Connect with us

top1

খুলনায় চলতি বছর ৩৬ হত্যাকাণ্ড, নেপথ্যে কী, বাড়ছে উদ্বেগ

Published

on

খুলনা যেন খুনোখুনির এক ভীতিকর অঞ্চল হয়ে উঠেছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ড নগরীর বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি একদিনে চার খুনের ঘটনাও ঘটেছে। চলতি মাসে প্রকাশ্যে আদালতের সামনে দুজনকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা বেপরোয়া খুনোখুনির আলোচনাকে সামনে এনেছে। সবশেষ সোমবার খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক এবং খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মো. মোতালেব শিকদারকে সোনাডাঙ্গার একটি ভাড়া বাসার ভেতরে গুলির ঘটনা জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এসব ঘটনার মূলহোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

১৮ ডিসেম্বর খুলনা মহানগরীতে ইমদাদুল হক মিলন (৪৫) নামে এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দেবাশীষ বিশ্বাস (৩৫) নামে এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মহানগরীর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া বাজার এলাকায় জনতা ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিলন ওই এলাকার মো. বজলুর রহমানের ছেলে। তিনি ‘বর্তমান সময়’ নামের একটি নিউজ পোর্টাল চালাতেন এবং ডুমুরিয়ারর শলুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। তবে এ ঘটনার রহস্য এখনও উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ। 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নগরীতে খুনের ঘটনায় ৩৬টি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব হত্যার নেপথ্যে ১৪টি কারণ শনাক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২৩টি মামলার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। কিন্তু ১৩টি মামলার রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। যা মোট হত্যাকাণ্ডের ৩৬ শতাংশ। সেগুলোর কারণ খুঁজছে পুলিশ।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‌‘‌২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৬টি মামলা হয়। এর মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে ২৩টির। ৩৬টি খুনের মামলার মধ্যে মাদকের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে ১৩টি। ইজিবাইক চুরির উদ্দেশ্যে ঘটেছে দুটি, পরকীয়ার কারণে ঘটেছে দুটি, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে একটি, জমির ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটেছে একটি, চোরাই স্বর্ণের চেইন বিক্রয়ের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঘটেছে একটি, টিসিবির লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে ঘটেছে একটি, পারিবারিক কলহের কারণে ঘটেছে ছয়টি, ব্যবসার টাকা লেনদেন নিয়ে ঘটেছে দুটি, প্রেমঘটিত কারণে দুটি, চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে হত্যার ঘটনা একটি, বন্ধু কর্তৃক হত্যা হয়েছে একটি, দুই পক্ষের মারামারি ঠেকাতে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে একটি, অজ্ঞাত কারণে হত্যা হয়েছে দুটি। বাকি হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছে পুলিশ।’

ত ম রোকনুজ্জামান জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দুটি, ফেব্রুয়ারিতে একটি, মার্চে একটি, এপ্রিলে তিনটি, মে-তে পাঁচটি, জুনে তিনটি, জুলাইয়ে দুটি, আগস্টে পাঁচটি, সেপ্টেম্বরে একটি, অক্টোবরে পাঁচটি, নভেম্বরে পাঁচটি ও ডিসেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে সদর থানায় ১০টি, সোনাডাঙ্গা থানায় নয়টি, লবণচরা থানায় পাঁচটি, হরিণটানা থানায় চারটি, খালিশপুর ও দৌলতপুর থানায় তিনটি করে এবং আড়ংঘাটা থানায় দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘খুলনার অপরাধ জগত একাধিক উপদলের মধ্যে বিভক্ত। যার মধ্যে রয়েছে পলাশ গ্রুপ, গ্রেনেড বাবু গ্রুপ, নূর আজিম গ্রুপ এবং হুমা, আরমিন এবং নাসিমের নেতৃত্বে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় আছে। নাসিম এবং আরমিনের মুক্তির পর সক্রিয় রয়েছে কার্যক্রম।’

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড ছিল খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে দুই শীর্ষ অপরাধী–হাসিব হাওলাদার এবং ফজলে রাব্বি রাজন হত্যা। গত ৩০ নভেম্বরের এ ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। ফলে হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন হয়নি। একজনকে পুলিশ গ্রেফতার দেখালেও তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি র‍্যাব একজনকে গ্রেফতার করে ওই ঘটনার অন্যতম আসামি দাবি করা হয়। মূলত কেন ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর খুলনা কারাগার থেকে মুক্তি পায় শীর্ষ চরমপন্থী দলের দুই প্রধান নাসিমুন গণি ওরফে নাসিম এবং আরমান ওরফে আরমিন শেখ। দৌলতপুরের আরেক সন্ত্রাসী টাইগার খোকন হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাসিম ও আরমান হাইকোর্টের জামিন নিয়ে জেল থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। ফলে খুলনার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন আরও একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর কর্তৃত্ব শুরু হলো। বর্তমানে খুলনা শহরে বাহিনীর সংখ্যা বেড়ে সাতটিতে দাঁড়ালো। কীভাবে তারা মুক্তি পেলো তা নিয়েও আছে প্রশ্ন।

এসব ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খুলনার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই শীর্ষ চরমপন্থী নেতা–নাসিমুল গণি ওরফে নাসিম এবং আরমান শেখ ওরফে আরমিন হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পরই আদালত পাড়ায় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। উভয়ই দৌলতপুর-ভিত্তিক অপরাধী ‘টাইগার খোকন’ হত্যার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। মূলত তাদের মুক্তির কারণে খুলনার অপরাধ জগতে অস্থিরতা তীব্র হয়েছে। খুলনায় বর্তমানে সাতটি বড় অপরাধী গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী চরমপন্থী এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলো আধিপত্যের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আরও আক্রমণ চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালত এলাকায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সময় আদালতে কর্তব্যরত পুলিশের কাছে কেবল লাঠি ছিল। কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না। যার ফলে হস্তক্ষেপ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে অপরাধীদের কাছে ছিল অত্যাধুনিক অস্ত্র। কুখ্যাত গ্যাং লিডার ‘রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবু গ্রুপ’ এই জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত। খুলনা কারাগারে বাবুর সমর্থকদের সঙ্গে পলাশ গ্রুপের মধ্যে সম্প্রতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সময় নিহতরা কারাগারে ছিলেন এবং সংঘর্ষে অংশ নেন। তার প্রতিশোধ হিসেবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে র‍্যাব-৬-এর সিও লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘আদালত এলাকায় জোড়া হত্যা মিশনে সাত সদস্যের টিম ছিল। গ্রেফতারকৃত এজাজুল হোসেন ছিল মূল আক্রমণকারী। ঘটনাটি সংগঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‍্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর হত্যায় সরাসরি সম্পৃক্ত এজাজুলকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে সে। মূলত খুলনা মহানগরীতে দুটি সন্ত্রাসী দলের (পলাশ ও গ্রেনেড বাবু) মাঝে কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।’ 

গত ২৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ৯টার দিকে সন্ত্রাসীরা নগরীর শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে অর্ণব কুমার শীলকে গু‌লি ও কু‌পিয়ে হত্যা করেছিল। এ ঘটনায় পু‌লিশ বি‌ভিন্ন এলাকায় অ‌ভিযান চা‌লিয়ে অর্ণবের তিন বন্ধুকে হেফাজতে নেয়। তদন্ত করে পুলিশ এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে। মাদক সংক্রান্ত বিরোধে অর্ণব নিহত হন। এই মামলায় ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে দুজন আদালতে জবানবন্দি দেয়। বাকি হত্যাগুলোর রহস্য উন্মোচন হয়নি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

পাটওয়ারী-সারজিসের গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ

Published

on

By

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে এনসিপি।

হবিগঞ্জ সদরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে হামলার কথা জানিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেছেন, “হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। হামলায় সাংবাদিক ও এনসিপির একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন”।

তিনি আরও লেখেছেন, “উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস, জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে নিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সংঘটিত এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। হামলাকারীরা মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে”।

নিজের ফেসবুকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, “উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক জনাব সারজিস সালামের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই”।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় এ ঘটনায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

দুই পক্ষে সংঘর্ষের একপর্যায়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সরিয়ে নেয়। পরে তাদের সার্কিট হাউসে নেওয়া হয়।

এনসিপির জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে থানার মোড় এলাকায় ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, “শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জে কেউ উসকানিমূলক বা অশালীন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে”।

তবে সংঘর্ষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “অশালীন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ মানুষ ধাওয়া দিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন”।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এনসিপির নেতারা বর্তমানে নিরাপদ স্থানে রয়েছেন এবং তাদের নিরাপদে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে”।

মঙ্গলবার দুপুরে আজমিরীগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, কর্মসংস্থান, সীমান্ত সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

Continue Reading

top1

স্পিকার-সিইসির বৈঠক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে ‘প্রস্তুত’ ইসি

Published

on

By

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি। 

সিইসি জানান, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক ও প্রক্রিয়াগত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

তফসিল প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন বলেন, “বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যথাসময়ে নির্বাচন কমিশনের সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি”।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনাতেই পুরো নির্বাচন সম্পন্ন হবে। প্রয়োজন হলে প্রক্রিয়াগত কারণে ভোটগ্রহণের ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। এ-সংক্রান্ত সব তথ্য গেজেটের মাধ্যমে জানানো হবে।

সিইসি আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি চললেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে কমিশন সক্ষম”।

ভোটার তালিকার বিষয়ে তিনি জানান, সম্ভাব্য ভোটারদের তালিকা চেয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশসহ পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

সংসদ অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “সংসদ অধিবেশন থাকুক বা না থাকুক, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই”।

সাতক্ষীরা-৪ আসন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বৈঠকের পুরো আলোচনাই ছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে”।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top1

জামায়াত এমপি গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও

Published

on

By

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় শত শত মানুষ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার বাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নীলগঞ্জ এলাকার আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও সংশ্লিষ্ট মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ওই হামলায় রেক্সনার মাথায় আঘাত লাগে।

জানা গেছে, এ বিরোধ নিয়ে আগের রাতে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খুললে তা বন্ধ রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পরই স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টার দিকে তারা এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তাকে মারধর করে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং এমপি ও তার মেয়ের বিচারের দাবি জানান।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনা বলেন, তাদের মেয়ে অনন্যা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার দাবি, মাদ্রাসা বন্ধ থাকার পরও কিছু শিশু সেখানে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হচ্ছে এবং বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এমপির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

Continue Reading

Trending