ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর শপথ নিয়েছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
এদিন বিকেলেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়ের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ শুরু হয়। গেজেটভুক্ত ২৯৬ জন এমপির মধ্যে বিএনপির অধিকাংশ সদস্যই এদিন শপথ নেন। তবে বিএনপির এমপিরা আজ গণপরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নাও নিতে পারেন বলে দলীয় একটি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, বিদায়ী সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় শপথ পড়ানোর আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে সিইসি এই দায়িত্ব পালন করেন।
দুই দশক পর ক্ষমতায় বিএনপি
২০০৬ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার ঠিক ২০ বছর পর তার ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পায় দলটি।
নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয়ী হলেও তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের এমপি হিসেবে আজ শপথ নেন। বিকেলে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। একই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভাও শপথ নিতে পারে বলে জানা গেছে।
সংসদীয় নেতা ও মন্ত্রিসভা
শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর এমপিরা বৈঠকে বসে তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, তারেক রহমানকেই সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হচ্ছে। এরপরই রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন।
সংসদ উপনেতা হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া জোটের শরিক আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি), জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন) এবং নুরুল হক নুরকে (গণঅধিকার পরিষদ) মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রাখা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
ঝুলে আছে তিন আসন
৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন হলেও আইনি জটিলতায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের গেজেট স্থগিত রয়েছে। এছাড়া প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট গ্রহণ হয়নি। গেজেটভুক্ত ২৯৬ জনের মধ্যে বিএনপির ২০৯ জন এমপি রয়েছেন।
অন্যদিকে, নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জামায়াত জোট বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। তাদের সংসদীয় দলের সভা থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা নির্বাচন করা হবে।