Connect with us

top3

গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র: আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব

Published

on

আর্কটিক মহাদেশের উত্তরের বৃহৎ দ্বীপগুলোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড শুধু ভৌগোলিক দিক থেকে নয়, কৌশলগত এবং জিওপলিটিক মাত্রায়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর অবস্থান, আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামোতে বাফার ভূমিকা, উত্তরের সমুদ্রপথে প্রভাব এবং সম্ভাব্য প্রাকৃতিক সম্পদ—সব মিলিয়ে এটি এখন আন্তর্জাতিক শক্তি প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নজরদারি শুধু ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং সামরিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তন, মেরিন রুটের সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ এবং তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের প্রাপ্যতার সঙ্গে যুক্ত। এই আগ্রহ বা কৌশলগত প্রয়াস ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের নীতি, রাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে যে কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে অননুমোদিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না। তাই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনি সীমারেখার মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করা অপরিহার্য।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায় যে গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্বৈত নীতি কৌশল গ্রহণ করেছে—১. সরাসরি আধিপত্য বা দখলের পরিবর্তে অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার; ২. আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি যেমন রাশিয়া ও চীনের ক্রিয়াশীলতা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ। এভাবে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সংরক্ষিত সার্বভৌমত্ব এবং শক্তি ভারসাম্য—সব মিলিয়ে একটি বহুমাত্রিক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলকে শুধু শক্তি বা নিরাপত্তার হিসাবনিকাশ হিসেবে দেখা যাবে না; এখানে আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখা, কৌশলগত অংশীদারত্ব এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সূক্ষ্ম সমন্বয় প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে—

১. আর্কটিকের নৌপথে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ: উত্তরের নতুন নৌপথগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সামরিক নৌযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে প্রভাব বজায় রাখা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির চলাচল পর্যবেক্ষণ।

২. সামরিক ও নিরাপত্তাভিত্তিক বেস স্থাপন: আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি কৌশলগত সুবিধা দেয়। এটি শুধু প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তি ভারসাম্যের অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

৩. প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাপ্তি: গ্রিনল্যান্ডের সম্ভাব্য খনিজ সম্পদ, তেল ও গ্যাস আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এই সম্পদগুলোর ব্যবহারকে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করছে।

এখানে আঞ্চলিক প্রভাবও বিবেচ্য—রাশিয়া এবং চীনের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আর্কটিক অঞ্চলে শক্তি ভারসাম্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ন্যাটো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কৌশলগত সমন্বয় করছে। এই জিওপলিটিক্যাল প্রেক্ষাপটই যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা, শক্তি প্রতিযোগিতা এবং কূটনৈতিক সমঝোতার একটি জটিল ফ্রেমওয়ার্কে বসায়।

গ্রিনল্যান্ড, যদিও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনপ্রাপ্ত, ডেনমার্কের রাজত্বের অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এর অর্থ হলো, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণে যেকোনো বিদেশি রাষ্ট্র, যেমন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে ডেনমার্কের অনুমোদন নিতে বাধ্য। এটি সরাসরি সার্বভৌমত্বের মূল নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত। গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট স্বাধীনতা প্রদান করে—যেমন স্থানীয় সরকার নীতিমালা, শিক্ষা ও অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ। তবে নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষানীতি, বিশেষ করে সামরিক বেস স্থাপন বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই দ্বৈত কাঠামো আন্তর্জাতিক আইনের অন্তর্গত একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য তৈরি করে, যেখানে বিদেশি শক্তি কার্যক্রমের জন্য শুধু অনুমোদন নয়, কূটনৈতিক সমঝোতা ও অংশীদারত্ব অপরিহার্য।

আর্কটিক অঞ্চলের বিশেষ প্রাসঙ্গিকতা বোঝাতে আর্কটিক চুক্তি এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন উল্লেখযোগ্য। এই আইনগুলোয় আর্কটিক জলসীমা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা ও ব্যবহারসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। কোনো রাষ্ট্রের দখল, অননুমোদিত কার্যক্রম বা প্রাকৃতিক সম্পদে একপক্ষের একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণ—সবই আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য ‘ক্রয়’ বা প্রভাব বিস্তারের উদ্যোগ আইনগত ও কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সংঘর্ষে প্রবেশ করতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সরাসরি দখল বা আধিপত্যের পরিবর্তে নরম কৌশল, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে প্রভাব অর্জনের দিকে ঝুঁকছে। এটি একটি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ বটে!

গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে মার্কিন নীতি সরাসরি ‘ক্রয়’ বা স্বতন্ত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দিকে নয়; বরং কৌশলগত অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ এবং নীতি সমন্বয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব অর্জনের ওপর কেন্দ্রিত। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের বেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার উন্নয়ন, স্থল ও সামুদ্রিক গবেষণা এবং সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে অংশীদারত্ব স্থাপন করে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি, বিশেষত রাশিয়া ও চীনের ক্রিয়াশীলতা ও আগ্রহের প্রেক্ষাপটে সচেতন থাকতে হয়। গ্রিনল্যান্ড শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ বা নৌপথের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নীতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনে কৌশলগত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।

এখানে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়, কারণ গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিক্রিয়া উভয়ই সৃষ্টি করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করে—যেখানে প্রভাব বিস্তার, শক্তির প্রয়োগ এবং আইনের সম্মানকে সমান্তরালভাবে বিবেচনা করতে হয়।

আন্তর্জাতিক আইনের সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত করে যে, কোনো রাষ্ট্রই অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে অযাচিতভাবে লঙ্ঘন করতে পারবে না। এই নীতিমালা যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দখল বা আধিপত্য স্থাপনের পরিবর্তে সহযোগিতা, অংশীদারত্ব এবং কৌশলগত সমঝোতার দিকে ধাবিত করে। একই সময়ে, জিওপলিটিক বাস্তবতা নির্দেশ করে যে আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্য, প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের ক্রিয়াশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। এই পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং তা আইনগত মানদণ্ড, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং অংশীদারত্বের সমন্বয় দ্বারা সম্ভব।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ডিপুটি স্পিকার দেওয়ার কথা বলে ললিপপ দেখাচ্ছে বিএনপি: আসিফ মাহমুদ

Published

on

By

সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেছেন, আপনারা যদি মনে করেন রাজনীতি একমাত্র আপনরাই বুঝেন, আর বাংলাদেশের মানুষকে দীর্ঘদিনের মত বারবার বোকা বানিয়ে প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নিবেন, তাহলে ভুল করবেন। যারা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে আবার রাজপথে নামার জন্য প্রস্তুত আছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকালে কুমিল্লা স্টেশন ক্লাব মাঠে আয়োজিত এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, গণভোটে ৭০% ভোট পেয়ে হ্যাঁ ভোট বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হয়েছে।

কিন্তু আমরা সরকার গঠনের পর কি দেখতে পাচ্ছি ‘সরকারের মধ্যে সংস্কার নিয়ে এক ধরণের চোরপুলিশ খেলা চলছে। সরকার একদিকে বিরোধী দলকে জুলাই সনদকে সম্মান করব বলে ডিপুটি স্পিকার দেওয়ার কথা বলে ললিপপ দেখাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের দলীয় আইনজীবীদের হাইকোর্টে পাঠিয়ে জুলাই সনদ এবং গণভোট অধ্যাদেশকে অবৈধ হিসেবে রায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আমরা আপনাদের এ ধরণের চালাকি বুঝতে পারি।

আসিফ মাহমুদ আরো বলেন, আমাদের সহযোদ্ধারা যারা সংসদে গিয়েছেন, তাঁরা এ বিষয়ে আওয়াজ তুলবেন, সেখানে সংস্কার বাস্তাবায়নের জন্য, এ দেশের মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য আওয়াজ তুলবেন।

আমরা যদি দেখি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হচ্ছে না, তাহলে আমরা সারা বাংলাদেশে আবারও রাজপথে নামব। যদি জুলাই ও জুলাই সনদকে হত্যা করার পাঁয়তারা করা হয় তাহলে এই কুমিল্লা আমাদের পথ দেখাবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা সরকার দলকে আহবান জানাবো, আপনারা আমাদের শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান যে শহীদদের পরিবার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছে তাদেরকে ও আহত ভাইদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দিকে আগান আমরা আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

কিন্তু আপনারা যদি সেটা না করেন বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেন তাহলে আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, আপনারাও শান্তিতে সরকার পরিচালনা করতে পারবেন না। যদি তা না চান তাহলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার বাস্তবায়নে মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করুন।

যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহের সঞ্চালনায় কুমিল্লা বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। এতে সভাপতিত্বে করেন কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আতাউল্লাহ।

Continue Reading

top3

ইরানে হামলার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ শতাংশ মানুষ

Published

on

By

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৫ শতাংশ আমেরিকান এই হামলার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন; বিপরীতে প্রায় ৭৫ শতাংশ নাগরিকই এই সামরিক পদক্ষেপের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

রয়টার্স/ইপসোসের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই জরিপে উঠে এসেছে যে, অর্ধেকেরও বেশি আমেরিকান মনে করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক শক্তি প্রয়োগে মাত্রাতিরিক্ত আগ্রহী।

জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৭ শতাংশ উত্তরদাতা ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ এই হামলার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে ৪৩ শতাংশ এই হামলার বিপক্ষে এবং ২৯ শতাংশ উত্তরদাতা কোনো মত দেননি। তবে গত শনিবার ভোরে ইরানের শীর্ষ নেতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আকস্মিক হামলা সম্পর্কে প্রায় ৯০ শতাংশ আমেরিকানই অবগত আছেন।

রোববার (১ মার্চ) শেষ হওয়া এই জরিপ অনুযায়ী, ৫৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্প মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় আগ্রহী। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া ও নাইজেরিয়াতেও হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এই ধারণার সঙ্গে ৮৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট, ২৩ শতাংশ রিপাবলিকান এবং ৬০ শতাংশ নির্দলীয় ব্যক্তি একমত পোষণ করেছেন।

যদিও রিপাবলিকানদের ৫৫ শতাংশ এই হামলার পক্ষে, তবে তাদের ৪২ শতাংশই জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যদি মার্কিন সেনাসদস্যরা নিহত বা আহত হন, তবে তারা এই অভিযানের সমর্থন থেকে সরে আসবেন।

ইতিমধ্যে এই অভিযানে চারজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান কুয়েতি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলের কারণে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলসহ অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার রেটিং ১ শতাংশ কমে ৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ভোট শুরুর মাত্র তিনদিন আগে ইরানে এই হামলা শুরু হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, ৪৫ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, যদি এই যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বেড়ে যায়, তবে তারা এই অভিযানের সমর্থন করবেন না। কিন্তু ইতিমধ্যে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারে ঠেকেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত চললে দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, জেনেভায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই হামলা চালায়। ওয়াশিংটন চায়, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করুক। তবে তেহরান দাবি করে আসছে, তারা শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যই ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাত করছে।

জরিপ অনুযায়ী, অর্ধেক উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করে, তবে তারা এই হামলার সমর্থক হতে পারেন। এদিকে দ্য আটলান্টিক ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব তার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী এবং তিনি তাতে রাজি হয়েছেন।

অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে মোট ১ হাজার ২৮২ জন প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান অংশ নেন। এতে ভুলের মাত্রা (মার্জিন অব এরর) ছিল মাত্র ৩ শতাংশ বলে জানা গেছে।

Continue Reading

top3

ইরানে ‘কঠোর আঘাত’ এখনো করিনি, ‘মূল আক্রমণ শিগগিরই’: ট্রাম্প

Published

on

By

ইরানে এখনো ‘কঠোর আঘাত’ শুরু হয়নি এবং মূল আক্রমণ শিগগিরই আসছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখনো ইরানের ওপর কঠোর আঘাত শুরুই করিনি। বড় ধরনের হামলা এখনো বাকি। মূল আক্রমণটি খুব শিগগিরই আসছে।’ তিনি সতর্ক করে জানান, সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।

ইরানি জনগণকে দেশটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে সামরিক অভিযানের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ‘হ্যাঁ’ সূচক উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যিই তা করছি। তবে এই মুহূর্তে আমরা চাই সবাই নিরাপদ স্থানে অবস্থান করুক। কারণ বাইরের পরিস্থিতি এখন নিরাপদ নয়।’

এর আগে হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যেও ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার ওপর জোর দিয়েছিলেন। সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সেই ধারাবাহিকতায় আরও বড় পরিসরে হামলার ইঙ্গিত দিলেন

Continue Reading

Trending