুটি। বাকি হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছে পুলিশ।’

ত ম রোকনুজ্জামান জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দুটি, ফেব্রুয়ারিতে একটি, মার্চে একটি, এপ্রিলে তিনটি, মে-তে পাঁচটি, জুনে তিনটি, জুলাইয়ে দুটি, আগস্টে পাঁচটি, সেপ্টেম্বরে একটি, অক্টোবরে পাঁচটি, নভেম্বরে পাঁচটি ও ডিসেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে সদর থানায় ১০টি, সোনাডাঙ্গা থানায় নয়টি, লবণচরা থানায় পাঁচটি, হরিণটানা থানায় চারটি, খালিশপুর ও দৌলতপুর থানায় তিনটি করে এবং আড়ংঘাটা থানায় দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘খুলনার অপরাধ জগত একাধিক উপদলের মধ্যে বিভক্ত। যার মধ্যে রয়েছে পলাশ গ্রুপ, গ্রেনেড বাবু গ্রুপ, নূর আজিম গ্রুপ এবং হুমা, আরমিন এবং নাসিমের নেতৃত্বে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় আছে। নাসিম এবং আরমিনের মুক্তির পর সক্রিয় রয়েছে কার্যক্রম।’

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড ছিল খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে দুই শীর্ষ অপরাধী–হাসিব হাওলাদার এবং ফজলে রাব্বি রাজন হত্যা। গত ৩০ নভেম্বরের এ ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। ফলে হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন হয়নি। একজনকে পুলিশ গ্রেফতার দেখালেও তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি র‍্যাব একজনকে গ্রেফতার করে ওই ঘটনার অন্যতম আসামি দাবি করা হয়। মূলত কেন ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর খুলনা কারাগার থেকে মুক্তি পায় শীর্ষ চরমপন্থী দলের দুই প্রধান নাসিমুন গণি ওরফে নাসিম এবং আরমান ওরফে আরমিন শেখ। দৌলতপুরের আরেক সন্ত্রাসী টাইগার খোকন হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাসিম ও আরমান হাইকোর্টের জামিন নিয়ে জেল থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। ফলে খুলনার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন আরও একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর কর্তৃত্ব শুরু হলো। বর্তমানে খুলনা শহরে বাহিনীর সংখ্যা বেড়ে সাতটিতে দাঁড়ালো। কীভাবে তারা মুক্তি পেলো তা নিয়েও আছে প্রশ্ন।

এসব ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খুলনার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই শীর্ষ চরমপন্থী নেতা–নাসিমুল গণি ওরফে নাসিম এবং আরমান শেখ ওরফে আরমিন হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পরই আদালত পাড়ায় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। উভয়ই দৌলতপুর-ভিত্তিক অপরাধী ‘টাইগার খোকন’ হত্যার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। মূলত তাদের মুক্তির কারণে খুলনার অপরাধ জগতে অস্থিরতা তীব্র হয়েছে। খুলনায় বর্তমানে সাতটি বড় অপরাধী গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী চরমপন্থী এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলো আধিপত্যের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আরও আক্রমণ চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালত এলাকায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সময় আদালতে কর্তব্যরত পুলিশের কাছে কেবল লাঠি ছিল। কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। যার ফলে হস্তক্ষেপ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে অপরাধীদের কাছে ছিল অত্যাধুনিক অস্ত্র। কুখ্যাত গ্যাং লিডার ‘রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবু গ্রুপ’ এই জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত। খুলনা কারাগারে বাবুর সমর্থকদের সঙ্গে পলাশ গ্রুপের মধ্যে সম্প্রতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সময় নিহতরা কারাগারে ছিলেন এবং সংঘর্ষে অংশ নেন। তার প্রতিশোধ হিসেবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে র‍্যাব-৬-এর সিও লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘আদালত এলাকায় জোড়া হত্যা মিশনে সাত সদস্যের টিম ছিল। গ্রেফতারকৃত এজাজুল হোসেন ছিল মূল আক্রমণকারী। ঘটনাটি সংগঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‍্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর হত্যায় সরাসরি সম্পৃক্ত এজাজুলকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে সে। মূলত খুলনা মহানগরীতে দুটি সন্ত্রাসী দলের (পলাশ ও গ্রেনেড বাবু) মাঝে কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।’ 

গত ২৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ৯টার দিকে সন্ত্রাসীরা নগরীর শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে অর্ণব কুমার শীলকে গু‌লি ও কু‌পিয়ে হত্যা করেছিল। এ ঘটনায় পু‌লিশ বি‌ভিন্ন এলাকায় অ‌ভিযান চা‌লিয়ে অর্ণবের তিন বন্ধুকে হেফাজতে নেয়। তদন্ত করে পুলিশ এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে। মাদক সংক্রান্ত বিরোধে অর্ণব নিহত হন। এই মামলায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে দুজন আদালতে জবানবন্দি দেয়। বাকি হত্যাগুলোর রহস্য উন্মোচন হয়নি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

হরমুজে ২ মার্কিন নৌযান ও ৮ তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার দাবি ইরানের

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

হরমুজ প্রণালীতে দুটি মার্কিন নৌযান ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন বাহিনীর পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার জবাবে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

বিবৃতিতে মার্কিন বাহিনীকে ‘আমেরিকান সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করে আইআরজিসি। একই সঙ্গে মার্কিন সহায়তায় হরমুজ প্রণালীর ‘নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক অঞ্চল’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা আরও ১০টি নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালী এখনো তাদের ‘শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের’ আওতায় রয়েছে।

তবে হামলার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: আল জাজিরা

Continue Reading

top1

বাঁধনের ওপর হামলা আসলে গণতন্ত্রের ওপরই হামলা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Published

on

By

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। একইসাথে ইতালির ভেনিস শহরে প্রখ্যাত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর বিগত সরকারের সমর্থকদের হামলা এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদ পাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বক্তব্যের শুরুতেই স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী হাসিনা সরকারকে হটিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জুলাই যোদ্ধাদের অসামান্য আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তিনি। একইসাথে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসা সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

ইতালিতে হামলা: ‘বাঁধনকে দমানো এত সহজ নয়’

তিনি বলেন, আজমেরী হক বাঁধনের ওপর যে কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত সন্ত্রাসীরা, তা আসলে দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ওপরই হামলা। এ বিষয়ে সকালে পররাষ্ট্র সচিবের সাথে কথা বলা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। ইতালীয় পুলিশ ও ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিনেত্রী বাঁধনকে সব ধরনের কনস্যুলার সহযোগিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাঁধনের সাথে ফোনে কথা বলে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় কোনও ছাড় নয়, আ.লীগ একটি মাফিয়া গ্যাং: তথ্য উপদেষ্টা

তিনি আরও বলেন, জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত এই সরকার ন্যায়বিচারের নীতিতে বিশ্বাসী। এ ধরনের হামলাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে।

একইদিনে বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও গর্বের মুহূর্তের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদ লাভ করতে যাচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন আর কোনো দেশের গোলামি বা দাসত্ব করবে না। বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বকীয়তা ও গতিতে চলবে। সংসদ ও জনগণের সমর্থন নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী মধ্যবর্তী প্রভাব বিস্তারকারী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

Continue Reading

top1

গঙ্গা-তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে ভারতের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

Published

on

By

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও গ্রহণযোগ্যভাবে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জবাবে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এ বিষয়ে তার সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও জনগণের কল্যাণকে ভিত্তি করে দুই দেশের মধ্যে সম্মানজনক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান ভারতের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী।

রাষ্ট্রপতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে। এ সময় হাইকমিশনারও দুই দেশ ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

Continue Reading

Trending