Connect with us

রাজনীতি

ঘুম থেকে উঠে মানুষ আল্লাহর নাম নেয়, একজন নেন আমার নাম: মির্জা আব্বাস

Published

on

নির্বাচনী মাঠে নতুন প্রার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের দলীয় প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, তিনি আশা করেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা নির্বাচন পরিচালনায় আইন মেনে চলবেন এবং কাউকে ব্যক্তি আক্রমণ করে কথা বলবেন না।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর শান্তিনগর ইস্টার্ন প্লাস মার্কেটে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, মানুষ সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে আল্লাহর নাম নেয়। কিন্তু তার নির্বাচনী এলাকায় এমন একজন প্রার্থী আছেন, যিনি দিনের শুরুতেই তার নাম নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, অতীতে তিনি আরও শক্ত ও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছেন, কিন্তু তখন একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন সারাদিন তার নাম নিয়ে অকথ্য ভাষায় কথা বলা হচ্ছে এবং তাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা চলছে। তবে তিনি এসব নিয়ে বিচলিত নন উল্লেখ করে বলেন, তিনি জীবনে বহু নির্বাচন মোকাবিলা করেছেন। আবারও উল্লেখ করেন, এসব প্রার্থী তার সন্তানের মতো—“ওরা এখনো বাচ্চা ছেলে।”

গণসংযোগ শেষে তিনি পুরানা পল্টন বধির স্কুলে আয়োজিত মুখ ও বধিরদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে বিকেলে শান্তিনগর বাজার ও পীর সাহেবের গলিতে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। রাতে তিনি চামেলীবাগ গ্রিন পিস অ্যাপার্টমেন্টের মালিকদের সঙ্গে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি জনগণের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিশ্বাস করেন জনগণই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচনকে ঘিরে যে উচ্ছ্বাস ও আবেগ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে দেখা যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিস্থিতি ভালো থাকলেও ভবিষ্যতে কী হবে তা বলা কঠিন। কিছু প্রার্থীর কার্যকলাপ ও চালচলনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর চেষ্টা রয়েছে বলে তার সন্দেহ। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে এবং একটি বিশেষ গোষ্ঠী কিছু প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজনীতি

বিএনপি সরকার সংস্কার না করলে টিকতে পারবে না: নাসীরুদ্দীন

Published

on

By


জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারঘাট এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের যেসব সন্ত্রাসী আছে, তাদের বিচার প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে পারি, এছাড়া যারা মানুষের পকেট কেটেছিল, ব্যাংক লুট করেছিল শেয়ার মার্কেট শূন্য করেছিল। তাদেরকে যাতে আইনের আওতায় আনা যায় সেজন্য মানুষের সমর্থন আদায়ে কাজ করছি।

প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে কথিতভাবে বাংলাদেশি পরিচয়ে লোক পাঠানোর প্রচেষ্টার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে নির্ভরশীলতা থেকে বের করে একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল অবস্থানে নিয়ে যেতে দলটি কাজ করছে।

এসময়, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাগেরহাট জেলা সমন্বয়ক সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সোহেল, এনসিপি নেতা আল আমিন খান সুমন, লাবিব আহমেদ, আল আমিন জাতীয় নারী শক্তি‘র কেন্দ্রীয় নেতা আরজিন আরোবী নওরিনসহ ছাত্রশক্তি, যুবশক্তিসহ এনসিপির বিভিন্ন সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাগেরহাটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দীর্ঘদিন শেখ পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও জেলার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। তিনি বাগেরহাটের জনগণকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য অভিনন্দন জানান।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এনসিপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং মুসলিম ঐতিহ্য ও ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

ভারতীয় আধিপত্যবাদ প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ভারতীয় ফ্যাসিবাদ থেকে বের হয়ে ইসলাম এবং সার্বভৌমত্বের ইস্যু নিয়ে বিচার ও সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারি সেজন্য কাজ করছি। গণভোটের পক্ষে ৭৫ শতাংশ ভোট পড়েছে সংস্কারের জন্য, কিন্তু সেই সংস্কার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমরা সেই ভোটাধিকারের পক্ষে লড়াই করব।

তিনি আরও বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে সরকারকে এক বিন্দু ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপি সরকারকে অবশ্যই বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ণ করতে হবে। যদি বিএনপি সরকার ৭৫ শতাংশ মানুষকে ডিনাই করে, তাহলে এই সরকারের পতন ধনি বাঁচতেও সময় লাগবে না।সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের সুস্থ্যতা কামনা করেন নাসির।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও দলের নেতাকর্মীরা হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তারা বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ষাটগম্বুজ মসজিদ পরিদর্শন করেন। সেখানে ঘোড়াদিঘির দক্ষিণ পাড়ে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং পরদিন অনুষ্ঠিতব্য সংস্কার দাবির খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান

Continue Reading

top1

একদলীয় শাসনের চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না : জামায়াত আমির

Published

on

By

দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যে কোনো প্রচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণই হিমালয়ের মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও শহীদদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের অবদানকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অসম্মান জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দলীয় অনুগতদের নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানোর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, একদলীয় শাসন কখনো টেকসই হয়নি। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হলে দেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে।’

সংসদে বিরোধী দলকে অবমূল্যায়নের রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেমন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কটূক্তি করত, এখন বিএনপিও একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতার চর্চা করা।

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, বড় বাজেট প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়, সেটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধ না হলে উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।

ব্যবসায়ীদের দুরবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সম্মেলনে আসার আগে নারায়ণগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাঁদাবাজি ও অনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ লক্ষ্য করেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান করা গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। গণভোটে যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের সমর্থন পেয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকারের আন্তরিকতা থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকারের এক উপদেষ্টার বক্তব্যে জনগণের রায় ও গণতান্ত্রিক চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

সরকারকে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে, জনগণের রায়কে সম্মান করুন। অন্যথায় জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণ আপনাদের সামনে হিমালয় পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।’

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণ গণতান্ত্রিক চর্চার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা থাকলে তাদের জোট আরও ভালো ফল করতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জের শিল্পখাতের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, একসময় দেশের শিল্প রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জেলার গৌরব পুনরুদ্ধারে শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়। জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা কথার চেয়ে কাজের মূল্যায়ন করে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top2

বন্ধুর ডাকে শপিং মলে গিয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর, আদালতে শুনানি কাল

Published

on

By

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী চট্টগ্রাম এলাকার এক সংসদ সদস্য মোবাইলে ফোনে ডেকে নিয়ে শপিং মলে দেখা করার কথা বলে দুবাই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আজ সোমবার (১৫ জুন)সহ গত কয়েক দিন দুবাইয়ে সরকারি ছুটি থাকায় আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাইয়ের একটি আদালতে বেনজীর আহমদের জামিন আবেদন নিয়ে শুনানি হতে পারে। এ জন্য তার পক্ষে দুবাইয়ের একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

বেনজীর আহমদের স্ত্রীর বরাত দিয়ে তার একসময়ের স্টাফ অফিসার বলেন, বেনজীর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে বসবাস করছেন। প্রতিদিনের মতো গত ১২ জুন দুবাইয়ের বাসায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এ সময় তার বন্ধু চট্টগ্রামের এক সংসদ সদস্য মোবাইল ফোনে কল করে বাসার পাশের একটি শপিং মলে দেখা করার কথা বলেন। তিনি বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে শপিং মলে গেলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ওই সংসদ সদস্যের লোকজন উপস্থিত ছিল বলে আমরা জানতে পারি।

তিনি আরও বলেন, দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা জানতে পারি, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক জারি করা ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড নোটিশটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই সংসদ সদস্য দুবাই পুলিশের কাছে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করান।

আটকের সঙ্গে সঙ্গে এ খবর পৌঁছে যায় দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত পলাতক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এবং আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে। পরে তার পরিবার ও দুবাইয়ে অবস্থানরত নিজেদের লোকজনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন। ঘটনাটি দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট থানায় আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।

বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ আরেকজন জানান, আটক হওয়ার পর পুলিশ প্রথমে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ কী করছেন, কত দিন ধরে অবস্থান করছেন, ভিসার বৈধতা এবং তার দৈনন্দিন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে, তাও যাচাই করা হয়। এতে তারা নেতিবাচক কোনো তথ্য পায়নি। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ও তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এবং বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকায় চলমান একটি মামলার এক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে আমরা দুবাইয়ে তার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিই। ওই আইনজীবীর পরামর্শে এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে চলমান সব মামলার নথিপত্র ঢাকা থেকে দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারের দিন ১২ জুন শুক্রবার দুবাইয়ের আদালত খোলা থাকলেও তা সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয়। এ ছাড়া শনি ও রোববার দেশটিতে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। আজ সোমবার (১৫ জুন) ইসলামিক নববর্ষ (হিজরি ১৪৪৮) উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সরকারি ছুটি পালন করে। অর্থাৎ টানা তিন দিন সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে।

তাই ওই দিনই দুবাইয়ের আদালতে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে হাজির করা হতে পারে। যদি দুবাই পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর জন্য বা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়ার আবেদন করে, তাহলে তার আইনজীবী ওই আদালতে জামিন চাইবেন। আর যদি আদালতে তাকে হাজির করা না হয়, তাহলে আইনজীবী স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রসিকিউশন দপ্তরে বেনজীর আহমেদের পক্ষে আবেদন করবেন। এ লক্ষ্যে শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

বেনজীর আহমদকে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করানোর বিষয়ে জানতে ওই সংসদ সদস্যের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে সোমবার বিকেল ৫টার পর থেকে একাধিকবার কল করা হয়, কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি। পরে এই বিষয়ে প্রশ্ন রেখে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। বার্তাটি তিনি দেখলেও কোনো উত্তর দেননি। কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবার কল দিলে এবার তিনি কল রিসিভ করেন। কিন্তু তার নাম ও সংসদীয় আসন ধরে বেনজীরকে গ্রেপ্তার করানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেন।

এদিকে দুবাই থেকে শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত আনার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন পুলিশের সাবেক এক অতিরিক্ত আইজিপি। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পুলিশ ইন্টারপোলে যে আবেদন করেছে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নয়। তা ছাড়া তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড নোটিশটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ দুবাই পুলিশকে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করানোটা দুবাই আদালত সহজভাবে দেখবেন না বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তার করানোর পেছনে ব্যবসায়িক ও আর্থিক বিরোধ রয়েছে বলে শুনেছি। পরে দুবাই পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরকে অবগত করে। এখন যদি বাংলাদেশ সরকার তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফেরত চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার প্রেক্ষাপটও দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তর বিবেচনায় নেবে। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। কিন্তু মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তরে উপস্থাপন করতে না পারে, তাহলে অভিযোগ অনেকাংশে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান ধর্মমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযুক্ত আসামি ছিলেন। তাকে আওয়ামী লীগ সরকার অনেক চেষ্টা করেও দুবাই সরকারের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনতে পারেনি। কারণ তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে সরকারের করা মামলার আসামি ছিলেন।

তিনি আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, এর আগে দুবাই পুলিশ আরাভ খানকে আটক করেছিল। যিনি পুলিশের একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) হত্যা মামলার আসামি এবং তাকেও ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড অ্যালার্টের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আদালতে আরাভ খান দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু তিনি ভারতের পাসপোর্টধারী হওয়ায় তাকে এখনো বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। বেনজীর আহমেদও বাংলাদেশ থেকে দুবাই যাওয়ার সময় তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। বর্তমানে তিনি তুরস্কের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে চলাচল করছেন। আবার কেউ বলছে তার কাছে কোনো পাসপোর্টই নেই। ফলে পরিচয়-সংকটে তাকে বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের আইন, পারস্পরিক চুক্তি এবং আদালতের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মঙ্গলবার আদালতে শুনানি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার মতো কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হাতে আটক হন এবং তার বিরুদ্ধে যেহেতু ইন্টারপোলে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাই বাংলাদেশের পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, ইন্টারপোলের নিয়মিত পদ্ধতিতে গ্রেপ্তার হয়েছে নাকি গ্রেপ্তারে অন্য কোনো ইস্যু আছে কি না এবং এক মাসের মধ্যে যথাযথভাবে কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে বলে একাধিক প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। এখন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে

Continue Reading

Trending