Connect with us

ক্যাম্পাস

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বছরজুড়ে ইবি ছাত্রদলের যত কার্যক্রম

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্যাম্পাসগুলোতে দেখা দিয়েছে কার্যত পরিবর্তন। দীর্ঘদিন একক আধিপত্যের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে ক্যাম্পাসগুলোতে ফিরেছে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক তৎপরতা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও (ইবি) তার ব্যতিক্রম নয়। ২০২৫ সাল জুড়ে নতুন করে ঢেলে সাজানোর দৌড়ঝাঁপে ছিল সংগঠনটি।

স্বৈরাচারী হাসিনার শাসনের পতনের পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্ররাজনীতি নতুন রূপে আবির্ভূত হয়। আগে যেখানে ছাত্রলীগ ছাড়া অন্য সকল ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম প্রায় নিষিদ্ধ ছিল, সেখানে জুলাই বিপ্লবের পর ইবি ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে ওঠে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ঘরানার সংগঠন। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ইবি ছাত্রদল বছরজুড়ে ধারাবাহিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়।

দাবি আদায় ও প্রশাসনের সঙ্গে সংলাপ:

২০২৫ সালে ইবি ছাত্রদলের কার্যক্রমের বড় একটি অংশজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি। সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার, নিয়োগ বোর্ড বাতিলসহ একাধিক আল্টিমেটাম। এছাড়া কুষ্টিয়া–ঝিনাইদহ মহাসড়ক দ্রুত সংস্কার, রেল যোগাযোগ চালু, গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান এবং নিহত শিক্ষার্থীর নামে হলের নামকরণের দাবিও তুলে ধরে সংগঠনটি।

শিক্ষার্থীদের সরাসরি সুবিধায় কর্মসূচি:

ঝালচত্বরে জলাবদ্ধতা নিরসনে আল্টিমেটাম, ৪৯তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ইবিয়ানদের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিসের আবেদন, বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত হল ফিস্টে আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের পৃথক টোকেন মূল্যে বৈষম্য দূর করে সকলের জন্য সমান মূল্য নির্ধারণে স্মারকলিপি প্রদান এবং ভর্তি পরীক্ষায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তা ডেস্ক স্থাপন করে সহায়তা প্রদান করে সংগঠনটি।

রমজান মাসে প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে সংগঠনটি। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাংবাদিকদের সাথেও পৃথকভাবে ইফতারের আয়োজন করে তারা।

আর্থিক সহযোগিতা:

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থী ফর্ম পূরণে আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসতে দেখা যায় ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদকে। এছাড়াও দুই শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা করেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ।

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্মারকলিপি

ভর্তি ফি সহ যাবতীয় খরচ কমানো, সনদপত্র উত্তোলন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশন করা, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল এ স্বাস্থ্যসেবা উন্নত সহ উন্নত মানের চিকিৎসা উপকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার সহ বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধকরণ, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য প্রশাসন এর নিকট ফিটনেসবিহীন পরিবহন বাতিলসহ বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীবান্ধব নানা দাবিতে প্রশাসনের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি।

স্মরণ, শোক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি:

বছরজুড়ে জাতীয় ও দলীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতেও নানা কর্মসূচি পালন করে ইবি ছাত্রদল। শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ শাহাদাৎ বার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন সহ বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।

সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম:

ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুন্দর রাখতে ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে দুইদিনব্যাপী ক্লিন ক্যাম্পাস কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটি। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শিক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক ও গ্লাভস বিতরণ করা হয়। এছাড়াও, বর্ষাকালে ভ্যানচালকদের মধ্যে রেইনকোর্ট বিতরণ করে সংগঠনটি।

কার্যক্রম বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, ছাত্ররাজনীতি মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য হওয়া উচিত। ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা জোর করে নয় বরং শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো কাজের মাধ্যমে আমরা সুন্দর একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গড়বো।

ইবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছাত্রদল ছিলো বাংলাদেশের অতন্দ্র প্রহরী। বাংলাদেশের সব সুখে দুঃখে কাজ করে গিয়েছে সমানতালে। ইবি ছাত্রদল শিক্ষার্থীবান্ধব। শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধায় কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সার্বিক বিষয়ে সংগঠনটির আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, আল্লাহর রহমতে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা বেশ কিছু শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে ছাত্রদল সর্বদা সচেষ্ট ছিল এবং আছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

জকসুর ভোট গণনা স্থগিত

Published

on

By

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ভোট গণনা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন নির্বাচন কমিশনার ড. আনিসুর রহমান।

এ বিষয়ে তিনি জানান, ভোট গণনার জন্য দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ছয়টি মেশিন আনা হয়েছিল। তবে গণনা শুরুর কিছুক্ষণ পরই একাধিক মেশিনে টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়। ফলে সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে ফলাফল নিশ্চিত করতে আপাতত ভোট গণনা স্থগিত রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংসদের ভিপি ও জিএস পদপ্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আলোচনার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে

Continue Reading

ক্যাম্পাস

জকসু নির্বাচন: শিক্ষার্থী সংসদে ৬৫ ও হলে ৭৭ শতাংশ ভোট, গণনা শুরু

Published

on

By

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটে শিক্ষার্থী সংসদে ৬৫ ও হল সংসদে ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে। আজ (মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। বর্তমানে ভোট গণনা শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৬ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল।৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি একটি হল সংসদে ১ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পান। নির্ধারিত সময় বিকেল ৩টার মধ্যে কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জকসুর বিভিন্ন পদে মোট ৫৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে ৪ জন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৫ জন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৪ জন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ৮ জন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৭ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৭ জন, পরিবহন সম্পাদক পদে ৪ জন, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে ১০ জন, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৭ জন এবং ৭টি সদস্য পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রার্থীরা।

অন্যদিকে ছাত্রী হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে মোট ৮ জন সদস্য পদের প্রার্থীসহ বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রার্থীরা। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৩ জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৩ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২ জন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ২ জন, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৪ জন, পাঠাগার সম্পাদক পদে ২ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ২ জন, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে ৩ জন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ইবিতে শোক বইয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ, উপাচার্যের স্বাক্ষর

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ ও স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে প্রশাসন ভবন চত্বরে রক্ষিত শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন উপাচার্য। এরপরে প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দীন, শাহ আজিজুর রহমান হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ টি এম মিজানুর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. আব্দুস শাহীদ মিয়া, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাহজাহান আলী, শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাক্ষর শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ম্যাডাম জিয়ার মৃত্যুতে সারা বাংলাদেশ যেভাবে শোকে মুহ্যমান হয়েছে, তা এক বিরল দৃষ্টান্ত। কারণ, তিনি আজীবন গণতন্ত্রের পক্ষে, ফ্যাসিবাদী চক্রান্ত ও আগ্রাসনবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। মাটি ও মানুষের জন্য রাজনীতি করে তিনি এই দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি এ দেশের মাটি ও মানুষের নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ভালোবাসার মাধ্যমেই গণতন্ত্রের মহানায়ক হয়ে ওঠেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সবাই আমাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখত। তাঁর দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব ও আদর্শ যদি জাতি ধারণ ও অনুসরণ করে, তবে আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাঁর গণতন্ত্রের সংগ্রামী জীবন নিয়ে গবেষণা ও অধ্যয়ন হবে।

Continue Reading

Trending